পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ০২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০২ · ২৩ পর্বের মধ্যে ২

রিসিপশনের মহিলাটিকে কিছু বলতে যাবো তখনই কেউ আমার পিছন থেকে কাঁধে হাত দিয়ে বললো..

"আরেহ্! আরিয়ান ভাইয়া আপনি এখানে..?"

আমি পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম একজন নার্স আমার নাম ধরে ডাকলো। কিন্তু এখানে তোহ আমি কাউকে চিনি নাহ আর আমাকেও কেউ চিনে নাহ। তাই এই নার্স মেয়েটি আমার নাম জানলো কিভাবে..?

আমি তার ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম...

"কে....?"

"আরেহ্! আমাকে চিনতে পারছেন নাহ..?"

"সরি! সত্যিই আপনাকে চিনতে পারিনি! কে আপনি..?"

"আমি ইরিন! এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন আমাকে.?"

আরিয়ান:- ইরিন! কোন ইরিন.?

ইরিন:- এটা কেমন হলো.? আমি ভাবলাম আপনি আমাকে এবং আমার বোনকে মনে রেখেছেন। এখন দেখি আপনি সবার আগেই আমাদের ভুলে গেছেন। অথচ দেখুন আমরা কিন্তু আপনাকে ভুলিনি ঠিকই মনে রেখেছি।

আরিয়ান:- যদি নিজের পরিচয়টা দিতেন.....

ইরিন:- আচ্ছা! বসুন এখানে..

ইরিনের কথা মতো বেঞ্চে বসলাম।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! বলুন..

ইরিন:- মনে আছে, ৪ বছর আগে ভার্সিটিতে ২জন ফার্স্ট ইয়ারের জমজ বোনকে সিনিয়রদের রেগিং-এর হাত থেকে বাঁচিয়েছিলেন..?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চিনতে পেরেছি। তুমিই সেই ইরিন.? কত্ত বড় হয়ে গেছো। তোমার ছোট বোন অরিন কেমন আছে..? তাছাড়া তোমাদের রেজাল্ট তোহ সবসময় টপে থাকতো, তোমার তোহ শহরের কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে জব করার দরকার! তা নাহ করে এমন নির্জন ভুজঙ্গপুর গ্রামে ট্রান্সফার হয়ে এসেছো কেনো..?

ইরিন:- আস্তে আস্তে! এক এক করে সব বলছি। তার আগে বলুন আপনি এখানে কি করছেন..?

আরিয়ান:- এই রেহ! ভালোই হলো তোমার সাথে দেখা হয়ে গেলো। এখানে তোহ আমি কাউকেই চিনি নাহ তার উপর আমার গাড়ির সাথে এই মহিলাটি ধাক্কা খেয়েছে কিন্তু রিসিপশনের মহিলাটি কিছুতেই উনাকে এডমিট করতে চাইছে নাহ। বলছে আগে পুলিশে ইনফর্ম করতে হবে তা নাহলে উনাকে হসপিটালে এডমিট করবে নাহ। তুমি প্লিজ একটু হেল্প করো...

ইরিন আমাকে কিছু বলতে যাবে ঠিক তখনই দেখি হাসান ভাই একজন লেডি পুলিশ অফিসার নিয়ে হাজির। পুলিশ মেয়েটা দেখতে একদম ইরানের মতোই। তার মানে বুঝতে পারলাম এটাই ইরিনের বোন অরিন। আর বুঝবোই নাহ কেনো ওদের দেখতে যে অবিকল একই রকম।

হাসান:- আমি প্রথমেই বুঝেছিলেন, উনাকে হসপিটালে এডমিট করতে হলে পুলিশে ইনফর্ম করতেই হবে নয়তো কিছুতেই এখানে উনাকে এডমিট করা যাবে নাহ। তাই আপনাকে হসপিটাল অব্দি পৌঁছে দিয়ে আমি থানায় চলে যাই পুলিশকে খবর দিতে। এবার বাকিটা আপনারা বুঝে নিন আমি গেলাম।

এরপর হাসান ভাই চলে গেলেন। উনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার সুযোগটাও পাইনি। লোকটা অপরিচিত হয়েও আমার জন্য যা করলো তা হয়তো কোনো আপনজনও করবে নাহ।

আমি রিসিপশনের মহিলাটিকে ফরম দিতে বলতে যাচ্ছিলাম তখনই....

ইরিন:- ভালো হয়েছে! তুই এসেছিস। দেখ উনাকে চিনতে পারিস কি নাহ..?

পুলিশ মেয়েটি বললো, "নাহ ঠিক চিনতে পারলাম নাহ, কে উনি.?"

ওদের কথা শুনে বুঝলাম অরিন হয়তো আমাকে ভুলে গেছে। কিন্তু ওর মুখভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে ও আমাকে এখনো চেনে। চিনেও নাহ চেনার ভান করছে।

ইরিন:- আরে অরিন! এটা আরিয়ান ভাইয়া। যে আমাদের সবসময় হেল্প করতো।

অরিন:- আপনি আরিয়ান ভাইয়া.? কেমন আছেন.? আর রিশা আপু কোথায়.? উনি কেমন আছেন...?

আরিয়ান:- সব বলছি! তার আগে উনাকে হসপিটালে এডমিট করার ব্যবস্থা করো।

এরপর আমাকে আর কিছু করতে হয়নি, ইরিন আর অরিনই মহিলাটিকে হসপিটালে এডমিট করার সকল পদক্ষেপ বহন করলো, কিন্তু.....

ইরিন:- সরি ভাইয়া! আমরা উনাকে ভর্তি সম্ভব নাহ।

আরিয়ান:- এতকিছুর পর যদি এখন বলো উনাকে এডমিট করা পসিবল নাহ তাহলে কি করে হয় বলো তোহ..?

ইরিন:- আসলে ভাইয়া! উ-উনি মারা গেছেন।

আমি যেনো এক প্রকার ট্রমায় চলে গেলাম। এই মহিলাকে নিয়ে আমার জন্য ৯ জন মানুষ প্রাণ হারালো। নাহ! নাহ! আমি এটা মেনে নিতে পারছি নাহ!

অরিন:- ভাইয়া!

আরিয়ান:- আ-হা! কি! কিছু বললে.?

অরিন:- হ্যাঁ! উনাকে এখানেই পোস্টমর্টেমের জন্য রাখতে হবে। আর আপনি চলুন আমার সাথে, উনার ফ্যামিলির লোকজনকে জানাতে হবে যে উনি আর বেঁচে নেই।

এক্সিডেন্টের জন্য হয়তো আপনার জেলও হতে পারে কিন্তু আপনি চিন্তা করবেন নাহ আমি আছি আপনার আশে। যে মানুষটা আমাদের সব বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতো আজ সে মানুষটার একটা উপকার করার সুযোগ পেয়েছি এই সুযোগটা হাত ছাড়া করবো নাহ। আপনি ভয় পাবেন নাহ.!

আরিয়ান:- ঠিক আছে! চলো কোথায় যেতে হবে।

তারপর অরিন ওর ফোনে ওই মহিলাটির কয়েকটা ছবি তুলে নিলো। আমরা যখন বেরিয়ে যাবো তখনই ইরিন পিছু ডেকে বলে....

ইরিন:- দাঁড়া! অরিন, দেখছিস নাহ, আরিয়ান ভাইয়ার শরীররে কত আঘাতের চিহ্ন। উনার ফাস্ট অ্যাইড এর প্রয়োজন। একটু অপেক্ষা কর আমি উনার মাথায় ব্যান্ডেজ করে দি তারপর বের হ।

অরিন:- ওহ্! হ্যাঁ! হ্যাঁ! তাড়াহুড়োয় একদম ভুলেই গিয়েছিলাম। তুই তাড়াতাড়ি উনাকে ব্যান্ডেজ করে দে।

ইরিন:- ভাইয়া আপনি আমার সাথে কেবিনে আসুন।

এরপর ইরিন আমার আঘাতের স্থানগুলোতে ব্যান্ডেজ করে দিলো। কেনো জানি নাহ ইরিনের যত্নশীলতা দেখে রিশার কথা মনে পড়ে গেলো। আমার কিছু হলে রিশাও একই ভাবে ব্যস্ত হয়ে যেতো। রিশা কথা ভাবতে ভাবতে অজান্তেই চোখে পানি চলে এসেছে...

ইরিন:- একি ভাইয়া! আপনি কান্না করছেন কেনো.? বেশি লাগছে.? ক্ষতস্থানে ঔষধ পড়েছে একটু লাগবেই, কান্না করবেন নাহ প্লিজ।

আরিয়ান:- নাহ! নাহ! তেমন কিছু নাহ।

ইরিন:- হা!হা!৷ ক্ষতস্থানে ঔষধ দিলে আপনি এখনো বাচ্চাদের মতো কান্না করেন.!

আরিয়ান:- তুমি যেমনটা ভাবছো তেমনটা নাহ। আসলে কিছু মানুষের কথা মনে পড়ে গেলো।

ইরিন:- ওহ্! যাই হোক, আপনি বললেন নাহ! আপনার এমন অবস্থা হলো কিভাবে আর রিশা আপু কোথায়.?

আরিয়ান:- সব বলবো! আগে আমাকে একটু নরমাল হতে দাও। এসব বলার মতো মানসিক শক্তি নেই এখন।

ইরিন:- আই এম এক্সট্রিমলি সরি ভাইয়া! আপনার যখন ইচ্ছা তখনই শেয়ার করবেন আমি আপনাকে জোড় করবো নাহ।

ইরিনের কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে অরিন এসে ডাক দিলো...

অরিন:- কিরে! তোর ফাস্ট ট্রেড হয়েছে.? দেড়ি হচ্ছে তোহ! এবার বেরোতে হবে।

ইরিন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! এইতো শেষ। তোরা এখনই বেরোতে পারবি।

অরিন:- ভাইয়া আসুন এবার আমাদের বেরোতে হবে। আর ইরিন তুই ভদ্রমহিলাকে পোস্টমর্টেমে পাঠা।

ইরিন:- যথা আজ্ঞা মহারাণী "

অরিন:- হা!হা! ভাইয়া চলুন।

আরিয়ান:- হ্যাঁ চলো!

এরপর আমি আর অরিন বেরিয়ে পরলাম। গাড়ির ড্রাইভিং সিটে অরিন বসলো আর আমি বসলাম ওর পাশের সিটে। যেতে যেতে আমাদের কিছু কথা হলো.....

অরিন:- ভাইয়া! আপনি এখানে কি করে এলেন.?

আরিয়ান:- গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে ওই মহিলাটি আমার গাড়ির সাথে ধাক্কা খায়।

অরিন:- আপনি একটু খেয়াল করে গাড়ি ড্রাইভ করবেন নাহ.? আপনার বেখেয়ালির জন্য একজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারালো..

আরিয়ান:- আমি মানসিক ভাবে অনেক ভেঙ্গে পড়েছি। অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনায় মগ্ন হয়ে গিয়েছিলাম কখন উনি আমার গাড়ির সাথে ধাক্কা খায় বুঝতেই পারিনি।

অরিন:- কি এমন ভাবনায় মগ্ন ছিলেন যে ড্রাইভিং-এ মন দিতে পারেননি.?

এরপর শুরু থেকে এই পর্যন্ত আমার সাথে কি কি হয়েছে সবকিছু অরিনকে বলি। ওর কাছে সবকিছু শেয়ার করার সময় যে কতবার নিজের হাতে চোখ মুছেছি তা বলা বাহুল্য নাহ। খেয়াল করলাম আমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো শুনে অরিনও অজান্তে কান্না করে দিয়েছে। অরিন গাড়ি থামিয়ে দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বললো...

অরিন:- আপনার সাথে এতকিছু হওয়ার পরও আপনি কিভাবে এত স্ট্রং আছেন.?

আরিয়ান:- আমি নিজেও জানি নাহ, আমি কিভাবে এখনো ঠিক আছি। হয়তো৷ আগামীতে এরচেয়েও বড় কিছু দেখবো বলে এই কষ্টকে কষ্ট মনে হচ্ছে নাহ।

অরিন:- কি বলছেন এসব। আর কোনো অনিষ্ট হবে নাহ। আমি আপনার পাশে আছি। আপনার সকল বিপদের ভাগিদার হবো আমি। আমি আপনাকে সকল বিদপ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিলাম।

আরিয়ান:- কি বলছো.? আমার জন্য তুমি কেনো নিজেকে বিপদে ফেলবে। তাছাড়া তুমি একজন দায়িত্বশীল পুলিশ অফিসার। তোমার আমাকে ছাড়াও আরো অনেক কেস সামলাতে হয়। তুমি এসব নিয়ে ভেবো নাহ। আমি একা একা নিজেকে সামলে নিতে পারবো।

অরিন:- চুপ! কোনো কথা বলবেন নাহ। আপনি ভুলে গেলেও আমরা ভুলিনি, আমরা ভার্সিটিতে যেকোনো বিপদে পড়লে আপনি আমাদের সবসময় হেল্প করতেন। সবসময় আগলে রাখতেন। আজ একটা সুযোগ পেয়েছি। আপনার বিপদ মানে আমাদেরও বিপদ।

আরিয়ান:- আচ্ছা! সে নাহয় পাশে থাকলে কিন্তু আগে একটা প্রশ্নের উত্তর দাও.....

অরিন:- কিসের প্রশ্ন.?

আরিয়ান:- তোমরা শহর ছেড়ে এখানে কেনো চাকরিতে জয়েন করলে..?

অরিন:- সব দোষ আমার! আমার একটা ভুলের জন্য এতকিছু।

আরিয়ান:- মানে.?

অরিন:- সব বলবো! আপনার জীবনে যেমন একটা পাস্ট আছে ঠিক তেমনই আমারও একটা পাস্ট আছে। আমার জন্য ইরিনকেও এখানে জব নিতে হয়েছে।

আরিয়ান:- এখন বলা যাবে কি.??

অরিন:- এখনো বলার সময় হয়নি! সময় হলে ঠিকই বলবো।

আরিয়ান:- ঠিক আছে! আমরা কি পৌঁছে গেছি.?

অরিন:- হ্যাঁ! অনেকক্ষণ আগেই।

আরিয়ান:- তাহলে চলো

এরপর আমি আর অরিন অনেক লোককে মহিলাটির ছবি দেখিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ উনাকে চিনে কি নাহ! কিন্তু সবারই একটাই উত্তর "কেই উনাকে চিনে নাহ, এর আগে নাকী কখনো উনাকে এই গ্রামে দেখেনি"

শহর আর পাহাড়িতলা গ্রামে মাঝে ছিলো ভুজঙ্গপুর গ্রাম। আমরা পাহাড়িতলা গ্রামের শেষ থেকে শুরু করে পুরো গ্রামের মানুষকে জিজ্ঞেস করেও উনার বাড়ির খোঁজ পাচ্ছিলাম নাহ।

আকাশে যখন সন্ধ্যা নেমে এলো তখন আমরা ভুজঙ্গপুর গ্রামে শেষ প্রান্ত অর্থাৎ শহরের শুরু হয় যেখান থেকে সেখানকার একটা লোককে জিজ্ঞেস করলাম....

"ভাই! ভাই! দেখুন তোহ এই মহিলাটিকে আশেপাশে কোথাও দেখেছেন কি নাহ.?"

লোকটি ভয়ে ভয়ে বললো...

"আরেহ্! এ তোহ কুত্তাওয়ালী.? দেখে তোহ মনে হচ্ছে মরে গেছে.? আপনারা উনাকে খুঁজছেন কেনো.? কি করেছে উনি..? আর উনি মারা গেলোই বা কি করে.?"

আমরাও লোকটির কথায় বেশ রহস্য খুঁজে পাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছে লোকটি আমাদের কাছে কিছু একটা লুকাচ্ছিলো কিন্তু কি লকাচ্ছে.? আর মহিলাটিকে কুত্তাওয়ালী বলছে কেনো.?

আমরা লোকটির কথার প্রতুত্তরে বললাম...

"উনি কিছু করেননি! আসলে উনি এক্সিডেন্টে মারা গেছেন আমরা উনার ফ্যামিলির কাছে খবর লাশ পৌঁছে দিতে এসেছি! আপনি উনাকে চিনেন.?"

"হ্যাঁ! এই গ্রামের অনেকেই কুত্তাওয়ালীকে চিনে!"

"আপনি আমাদেরকে উনার বাড়ি অব্দি নিয়ে যেতে পারবেন.?"

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! এ আবার এমনি কি! অবশ্যই নিয়ে যেতে পারবো। চলুন আমার সাথে.."

আমি তখন লোকটিকে আবারও জিজ্ঞেস করালাম....

"একটা প্রশ্ন!"

লোকটি ভ্রু কুচকে বললো....

"আবার কি প্রশ্ন সাব.?"

"আপনি উনাকে কুত্তাওয়ালী বলছেন কেনো.?"

লোকটি বিরক্তির সাথে উত্তর দিলেন...

"সারা গ্রামের কুত্তা এই মহিলা একাই পোষে তাই গ্রামবাসীরা ওর নাম কুত্তাওয়ালী রেখেছে"

"আজব তোহ! একটা মানুষ এত কুকুর পোষার কারণ কি.?"

"কি জানি সাব! এসব তোহ আর আমরা বলতে পারবো নাহ! আপনাদের কি আমার কোনো সাহায্য লাগবে.? লাগলে বলুন নয়তো আমি গেলাম.!"

"গেলাম মানে.? আপনি নাহ বললেন, আপনি ওই মহিলার বাড়ি চিনেন.?"

"হ্যাঁ! চিনি তোহ!"

"তাহলে আপনি চলে গেলে আমাদের উনার বাড়িতে কে নিয়ে যাবে.? "

"আচ্ছা! চলুন আমার সাথে, আমি নিয়ে যাচ্ছি.! "

এরপর লোকটি আমাদের কুত্তাওয়ালীর কুটিরে নিয়ে এলো। বাড়ির অব্দি পৌঁছে দিয়েই লোকটি যেনো এক প্রকার অজানা ভয়ে ছুটে পালালো।

লোকটির হাবভাবে মনের মধ্যে শুধু সন্দেহের সৃষ্টি হচ্ছিলো। আসলে মূল কাহিনি কি.? লোকটা এত ভয় পেলো কেনো.? আর মৃত মহিলাটিই বা কেনো পুরে গ্রামের কুকুর পোষবে.? কি জানি.? এতশত ভেবে আমার কি কাজ.? আমি এখানে এসেছি মহিলার মৃত্যুর খবর জানাতে, খবর জানানো হলেই চলে যাবো। কিন্তু কোথায় যাবো.? এখন যদি এই অবস্থায় শহরে ফিরে যাই তাহলে কার কাছে থাকবো, কি করবো..? একাকীত্ব আমাকে কুড়ে কুড়ে খাবে..?

ভাবনার মাঝে আচমকা কেঁপে উঠলাম, কারণ মৃত মহিলাটির বাসায় পৌঁছবার পর ১৫-২০টা কুকুর আমাদের ঘিরে ধরেছিলো। চারিদিকে কুকুরের ঘেউঘেউ শব্দ। মনে হচ্ছে এখনই বুঝি কুকুরগুলো আমাদের ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে!

কুকুরগুলো যখন আমাদের দিকে তেড়ে আসছিলো তখন কুটিরের ভিতর থেকে একটা গোঙ্গানির শব্দ শুনতে পাই শব্দটা কিছুটা এমন ছিলো, একজন বোবা মানুষ অনেক চেষ্টার পর যখন মুখ দিয়ে একটু শব্দ বের করে ওইরকম....

"নাআআআআআহ, এ-দি-কে আ--য় তোরা, ও-দে-র কো-নো ক্ষতি ক-রি-স নাআআআ"

কুটিরের ভিতর থেকে শব্দটা আসার পর কুকুরগুলোও ঝোট বেঁধে চলে গেলো। তারপর আমি আর অরিন একে অপরের সাথে চোখাচোখি করে কুটিরের ভিতরে প্রবেশ করি।

কুটিরের ভিতরে যাওয়ার পর আমি আর অরিন দু'জনই একদম ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলাম।

মনের মধ্যে যেনো আরো শতশত প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করলো।