পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১০

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১০ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১০

যাকগে, সারাদিন অনেক অজানা সত্যের মুখোমুখি হয়েছি এখন আমি প্রচুর ক্লান্ত আর এক মুহুর্ত দাঁড়িয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নাহ। হারিণীর টিভি দেখা শেষ হলে যেনো ঘুমিয়ে পরে এতটুকু বলে আমি আমার রুমে ঘুমাতে চলে যাই।

ক্লান্ত শরীর নিয়ে এক ঘুমে পুরো রাত পার হয়ে যায়। কখন সকাল হয়ে গেছে টেরই পাইনি। সকালে ঘুম ভাঙ্গে অরিনের কলে। কল রিসিভ করতেই ফোনের ওপাশ থেকে অরিন বলে উঠে...

"হ্যালো! কোথায় তুমি.?"

"আ-আমি তোহ তোমাদের ফার্ম হাউসে..!"

"তাড়াতাড়ি করে রেডি হও! আজকে যে আমার বাবা মায়ের সাথে দেখা করার কথা ছিলো তুমি কি ভুলে গেছো.?"

"নাহ! সেটা কি ভোলার মতো নাকী! আমি ভুলিনি। আসলে কাল রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম কখন ভোর হয়ে গেছে টের পাইনি"

"টাইম কত হয়েছে একবার দেখো.?"

"ইয়া আল্লাহ! সাড়ে ১১ টা বাজে!"

"হ্যাঁ! তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে পুলিশ স্টেশনে চলে আসো আমি ওখানেই তোমার জন্য অপেক্ষা করছি!"

"আচ্ছা! ঠিক আছে আমি এক্ষুনি আসছি।"

ঘুম থেকে তাড়াতাড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে দেখি হরিণী টিভি অন করেই সোফার মধ্যেই রাতে ঘুমিয়ে পরেছিলো।

হরিণীকে ঘুম থেকে আর ডেকে তুলিনি, ঘুমের মধ্যে হরিণীকে একদম ছোট বাচ্চাদের মতো লাগছিলো।

তাড়াতাড়ি করে বাইরে থেকে কিছু শুষ্ক খাবার কিনে আবারও ফার্ম হাউসে ফিরে এলাম।

বাইরে থেকে আসতে আসতে দেখি হরিণী সোফায় নেই।

কি হলো.? আবার কোথায় চলে গেলো মেয়েটা.?

খুঁজতে খুঁজতে দোতলায় চলে গেলাম। প্রথমে আমার রুম চেক করলাম দেখি আমার রুমেও নেই। তারপর হরিণীর রুমে গেলাম, সেখানেও নেই।

আল্লাহ! আল্লাহ! এই মেয়েটা আমাকে পাগল বানিয়ে ফেলবে। কোথায় চলে গেলো আবার.?

মনে মনে দুশ্চিন্তায় মরে যাচ্ছিলাম তখনই কেউ একজন আমার কাঁধে হাত দেয় আমি আতকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম...

"কে..?"

"আ-আমি! আ-আমি! আমি হরিণী!"

"উফফফ! তুমি কোথায় গিয়েছিলে বলো তোহ.? জানো, তোমাকে খুঁজে খুঁজে আমি প্রায় পাগল হয়ে যাচ্ছিলাম! তোমাকে তোহ কাল রাতেই বললাম সকালে আমাকে একটা কাজে বের হতে হবে!"

"আ-আমি বাথরুমে গিয়েছিলাম!"

"ওহ্! আচ্ছা শুনো, তোমা জন্য কিছু শুকনো খাবার কিনে এনেছি তোমার যখনই খিদে লাগবে তখনই এগুলো খেয়ে নিও। আমার আসতে আসতে দেড়ি হতেে পারে।"

"আচ্ছা! আচ্ছা!"

এরপর হরিণীকে বিদায় জানিয়ে আমি বেরিয়ে পরলাম। এখন আমাকে পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে আগে তারপর ওখান থেকে অরিনের সাথে ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে হবে।

কিন্তু, আমি চিন্তা করছি অন্য কথা! ওর বাবা মায়ের কাছে গিয়ে আমি কি বলবো.?

যাই হোক, কিছু একটা বলবো হয়তো, এখন আপাতত অরিনের সাথে দেখা করি তারপর কি কি করতে হবে অরিনই আমাকে শিখিয়ে দিবে।

১২:১৫তে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে পৌঁছাই। আমাকে দেখে অরিন বললো...

"বাহ! বাহ! এতক্ষণে মহারাজের আসার সময় হলো!"

আরিয়ান:- ফ্রেশ হলাম, রেডি হলাম, ব্রেকফাস্ট করলাম তারপরেই তোহ বেরিয়ে পরলাম।

অরিন:- তোমাকে কি আমি একবারও বলেছি তুমি ব্রেকফাস্ট করে এসো.?

আরিয়ান:- নাহ বলোনি!

অরিন:- তাহলে কি বলেছিলাম আমি.?

আরিয়ান:- বলেছিলে, ফ্রেশ হয়ো তাড়াতাড়ি পুলিশ স্টেশনে চলে আসতে।

অরিন:- আর তুমি কি করেছো.?

আরিয়ান:- ফ্রেশ হয়ে ব্রেকফাস্ট করে তারপর এসেছি।

অরিন:- আল্লাহ! আমাকে ধৈর্য দাও! ব্রেকফাস্ট করে এসেছো ভালো করেছো। এবার আমাদের বাড়ি গিয়ে লাঞ্চ করে নিও। চলো এবার...

আরিয়ান:- আমাদের কি ওখানে ব্রেকফাস্ট করার কথা ছিলো.?

অরিন:- এখন কয়টা বাজে দেখেছো.?

আরিয়ান:- সাড়ে ১২টার কাছাকাছি!

অরিন:- এমন সময় কেউ ব্রেকফাস্ট করে.?

আরিয়ান:- নাহ!!

অরিন:- বাদ দাও এসব! চলো এখন থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পরবো তারপর ওখানে গিয়ে লাঞ্চ করবো।

আরিয়ান:- অরিন! ওখানে গিয়ে তোমার বাবা মাকে কি বলবো.?

অরিন:- তোমার কিছু বলতে হবে নাহ! উনার তোমার সম্পর্কে সব জানে।

আরিয়ান:- মানে.? কিভাবে জানে উনারা.?

অরিন:- তোমার বিয়েটা যেনো কার সাথে হবে.?

আরিয়ান:- তোমার সাথে!!

অরিন:- আর ওই লোকগুলো যেনো আমার কি হয়.?

আরিয়ান:- বাবা মা!

অরিন:- তাহলে উনারা কিভাবে জানতে পারে তুমি জানো নাহ.?

আরিয়ান:- ওহ্! এবার বুঝেছি! তুমি বলেছো উনাদের।

অরিন:- নাহ! আমি বলিনি! অন্য কেউ বলেছে। আল্লাহ! আমি আর পারছি নাহ। চলো তোহ এবার।

আরিয়ান:- যাহ বাবা! এখন কোনো প্রশ্ন করলেও দোষ! থাক, আমি এখন থেকে চুপ করে থাকবো।

অরিন:- হ্যাঁ! সেটাই ভালো হবে তুমি একদম চুপ করে থাকবে।

আরিয়ান:- ঠিক আছে, আবার আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে বার বার বলবে নাহ যে আমি কেনো কথা বলছি নাহ।

অরিন:- আজব তোহ! যখন তোমার কথা বলার প্রয়োজন হবে তখন তোহ বলবেই। নাকী তোমাকে কথা বলতে বারন করছি আমি কোনটা.?

আরিয়ান:- লেইট হচ্ছে নাহ তোমার.?

অরিন:- হ্যাঁ! হচ্ছে তোহ!!

আরিয়ান:- তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমার সাথে ঝগড়া করছো কেনো.?

অরিন:- হ্যাঁ! আসলেই তোহ, তোমার সাথে কথা বলাই বেকার। তাড়াতাড়ি চলো।

এরপর আমরা দুইজনই গাড়িতে গিয়ে উঠলাম। অনেকটা পথ দু'জন দুজনের সাথে কোনো কথা বললাম নাহ। মাঝপথে অরিন আমাকে উদ্দেশ্য ককরে বলে...

"আপনার অভিমান কমলে আমি কিছু দরকারি কথা বলতাম"

আরিয়ান:- আমি কারো সাথে অভিমান করিনি! আপনি বলুন কি বলবেন...

অরিন:- আরিয়ান! শুনো, এখন যে কথাটা বলবো খুব মনোযোগ সহকারে শুনবে....

আরিয়ান:- হ্যাঁ! বলো।

অরিন:- কিছুদিন আগে আমি যখন রাজকন্যা ইলাহ্'র একটা পত্রিকা দেখছিলাম তখন উনার বলা কিছু কথা নোট করেছিলাম।

আরিয়ান:- কি কথা.?

অরিন:- উনি বলেছিলেন যে, মৃত্যুর পর মানুষের রুহ্ অর্থাৎ আত্মা ইহকাল ও পরকালের মাঝামাঝি একটা রুহ্-এর জগতে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটকা পরে থাকে। এই রুহ্-এর জগৎ অর্থাৎ আত্মার জগৎ থেকে কালোজাদুর মাধ্যমে মানুষের আত্মাকে নিজের কন্ট্রোলে করা যায়। যদি কোনো সাধারণ মানুষ জীবিত অবস্থায় যেকোনো কারণে স্বেচ্ছায় ওই আত্মার জগতে প্রবেশ করে তাহলে সে ওখান থেকে কোনোদিন নিজের প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে নাহ। একমাত্র ওই ব্যক্তি আত্মার জগৎ থেকে নিজের এবং নিজের প্রিয়জনদের প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারবে যার মধ্যে "Holey Power" থাকবে। কিন্তু! কিন্তু, আত্মার জগৎ থেকে যাদের প্রাণ ফিরিয়ে আনার জন্য ওখানে যাবে তাদের শরীর অক্ষত থাকতে হবে। এই জগতে যারা মারা যায় তাদের আত্মা ওই আত্মার জগতে কিছু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থেকে যায়। তাদের আত্মাগুলো সেখানে জীবিত অবস্থায় থাকে কিন্তু তাদের সবাইকে সয়তান নিজের বশে করে রাখে। অর্থাৎ এই জগতে মানুষ মারা গেলেও ওই জগতে তারা কিছু সময়ের জন্য জীবিত থাকে। যতটুকু সময় জীবিত থাকে ততটুকু সময় তারা ডিমন দ্বারা পোজেস্ট থাকে। তাদের ওই জগত থেকে পুনরায় এই জগতে ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সয়তানের সাথে লড়াই করতে হবে।

কিন্তু এটা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নাহ।

লেট মী দ্য পয়েন্ট! যেমন ধরো আমি চাইলেও আত্মার জগতে প্রবেশ করতে পারবো নাহ কারণ আমার মধ্যে "Holey Power" নেই। যদি কখনো তোমার প্রয়োজন হয় তাহলে তুমি ওই আত্মার জগতে প্রবেশ করতে পারবে কারণ তোমার মধ্যে "Holey Power" আছে।

তবে, ওখানে প্রবেশ করার পূর্বে তোমাকে রাজা এলাহাবাদের প্রাসাদে যেতে হবে। ওখানকার বিপদ অতিক্রম করতে হবে তারপর ওখান থেকে আত্মার জগতে যাওয়ার রাস্তা খুঁজে নিতে হবে।

উনি বলেছিলেন, উনার লিখা শেষ বই শুধুমাত্র সেই ব্যক্তি খুজে পাবে যার মধ্যে "Holey Power" থাকবে।

প্রথমে রাজা এলাহাবাদের প্রাসাদের বাইরে থাকা কবরস্থানের বিপদ অতিক্রম করে প্রাসাদে প্রবেশ করতে হবে তারপর প্রাসাদে থাকা সকল বিপদের সম্মুখীন হয়ে "The Another Dimension" বই খোঁজার উদ্দেশ্যে ইবাদত করতে হবে তারপর নতুন কোনো বিপদের সম্মুখীন হওয়া ছাড়া সেই বই খুঁজে বের করে ওই বইয়ে থাকা নিয়ম অনুসারে তোমাকে আত্মার জগতে প্রবেশ করতে হবে ।

আরিয়ান:- সবকিছু বুঝলাম, এবার আমাকে একটা সত্যি কথা বলো তোহ.?

অরিন:- কোন সত্যি.?

আরিয়ান:- তুমি আমাকে এসব কেনো বলছো.?

অরিন:- এর পিছনে একটা উদ্দেশ্য আছে.!

আরিয়ান:- কিসের উদ্দেশ্য.?

আরিয়ান:- আমি যখন রাজা এলাহাবাদের প্রাসাদ থেকে ইবাদত সম্পূর্ণ করে ফিরছিলাম তখন রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা কিছু কাগজ পেয়েছি যেগুলোতে সে সাহায্য চেয়েছিলেন।

আরিয়ান:- কিসের সাহায্য.?

অরিন:- জানি নাহ, তুমি আমাকে বিশ্বাস করবে কি নাহ! তবে আমি সাথে করে ওই কাগজগুলো এনেছি তোমাকে দেখাচ্ছি ওয়েট!!

আরিয়ান:-৷ আচ্ছা! কাগজগুলো পরে দেখাও আগে বলো কিসের সাহায্য..?

অরিন:- রাজকন্যা ইলাহ্ যখন উনার জীবনের শেষ বই লিখছিলেন তখন সয়তান নানা ভাবে উনাকে পোজেস্ট করতে চায়। এমনকি বহুবার পোজেস্টও করে ছিলো। তারপরও সে বইটা সম্পূর্ণ লিখেছিলেন। তার পাশাপাশি উনাকে সাহায্য করার জন্যও আমাদের সকলের উদ্দেশ্যে কিছু ম্যাসেজ রেখে যান। হয়তো উনি আগে থেকেই জানতো যে আমার মতো কেউ ওই প্রাসাদে গিয়ে ইবাদত সম্পূর্ণ করবে আর তোমার মতো কেউ "Holey Power" প্রাপ্ত মানুষ এই ভুজঙ্গপুর গ্রামে আসবে।

যাই হোক, উনি যেমন উনার লিখা শেষ বইটা নিজের জীবন দিয়ে লিখেছেন ঠিক তেমনই উনার জীবন বাঁচানোর জন্যও সাহায্য চেয়েছেন।

আরিয়ান:- মানে.?

অরিন:- মানে, উনি আমার মাধ্যমে তোমার কাছে সাহায্য চেয়েছেন!

আরিয়ান:- কিভাবে.?

অরিন:- আরিয়ান! হয়তো তুমি বা আমি আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানি নাহ! তবে এমন একটা সময় আসবে যখন আমাদের রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা বইয়ের প্রয়োজন হবে। তখন তোমাকে সেই প্রাসাদে যেতে হবে উনার লিখা বই খুঁজতে। তুমি যখন উনার লিখা বই খুঁজে পাবে তখন তোমার উদ্দেশ্য থাকবে আত্মার জগতে যাওয়া। তারপর তুমি যখনই আত্মার জগতে প্রবেশ করবে তখন সয়তানের হাত থেকে রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাকে মুক্তি করার জন্যই তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে এসব ম্যাসেজ রেখে গিয়েছেন।

আরিয়ান:- উনি কি এখনো সয়তানের বশে আছেন.?

অরিন:- হবে হয়তো! এজন্যই আমাদের কাছ থেকে সাহায্য চাইছেন।

আরিয়ান:- তুমি শিওর হয়ে কিভাবে বলছো যে রাজকন্যা ইলাহ্ আমার কাছ থেকেই সাহায্য চায়.?

অরিন:- তুমি হয়তো ভুলে গেছো, এই ভুজঙ্গপুর গ্রামে তুমিই একমাত্র ব্যক্তি যে একবার নাহ দুই দুই বার রাজকন্যা ইলাহ্'কে পাগল রূপে দেখেছো।

তাছাড়া উনার লিখা ম্যাসেজে ছিলো উনি যার কাছ থেকে সাহায্য চাইবে সে ছাড়া আর কেউই তাকে পাগল রূপে দেখবে নাহ।

উনি আমার মাধ্যমে তোমার কাছ থেকে সাহায্য চায়।

আমাদের উচিৎ উনাকে সাহায্য করা।

আরিয়ান:- যদি কখনো আমি ওই প্রাসাদে যাই তাহলে অবশ্যই আমি রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাকে সয়তানের হাত থেকে মুক্তি করবো। শুধু তাই নয় আমি রিশার আত্মাকেও সয়তানের হাত থেকে মুক্তি করবো।

অরিন:- তাহলে এখন আমাদের উদ্দেশ্য হলো রিশা আপু আর রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাকে সয়তানের হাত থেকে রক্ষা করা।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! কিন্তু অরিন.?

অরিন:- হ্যাঁ বলো!

আরিয়ান:- তুমি তোহ বলেছিলে যে, রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা শেষ বইটাতে সয়তানদের কিভাবে ধ্বংস করা যায় আবার তাদের কিভাবে পৃথিবীতে আনা যায় এসব নিয়ে লিখা। মনে করো, আমরা কোনোদিন ওই বইটা উদ্ধার করলাম এবং রিশা ও রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাকেও সয়তানের হাত থেকে রক্ষা করলাম কিন্তু ওই বইয়ের কি হবে.?

ওইটা যদি কোনো বাজে কারো হাতে চলে যায় তাহলে তোহ দুনিয়াতে অন্ধকার নেমে আসবে।

অরিন:- হয়তো আমাদের মাধ্যমেই এই বইয়ের নতুন কোনো অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। চিন্তা করো নাহ আমরা এই বইকে কোনো বাজে লোকের হাতে পরতে দিবো নাহ। নিজেদের প্রাণ দিয়ে হলেও ওই বইকে আগলে রাখবো।

আরিয়ান:- আহা! কত সুন্দর গাড়িতে বসে বসে আমরা বই উদ্ধার করে ফেললাম আর সেটাকে প্রাণ দিয়েও আগলে রাখলাম।

অরিন:- হা!হা!হা! আসলেই! হা!হা!হা! এখনো বইয়ের কোনো নাম গন্ধও নেই অথচ আমরা সেটাকে প্রাণ দিয়ে আগলে ফেললাম হা!হা!হা!

আরিয়ান:- বেশি হাসলে দাঁত পরে যাবে।

অরিন:- পরবে নাহ! আমার দাঁত এত কমজোর নাহ বুঝলে!

আরিয়ান:- সে তোহ অনেক আগেই বুঝেছি!!

অরিন:- কিভাবে.?

আরিয়ান:- তুমি যেভাবে প্রতিদিন আমার মাথা চিবিয়ে চিবিয়ে খাও তাতেই বুঝে গেছি যে তোমার দাঁত অনেক শক্তিশালী।

অরিন:- এবার কিন্তু বেশি হয়ে যাচ্ছে...

আরিয়ান:- আচ্ছা! সরি! সরি! আর কখনো সত্যি কথা বলবো নাহ। যাই হোক, আর কতক্ষণ লাগবে.?

অরিন:- এইতো এসে পরেছি আর কিছুক্ষণ।

আরিয়ান:- কতটা পথ এসেছি তাও নাকী আরো পথ বাকি

অরিন:- হ্যাঁ বাকি! তোমার কোনো সমস্যা.? সমস্যা থাকলে নেমে যাও তোমাকে যেতে হবে নাহ।

আরিয়ান:- ভালো কথা বললেও উনি রেগে বোম হয় যায়।

অরিন:- এগুলো ভালো কথা.?

আরিয়ান:- তা নয়তো কি.?

অরিন:- উফ! তোমার সাথে আমি আর কথা বাড়াতে চাই নাহ। একদম চুপ করে বসে থাকো। আর কিছুক্ষণের রাস্তা বাকি আছে তারপর পৌঁছে যাবো।

আরিয়ান:- ঠিক আছে।

প্রায় ১০ মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করার পর আমরা অরিনের বাড়ি গিয়ে পৌঁছাই।

এতদিন ভাবতাম আমার দাদারাই হয়তো জমিদার বংশের কিন্তু আজ আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। এখানে এসে দেখি অরিনদের বাপ-দাদারা আমার বাপ-দাদার চেয়েও বড় লেভেলের জমিদার।

কি বিশাল বাড়ি, দেখেই মনে হচ্ছে কোনো রাজ প্রাসাদে এসেছি। এত বড় বড়লোকের মেয়ে আমার মতো সাধারণ মানুষকে ভালোবেসে জীবনসঙ্গী বানাতে চায় এটাই অনেক।

যাই হোক, অরিনের সাথে ওদের বাড়ির ভিতরে ঢুকলাম। বাপরে, বাইরে থেকে যতটা বড় মনে হচ্ছিল ভিতর থেকে এটা তার চেয়েও বেশি বড়।

"কি হলো.? কি দেখছো এভাবে.?"

"অরিন! তুমি আগে এখানে থাকতে.?"

"হ্যাঁ! কেনো কি হয়েছে.?"

"তুমি তোহ বড়লোকের মেয়ে, আমার মতো গরীব মানুষের সাথে নিজের সারাটা জীবন কাটাতে পারবে.?"

"শুনো! যাকে অজান্তে মন দিয়ে এত ভয় কাটিয়ে ইবাদত সম্পূর্ণ করেছি তার সাথে শুধু সারাটা জীবন কেনো মৃত্যুর পরের জীবনটাও কাটাতে রাজি আছি। তাছাড়া তোমাদের স্ময় সম্পত্তিও তোহ আমাদের তুলনায় কোনো অংশে কম নাহ "

"তারপরও! তোমাদের এসবের কাছে আমাদের জায়দাদ কিছুই নাহ!"

"আরিয়ান! তুমি কিন্তু এখন ধনী গরীবের বিচার করছো। আমি তোমাদের স্ময় সম্পত্তিকে নাহ তোমাকে ভালোবেসেছি। এসব বলে প্লিজ আমাকে কষ্ট দিও নাহ।"

"আচ্ছা সরি! এখন বলো তোমার বাবা মা কোথায় আছেন.?"

"হ্যাঁ! চলো! উনারা হয়তো ছাঁদে আছে!"

"অরিন! একটা কথা বলবো.?"

"হ্যাঁ বলো নাহ! কি বলবে.?"

"তুমি কি সত্যি আমাকে এতটাই ভালোবাসো যতটা মুখে বলছো.?"

"তার চেয়েও অধিক গুন বেশি ভালোবাসি।"

"আমাকে কখনো ছেড়ে যাবে নাহ তোহ.?"

"কখনোই নাহ! তবে আমার অতীত সম্পর্কে জানলে তুমি আমাকে ছেড়ে যাবে নাহ তোহ.?"

"অতীত! কোন অতীতের কথা বলছো তুমি.?"

"আগেই তোহ বলেছি আমার একটা ভয়ংকর ভয়ংকর অতীত আছে যার কারণে আমি মানসিক ভাবে অনেক দূর্বল হয়ে পরেছিলাম!"

"তোমার জীবনে কি হয়েছে এসবের আমি পরোয়া করি নাহ! আমি তোমাকে ভালোবাসি তুমি আমাকে ভালোবাসো এটাই অনেক এর বাইরে আমি আর কিছু জানি নাহ"

"কিন্তু! আরিয়ান, আমার এর আগে একজনের সাথে রিলেশন ছিলো।"

"তাতে কি.? আমার জীবনেও তোহ তোমার আগে রিশা ছিলো, এখন তোহ নেই! তোমার জীবনেও হয়তো আমার আগে অন্য কেউ ছিলো কিন্তু এখন তোহ আমি ছাড়া অন্য কেউ নেই। ব্যস তুমি আমার জীবনে আমি তোমার জীবনে এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছুই নেই। অতীত থাকা ভালো ভালো কিন্তু অতীতে পরে থাকা বোকামি। তুমিও অতীতে ভুলে আমাকে আপন করেছো আর আমিও আমার অতীতকে ভুলে তোমাকে আপন করেছি।"

"হ্যাঁ! আচ্ছা ছাড়ো এসব। একদিন সময় করে তোমাকে সব বলবো এখন চলো ছাঁদে যাই"

"হ্যাঁ! চলো।"

এরপর আমি আর অরিন ছাঁদে চলে গেলাম ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে।