পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৩
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৩ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৩
অরিন আমার হাতগুলো ওর হাত দিয়ে ধরে কিছু বলতে যাবে তখনই একটা ছোট বাচ্চা আমাদের কাছে দৌড়ে এসে বলে....
"একি তোমরা এখানে কি করছো! চলো আমার সাথে খেলবে চলো!"
আমি বাচ্চাটাকে বললাম...
"নাহ! নাহ! বাবু, আমরা এখন খেলবো নাহ!৷ তুমি যাও আমরা কিছুক্ষণ পর আসছি!"
"আরিয়ান! চলো নাহ আজকে ওর সাথে খেলা করি! কি জানি আজকের পর হয়তো এত সুন্দর মুহুর্ত আর কোনোদিন আসবে নাহ!"
"আচ্ছা! চলো তাহলে..."
বেশ কিছুক্ষণ বাচ্চাটার সাথে লুকোচুরি খেলা করার পর আমরা আবারও সেই বেঞ্চে এসে বসলাম।
অরিন তখন ওর ফোন থেকে আমাকে কিছু পুরনো ছবি দেখাচ্ছিল। হঠাৎ করে একটা ছবি দেখে অরিন জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে বললো...
"আরিয়ান! এইযে এটাই হলো কিবরিয়া চৌধুরী!"
"কি বলছো.? ওর ছবি তোমার ফোনে ছিলো তুমি এতদিন কোনো পদক্ষেপ নাওনি কেনো তাছাড়া আমাকেও তোহ জানাওনি.?"
"আরিয়ান! তোমাকে তোহ সেদিনই বলেছিলাম এই মিশনটা হচ্ছে একটা সিক্রেট মিশন এটা আইনী ভাবে পদক্ষেপ নিতে গেলে৷ আমার, ইরিন এবং তোমার আমাদের তিনজনের জন্যই ক্ষতি। আর তাছাড়া কিবরিয়া চৌধুরীর ছবি যে আমার ফোনে আছে সেটা আমার জানাই ছিলো নাহ।"
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলেছিলে তোহ ওইদিন। আচ্ছা শুনো এখন উনাকে খুঁজতে হবে। আমাদের ইরিনের সাথে আবারও যোগাযোগ করতে হবে, কিবরিয়া চৌধুরী কবে হসপিটালে আসবে সেটা জানাটা আমাদের জন্য খুবই ইম্পর্ট্যান্ট।"
"আ-আরিয়ান আমাকে এক্ষুনি একবার অ্যাপার্টমেন্টে যেতে হবে"
"কেনো.? কি হলো আবার.?"
"ইরিন বলেছিলো ওর নাকী আমার সাথে কি দরকারী কথা আছে। আজকে নাকী ও আমার অ্যাপার্টমেন্টে আসবে। এতক্ষণে হয়তো এসেও পরেছে, আমাকে এক্ষুনি যেতে হবে।"
"ওহ্ আচ্ছা! তাহলে যাও।"
"তুমিও চলো আমার সাথে, ইরিনের সাথেও কথা বলতে পারবে"
"হ্যাঁ! তা ঠিক বলেছো।৷ চলো আমিও যাবো তোমার সাথে তাছাড়া আমি তোহ কোনোদিন তোমার অ্যাপার্টমেন্টে যাইনি আজকে নাহয় তোমার অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরে দেখবো।"
"হ্যাঁ চলো"
২০ মিনিটের মধ্যে আমরা অরিনের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে পৌঁছাই। ওখানে গিয়ে দেখি ইরিন অলরেডি সেখাই পৌঁছে গেছে। আমাদের দেখে ইরিন বলে উঠে....
"ওহ্ আমার খোদায়া! এতক্ষণে তোর আসার সময় হলো.? জানিস কতক্ষণ ধরে বসে আছি.?"
অরিন:- আরে! শহর থেকে আসার সময় আরিয়ানের সাথে একটু রাগারাগি হয়েছিলো তাই সন্ধ্যার পর ওর সাথে একটু বেরিয়েছিলাম। তুই বল কি বলবি বলেছিলি.?
ইরিন:- আয় হায়! কি রোমান্টিক! জিজু কি খবর আপনার.?
আরিয়ান:- আলহামদুলিল্লাহ! তোমার বোন ভালোই রেখেছে! হা!হা!হা!
ইরিন:- হা!হা!হা! হ্যাঁ তা তোহ৷ রাখবেই কারণ আপনি ওর স্বপ্নের রাজকুমার।
অরিন:- তোদের মজা ইয়ার্কি হয়ে থাকলে কাজের কথা বল..
ইরিন:- ওহ্ হ্যাঁ! হ্যাঁ! যেটা বলার জন্য এসেছি, ভুজঙ্গপুর গ্রামে একজন ফরেনার ডাক্তারকে আনার জন্য ট্রাই করছিলাম আর আজ সেটাতে সফলও হয়েছি।
অরিন:- কি! সত্যি! কোন ডাক্তার.? কোন ডিপার্টমেন্টের ডাক্তার.? কোন কান্ট্রি থেকে আসছে.? সে কি পার্মানেন্টলি এখানেই থাকবে নাকী.?
ইরিন:- আস্তে! আস্তে! সব বলছি একটু সবুর কর...
অরিন:- আর ধৈর্য ধরতে পারছি নাহ, এতদিনে আমাদের চেষ্টা সফল হলো। একজন ভালো ডাক্তারকে এই গ্রামে আনার জন্য কনভিন্স করতে পারলাম এরচেয়ে খুশির আর কি হতে পারে।
আরিয়ান:- আচ্ছা! কাহিনিটা কি একটু যদি খুলে বলতে.?
অরিন:- তোমাকে বলেছিলাম নাহ, এই গ্রামে ইরিনকে ডাক্তারের জন্য নিয়োগ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওর কোয়ালিফিকেশন কম থাকায় নার্স হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর থেকে এই গ্রামে কোনো ভালো ডাক্তার পাওয়াই যায় নাহ, এখানকার লোকজনরা ভালো চিকিৎসার অভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে চলেছে তাই আমি আর ইরিন ভিলেজ হেড টিমে অ্যাপ্লাই করেছিলাম একজন ফরেনার ডাক্তারকে এই গ্রামে আনার জন্য তারা আমাদের এই ডিসিশানে এগ্রি হন এবং এটাও বলেছেন ফরেনার ডাক্তার আনতে যত খরচ সব তাদের এবং ডাক্তারকে এই গ্রামেই শিফট হতে যতটা সম্ভব সুযোগ সুবিধা উনারাই দিবে।
আরিয়ান:- এবার বুঝলাম! আসলেই তোমরা এই গ্রামের জন্য অনেকটা ভাবো। আমি সত্যি সত্যি ইমপ্রেস তোমাদের কাজ দেখে।
অরিন:- আচ্ছা! আচ্ছা! ইরিন তুই তাড়াতাড়ি বল ডাক্তারের হোল ইনফরমেশন দে আমাকে।
ইরিন:- উনি হচ্ছে পাকিস্তানের ডাক্তার! পাকিস্তান লাহোরের বাসিন্দা, ইসলামাবাদ থেকে ডাক্তারি পাশ করে লাহোরেই এতবছর নিউরোলজিস্ট হিসেবে ডাক্তারি করেছেন।
অরিন:- নাম কি উনার আর উনি কবে থেকে আসছেন.? তাছাড়া পার্মানেন্টলি থাকবেন তোহ.?
ইরিন:- উনার নাম ডাক্তার সিমন! খুব শীঘ্রই উনি বাংলাদেশে আসবেন। তাছাড়া আমি পার্সোনালি উনার সাথে কন্টাক্ট করেছি..
অরিন:- কি বলছিস.? কি কি কথা হয়েছে উনার সাথে.?
ইরিন:- উনি বাংলাদেশে পার্মানেন্টলিই থাকবেন। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে একজন ছেলের সাথে নাকী উনার পরিচয় হয়েছিলো। ৫ বছর আগে ছেলেটি তারই পেসেন্ট ছিলো যে জন্মগত পাকিস্তানি হলেও তার হোল ফ্যামিলি বাংলাদেশে থাকে তাই ৫ বছর আগে সেও বাংলাদেশে চলে এসেছিলো। তাছাড়া ওই ছেলের সাথে নাকী ডাক্তার সিমনের একদিনেরই পরিচয় ছিলো কিন্তু ওই একদিনেই তার সাথে উনার ভালো বন্ড হয়েছিলো। তাদের দুইজনের লাইফ স্টোরি নাকী একই ছিলো মানে দুইজনই নাকী প্যারালেল ওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পৃক্ত। তাই উনি যখনই বাংলাদেশে আসার সুযোগ পেলেন আর নাহ করেননি। উনার ধারণা ওই ছেলেটির নাকী উনার হেল্পের প্রয়োজন হতে পারে।
অরিন:- কি.? নাম জিজ্ঞেস করিসনি ওই ছেলেটার.?
ইরিন:- হ্যাঁ জিজ্ঞেস করেছিলাম.!
অরিন:- নাম কি ছেলেটার.? তাছাড়া ওই ছেলের বয়স কত.?
ইরিন:- উমম! উনার কথামতো ছেলেটার বয়স ৫ বছর আগে ২০ ছিলো এখন তাহলে ছেলেটা আরিয়ান ভাইয়ার বয়সী হবে।
আরিয়ান:- কি বলো.? আমি ভাই জীবনেও পাকিস্তানে যাইনি!!
অরিন:- উফফ! তোমার বয়সী বলেছে, ওটা যে তুমি সেটা কিন্তু একবারও বলেনি.?
আরিয়ান:- ওহ্ হ্যাঁ তাই তোহ! আচ্ছা, বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং লাগছে!! ছেলেটার নাম কি.? ওর বাংলাদেশের বাড়ি কোথায় জানতে পেরেছো.?ইরিন:- ডাক্তার সিমনের কাছ থেকে যতটা জানতে পারলাম, ছেলেটা ওইদিন চলে যাওয়ার প্রায় ২-৩ দিন পর ডাক্তার সিমন ওই ছেলের পিপি মানে ফুপিমণির সাথে কন্টাক্ট করে জানতে পারে ওর বাংলাদেশের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে।
অরিন:- ইরিন! তোকে কতবার জিজ্ঞেস করলাম ছেলেটার নাম কি...?
ইরিন:- ওহ্ হ্যাঁ সরি! সরি! ওর নাম হলো চিশতি কুরেশি।
আরিয়ান:- অরিন.?
অরিন:- হ্যাঁ বলো.?
আরিয়ান:- তোমার মনে আছে, রাশেদ আঙ্কেল বলেছিলো উনি ১৬ বছর আগে নাকী মুন্সিগঞ্জ উনার কোনো এক বন্ধুর কাছে ছিলো.?
অরিন:- হ্যাঁ মনে আছে!
আরিয়ান:- আচ্ছা! অরিন ওই ছেলের সম্পর্কে কি আর কিছু জানতে পেরেছো.? মানে মুন্সিগঞ্জের কোন জায়গায় ওর বাড়ি অথবা৷ ওর বাবা মায়ের নাম কি.?
ইরিন:- হ্যাঁ! সবকিছুই জেনেছি। ওই ছেলের সম্পর্কে আমি জেনেছি ডাক্তার সিমনের কাছ থেকে আর ডাক্তার সিমন জেনেছিলো ওই ছেলের ফুপিমণির কাছে।
অরিন:- তোকে এতকিছু জিজ্ঞেস করিনি, তুই কার কাছ থেকে জেনেছিস আর তুই যার কাছ থেকে জেনেছিস সে কার কাছ থেকে জেনেছে। কি কি জেনেছিস সেগুলো বল আমাদের...
ইরিন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলছি... ছেলেটি দেখতে তুষার বর্ণ, চোখের রঙ নীল, চুলগুলো সোনালী। মুন্সিগঞ্জ সিপাহীপাড়া ওদের বাড়ি। সবাই এক নামে চেনে ❝কুরেশি ভিলা❞ ওর বাবার নাম আব্রাহাম আর মায়ের নাম ফাতিমা।
আরিয়ান:- আচ্ছা ঠিক আছে আমি রাশেদ আঙ্কেলকে বলে দেখবো সে এই নামে কাউকে চিনে কি নাহ।
ইরিন:- আমার একটা প্রশ্ন.?
অরিন:- বল...
ইরিন:- তোরা হুট করে এই ছেলের পরিচয় জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠলি কেনো.?
অরিন:- আসলেই তোহ.? আমরা ডাক্তার সিমনকে রেখে চিশতি পরিচয় জানা নিয়ে এমন আগ্রহী হয়ে গেলাম কেনো.?
আরিয়ান:- হয়তো ডাক্তার সিমন আর৷ চিশতিও আমাদের মতো প্যারালেল ওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পৃক্ত এজন্য।
অরিন:- হ্যাঁ ঠিক বলেছো!
আরিয়ান:- এক মিনিট! আমি রাশেদ আঙ্কেলকে একটা কল করি...
অরিন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! কল দাও...
এরপর আমি রাশেদ আঙ্কেলকে কল করি। বেশ কয়েকবার রিং হওয়ার পর রাশেদ আঙ্কেল কল রিসিভ করে বললেন....
"হ্যালো! হ্যাঁ বলো আরিয়ান! কি খবর.? কেমন আছো.?"
"আসসালামু আলাইকুম আঙ্কেল!"
"ওয়া আলাইকুমুস সালাম! বলো বাবা! কেমন আছো.?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি! আপনি কেমন আছেন.?"
"হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ আমিও সুস্থ আছি!"
"ইয়ে মানে আঙ্কেল একটা কথা জিজ্ঞেস করার জন্য কল করলাম.."
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলো কি জানতে চাও আমি যথা সাধ্য চেষ্টা করবো তোমাকে সাহায্য করার.."
"আসলে আঙ্কেল! আপনি ১৬ বছর আগে যখন মুন্সিগঞ্জ আপনার কোনো এক বন্ধুর কাছে ছিলেন তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের কোন জায়গায়.?"
"কি হয়েছে বলো তোহ.? হঠাৎ এই প্রশ্ন.?"
"বলুন নাহ আঙ্কেল.? খুব প্রয়োজন এজন্যই জিজ্ঞেস করছি.!"
"মুন্সিগঞ্জ সিপাহীপাড়া!"
"কিছু মনে নাহ করলে আর একটা প্রশ্ন করতাম..?"
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! বলো...?"
"আপনার বন্ধুর নাম কি.?"
"আব্রাহাম! কিন্তু কি হয়েছে সেটা তোহ বলবে.?"
"আসলে আঙ্কেল, ভুজঙ্গপুর গ্রামে একজন ডাক্তার নিয়োগ করা হয়েছে সেই ডাক্তার আপনার বন্ধুর ছেলেকে চিনে.!"
"কি বলছো.? আব্রাহামের কোন ছেলেকে চিনে ওই ডাক্তার.?"
"চিশতি নামে কাউকে.!"
"কিন্তু আমি যখন আব্রাহামের কাছে ছিলাম তখন৷ তোহ চিশতি পাকিস্তানে ছিলো এমনকি চিশতি জন্ম থেকেই পাকিস্তানে ওর ফুফুর কাছে বড় হয়েছে।"
"হ্যাঁ! আঙ্কেল, যে ডাক্তার চিশতিকে চিনে সেও পাকিস্তানের নিউরোলজিস্ট ডাক্তার।"
"ওহ্ এই ব্যাপার! বুঝতে পেরেছি। কিন্তু হঠাৎ ডাক্তার চিশতির কথা জিজ্ঞেস করলো কেনো.?"
"আসলে চিশতি বাংলাদেশে আসার আগে এই ডাক্তারেরই একজন পেসেন্ট ছিলো তাছাড়া এই ডাক্তারের সাথে ওর ভালো বন্ধুত্বও ছিলো"
"কি বলো.? চিশতি বাংলাদেশে চলে এসেছে.?"
"হ্যাঁ! ৫ বছরের কাছাকাছি হয়েছে চিশতি বাংলাদেশে আছে! তাছাড়া আঙ্কেল এত বছরে আপনি একবারও আব্রাহাম আঙ্কেলের সাথে কন্টাক্ট করেননি.?"
"৮ বছর আগে ওখান থেকে আসার পর আর ওদের সাথে কোনো যোগাযোগ করতে পারিনি।"
"কেনো আঙ্কেল.? যোগাযোগ করেননি কেনো.?"
"কোনো কারণ নেই, হঠাৎ করেই সবার সাথে কন্টাক্ট অফ করে দিয়েছিলাম ঠিক যেমন ১৬ বছর আগে তোমাদের সাথে কন্টাক্ট অফ ছিলো। তাছাড়া আব্রাহাম কিন্তু আসিফেরও ফ্রেন্ড ছিলো। আমরা তিনজনই বিজনেস পার্টনার ছিলাম তখন আমরা সবাই ভালুকা ছিলাম। যদিও আসিফের জন্মস্থান ছিলো বগুড়া জেলার পাহাড়িতলা গ্রামে আর আব্রাহামের জন্মস্থান ছিলো মুন্সিগঞ্জের সিপাহীপাড়ায় আর আমার জন্মস্থান ছিলো ভালুকা শহরে। আসিফ আর আব্রাহাম কোনো কারণে ভালুকা শহরে বসতির জন্য গিয়েছিলো তখনই ওদের সাথে আমার পরিচয়। তারপর আব্রাহাম চলে গেলো মুন্সিগঞ্জ আর আমি ও আসিফ চলে এলাম বগুড়ায়। এরপর এরপর থেকে আব্রাহামের সাথে ঠিক মতো কোনো যোগাযোগ হয় নাহ আমাদের সাথে। কিন্তু ১৬ বছর আগে কাহিনি পাল্টে গেলো ভুলে যাওয়া বন্ধুই আমার বিপদে পাশে দাঁড়ালো আর আমি সেই বন্ধুর সাথেই এখন যোগাযোগ রাখি নাহ। আসলেই আমি অনেক খারাপ, অনেক বেইমান আমি"
"এভাবে বলবে নাহ আঙ্কেল! আপনি পরিস্থিতির স্বীকার। যদি কোনোদিন চিশতি আর আব্রাহাম আঙ্কেলের সাথে কন্টাক্ট হয় তাহলে অবশ্যই আপনার এবং আমার আব্বুর কথা বলবো।"
"আচ্ছা বাবা আরিয়ান! এবার রাখি সবকিছু হারিয়ে এখন পুরনো স্মৃতি আমাকে আবারও ডাকছে পরে কথা বলবো!"
"আচ্ছা আঙ্কেল! আপনি মন খারাপ করবেন নাহ!"
"মন খারাপ করতে হয় নাহ বাবা মন আপনাআপনিই খারাপ হয়ে যায়, যাকগে এসব ছাড়ো ভালো থেকো আর রিশা মামনীর কোনো খবর পেলে আমাকে কল দিও"
"আচ্ছা আঙ্কেল!"
এরপর আঙ্কেল কল কেটে দেয়। আঙ্কেল সাথে কথা বলা শেষে ইরিন আর অরিন আমাকে জিজ্ঞেস করে আঙ্কেল কি বললো...
অরিন:- কি হলো.? রাশেদ আঙ্কেল কি বললো.?
ইরিন:- কি হলো জিজু তাড়াতাড়ি বলুন রাশেদ আঙ্কেল কি বললো.?
আরিয়ান:- আমাদের আন্দাজ একদম ঠিক ছিলো।
অরিন:- মানে..?
আরিয়ান:- মানে রাশেদ আঙ্কেল ১৬ বছর আগে চিশতির দেশের বাড়িতে অর্থাৎ আব্রাহাম আঙ্কেলের কাছে ছিলেন। তাছাড়া আব্রাহাম আঙ্কেল, রাশেদ আঙ্কেল আর আমার বাবা তারা তিনজনই খুব কাছের বন্ধু ছিলেন।
অরিন:- কি বলছো.? আচ্ছা আমাদের সাথে চিশতি আর ওর ফ্যামিলির কোনো যোগসূত্র নেই তোহ.?
আরিয়ান:- মনে হয় নাহ চিশতির সাথে আমাদের কোনো যোগসূত্র আছে।অরিন:- তাই যেনো হয়।
আরিয়ান:- হ্যাঁ, তাই হবে কারণ চিশতিকে তোহ আমরা কেউই চিনি নাহ এমনকি জানিও নাহ। ডাক্তার সিমনের উদ্দেশ্যে আমরা চিশতির পরিচয় খুঁজে বের করলাম। তাছাড়া তিশচি মনে হয় কোনো বিপদে ছিলো ৫ বছর আগে এজন্যই ডাক্তার সিমন চিশতিকে সাহায্য করার কথা বলেছেন।
ইরিন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চিশতিরও নাকী প্যারানরমাল প্রবলেম ছিলো যেটা ডাক্তার সিমনের কাছে শেয়ার করেছিলো এজন্যই ডাক্তার সিমন চিশতিকে সাহায্য করার কথা বলেছেন।
আরিয়ান:- হ্যাঁ! ঠিকই আন্দাজ করেছি। তাছাড়া চিশতির বিপদ ছিলো আরো ৫ বছর আগে সেটা তোহ আর হঠাৎ করে ৫ বছর পর নতুন করে শুরু হবে নাহ..
ইরিন:- জিজু! ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে কিন্তু সময় লাগে নাহ। হয়তো ৫ বছর আগে চিশতির জীবনের এমন কোনো ইতিহাস থেমে গিয়েছিলো যা ৫ বছর পর নতুন করে পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।
অরিন:- বাহ্ রেহ! তুইও দেখি এসব নিয়ে ভাবিস। তুই নাহ ডাক্তার! তুই এসবে কবে থেকে বিশ্বাস করতে শুরু করলি..?
ইরিন:- তোর জীবনের প্রথম প্রেমের পর থেকে।
অরিন:- ইরিন! প্লিজ...
ইরিন:- আচ্ছা সরি! আসল কথা তোহ বলতে ভুলে গেছি..
অরিন:- কি কথা...?
ইরিন:- ডাক্তার সিমন বাংলাদেশে আসার পর আমাকে বিয়ে করবেন...
অরিন:- কি.? সত্যি বলছিস নাকী মিথ্যা..?
ইরিন:- সত্যি! সত্যি! সত্যি! তিন সত্যি।
আরিয়ান:- কেমনে কি বোইন.?
ইরিন:- ওহ্ হ্যালো মিস্টার! এই গ্রামে এমনি এমনি কোনো বড় ডাক্তার আসতে চাইবে নাহ বুঝলেন। প্রথমে ডাক্তার সিমনকে ভালোবেসেছি তারপর তাকে এই গ্রামে আসার জন্য অনুরোধ করেছি। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছি সিমন বাংলাদেশে আসলেই আমরাও বিয়ে করে ফেলবো।
অরিন:- বাহ্! এ তোহ খুশির খবর। এসব চলছে কতদিন হলো আর আমাকে তোহ এসব বিষয়ে কখনো কিচ্ছু বলিসনি.?
ইরিন:- আমিও কখনো ভাবিনি আমার স্বপ্নটা এভাবে সত্যি হবে। যাই হোক, আজ সত্যি হয়েছে তাই তোদের জানালাম।
অরিন:- যাক ভালোই হয়েছে। এবার আমরা দুই বোন এক সাথে একই দিনে বিয়ে করবো। এখন অপেক্ষা শুধু ডাক্তার সিমনের।
আরিয়ান:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! একদম ঠিক বলেছো...
ইরিন আর অরিনের সাথে কথা বলছিলাম তখনই ফোনে আলতাফ সাহেবের কল....