পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ২৩

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২৩ · ২৩ পর্বের মধ্যে ২৩

হঠাৎ করে চারিদিক আলোয় চকচক করতে থাকে। এত আলো যে চোখ খুলে তাকানো যাচ্ছে নাহ। চারিদিকের পঁচা দুর্গন্ধ মিলিয়ে গিয়ে হাজারো ফুলের সুভাষ বইতে লাগলো। আলোর বেগ কমলে মিটিমিটি চোখে তাকিয়ে দেখি একটা মেয়ের অবয়ম দাঁড়িয়ে আছে।

চোখ ধাধানো আলোতে সেই বৃদ্ধ মহিলাটি উধাও হয়ে যায় এবং রাজকন্যা ইলাহ্ সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পরে যায়। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই সেই মেয়ের অবয়মটি আমার দিকে এগিয়ে আসে। প্রথমে ছায়ার আড়ালে ছিলো এজন্য তার চেহারাটা স্পষ্ট দেখতে পারিনি কিন্তু যখন সে প্রকাশ্যে এলো তাকে দেখে আমি অবাক। বয়স আনুমানিক ২০-২২ বছর হবে, কাধে একটা বড় ব্যাগ। ধবধবে ফর্সা তুষার বর্ণ গায়ের রঙ, নীল নয়না, সোনালী চুলের অধিকারী। শরীরের গঠন দেখলেই বুঝা যায় ইনি নিশ্চয়ই কোনো বিদেশি। শেষ পর্যন্ত একজন বিদেশি এসেছে আমাকে সাহায্য করতে। ভাবতেই অবাক লাগে, আমাদের সাথে কতশত মানুষ জড়িয়ে আছে, কত আলাদা আলাদা দেশ থেকে তাদের জড়ানো হয়েছে এই রহস্যের বেড়াজালে। আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই মেয়েটি আমাকে বলে....

- আমাকে কেনো ডেকেছেন...?

মেয়েটির মুখে স্পষ্ট বাংলা শুনে আমি অবাক!! একে দেখতে তোহ কোনো দিক দিয়ে বাঙালি মনে হচ্ছে নাহ তাহলে ইনি কিভাবে বাংলা বলছে..?

- আ-আমার আ-আপনার সাহায্যের প্রয়োজন।

- বলুন! কি সাহায্য করতে পারি আপনাকে।

- এই প্রাসাদের অভিশাপ কাটাতে আমাকে সাহায্য করুন।

- সে নাহয় করবো কিন্তু তার আগে আপনার পরিচয় এবং আপনার এই প্রাসাদে আসার উদ্দেশ্য কি সেটা বলুন

তারপর উনার কাছে সবকিছু খুলে বলি। সবশেষে উনার পরিচয় জানতে চাইলাম...

- আ-আপনার প-পরিচয়টা যদি....

- আমি মার্থা! সবাই মাভিয়া বলেই ডাকে। আররর আমি একজন খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারী। তাছাড়া আমি আগেই জানতাম আমাকে এখানে আসতে হবে কিন্তু কবে, কখন, আর কেনো আসতে হবে সেটা জানা ছিলো নাহ।

আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই রাজকন্যা ইলাহ্ আবারও আমাদের আক্রমণ করে বসে। সাথে সাথে সেই বৃদ্ধ মহিলাটিও এসে হাজির। আমি নিজেদের বাঁচানো উদ্দেশ্যে আয়াতুল কুরসীসহ আবারও উক্ত দোয়া কালামগুলো পাঠ করি এবং মার্থা বাইবেল থেকে কিছু পাঠ করে...

- ❝আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্বি। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ’ ই’ন্দাহূ ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহিতূনা বিশাইয়্যিম্ মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা-আ’ ওয়াসিআ’ কুরসিইয়্যুহুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, ওয়ালা ইয়াউ’দুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়্যুল আ’জিম।❞

❝লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল

আযীমুল হালীম, লা ইলা-হা

ইল্লাল্লা-হু রাববুল আরশিল

আযীম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু

রাববুস সামা-ওয়া- তি

অরাববুল আরদি অরাববুল

আরশিল করীম।❞

❝কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।

আল্লা-হুসসামাদ।

লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।

ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।❞

❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক।

মিন শাররি মা-খালাক।

ওয়া মিন শাররি গা-সিকিন ইযা-ওয়াকাব।

ওয়া মিন শাররিন-নাফফাসাতি ফিল-উকাদ।

ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ।❞

❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-স,।

মালিকিন্না-স,।

ইলা-হিন্না-স।

মিন শাররিল ওয়াস ওয়া-সিল খান্না-স।

আল্লাযী ইউওয়াসবিসুফী সুদূরিন্নাছ-।

মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।❞

❝কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন।

লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন।

ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

ওয়ালাআনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম।

ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।

লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।❞

❝আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লি জাম্বিওঁ ওয়া আতুবু ইলাইহি; লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম।❞

❝লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী

কুংতু মিনাজ জোয়ালীমিন।❞

- ❝Whoever dwells in the shelter of the Most High will rest in the shadow of the Almighty.❞

❝I will say of the Lord, ‘He is my refuge and my fortress, my God, in whom I trust.❞

❝Surely he will save you from the fowler’s snare and from the deadly pestilence.❞

❝He will cover you with his feathers, and under his wings you will find refuge; his faithfulness will be your shield and rampart.❞

❝You will not fear the terror of night, nor the arrow that flies by day❞

আমাদের মুখে কোরআন ও বাইবেলের পবিত্র বাণী শুনে রাজকন্যা ইলাহ্ অজ্ঞান হয়ে যায় এবং সেই বৃদ্ধ মহিলাটি এক ভয়ংকর রুপে আমাদের দিকে আক্রমণ করতে আসে। বিশাল লম্বা এক দানবীয় আকৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড়ে তিনটা মাথা কেন্দ্রে একজন মানুষের মাথা ছিলো, ডান পাশে একটি বিড়ালের মাথা এবং ডামে একটি টোডের মাথা।

মহিলাটির এই রূপ দেখে আমি ভয়ে পিছিয়ে গেলেও মার্থা সাহস করে এগিয়ে গিয়ে আবারও বাইলেব পাঠ করতে থাকে।

❝nor the pestilence that stalks in the darkness, nor the plague that destroys at midday.❞

❝A thousand may fall at your side, ten thousand at your right hand, but it will not come near you.❞

❝You will only observe with your eyes and see the punishment of the wicked.❞

❝If you say, ‘The Lord is my refuge,’ and you make the Most High your dwelling❞

❝no harm will overtake you, no disaster will come near your tent.❞

সাথে সাথে আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেলো। যখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায় তখন মার্থা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে....

- এই ডেভিলকে আমি এর আগে আমার স্বপ্নে দেখেছি। এই ডেভিলটা আমাকে মারতে চাইতো। এতদিন বুঝিনি কেনো একে স্বপ্নে দেখতাম,, আজ আমার কাছে সবকিছু ক্লিয়ার হলো। যাই হোক, আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার শক্তি প্রয়োগ করে রাজকন্যা ইলাহ্'র সাথে কথা বলুন। উনাকে জিজ্ঞেস করুন এই ডেভিলের দূর্বলতা কোথায়। প্রত্যেকটা ডেভিলেরই একটা নাহ একটা দূর্বলতা আছে এই ডেভিলেরও নিশ্চয়ই কোনো নাহ কোনো দূর্বলতা আছে। আপনি তাড়াতাড়ি আপনার শক্তি প্রয়োগ করুন। কুইক!!!

আমি আবারও নিজের মধ্যে থাকা শক্তিকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করলাম। অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পর রাজকন্যা ইলাহ্'কে কিছুটা কন্ট্রোলে করা গেলো। উনি একটু স্বাভাবিক হলে জিজ্ঞেস করি.....

- ইলা'হ্ আপনাকে যা যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দিন, আমাদের হাতে সময় খুব কম। এই প্রাসাদে যে সয়তান সবাইকে নিজের বশে করে রেখেছে সেই সয়তানের দূর্বলতা কোথায়.?

- উমমমম! প্রত্যেকটা জ্বিন ও সয়তানের একটাই দূর্বলতা সেটা হলো তাদের পরিচয়। আপনারা যদি এই সয়তানকে হারাতে চান তাহলে সবার আগে ওর নাম জানুন। ওর নাম জানতে পারলেই ওকে হারানো সম্ভব।

এতটুকু বলার পর পরই রাজকন্যা ইলাহ্ আবার সয়তানের বশে চলে যায়।

কিছুক্ষণ সবকিছু স্তব্ধ থাকার পর মার্থা হঠাৎ চেচিয়ে উঠে বলে...

- এ-এর আগের বার যখন স্বপ্নের মধ্যে ডেভিলটা আমাকে মারার চেষ্টা করেছিলো তখন আমি ওকে ওর নাম জিজ্ঞেস করেছিলাম।

- নাম বলেছিলো.?

- হ্যাঁ বলেছিলো!! আমি ওর নামটা বাইবেলে লিখেছিলাম।

- কিন্তু এখন জানবো কি করে যে ওর নাম কি.?

- উপায় আছে।

- কি..?

- বাইবেলটা আমার কাছেই আছে। আমি এক্ষুনি খুঁজে বের করছি।

এই বলে মার্থা ওর কাঁধে থাকা ব্যাগের ভিতর থেকে বাইবেল বের করে খুঁজতে শুরু করো সেই সয়তানের নাম কোথায় লিখেছিলো। খুঁজতে খুঁজতে এক পর্যায়ে ওই সয়তানের নামটা সে খুঁজে পায়।

- বেলিয়াল। এই ডেভিলের নাম বেলিয়াল।

আমি রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা বইয়ের ভিতরে বেলিয়াল নামে সয়তানের পরিচয় খুঁজতে থাকি। অনেক খোঁজার পর এই সয়তানের পরিচয় খুঁজে পাই।

"বেলিয়াল!! একে ভিন্নভাবে বলা হয় অসারতা, কিছুই নয়, ঈশ্বর নয়। এটি সয়তানের সবচেয়ে শক্তিশালী য়য়তানগুলির মধ্যে একটি। প্রাচীনকালে এই নামটিকে সিরিয়া ও পারস্যের দেবতা বলা হতো। বেলিয়াল পুনর্জন্ম এবং মৃত্যুর চক্রের উপর শাসন করার ক্ষমতা রাখে। বেলিয়াল সর্বদা একটি সুন্দর প্রতারণামূলক ছদ্মবেশে লোকেদের কাছে উপস্থিত হয়। বেলিয়াল সর্বদা বিশ্বাসঘাতক এবং প্রতারক। তিনি মানুষকে পাপ কাজ করতে উৎসাহিত করেন। বিশেষ করে যৌন বিকৃতি, ব্যভিচার ও লালসা। প্রাচীনকালের ইহুদিরা বিশ্বাস করত যে বেলিয়াল লুসিফারের পরেই তৈরি হয়েছিল এবং জন্ম থেকেই সর্বদা একটি মন্দ সারাংশ ছিল। তিনিই প্রথম ঈশ্বরের বিরুদ্ধে উঠেছিলেন। স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর তিনি মন্দের মূর্ত প্রতীকে পরিণত হন। বেলিয়ালকে ডাকার সময় কুরবানী করতে হয়। বেলিয়াল প্রায়ই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে। কেউ যদি তার অবস্থান খোঁজেন, বেলিয়াল উদারভাবে এটির জন্য পুরস্কৃত করে। কেনানের অধিবাসীরা বেলিয়ালের উপাসনা করতো এবং শিশুদের বলিদান করতো। খ্রিস্টধর্মে বেলিয়াল একইভাবে তিন মাথা বিশিষ্ট ছিলো। মাঝে একজন মানুষের মাথা ছিলো, ডান পাশে একটি বিড়ালের মাথা এবং বামে একটি টোডের মাথা রয়েছে। বেলিয়াল জ্ঞান এবং অন্তর্দৃষ্টি উভয়ই দিতে সক্ষম হয়েছিলো।"

বেলিয়াল নামক সেই সয়তানটি আবারও সেখানে উপস্থিত হয় এবং আমাকে আর মার্থাকে আক্রমণ করে। ঝড়ের গতিতে এসে আমাদের দুইজনকে গলা টিপে ধরে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল, মনে হচ্ছিল এই বুঝি মারা যাবো। ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙ্গে যায় তখন মার্থা বুদ্ধি খাঁটিয়ে সেই সয়তানের নাম ধরে ডাকে। আর সাথে সাথে বেলিয়াল আমাদের ছেড়ে দেয়। সেই সুযোগে মার্থা আবারও বাইবেল পড়তে থাকে....

❝For he will command his angels concerning you to guard you in all your ways❞

❝they will lift you up in their hands, so that you will not strike your foot against a stone.❞

❝You will tread on the lion and the cobra; you will trample the great lion and the serpent.❞

❝Because he loves me, says the Lord, ‘I will rescue him; I will protect him, for he acknowledges my name.❞

❝He will call on me, and I will answer him; I will be with him in trouble, I will deliver him and honour him.❞

❝With long life I will satisfy him and show him my salvation.❞

❝Saint Michael the Archangel, defend us in battle; be our protection against the wickedness and snares of the devil. May God rebuke him, we humbly pray: and do thou, O Prince of the heavenly host, by the power of God, thrust into hell satan and all of the other evil spirits who prowl about the world seeking the ruin of souls.❞

বাইবেল পড়তে পড়তে মার্থা ওর ব্যাগের ভিতর থেকে জিশু ক্রস বের করে বেলিয়াল সয়তানের বুকের মাঝ বরাবর গেথে দেয়। বেলিয়াল সয়তান ভয়ংকর হুংকারে গর্জন করে উঠে ওর বড় বড় নখ মার্থার পেটে ঢুকিয়ে দেয়। প্রায় অনেক বার মার্থাকে আঘাত করে, মার্থাও শেষ পর্যন্ত বেলওয়ালকে ক্রস দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক পর্যায়ে চারিদিকে ঝড় বইতে শুরু করে। বেলিয়ালের শরীরে আগুন ধরে যায় এবং মুহুর্তেই বেলিয়াল সেখান থেকে উধাও হয়ে যায়। পাশেই রাজকন্যা ইলাহ্'র দিকে নজর পড়ে, উনার শরীর থেকে আলোর রশ্মি বের হচ্ছিল। আস্তে আস্তে উনিও হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। আমি ছুটে গিয়ে মার্থাকে ধরলাম।

- আ-আমি যে-টা স্বপ্নে দেখেছিলাম আ-আজ সে-টা-ই সত্যি হলো

- আ-আপনা-র কিচ্ছু হবে নাহ!! আ-আ-আমি আপ-নার কিচ্ছু হতে দিবো নাহ।

- হুসস!! আপনাকে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আ-আমা-র জন্য স-ময় নষ্ট করবেন নাহ। হাআআআআহ!!! আমি জানি আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে। তবে এটা মনে রাখবেন, আপ-নার লড়াই কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। আমি মন থেকে আপনা-র কাছে ক্ষমা চাইছি কারণ এই লড়াইয়ের শেষ অব্দি আমি আপনা-র পা-শে থাকতে পারলাম নাহ।

- মা-মা-র্থা!! আমা-কে একটা উপায় বলে দিন, কি-কিভাবে আপনাকে সু-সুস্থ করতে পারবো।

- আ-আমি আপনার মতো মাতরম বংশের উত্তরসুরী নাহ যে আমাকে ডেভিলের অপঘাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হবে। শুনুন, আপনাকে কোনো ডেভিল মারতে পারবে নাহ, সে চেষ্টা করলেও পারবে নাহ কারণ হাজারটা অ্যাঞ্জেল আপনাকে প্রটেক্ট করার জন্য ঘিরে রয়েছে। আপনার কাছে পৌঁছাবার আগে ডেভিলদেরকে সবার আগে সেই সকল অ্যাঞ্জেলসদের সাথে লড়তে হবে যারা আপনাকে প্রটেক্ট করছে। ওহ্ মাই গড!! শী ইজ কামিং ইন দ্য প্যারালাল ইউনিভার্স। সে এসে গেছে, আমার ফিরে আসার নতুন অধ্যায় নিয়ে আসছে। আমার শক্তির উৎস এসেছে এবার আমাকে যেতে হবে। গুড বাই দ্য হলি স্পিরিট। মেই গড সেভ ইউ।

এই বলে মার্থাও আমার কোলে মাথা রেখে ইহকাল ও পরকালের মধ্যবর্তী জীবন থেকে বিদায় নিলো। কিন্তু সে কার কথা বললো..? আবার কে আসবে.? সব হারিয়ে একের পর এক নতুন মুখের সাথে পরিচয় হয়েই চলেই, এ আবার নতুন কোন মুখের সম্মুখীন হতে হবে। যাই হোক আমাকে এখন এই প্রাসাদ থেকে বের হতে হবে। অবশেষে আজ এই প্রাসাদের অভিশাপ কাটাতে সক্ষম হয়েছি। নতুন করে আর কোনো রুহ্ এই অভিশপ্ত প্রাসাদে আটকা পরবে নাহ।

রহস্যময় বইটি হাতে নিয়ে তাড়াতাড়ি করে প্রাসাদের বাইরে চলে এলাম। এলাহাবাদের রাজ্যের বাইরে যাবো ঠিক তখনই আমার সামনে একটা অল্প বয়সী মেয়ে এসে দাঁড়ালো। বয়স বেশি নাহ, এই হবে ২০-২১ এর কাছাকাছি তবে অদ্ভুত বিষয় হলো এই মেয়েটিকে দেখতেও একদম বিদেশিদের মতো। ধবধবে ফর্সা তুষার বর্ণের গায়ের রঙ, নীল নয়না, সোনালী পাটের আঁশের মতো চুল। দেখতে অনেকটা মার্থার মতো কিন্তু চেহারার গঠনে অনেক পার্থক্য। অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থেকে প্রশ্ন করলাম...

- কে তুমি.? কি চাও এখানে..?

- আমার পরিচয় দিতে হবে নাহ, আপনি নিজেই খুঁজে খুঁজে নিবেন কে আমি। তবে আমার চেহারাটা ভুলবেন নাহ কিন্তু। সবসময়ের জন্য আমাকে মনে রাখবেন। আমি সময়ের চক্র ঘুরে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে এসেছি আপনার হাতে থাকা বইটার সাহায্যে শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানতে।

- মানে.? রুহ্-এর জগতে আসার পূর্বে সাদিয়া নামের একটা মেয়ের সাথে লড়াই হয়েছিলো এই বইটার জন্য, সে এই বইয়ের সাহায্যে শীতাক্ষীকে কালো শক্তির অধিকারী বানাতে চায় আর তুমি শীতাক্ষীকে হত্যা করতে চাও। কাকে বিশ্বাস করবো আমি.?

[এরপর মেয়েটি আমাকে ওর সম্পর্কে সবকিছু বুঝিয়ে বলে। কি হয়েছিলো ভবিষ্যতে সেটা জানার জন্য ❝পুনর্জন্ম❞ পরবর্তী সিজনের অপেক্ষা করতে হবে]

- ঠিক আছে!! আমি তোমাকে বইটা দিবো কিন্তু শর্ত একটা...

- কি শর্ত.?

- তুমি এখানে থেকেই শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানবে এবং আমার হাতে পুনরায় এই বই তুলে দিবে। এই বই থেকে শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানার পর যখনই আমার হাতে বইটা দিবে আমি তখনই এই বই নিয়ে আমি পাহাড়িতলা গ্রামে যাবো, সেখানে গিয়ে আমি আমার প্রিয় মানুষগুলোকে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।

- আচ্ছা আমি রাজি।

মেয়েটির হাতে বইটা দিতে যাবো তখনই সেখানে সাদিয়ার আত্মা এসে হাজির।

- কোথায় যাচ্ছেন.? এই বই আমাকে নাহ দিয়ে আপনি কোত্থাও যেতে পারবেন নাহ।

- শরীর ত্যাগ করার পরও রুহ্-এর জগতে এসে সেই একই ভুল করছেন আপনি। আপনি হয়তো ভুলে গেছেন, এখানে আমরা দু'জনই শরীর থেকে বেরিয়ে আসা নিঃশক্তি দুইটা প্রাণ। তবে আপনার মধ্যে রয়েছে কালো শক্তি আর আমার মধ্যে রয়েছে শুভ শক্তি।

- এতকিছু জেনে আমার লাভ নেই। বইটা আমার চাই মানে চাই।

তখন সেই মেয়েটি চিৎকার করে বলে....

- আপনি ওকে নিয়ে ভাববেন নাহ! আপনি পাহাড়িতলা গ্রামে যান, আমি ওকে সামলে নিচ্ছি। আমি নির্ভয়ে যান ওকে শায়েস্তা করার পর আমি সেখানে গিয়েই আপনার কাছ থেকে শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জেনে নিবো।

- চুপ!! তুই কি ভেবেছিস, ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে এসেছিস বলে আমি তোকে শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানতে দিবো। হা!হা!হা! এক মিনিট! এক মিনিট! তুই শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানার জন্য অতীতে এসেছিস তার মানে শীতাক্ষী তার শক্তি লাভ করেছে। হা!হা!হা!

- আপনি ওর কথায় কাম দিয়েন নাহ। আপনি তাড়াতাড়ি পাহাড়িতলা গ্রামে যান।

মেয়েটির কথা মতো আমিও পাহাড়িতলা গ্রামের উদ্দেশ্যে দৌড়াতে শুরু করি। আমার পিছু পিছু সাদিয়াও চিৎকার করতে করতে দৌড়ায়...

- ওই দাঁড়া! কোথাও যেতে পারবি নাহ। ওই বই আমি যেভাবেই হোক তোর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিবো। দরকার পরলে তোকে শেষ করে ফেলবো তাও ওই বই আমার চাই।

সাদিয়াকে পিছন থেকে সেই মেয়েটি শক্ত করে ধরে বলে...

- আগে তোহ আমার হাত থেকে বেঁচে দেখা।।

এই বলে সাদিয়া আর সেই মেয়েটির মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে কোথা থেকে যেনো একটা কালো অবয়ব এসে সাদিয়ার আত্মাকে শক্ত করে ধরে হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। কালো অবয়ম৷ আর সাদিয়ার আত্মা যেতে যেতে শূন্যে একটা প্রতিধ্বনি দিয়ে যায়.....

- যখনই যখনই মাতরম বংশের বংশধরদের উপর কালো শক্তির আক্রমণ পরেছে তখনই তখনই আমরা জ্বিন জাতী তাদের সাহায্যের জন্য ছুটে এসেছি এবং সেই কালো শক্তিকে জাহান্নামের ভয়ংকর আগুনে নিক্ষেপ করেছি।

----------------

এরপর সেই মেয়েটির হাতে বইটি তুলে দিলাম। শীতাক্ষীকে হত্যা করার উপায় জানার পর মেয়েটি পুনরায় বইটা আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে শূন্যে মিলিয়ে গেলো। যেতে যেতে বলে গেলো, "মেনে নাও! সব হারিয়ে শূন্য হয়ে যাও।

শূন্য থেকে এসেছো, শূন্যে ফিরে যাও আবার শূন্যের মাঝেই নিজেকে খুঁজে পাও এক অন্য রকম হিসেবে।"

এই লাইনটা আমার খুব চেনা! হ্যাঁ!! এটা এর আগেও আমি শুনেছি। প্রাসাদের বাইরের কবরস্থানে অরিনের মতো দেখতে অবয়মটা এই কথাটাই বলেছিলো কিন্তু এই মেয়েটাও একই কথা বললো কেনো.? কি রহস্য লুকিয়ে আছে এই কথাটার মাঝে..?

সকল চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পাহাড়িতলা গ্রামের উদ্দেশ্যে ছুটতে লাগলাম। যতটা গ্রামের দিকে এগোচ্ছি ইরিন, অরিন আর রাশেদ আঙ্কেলের আর্তনাদ তত বাড়ছিলো। আমি জানি এই আওয়াজগুলো কোথা থেকে আসছে!! হ্যাঁ!!! আওয়াজগুলো গ্রামের সেই পরিত্যক্ত নিষিদ্ধ স্থান থেকেই আসছে। সময় নষ্ট নাহ করে সেই নিষিদ্ধ স্থানে চলে গেলাম।

সেখানে পৌঁছে দেখি, বটগাছটার পাশে একটা বিশাল রক্তের সমুদ্র যার কোনো কূলকিনারা নেই। সেই রক্তের সমুদ্রে ইরিন, অরিন আর রাশেদ আঙ্কেল তলিয়ে যাচ্ছে। নিচ থেকে যেনো কেউ তাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে। উনারা ওখান থেকে উঠার আপ্রাণ চেষ্টা করছে কিন্তু যতবারই চেষ্টা করছে ততবারই ব্যর্থ হচ্ছে।

পরক্ষণেই আমার চোখ গিয়ে পরলো রিশাসহ বাকিদের কবরের দিকে। রিশা নিজের কবরের উপর দাঁড়িয়ে হরিণী আর রোকসানা আন্টিকে বেঁধে রেখেছে আর ওর কোলে আমার সন্তান। কি করবো আগে কাদের কাছে যাবো। হরিণী আর রোকসানা আন্টিকে আগে বাঁচাবো নাকী রক্তের সমুদ্রে তলিয়ে যেতে থাকা ইরিন, অরিন আর রাশেদ আঙ্কেলকে।

কোন দিকে যাবো এসব ভাবতে ভাবতে হতভম্ব হয়ে যাচ্ছিলাম তখন পিছন থেকে কেউ আমার মাথায় আঘাত করে। আমি হুমড়ি খেয়ে মাটিতে পরে গেলাম। চোখ কচলাতে কচলাতে তাকিয়ে দেখি হরিণীর বলা সেই লোকটা, লম্বা কালো পোশাক পড়া, মুখ ঢাকা। তার মানে এটাই হলো সরদার।

- হা!হা!হা! কি হলো সাহেব.? মুখ থুবড়ে পড়ে গেলেন.? এখনই এই হাল তারপর যখন নিজের চোখের সামনে আপনার কাছের লোকদের মরতে দেখবেন তখন কি করবেন.?

- আমি জানি আপনিই সেই মুখোশধারী সরদার যে এতদিন ধরে এই নোংরা খেলা খেলে চলেছেন। কাপুরুষের মতো পিঠ পিছু আঘাত নাহ করে সাহস থাকলে সামনে আসুন।

লোকটা আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো...

- এলাম! নিন কি করবেন করেন।

- কে আপনি.? আপনার আসল পরিচয় কি.?

- জানতে চান কে আমি.? তাহলে জানুন!! আমি সরদার... সরদার!! হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমি সরদার। এর বাইরে আর কিছু জানতে চান.?

- সাহস থাকলে মুখ খুলে দেখা সয়তান! তোর মতো সয়তানের পূজারীরাই তোহ সয়তানের মতো নিজের অস্তিত্ব গোপন রেখে আড়াল থেকে মানুষ ক্ষতি করতে পারিস। যদি এতটাই গর্ব থাকে নিজের শক্তির উপর তাহলে তোর আসল পরিচয় দে আর তোর সয়তানি চেহারাও দেখা। জানি তোর সেই সৎসাহস নেই। হা!হা!হা! কাকে কি বলছি, তুই তোহ কাপুরুষ হা!হা!হা!

- আমি কাপুরুষ নই! আমি কাপুরুষ নই!

- তাহলে বল তুই কে! আর কেনোই বা এসব নোংরা খেলা খেলছিস।

অবশেষে আমি ওর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছি। আমি প্রথম দিনই বুঝেছিলাম ওকে কেউ কাপুরুষ বললে দূর্বল হয়ে যায়। এই কথাটা শুনলেই ও রেগে যায়। আর রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সবসময় ভুলই হয়। হা!হা!হা! অবশেষে মুখোশধারী সরদার আজ নিজের চালে নিজেই ফেসে গেলো।

- কি হলো.? দেখা তোর মুখোশে লুকানো চেহারাটা। আমিও দেখি তুই কোন বাপের বেটা যে এসব নিয়ে খেলছিস। তুই হয়তো আমার সত্যিটা জানিস নাহ। যাগগে এসব ছাড়, আগে তোর চ্যাপ্টার ক্লোজ করি....

আমি আর কিছু বলার আগেই সরদার মুখোশ থেকে নিজের মুখ বের করে। ওর মুখ দেখে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাচ্ছি। এই লোকটা সরদার হয় কিভাবে..? রফিক দাদুর মুখে, আমার আব্বু আম্মুর মুখেও এই লোকটার নামে কত সুনাম শুনেছি কিন্তু আজ এই লোকটাই নাকী একজন মুখোশধারী সয়তান রূপে বের হলো। হ্যাঁ! এই লোকটা ছিলো রফিক দাদুর একমাত্র ছেলে আর আব্রাহামের পিতা স্নিগ্ধ আঙ্কেল। সবার মুখে উনার অনেক সুনাম শুনেছি কিন্তু উনি যে এতটা নিচ আর জঘন্য জানতাম নাহ। যখন রফিক দাদুর স্নিগ্ধ আঙ্কেলের কথা বলেছিলো তখন উনার একটা ফ্যামিলি অ্যালবামে স্নিগ্ধ আঙ্কেলকে দেখেছিলাম। তবে সবার ভাষ্যমতে স্নিগ্ধ আঙ্কেল মারা গেছে যখন আব্রাহামের ৬ বছর তখনই তাহলে এসবের পিছনে উনি থাকলো কিভাবে.?

- যেহেতু আড়াল থেকে নিজের চেহারা বের করেছেন তাহলে এটাও বলুন কেনো এসব করলেন.?

- হা!হা!হা! লোভ!! ধনী হওয়ার বড় লোভ ছিলো আমার। সবসময় চাইতাম ওই খান ভিলাটা আমার হবে কিন্তু আমার বাপটা কখনো আমার সঙ্গ দেয়নি। তাই মিথ্যে মারা যাওয়ার নাটক করে সবার আড়ালে চলে গেলাম।। তারপর বিগত ১৬ বছর আগে যখন অধিবর্ষ হয়েছিলো তখন আমার কার্যসিদ্ধির জন্য রোকসানাকে ইফরিদের কাছে উৎসর্গ করি। কিন্তু এই গ্রামের মাওলানা আলতাফ সাহেবের জন্য সবটাই বরবাদ হয়ে যায়। আলতাফ সাহেব বুদ্ধি করে রোকসানার বিয়ে দিয়ে দেয় আর রোকসানাও পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যায় যার ফলে ইফরিদ ওর কোনো ক্ষতি করতে পারে নাহ। তবে ওর গর্ভে আস্তে আস্তে ইফরিদের বংশধর বেড়ে উঠতে শুরু করছিলো তখনই ইফরিদ বুঝতে পারে তার বংশধরের সাথে মানুষের বংশধরও রোকসানার গর্ভে বড় হচ্ছে সেই ক্ষোভে ইফরিদ রোকসানার স্বামীকে মেরে ফেলে তার এক মাস পরেই রোকসানার সন্তান প্রসব হয় আর গ্রামবাসীরা রোকসানাকে ডাইনী ভেবে মারার জন্য তেড়ে আসে তারপর রোকসানা আর ওর সন্তানরা কোথায় হারিয়ে যায় আমি আর খুঁজে পাইনি। আজ এত বছর ওর ওদের খুঁজে পেয়েছি এবং ওদের সবাইকে ইফরিদের চরণে অর্পণ করতে সক্ষম হয়েছি। এবার তোমার আর হরিণীর সন্তানকে বলি দিতে পারলেই আমার কার্যসিদ্ধি হবে। আমি সারাজীবনের জন্য রূপ, যৌবন, আর ধনসম্পদের মালিক হয়ে যাবো।

স্নিগ্ধ আঙ্কেল উনার কথা শেষ করতে নাহ করতে একটা বিশাল দা নিয়ে আমাদের সন্তানের কাছে ছুটে যাচ্ছিলো, তখন আমি কি করবো বুঝে উঠতে নাহ পেরে আমার ভিতরে থাকা "Holey Power" এবং মাতরম বংশের সেই জ্বিনদের আহ্বান করি। মুহুর্তেই সেখানে তুফান শুরু হলো আর একটা বিশাল আকৃতির সাদা মানব এসে স্নিগ্ধ আঙ্কেলের গলা টিপে ধরে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

কবরের উপরে রিশা হাঁটু গেড়ে বসে পরলো। আমার সন্তানকে মাটির উপর রেখে বললো...

- অবশেষে তুমি আমাদের কালো শক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পেরেছো। তবে আমাদের তিনজনকে ইফরিদের ক্ষোভ থেকে বাঁচাতে হলে তোমাকে আমার কবর খুঁড়তে হবে। আমার লাশের গিট খোলা হয়নি, গিটগুলো খুলতে হবে তোমাকে এবং আমার বুকে গেঁথে থাকা চুলের কাঠিটাও উপড়ে ফেলতে হবে তাহলেই আমরা ইফরিদের ক্ষোভ থেকে বাঁচাতে পারবো। কিন্তু তার আগে তোমাকে ওই রক্ত সমুদ্রে যারা তলিয়ে যাচ্ছে তাদের বাঁচাতে হবে কারণ তাদের হাতে সময় খুব কম।

আমাকে সবকিছুর উপায় জানিয়ে দিয়ে রিশা, হরিণী এবং রোকসানা আন্টির শরীরের বাঁধ খুলে দিলো।

আমি দৌড়ে রক্তের সমুদ্রের কাছে যেতে যেতে ইফরিদ তার ক্ষমতার জোরে রাশেদ আঙ্কেলকে সমুদ্রের অতলে তলিয়ে নিয়ে গেলো। আমি তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হলাম। এই লোকটা আমাদের জন্যই গ্রামে এসেছিলো আর তার ফল সরূপ নিজের জীবনটাই সয়তানের হাতে বলি দিলো। চোখের সামনে প্রিয় মানুষদের এভাবে হারিয়ে যাওয়াগুলো আমি আর মেনে নিতে পারছিলাম নাহ। ইরিন আর অরিনের দিকে আমার দুই হাত বাড়িয়ে দিলাম। দু'জনই শক্ত করে আমার হাত ধরে রেখেছে। আপ্রাণ চেষ্টা জারি রাখি ওদের তোলার কিন্তু কিছুতেই পেরে উঠছিলাম নাহ তখন আমার মনে পরলো....

"মেনে নাও! সব হারিয়ে শূন্য হয়ে যাও।

শূন্য থেকে এসেছো, শূন্যে ফিরে যাও আবার শূন্যের মাঝেই নিজেকে খুঁজে পাও এক অন্য রকম হিসেবে।"

এর মানে হলো, নিজের কথা ভুল অথবা খারাপ কাজকে স্বীকার করা। কারণ ইফরিদ সাধারণ ওই সকল মানুষদের পছন্দ করে যারা একে অন্যের ক্ষতি করে এবং নিজেকে বড় মনে করে। আমি চিৎকার করে ইরিন আর অরিনকে বললাম....

- তোমরা যদি এই পাপের সমুদ্র থেকে বাঁচতে চাও তাহলে তোমাদের করা সবচেয়ে বড় গুনাহগুলোকে কবুল করে আল্লাহর কাছে তওবা করো। একমাত্র তওবাই পারে তোমাদের এখান থেকে বাঁচাতে। তোমরা আমার সাথে সুরা নাস আর ফালাক পড়ে আল্লাহর কাছে তওবা করে নিজেদের করা পাপগুলো স্বীকার করে নাও। যদি মনে হয়, প্রকাশ্যে বললে তোমাদের মানহানি হবে তাহলে মনে মনে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো তাও নিজেদের করা পাপগুলো স্বীকার করো।

তারপর আমার সাথে সাথে ওরা দুইজন সুরা নাস আর ফালাক পাঠ করলো।

❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক।

মিন শাররি মা-খালাক।

ওয়া মিন শাররি গা-সিকিন ইযা-ওয়াকাব।

ওয়া মিন শাররিন-নাফফাসাতি ফিল-উকাদ।

ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ।❞

❝কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-স,।

মালিকিন্না-স,।

ইলা-হিন্না-স।

মিন শাররিল ওয়াস ওয়া-সিল খান্না-স।

আল্লাযী ইউওয়াসবিসুফী সুদূরিন্নাছ-।

মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-স।❞

হয়তো মনে মনে দু'জনই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলো যার ফলে আমি ওদের ইফরিদের ক্ষোভ থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি।

ইরিন আর অরিন কিনারায় উঠে এলো। আমার কথা মতো অরিন ছুটে গিয়ে আমার আর হরিণীর সন্তানকে কোলে তুলে নিলো। তারপর আমি গিয়ে রিশার কবর খুড়ে ওর লাশের শরীর থেকে গিট খুলে দি। এরপর বুকে গেঁথে থাকা চুলের কাঠিটাও উপড়ে ফেলি। সাথে সাথে চারিদিকের আচমকা সাদা রশ্মি যুক্ত হাওয়া এসে রিশা, হরিণী আর রোকসানা আন্টিকে হাওয়ায় মিলিয়ে নিয়ে চলে গেলো।

-----------------

- আমি জানতাম আপনিই পারবেন উনাদের সবাইকে আবারও ফিরিয়ে আনতে।

- সবাইকে কই ফেরালাম!! ভালোবাসার মানুষটাকে তোহ আর ফেরাতে পারলাম নাহ।

আমার আর ডাক্তার সিমনের কথার মধ্যে অরিন বলে বসলো....

- অপেক্ষা দীর্ঘ হলেও সহ্য করা যায়। কিন্তু সেটা যদি হয় একতরফা তাহলে মেনে নেওয়াটা কঠিন।

- আচ্ছা অরিন, আপনি কি জানেন মানুষ কখন নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে.?

- যখন একটা মানুষ খুব একা হয়ে যায়!

- ভুল! মানুষ একা হলে কোলাহল খুঁজে.?

- কিন্তু আমি তোহ একা হলেই নিজের অস্তিত্বকে খুঁজি।

- কারণ, আপনার সাথে হয়তো এমন কিছু হয়েছে যার জন্য আপনি একাকিত্বকে ভালোবেসেছেন। হয়তো আপনার আশেপাশের প্রিয় মানুষগুলো আপনাকে প্রতিনিয়ত আঘাত করেছে, যে জায়গায় আপনার তাদেরকে প্রয়োজন ছিলো সেই জায়গায় তারা আপনাকে একা করে দিয়েছে, আপনার মনোবল ভেঙ্গেছে, আপনার আত্মবিশ্বাসকে চুরমার করেছে।

- হয়তো! কিন্তু একটা বিষয় কি জানে..?

- কি.?

- একটা মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাইছি আবার মনে মনে সেই মানুষটাকেই সারাজীবনের জন্য রবের দরবারে প্রার্থনা করছি, কি বিচ্ছিরি অনুভূতি তাই নাহ...

- অরিন তুমি চাইলে কিন্তু আমরা আবার সবকিছু আগের মতো করতে পারি..

- হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমিও চাই আরিয়ান ভাইয়া আমার জিজু হোক।

- আর আমিও চাই আরিয়ান যেনো আমার ভায়রাভাই হয়! হা!হা!হা!

- প্লিজ আপু আর নাহ করিস নাহ। দেখ এমনিতেও সবাই তোদের ব্যাপারে জানে। এবার শুধু তোর আর আরিয়ান ভাইয়ার এবং আমার আর সিমনের বিয়ে হয়ে গেলেই হলো।

- সবকিছু কি এতটাই সহজ...

- অরিন প্লিজ! আরেকটা বার সুযোগ দেওয়া যায় নাহ আমাকে..?

- সুযোগ! তোমাকে যতই সুযোগ দি নাহ কেনো তুমি তোহ সেই জমজ দুই বোনকেই ভালোবাসবে!! ফাজিল কোথাকার। হা!হা!হা!

- ভুলে যেও নাহ তুমি আর ইরিনও কিন্তু জমজ...

- এই! এই! এই! আরিয়ান!! ইরিনের দিকে চোখ দিও নাহ। ইরিন কিন্তু আমার নামে বুক করা।

- ওহ্! সরি! সরি! ওকে অরিন শুধু আরিয়ানের। আর কিছু জানতে চাও..?

- নাহ! তাহলে শুনে রাখো অরিনও শুধু আরিয়ানের।

- ব্যস হয়ে গেলো! এবার তাহলে আরিয়ান ভাইয়া সত্যি সত্যি আমার জিজু হলো।

- আর আমার ভায়রাভাই! হা!হা!হা!

......The End......