পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ০৫

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৫ · ২৩ পর্বের মধ্যে ৫

ওদিকে বাইরে ধুম বৃষ্টি হচ্ছে আর এদিকে ফার্ম হাউজে আমি একা একা অন্ধকারে ড্রয়িংরুমে বসে আছি। হঠাৎই কেউ একজন এসে দরজার কড়া নাড়লো।

দরজার কড়া নাড়ার শব্দ পেয়ে মনে মনে ভাবতে থাকলাম "অরিন হয়তো বৃষ্টির জন্য বাসায় যেতে নাহ পেরে আবারও ফার্ম হাউজে ফিরে এসেছে"

ছুটে গিয়ে দরজা খুলে দেখি দরজার বাইরে কেউ নেই, একটু অবাক হলেও ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে দরজা বন্ধ করতে গেলেই আমার চোখ গিয়ে আটকায় বাড়ির উঠানে....

"কি যেনো একটা উঠানে পরে আছে, সাদা কাপড়ে মোড়ানো"

কৌতুহল নিয়ে এই বৃষ্টির মধ্যে এক পা দু পা করে এগিয়ে যাচ্ছিলাম উঠানে পরে থাকা ওই সাদা বস্তুটির দিকে।

ধীরে ধীরে পা চালাতে চালাতে এক পর্যায়ে আমি উঠানের সেই স্থানে এসে পৌছে গেলাম যেখানে ওই সাদা বস্তুটি পরে থাকলে দেখেছি।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এখানে কিছুই নেই, তার মানে এগুলো আমার মনের ভ্রম ছিলো.?

কি জানি, হয়তো তাই হবে!

মাথা চুলকাতে চুলকাতে পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, সেই সাদা বস্তুটি আর কিছু নাহ, এটা একটা কাফনে মোড়ানো লাশ যার মাথা ও পায়ে শক্ত করে গীট দেওয়া ছিলো। কিন্তু এই লাশটির চোখ থেকে অস্বাভাবিক ভাবে সবুজ আলো বের হচ্ছিল।

একটা মৃত লাশকে এভাবে কাফনে মোড়ানো অবস্থায় আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমি ভয়ে একটা চিৎকার দিয়ে উল্টো দিকে ছুটতে লাগলাম।

লাশটিও যেনো লাফিয়ে লাফিয়ে আমার পিছু ছুটছিলো।

অনেকক্ষণ ছুটার পর আমার মনে একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছিল।

আমি তোহ এর আগেও এমন সিচুয়েশনের মুখোমুখি হয়েছি তাহলে আমি ভয় কেনো পাচ্ছি.?

নাহ ভয় পাওয়া যাবে নাহ!

দাঁড়িয়ে পরলাম মাঝ রাস্তায়, কিছুক্ষণ পর লাশটিও লাফিয়ে লাফিয়ে আমার সামনে এসে হাজির হলো।

"কে তুমি.? কি চাও আমার কাছে.?"

কাফনে মোড়ানো লাশটি কর্কশ গলায় বলে উঠলো...

"মুক্তি! মুক্তি চাই আমি মুক্তি!"

"কিন্তু কে তুমি.? আর আমার পিছনে পরে আছো কেনো.?"

লাশটি আবারও কর্কশ গলায় বললো....

"আরিয়ান! আমি রিশা!"

এবার যেনো আমি আকাশ থেকে পরলাম!

এটা কি করে সম্ভব?

রিশা তোহ মারা গেছে.? ও এখানে কি করে এলো.?

আমি কিছুটা সাহস নিয়ে ওর কাছে গেলাম!

হঠাৎ করে রিশা উধাও হয়ে গেলো।

একি! কোথায় গেলো.?

আর রিশা মুক্তির কথা বলছিলো কেনো.?

হানার আত্মা ওর শরীর বশ করার পর থেকে কি রিশাও হানার মতো হয়ে গেলো.?

উফফ! আরো একটা রহস্য! রহস্য যেনো আমার পিছুই ছাড়ছে নাহ!

হন্তদন্ত হয়ে ফার্ম হাউজের দিকে ছুটে যাচ্ছিলাম তখনই মনে হলো কেউ একজন আমার পা ধরে টেনে নিচে ফেলে দিলো।

যদি এটা রিশা হয়ে থাকে, তাহলে ও আমার সাথে এমন করছে কেনো.?

আমি উঠতে যাবো তখনই কেউ আমার পা ধরে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে কোথাও নিয়ে যাচ্ছে।

এবার আমি ভয় পেতে লাগলাম। হয়তো আজকেই আমার শেষ দিন। আমি হয়তো আর কালকের সূর্যোদয় দেখতে পারবো নাহ।

এখন যেভাবেই হোক এর হাত থেকে নিজেকে মুক্তি করতে হবে।

মনে মনে চার কূল আর আয়াতুল কুরসি পড়তে থাকলাম।

হঠাৎ চারিদিকে তুফান বইতে শুরু করলো। প্রচুর বাতাসের সাথে মনে হলো কোনো এক খারাপ আত্মাও এখান থেকে উধাও হয়ে গেলো।

যা হয়েছে ভালোর জন্যই হয়েছে৷ কে বা কারা এখানে ছিলো সেটা আমি এখনও জানি নাহ তবে এটা৷ শিওর রিশার সাহায্যের প্রয়োজন।

ইশশ! আমিও একদম কাঁদায় মাখামাখি হয়ে গেলাম। এখন সুস্থ ভাবে ফার্ম হাউজ অব্দি পৌঁছাতে পারলেই হলো।

যা যা সূরা পারতাম সবগুলো পড়তে পড়তে ফার্ম হাউজ অব্দি পৌঁছে গেলাম।

ফার্ম হাউজের ভেতরে ঢোকার সময় মনে হলো কেউ একজন আমার সাথে সাথে এখানে এসেছে।

আমি সাহস সঞ্চয় করে ফার্ম হাউজের ভিতরে নাহ গিয়ে চারিদিকটা ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। যদি কেউ আমার পিছু পিছু এখানে এসে থাকে তাহলে অবশ্যই তাকে ধরতে হবে।

তখনও আমার মাথায় এই প্রশ্নটা আসছিলো নাহ যে আমি একটু আগে অন্য জগতের কোনো একজনের সাথে সাক্ষাৎ করে এলাম। প্রায় মরতে মরতে বেঁচে ফিরলাম, এখন আমার সাহস দেখানোটা উচিৎ হবে নাহ।

বোকার মতো নিজের সাহস দেখাতে বেরিয়ে পরলাম ফার্ম হাউজের চারিদিক খুঁজতে।

বাড়ির সবদিক খুজেও কাউকে নাহ পেয়ে ভিতরে চলে যাচ্ছিলাম তখনই বাড়ির পেছন থেকে কেউ জোড়ে আমার নাম ধরে চিৎকার দিলো...

আমি ছুটে চলে গেলাম বাড়ির পেছনে....

তখনও বুঝতে পারিনি আমার জন্য কি অপেক্ষা করছিলো সেখানে....

বাড়ির পেছনে এসে দেখি কেউ নেই, কি আশ্চর্য! একটু আগেই তোহ এখান থেকে কেউ আমার নাম ধরে ডাকছিলো তাহলে এখন কোথায় চলে গেলো.?

বাড়ির পেছনে একটা বিশাল নারিকেল গাছ আর একটা ছোট্ট পুকুর ছাড়া কিছুই নেই।

কোনো কিছু দেখতে নাহ পেয়ে চলে আসছিলাম তখনই খেয়াল করলাম পুকুর থেকে কিছু লতা আমার দিকে তেড়ে আসছে...

আমি বেশ অবাক হলাম! এই লতাগুলো একদম জীবন্ত লতার মতো আমার দিকে আসছিলো, দেখে মনে হচ্ছে হয়তো ওদের কেউ হুকুম করেছে আমাকে ধরার জন্য।

আমি পালানোর জন্য দৌড় দিবো তখনই লতাগুলো আমাকে পেচিয়ে ধরে পুকুরের দিকে টানতে শুরু করে।

হয়তো আজকে আমাকে পুকুরে ডুবিয়ে মারবে।

আজ আমাকে আর কেউই বাঁচাতে পারবে নাহ!

আমি আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছি লতাগুলো ছাড়ানোর কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছি।

আর বাঁচার চান্স নেই মনে হচ্ছে। এবার হাল ছেড়ে দেওয়া উচিৎ আমার।

কিন্তু কি ভেবেছো.? তোমাদের গল্পের নায়ক এত সহজে হাল ছেড়ে দিবে.? নাহ! আমি এতকিছু হারিয়েছি তারপরও নিজেকে সামলে নিয়েছি আর এই সামান্য লতার কাছে হাড় মেনে নিবো এমনটা কখনোই সম্ভব নাহ।

একটু বেশি ওভার অ্যাক্টিং করতে করতে লতাগুলো আমাকে একদম পুকুরের সামনে নিয়ে যাচ্ছিল, এক্ষুনি আমাকে কিছু একটা করতে হবে নয়তো.....

মনে মনে সূরা কালাম যা যা পারতাম সব পড়ে শরীরে একটু শক্তি অর্জন করে লতগুলোকে কামড়ে ছিড়ে ফেললাম।

উফফ! ফাইনালি বেঁচে গেলাম। কিন্তু নাহ! এখনো পুরোপুরি বাচিনি....

লতাগুলোর হাত থেকে বেঁচে গেলাম। এবার আমাকে এই জায়গাটা ত্যাগ করা উচিৎ। তাড়াতাড়ি করে ওখান থেকে চলে আসতে যাবো তখনই সেই নারিকেল গাছ থেকে একটা কালো বিড়াল আমার উপর ঝাপিয়ে পরলো।

বিড়ালটা আমার গলায় কামোড় দিয়ে ধরে। আমি যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মাটিতে বসে পরলাম। কিন্তু তখনও বিড়ালটি আমার গলায় কামড়ে ধরে ছিলো।

আমি আবারও শরীরের সব শক্তি দিকে বিড়ালটিকে গলা থেকে ছাড়িয়ে ফেলে দিলাম।

বিড়ালটিকে ফেলে দেওয়ার সময় বিড়ালটি আমার গালে আঁচড় কাটে।

আমি আবারও যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকি।

হয়তো বেদনার বশে ওই পুকুরের পানি দিয়ে হাত মুখ পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।

গলা আর গালে ব্যথা নিয়ে ছুটে গেলাম পুকুরের দিকে। পানি নেওয়ার জন্য যেই নাহ পুকুরে হাত দিলাম তখনই৷ পুকুরের ভিতর থেকে কেউ আমার হাত ধপাশ করে ধরে নিচের দিকে টানতে থাকে।

আমিও নিজের হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হয়তো আমি পুকুরে পরে যাই।

কিছুক্ষণ পর দেখতে পাই, আমার চারদিকে পানি আর পানি আমার নিশ্বাস নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছিল। আমি প্রায় মারা যাবো, ছটফট করতে করতে আমি ওখানেই লুটিয়ে পরি।

আমার পাশে সেই কাফনে মোড়ানো লাশটাও শুয়ে ছিলো ওখানে। লাশটিকে দেখে অজান্তেই বললাম....

"রিশা!"

লাশটা যেনো আমার কথা বুঝতে পারছিলো, সেও আমার কথার উত্তর দিলো...

"আমি এসব করতে চাউছি নাহ! আমাকে দিয়ে জোড় করে এসব করানো হচ্ছে!"

ওর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে নাহ পেরে আবারও জিজ্ঞেস করলাম...

"কে করাচ্ছে তোমাকে দিয়ে এসব.?"

"সরদার! সে বলেছে যতদিন নাহ আমি আমার আসল পরিচয় খুঁজে পাচ্ছি ততদিন আমি তার হুকুমের গোলাম! আমি চাইলেও তার হুকুম অমান্য করতে পারবো নাহ!"

"মানে! কে এই সরদার.? তুমি চিনো তাকে.?"

"নাহ! নাহ! আমি তাকে চিনি নাহ! আমি তাকে নাহ জানিয়ে লুকিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে এসেছি, তোমাকে সবকিছু জানাতে এসেছি। তুমি প্লিজ আমাকে হেল্প করো। আমি কোনো কালো শক্তির গোলাম হতে চাই নাহ"

কোনো মতে এই কথাটুকু শোনার শক্তি হয়েছিলো আমার। এরপর চারিদিকে তাকিয়ে দেখি রিশা কোত্থাও ছিলো নাহ আর আমারও দম বন্ধ হয়ে আসছিলো। মনে হচ্ছিল আমি মারা যাচ্ছি। মুহুর্তেই আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেলো।

কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলো চোখে বৃষ্টি পানি পড়ার কারণে। চোখ খুলে দেখি আমি ফার্ম হাউজের পিছনে সেই পুকুরের পাশেই শুয়ে আছি। এখন আমার ঘাড় বা গলায় কোনে ব্যথা অনুভব হচ্ছে নাহ। ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখি ঘাড়ে কোনো কামোড়ের চিহ্ন নেই।

তার মানে এসব কিছু মিথ্যা! নাহ! এগুলো মিথ্যা হতে পারে নাহ। রিশা নিশ্চয়ই কোনো বিপদে আছে। আমি রিশাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি।

মাথা ঝিমঝিম করছে, তারপরও মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ালাম। দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বাড়ির ভিতরে চলে গেলাম।

বাইরে তখনও ধুম বৃষ্টি হচ্ছিল। আমি বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে বাড়ির ভিতরে চলে এলাম।

বাড়ির সদরদরজা দিয়ে ঢুকতেই কারেন্ট চলে এলো। লাইটের আলোয় টিপ টিপ করে হেটে নিজের রুমে চলে গেলাম, রুমে ঢোকার পর যেনো আমার সামনে অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়ে গেলো।

বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম, রিশা যা যা বলেছে সবকিছু সত্যি!

রুমে ঢোকার পর আমার নজর গিয়ে পরে ড্রেসিং টেবিলের দিকে। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে অবাক হলাম। আমার ঘাড়ে অথবা গালে কাটার কোনো ক্ষত বা রক্ত নাহ থাকলেও আমার ঘাড়ে বিড়ালটি যে স্থানে কামোড় দিয়েছিলো ওই স্থানটি কালো হয়ে গেছে।

হাত দিয়ে কালো দাগটি ধরার সময় খেয়াল করলাম আমাকে হাত ধরে যে পানির মধ্যে জোড় করে টেনে নিয়ে গিয়েছিল এটা সম্পূর্ণ সত্যি কারণ আমার হাতেও কারো হাতের আঙ্গুলের ছাপ পরে ছিলো। তখনই মনে পরলো একই রকম চিহ্ন কিছুদিন আগেও আমার বাম হাতে পরেছিলো ওই পাগল মহিলাটি ধরার ফলে।

এবার ডান হাত আর বাম হাত এক করে দেখলাম আমার দুই হাতেই ৫ আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট হয়ে লেগে আছে।

তার মানে এগুলো সব সত্যি। এটা নতুন কোনো কাহিনি নাহ এটা আমারই অসম্পূর্ণ কাহিনি। ওইদিন তাহলে সবকিছুর শেষ হয়নি। এখনো অনেক কিছু বাকি।

রিশা একটা কথা বলেছে, "ওর আসল পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে"

কিন্তু রিশা তোহ রাশেদ আঙ্কেলে একমাত্র মেয়ে এটাই তোহ জানি। এর বাইরেও যে আর কোনো সত্যি থাকতে পারে ভাবনায় ছিলো নাহ।

যাই হোক, রিশার আসল পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে। আর একটা বিষয়ে আমি শিওর, রিশা আর রোকসানা আন্টির পেছনে যে সরদার কারচুপি করে চলেছে সে একজনই।

ওই সরদারের কাছে যেতে হলে আমাকে প্রথমে কিবরিয়া চৌধুরীর কাছে যেতে হবে।

তারও আগে আমাকে আর একটা কাজ করতে হবে, রাশেদ আঙ্কেল! হ্যাঁ! হ্যাঁ! রাশেদ আঙ্কেলের সাথে যে করেই হোক যোগাযোগ করতে হবে।

কিন্তু! কি করে করবো.? আমার ফোন তোহ পাহাড়িতলা গ্রামে।

আমাকে কাল পাহাড়িতলা গ্রামে যেতে হবে। ওখানে গিয়ে সবকিছু আলতাফ সাহেবকে খুলে বলতে হবে আর রাশেদ আঙ্কেলকেও কালকের মধ্যেই এখানে আসতে বলবো।

এই কয়েকদিনে যা বুঝলাম, এই অতীত শুধু আমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর পিছনে জড়িয়ে আছে আরো অনেক রহস্য যা আমি এখনো জানি নাহ। হয়তো এজন্যই আমি এখনো বেঁচে আছি।

যাই হোক, এখন আমাকে ভেজা জামা কাপড় চেঞ্জ করতে হবে। জামা কাপড় চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে পড়ি কাল সকালে এসবের রহস্য খুজতে হবে।

আজকের রাতটা শেষ হলে কালকের দিনটা আমার জন্য খুব স্পেশাল হতে চলেছে।

আলমারি থেকে শুকনো কাপড় বের করতে এলাম। আলমারির দরজা খুলতেই দেখি ভেতরে সেই কাফনে মোড়ানো লাশটা দাড়িয়ে আছে।

এবারও লাশটার চোখগুলো থেকে অস্বাভাবিক ভাবে সবুজ আলো জ্বলজ্বল করছিলো।

লাশটা বার বার চেচিয়ে বলছিলো, "মুক্তি চাই! মুক্তি! মুক্তি চাই! মুক্তি! "

আবারও ভয়ে পিছিয়ে গেলাম। আলমারি থেকে লাশটা আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে আমি পিছতে থাকি। লাশটা এগোচ্ছে আমি পিছচ্ছি।

তখনই আলমারি থেকে একটা ছোট মেয়ে ভয়ংকর চিৎকার দিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে পরলো। মেয়েটি আমার উপরে পরেই আমার গলা টিপে ধরে।

মেয়েটি কি আমাকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলবে.?

অনেকক্ষণ ধরে মেয়েটি আমার গলা চেপে ধরেছিলো। আমার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। এবার বোধহয় মরেই যাবো। নিচে পরে ছটফট করতে থাকি, মেয়েটি আমার গলা ছাড়ার নামই নিচ্ছে নাহ।

নিশ্বাস নিতে নাহ পেরে যখন আমার চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পরছিলো তখন সেই কাফনে মোড়ানো লাশটি আমার পাশে এসে শুয়ে পরে। সাথে সাথে আমার উপরে থাকা মেয়েটিও উধাও হয়ে যায়।

মেয়েটি উধাও হতেই আমি লাফিয়ে উঠে দাঁড়াই। উঠে দাঁড়াতেই দেখি সেই কাফনে মোড়ানো লাশটিও এখানে নেই।

মরতে মরতে আবারও বেঁচে গেলাম। কাল অব্দি আমাকে বাঁচতেই হবে। আল্লাহ! আমাকে আর কিছুদিন বাঁচিয়ে রাখো প্লিজ। এসবের শেষ কোথায় এটা আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে যে করেই হোক।

আলমারি থেকে কাপড় বের করে ওয়াশরুমে চলে গেলাম ড্রেস চেঞ্জ করতে। আমি যখন ওয়াশরুমে ঢুকি তখন মনে হলো কেউ একজন আমার সাথে সাথে ওয়াশরুমে প্রবেশ করলো।

এটাও কি সম্ভব! আমার সাথে আবার কে ঢুকবে.?

এখন এসব চিন্তা নাহ করে আগে ড্রেস চেঞ্জ করি। অনেক রাত হয়েছে এবার ঘুমতে হবে।

নাহ! শরীর একদম কাদায় মাখামাখি হয়ে গেছে একেবারে গোসল করেই বের হই।

বালতি ভরার জন্য পানির কল অন করে দিয়ে ঝর্ণা চালু করে ভিজতে থাকি। ভিজতে ভিজতে এক পর্যায়ে হুশ হয় এতক্ষণ আমি পানি দিয়ে নয় বরং রক্ত দিয়ে গোসল করছিলাম। নিচে তাকিয়ে দেখি বালতির মধ্যে তাজা রক্ত টগবগ টগবগ করছে।

কি হলো?? এখানকার পানিগুলো রক্ত হয়ে গেলো কি করে.? তখনই ওয়াশরুমের আয়নার দিকে আমার নজর পরলো। আয়নার আমিটা একদম ফেকাসে, চোখগুলো একদম কালো হয়ে গেছে। আয়নার আমিটা বাস্তবের আমিকে দেখে একটা বিদঘুটে হাসি দিয়ে সয়তানি হাসিতে মেতে উঠলো। হাসতে হাসতে এক পর্যায়ে আয়নার আমিটা শান্ত হয়ে আমার দিকে ভয়ংকর চোখে তাকালো, চোখ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। মুখের চামড়াগুলোও নিজে নিজে খসে পড়ছিলো।

আয়নার মধ্যে নিজের এমন করুণ দৃশ্য দেখে থাকতে নাহ পেরে চিৎকার দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হতে যাবো তখনই আয়নার ভেতর থেকে বেশ কয়েকটি কালো হাত বেরিয়ে এলো আমাকে ধরার জন্য।

হাতগুলো আমাকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু আমি দৌড়ে ওয়াশরুমের দরজার সামনে চলে আসি। দরজা খোলার চেষ্টা করছি কিন্তু দরজাটা খুলছে নাহ!

অনেকক্ষণ চেষ্টা করার পরও দরজা খুলতে নাহ পেরে পেছন ঘুরে দরজার সামনে হাটু গেড়ে বসে বসে ভাবতে থাকি, কি হচ্ছে আমার সাথে এগুলো! ওই মুহুর্তে দরজার বাইরে থেকে দুইটা কালো হাত বেরিয়ে এসে আমাকে শক্ত করে ধরে দরজা ভেঙ্গে ওয়াশরুম থেকে বাইরে নিয়ে এলো।

ওয়াশরুমের দরজা ভেঙ্গে আমাকে বের করে কেউ একজন আমার পা ধরে টানতে টানতে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এলো।

মিনিট দেড় দুই এর মতো সবকিছু শান্ত হয়ে গেলো। আমি আবারও উঠে দাঁড়ালাম। ভয়ে মনে হচ্ছে আমার প্রাণটা এক্ষুনি বেরিয়ে যাবে।

প্রথমবার যখন এসবের মুখোমুখি হয়েছিলাম তখনও এত ভয় পাইনি আজকে রাতটুকুতে যতটা ভয় পেলাম।

উঠে দাড়িয়ে আবারও রুমের দিকে যাবো তখনই অদৃশ্য কেউ আবারও আমার পা ধরে টানতে টানতে সিঁড়ি দিয়ে হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে ড্রয়িংরুমে এনে ফললো। সিঁড়ি দিয়ে টানতে টানতে আনার ফলে আমার মাথা আর কোমড়ে অনেক আঘাত পেয়েছি।

আবারও সবকিছু শান্ত হয়ে গেলো। আমি আবারও উঠে দাঁড়ালাম, এবার বুঝি সবকিছু শেষ হবে কিন্তু আমি আবারও ভুল ভেবেছি....

কিচেন থেকে কেউ একজন ছুড়ি হাতে নিয়ে ছুটে এলো আমার দিকে। আমি ভয়ে দোতলার দিকে দৌড় দিলাম।

আবারও মরতে মরতে বেঁচে গেলাম। ইশশ! শরীর থেকে কি বাজে দুর্গন্ধ আসছে! গোসলের জন্য ওয়াশরুমে গেলে যদি আবারও একই ঘটনা ঘটে.?

নাহ! নাহ! আরিয়ান! এমনটা কিচ্ছু হবে নাহ!

সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আবারও গোসল করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। ওয়াশরুমের সামনে যেতেই যেনো আমি আকাশ থেকে পরলাম।