পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৮
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৮ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৮
বেঘোর মোহিত হয়ে বক্সটা দেখতে দেখতে এক পর্যায়ে সেটা আনবক্স করি। আনবক্স করে এটার ভিতরে যা দেখলাম তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ।
গিফট বক্সের ভিতরে ছিলো একটা কিউট বারবি ডল, একটা গোলাপ ফুল আর একটা ভ্যালেন্টাইন্স কার্ড।
বারবি ডল ও গোলাপ ফুলটা নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখলাম আর ভ্যালেন্টাইন্স কার্ডটা হাতে নিয়ে দেখি ওটার ভিতরে একটা এনভেলাপ।
অনেক আগ্রহ সমেত এনভেলাপটা খুললাম, তারপর বিরবির করে পড়তে লাগলাম।
এনভেলাপে লিখা ছিলো....
❝প্রিয় অরিন❞
তোমাকে নিয়ে যদি বলতে যাই তাহলে অনেক কথাই বলতে হবে। তার জন্য একটা লম্বা সময়ের জন্য তোমাকে আমার প্রয়োজন! প্রথম যেদিন তোমাকে দেখি সেদিন যেনো আমার পুরো পৃথিবীর থমকে গিয়েছিলো। এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো বাহিত হওয়া সময়কে থামিয়ে দিয়ে সারাক্ষণ তোমাকেই দেখতে থাকি। তোমার লজ্জা মাখা মুখখানা এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়ায়। হাজার চেষ্টার পরও তোমার ওই মায়াবী হাসিটা ভুলতে পারছি নাহ। প্রতিটা সেকেন্ড আমাকে উসকে দিয়ে বলে আবার কখন তোমাকে দেখবো। হুট করে একদিনেই তোহ কারো প্রতি ভালোবাসা জন্মায় নাহ। ধীরে ধীরে একটু একটু করেই একটা সময় তার প্রতি পূর্ন আসক্ত হওয়া যায়। আমার বেলায় কিন্তু এমনটা হয়নি। আমি তোমাকে প্রথম দেখায়ই ভালোবেসে ফেলি। বর্তমানে এমন একটা পরিস্থিতিতে আছি যে পরিস্থিতিতে তোমাকে ভুলে থাকাটা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে নাহ। নাহ পারছি তোমাকে ভালোবাসি কথাটা বলতে আর নাহ পারছি তোমাকে ভুলে যেতে! এই নাহ পারার মূহুর্তটায় আমি খুব দূর্বল হয়ে পরেছি। আর এ দূর্বলতা কাটানোর মাধ্যম হয়তো একমাত্র তুমিই। ইশ যদি সারাজীবনের জন্য তোমাকে পেয়ে যেতাম। যাই হোক, ফুলে ফুলে ভরে উঠুক তোমার জীবন। তবে মনে রেখো ফুলের সাথে কিন্তু কাঁটারও দেখা হবে তাই সজ্ঞানে পদক্ষেপ নিবে, অজ্ঞান অবস্থায় নিলে সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যেতে পারো। কোনো এক বসন্তের আগমনে তোমার সাথে প্রথম বসন্ত কাটাবো। যে বসন্তের কোনো আয়োজন নেই, তাই তোহ চিঠি দিলাম। তুমি নিজেই তোহ একটা বসন্তের ফুল তাই তোহ আমার বসন্তের রঙিন ফুলের প্রয়োজন নেই। বসন্তের রঙিন ফুল এসে ঝড়ে পড়ুক তোমর পদতলে। আমি চাই তোমার আর আমার এক বসন্ত হোক সেখানে, যেখানে হাজার ফুলের ভিরে শুধু তুমি আর আমি! তারপর একদিন খুব ভোরে ফুল কুড়াতে গিয়ে কুড়িয়ে নেবো তোমাকে।
আচ্ছা তুমি কি ফুল কুড়াতে
আসো নাহ..?
_ বিদায়ের সংলগ্নে, আমার ফুলের উপর যেনো কাঁটার আঘাত নাহ পরে এটাই আমার ব্যক্তিগত দোয়া।
ইতি
নিজাতি
-----------------
এই চিঠি নিজাতি স্যার পাঠিয়েছে! বাবাহ্ স্যার তোহ অনেক রোমান্টিক। আমি ভেবেছিলাম আমিই শুধু স্যারের উপর ফিদা এখন দেখি স্যারও আমার উপর ফিদা।
ভাবতেই কেমন শ্বাস প্রশ্বাস থমকে যায়, নিজাতি স্যারের মতো একজন হ্যান্ডসাম পুরুষ আমাকে ভালোবাসে।
যদিও আমিও স্যারকে প্রথম দেখায়ই ভালোবেসে ফেলি, এখন তাহলে আমার আর কোনো ভয় নেই, নির্ভয়ে স্যারকে আমার ভালোবাসার কথা জানাতে পারবো।
ওহ্! স্যার তোহ আমার জন্য গোলাপ ফুল পাঠিয়েছে, ইশশ আমার পছন্দ অপছন্দের দিকে কত খেয়াল রাখেন উনি।
একা একা বিরবির করতে করতে গোলাপ ফুলটা নেওয়ার জন্য ড্রেসিং টেবিলের সামনে যেতেই দেখি ফুলটা একদম শুকিয়ে গেছে।
ছুটে গিয়ে ফুলটা হাতে নিতেই সবগুলো পাপড়ি ঝড়ে পরে গেলো। কিন্তু এটা কিভাবে হলো.? কিছুক্ষণ আগেও ফুলটা একদম সতেজ ছিলো.?
চিন্তিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলাম তখনই মনে হলো আমার পিছন থেকে কেউ দৌড়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গার চলে গেলো। তার ছুটে যাওয়ার বেগে আমার চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছিলো। আতঙ্কিত হয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি কেউ নেই। কিন্তু কেউ যদি এখানে না-ই থাকতো তাহলে আমার এমনটা অনুভব হলো কেনো.?
ঝড়ে যাওয়া ফুলটা হাতে নিয়েই এক পা দু পা করে খাটের দিকে চলতে থাকি তখনই মনে হলো ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা বারবি ডলটা চোখের পলক ফেললো। অবাক দৃষ্টিতে ডলটার দিকে এগিয়ে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে তাকিয়ে রইলাম ডলটার দিকে, বেশ খানেক সময় ওটার দিকে তাকিয়ে রইলাম! কই এখন তোহ চোখের পলক ফেললো নাহ। উঠে আসতে যাবো তখনই ডলটা আবার চোখের নজর পরিবর্তন করলো। এবার আমি ভয় পেতে শুরু করি। ইতস্তত হয়ে ডলটাকে তুলে রুমের বাইরে ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে রুমে চলে আসি। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখি ডলটা আগের জায়গায়ই বসে আছে। ছুটে গিয়ে দরজা খুলে বাইরে দেখি একটু আগে যেখানে ডলটা রেখে গেলাম সেখানে নেই। ভয়ে আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। শরীর ঘেমে একাকার। মাথা ভনভন করছে। আবারও রুমের দিকে ছুটে গিয়ে ডলটাকে তুলে নিয়ে নিচতলায় গিয়ে ডাস্টবিনের ভিতরে ফেলে দিলাম। দৌড়ে এসে রুমের দরজা বন্ধ করে খাটে গিয়ে বসলাম। আবারও চোখ পরলো ড্রেসিং টেবিলের উপর, ডলটা এবারও আগের জায়গায়ই বসে আছে। আমাকে ভয় পেতে দেখে যেনো ওটা একটা মুচকি হাসি দিলো। ভয়ে ঢোক গিললাম। মাথা থেকে টপটপ করে হিম শীতল পানি বেয়ে পরছে। চোখগুলো দিয়ে অজান্তেই পানি পরতে থাকে। কানগুলো গরম হয়ে লাল বর্ণ ধারণ করেছে আমার। তীক্ষ্ণ রাগ নিয়ে উঠে দাঁড়ালাম, ছুটে গেলাম আবারও ডলটার দিকে। তুলে নিলাম হাতে, দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে পরলাম। একদম বাড়ির মেইন গেটের সামনে গিয়ে ছুড়ে মারলাম দূর পর্যন্ত। শরীরে যতটা শক্তি ছিলো সবটুকু শক্তি দিকে ঢিল মরলাম ডলটাকে। পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখি ডলটাকে সেই পঁচা গলা লাশটা হাতে নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। এবারও ল্যাটিন ভাষায় কিছু একটা বললো.... "Nullo conatu usus est, nullo modo a me effugere potes. Ubicumque te celas, statim ad te perveniam." এই বলে লাশটা আমার উপর ঝাপিয়ে পরলো আর আমি সাথে সাথে ওখানেই জ্ঞান হারাই।
---------------
আমি আর ইরিন ড্রয়িংরুমে বসে মুড়ি মাখা খাচ্ছিলাম তখন কেউ এসে দরজার কড়া নাড়ে। আমি শুনেও নাহ শোনার মতো করে মুড়ি মাখা খাচ্ছিলাম।
"কিরে! কে এসেছে দেখ গিয়ে!"
"তুই যা! আমার ভালো লাগছে নাহ"
"দেখ অরিন, সবসময় আমি দরজা খুলি আজকে তুই খুলবি। যা..."
ইরিনের সাথে একটু খুনসুটি করে দরজা খুললাম। দরজা খুলে দেখি নিজাতি স্যার দাঁড়িয়ে আছে।
"স্যার! আপনি এখানে কি করছেন.?"
"তোমাকে দেখার জন্য জন্য চলে এলাম!"
"আপনি চলে যান প্লিজ!"
"কিরে.? কে এসেছে.? এতক্ষণ কি করছিস দরজার সামনে.?"
"উমমম! কিছু নাহ, তুই থাক আমি একটু আসছি!"
নিজাতি স্যারের হাত ধরে গ্রাউন্ডের দিকে নিয়ে এলাম।
"স্যার, আপনি আমার বাড়ি চিনলেন কিভাবে.?"
"মনের মানুষের সবব খবরই রাখতে হয়! এসব ছাড়ো, চলো তোমাকে কিছু দেখাবো"
এই বলে নিজাতি স্যার আমার হাত ধরে বাড়ির বাইরে নিয়ে এলো। অনেকটা পথ চলে এলাম কিন্তু আমাদের গন্তব্য স্থানের কোনো খবর নেই। দুজনই চুপচাপ কেউ টুঁশব্দও করছি নাহ। সকল নিরবতাকে উপেক্ষা করে আমি বললাম...
"স্যার! কি দেখানোর জন্য নিয়ে এলেন আমাকে.? এখানে তোহ কিছুই দেখতে পাচ্ছি নাহ.?"
স্যার কিছুটা ভারি কণ্ঠে জবাব দিলেন...
"চুপচাপ হাঁটতে থাকো! জায়গা মতো পৌঁছালেই দেখবে পাবে কি দেখানোর জন্য নিয়ে এসেছি তোমাকে"
স্যারের এরূপ আচরণে আমি কিছুটা কষ্ট পেলাম তাই অভিমানী ভঙ্গিতে হাঁটতে থাকি দ্বিতীয় বার আর কোনো কথা বলি নাহ।
বেশ খানেকটা পথ হাঁটার পর চলে গেলাম একটা নদীর তীরে। আমি এটা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ। স্যার কি করে জানলো যে নদীর তীর আমার খুব প্রিয়। বরাবরই নদীর তীরে এসে সেখানকার অপরূপ দৃশ্য দেখার আমার খুব শখ কিন্তু কখনো সময় হয়ে উঠেনি এসবে নিজেকে বিলিন করার। যাই হোক আজ এটা আমার জন্য স্পেশাল একটা মোমেন্ট আমি চাই নাহ এই মোমেন্টটা কোনো মতে নষ্ট হোক।
এত সুন্দর অপরূপ দৃশ্য দেখে আমার মন বলে উঠে, এই জনপদ, এই নদী, এই মাটি ও মানুষ সবকিছুই আমার ভীষণ আপন। এই অপরূপ নদীর তীর ঘেঁষে হাজার হাজার মানুষের যোগানদান এই বিল।
খুব করে চাওয়া কোনো জিনিস হঠাৎ করে কোনো কিছু পেয়ে গেলে মনে অনুভূতিটাই থাকে অন্য রকম। দু হাত হাওয়ায় মেলিয়া দিয়ে এক পা দু পা করে নদীর পানি এসে পা ভেজালাম। নিজাতি স্যারকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলাম...
শুনেন..? আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিলো আমার প্রিয় মানুষটাকে নিয়ে একদিন বিকেল বেলা নদীর পাড়ে হাঁটতে যাবো । শুনেছি নদীর পাড়ে নাকী অনেক ভালো লাগে । নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে তাকে কতক্ষন দেখবো, দুইজনে দুইটা রং চা নিবো তারপর সুন্দর একটা বাংলা গান বাজিয়ে তার হাত ধরে নদীর পাড় দিয়ে হাঁটবো । আর মাঝে মাঝে চায়ে চুমুক দিবো । উফফ কতই নাহ শান্তি লাগবে । আমার তোহ এখনই তার সাথে হাঁটতে ইচ্ছে করছে। আমি আর আমার প্রিয় মানুষটা এই নদীর তীরে একসাথে বিকেল বেলা সূর্য ডুবা দেখবো , নদীর পানিতে ঢিল ছুড়ে দেখবো কার ঢিল দূরে গেছে , আকাশ দেখবো আর আকাশের নীচে বসে পাখিদের ঘরে ফিরে যাওয়া দেখবো। ওইদিন আমি একটা কালো শাড়ি পরবো আর আমার প্রিয় মানুষটা পরবে কালো পাঞ্জাবি । কত্ত সুন্দর লাগবে দুজনকে, আমি তো অনেক খুশি হবো ওইদিন। সে আমাকে ভালোবেসে অনন্য নামে ডাকবে ।
আপনি জানেন আমার সেই প্রিয় মানুষটি কে.?
আমার সেই প্রিয় মানুষটি হচ্ছেন আপনি! হ্যাঁ! আপনি ঠিকই শুনছেন আপনিই আমার প্রিয় মানুষ যে আমার মনের সবটুকু জায়গা দখল করে আছে।
আমি আপনার সাথে খোলা আকাশেঁর নিচে হাতে হাত রেখে হাটঁতে চাই!
হুট তোলা রিকশায় আপনার কাঁধে মাথা রেখে গান শুনতে চাই!
নদীর পাড়ে বসে নিজেদের'কে হাওায়ায় ভাসিয়ে দিতে চাই!
আমার অজানা সব গল্পের সাথে আপনাকে আলাপ করিয়ে দিতে চাই!
ভরা বৃষ্টিতে আপনার সাথে ভিজতে চাই,পূর্নিমার রাতে আপনার কন্ঠে গান শুনতে চাই!
পাহাড়ের চুড়ায় দাড়িয়ে চিৎকার করে বলতে চাই,উফস সরি!!
মাঝে ছোট একটা জিনিস ভুল করছি, চিৎকার করে ভালোবাসি বলতে চাই।
এতক্ষণ যাবৎ আমি একা একাই বকবক করলাম অথচ স্যার কোনো প্রতুত্তর করলো নাহ.?
আমিও তাকে ভালোবাসি শুনেও কোনো কথা বললো নাহ, উনি কি রাগ করেছেন.?
গোমরা মুখ নিয়ে পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি সেখানে কেউ নেই শুধুমাত্র একটা সাদা কাপড়ে মোড়ানো বস্তু পরে আছে। জল থেকে উঠে চারিদিকে স্যারকে খুঁজলাম কিন্তু কোত্থাও তাকে খুঁজে পেলাম নাহ। যেখানেই যাই নাহ কেনো আমার চোখে শুধু নদীর ধারে পরে থাকা সাদা কাপড়ে মেড়ানো বস্তুটার প্রতিচ্ছবিই ভাসছিলো। হন্তদন্ত হয়ে আবারও ফিরে এলাম নদীর ধারে। সেখানে গিয়ে দেখি সাদা কাপড়ে মোড়ানো বস্তুটা এখনো ওই জায়গায়ই পরে আছে। মনের মধ্যে সাহস সঞ্চয় করে পা টিপে টিপে ওটার পাশে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসলাম। দূর থেকে মনে হচ্ছিল এটা এমনি কাপড়ে মোড়ানো কোনো বস্তু কিন্তু সামনে আসার পর বুঝতে পারলাম এটা সাধারণ কোনো বস্তু নাহ এটা কাফনে পেঁচানো কারো লাশ। কাঁপা কাঁপা হাতে লাশটারর মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখি এটা নিজাতি স্যারের লাশ। অজানা এক কষ্ট আমার ভিতরটা চিঁড়ে খাচ্ছে মনে হচ্ছিল। যে মানুষটাকে এত ভালোবাসি তার নিথর দেহটা এভাবে আমার সামনে পরে রয়েছে। সহ্য করতে নাহ পেরে একটা চিৎকার দিতেই আমি বাস্তব জগতে ফিরে আসি। পাশ থেকে আম্মু আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে....
"অরিন! অরিন! কি হয়েছে তোর.? সকালে উঠানে ওমন ভাবে অজ্ঞান হয়ে পরে ছিলি কেনো.? সারা দিন পর এখন জ্ঞান ফিরলো তোর! এইভাবে চিৎকার করলি কেনো.?"
আম্মু এত করে জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে আমার তাও যেনো আমার কানে আম্মুর কোনো কথাই পৌঁছাচ্ছে নাহ। আমার মাথায় শুধু একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে সেটা হলো নিজাতি স্যার ঠিক আছেন তোহ!
সবকিছু উপেক্ষা করে পাগলের মতো ছুটে বেরিয়ে পরলাম নিজাতি স্যারের সাথে দেখা করার জন্য। আমার বিশ্বাস আছে নিজাতি স্যার আজকেও সেই পার্কে আমার জন্য অপেক্ষা করবেন। সেই আশাতেই ছুটে চলেছি উনাকে এক নজর দেখার জন্য।
দৌড়াতে দৌড়াতে এক পর্যায়ে সেই পার্কে এসে পৌঁছাই। এসে দেখি সেখানে আগে থেকেই নিজাতি স্যার আমার জন্য অপেক্ষা করছেন। উনাকে দেখার পর আমি থমকে দাঁড়িয়ে পরি। আমাকে দেখে বললেন, "আমি জানতাম তুমি আসবে। তাই তোহ সমগ্র বিশ্বকে উপেক্ষা করে তোমার দাঁড়ে এসেছি। শুধুমাত্র একটি নজর তোমাকে দেখার খাতিরে।"
স্যারের কথাগুলো যেনো আমার কান অব্দি আসছিলো নাহ, তখনও আমি নিজের দুই চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম নাহ যে আমি এই মুহুর্তে সত্যি সত্যি নিজাতি স্যারকে সচক্ষে দেখছি। টলমল চোখে ছুটে গিয়ে স্যারকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করি। স্যার বার বার জিজ্ঞেস করে কি হয়েছে আমার, আমি কেনো এভাবে কাঁদছি তাও যেনো আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে নাহ। সময়ের সাথে সাথে যেনো আমার কান্না৷ আরো ভারি হতে থাকে। স্যারকে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছি। মনের মধ্যে তখনও একটাই ববয় কাজ করছিলো আমি উনাকে ছেড়ে দিলেই হয়তো উনি হারিয়ে যাবে। আমি নিজেও জানি একদিনের পরিচয়ে কিভাবে এতটা ভালোবেসে ফেলেছি এই মানুষটাকে। সে কি আমার উপর কোনো জাদু টোনা করেছে নাকী আমিই তার মায়ায় আটকে গেছি বুঝতে পারছি নাহ। শুধু এতটুকু জানি এই মানুষটাকে আমি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। এই মানুষটাকে ছাড়া আমি বাঁচবো নাহ।
আমাকে এভাবে কাঁদতে দেখে উনি ধীরে ধীরে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দেয় আর শান্ত গলায় বলে...
"কি হয়েছে! তুমি এভাবে কাঁদছো কেনো.? কেউ কিছু বলেছে.? কার এত সাহস যে আমার ফুলকে কষ্ট দিয়েছে! দেখো, আমি তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, আমি থাকতে তোমার কোনো ভয় নেই। সারাজীবন তোমার পাশে থাকবো। এবার প্লিজ কান্না থামাও, আমি তোমার কান্না সহ্য করতে পারবো নাহ"
আমি হিচকি তুলতে তুলতে স্যারে গালগুলো আমার হাত দিয়ে আলতো ছুঁয়ে বললাম...
"ও-ওই একটা ভয়ংকর স্বপ্ন!"
নিজাতি স্যার উনার গাল থেকে আমার হাতগুলো আলতো করে সরিয়ে দিয়ে আমার গালে উনার হাত রেখে কপালে একটা মৃদু চুমু দিয়ে বলল..
"তুমি একটা দুঃস্বপ্ন দেখে এভাবে কাঁদছো! এতটা ভালোবাসো আমায়.? যদি কখনো হারিয়ে যাই তখন কি করবে.?"
"মানে.? কি বলতে চাইছো তুমি.? যদি হারিয়ে যাওয়ার হয় তাহলে কেনো কাছে এসেছো.? কেনো ভালোবেসেছো.?" অভিমানী সুরে স্যারকে এগুলো চলে আসছিলাম তখনই স্যার পিছন থেকে আমার হাত টেনে আটকায়। আস্তে আস্তে সে আমার কাছে এসে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে গলায় একটা চুমুর দাগ কাটে। আমার ভিতরটা কেমন করে উঠলো, মনে হচ্ছে আমার মধ্যে ঝড়ের গতি উর্ধ্বাকাশে প্রবাহিত হচ্ছে। পুরুষালি শিহরণে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। অজান্তেই চোখ দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি পরলো। তখন অজানা কোনো মোহের মধ্যে তলিয়ে গেছিলাম। মনে হচ্ছিল তখনই স্যারকে সববটা উজাড় করে দি কিন্তু নাহ কি হলো আমার.? হুট করেই মাথার টনক নড়ে উঠতেই ইতস্তত হয়ে স্যারের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিলাম।
"কি হলো.?"
"কিছু নাহ স্যার! আমি এসবের জন্য প্রস্তুত নাহ"
"কিসের প্রস্তুতির কথা বলছো.?"
"সেটাই যেটা আপনি চাচ্ছেন!"
স্যার আবারও আমার গালে উনার হাত রেখে কপালে একটা চুমু দিয়ে বললো...
"আমি তোমাকে ভালোবাসি! আমি প্রমাণ করে দিবো স্পর্শ নাহ করেও ভালোবাসা যায়। তুমি যতদিন নাহ চাইলে ততদিন আমি তোমার হাতটাও স্পর্শ করবো নাহ কথা দিলাম।"
স্যারের মুখে এই কথা শুনে আমি কান্না করতে করতে গিয়ে আবারও তাকে জড়িয়ে ধরি।
এই মানুষটা আমাকে কতটা ভালোবাসে। আমি সত্যিই খুব লাকী তা নাহলে উনার মতো একজন মানুষকে আমার লাইফে কিছুতেই পেতাম নাহ। মানুষটা কত সৎ অথচ আমি তাকে ভুল বুঝেছি।
"অরিন! তোমাকে একবার বলেছি নাহ, আমি তোমার কান্না সহ্য করতে পারি নাহ। তুমি আমার বসন্তের ফুল আর আমি চাই তুমি সবসময় ফুলেই মতোই হাসিখুশি থাকো। তোমাকে যেনো কোনোদিন কোনো কষ্ট স্পর্শ করতে নাহ পারে, আর বড় কথা যতদিন আমি আছি ততদিন তোমাকে কোনো দুঃখ কষ্ট স্পর্শ করতে পারবে নাহ।"
"স্যার...!"
"স্যার নাহ! নিজাতি বলো"
"আচ্ছা! নিজাতি এবার আমাকে বাড়ি ফিরতে হবে পরে কখনো আবার দেখা করবো"
"পরে কেনো.? কালকেই আমরা আবার দেখা করবো। আর কাল তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে"
"সারপ্রাইজ.! কি সারপ্রাইজ.?"
"বলে দিলে আবার সারপ্রাইজ, সারপ্রাইজ হলো কিভাবে.? কালকেই দেখতে পারবে কি সারপ্রাইজ দিবো"
"ঠিক আছে! কালকেই দেখবো কি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে আমার জন্য"
------------
নিজাতির সাথের কথা শেষ করে বাসায় ফেরার পর আম্মু-আব্বু আর ইরিন আমাকে চেপে ধরে কার সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম।
বলে রাখা ভালো, আমি আমার ফ্যামিলির সবার সাথে অনেক ফ্রী মাইন্ডের। আমরা সবাই বন্ধুর মতোই। তাছাড়া আমি কারো সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম এটা শোনার পর আমার ফ্যামিলির সবাই অনেক খুশি হয়েছে। আর যদি শুনতে পারে আমি কারো প্রেমে পরেছি তাহলে তারা আরো বেশি খুশি হবে।
আম্মু:- কিরে বল কার সাথে দেখা করতে করতে গিয়েছিলি.?
অরিন:- বলছি! বলছি!
ইরিন:- হুম!হুম! তাড়াতাড়ি বল। আমরা সবাই অধীর অপেক্ষায় আছি।
অরিন:- ইয়ে মানে! আমি একজনকে ভালোবেসে ফেলেছি।
আম্মু:- কি! সত্যি..?
আব্বু:- শুনছো! তোমরা মেয়ে বড় হয়ে গেছে। যাক ভালোই হয়েছে। আমি চাই তোরা দুই বোন নিজের মনের মানুষদের নিয়ে সুখে থাক। তা ছেলের পরিচয় কি.? কি করে ছেলে.?
অরিন:- বলবো! আস্তে আস্তে সব বলবো। তার আগে ওর সাথে আমাকে কিছুটা সময় কাটাতে দাও। আগে আমি ওর ব্যাপারে জানি তারপর তোমাদের সবাইকে জানাবো।
সবার সাথে কথা শেষ করে আমি আমার রুমে চলেে যাই।