পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ২০

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ২০ · ২৩ পর্বের মধ্যে ২০

অরিন চলে যাওয়ার পর আমি কি করবো বসে বসে ভাবতে থাকি!

তার উপর অরিনের পুরো জীবন কাহিনী শোনার পর আমার মধ্যে কিউরিওসিটি বাড়তে শুরু করে, পরবর্তীতে কি জানা গিয়েছিলো অরিনের উপর কালোজাদু কে করেছিলো.? উফফ!! অরিনের জীবনেও যে এত বড় কোনো রহস্য থাকতে পারে আমি কল্পনাও করিনি। যেভাবেই হোক অরিনের বাকি জীবন কাহিনীটাও আমাকে জানতে হবে।

সবদিক বিবেচনা করে আমার মাথায় খালি একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছিলো সেটা হলো হরিণী।

আমি হরিণীর সাথে যে কাজটা করেছি সেটা আসলেই অন্যায় করেছি। আমার এমনটা করা একদম উচিৎ হয়নি। সজ্ঞানে হোক আর উত্তেজনার বশে ভুলটা তোহ আমারও ছিলো।

আমার ছোট্ট একটা ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে হরিণী আর হরিণীর গর্ভে থাকা আমাদের সন্তানকে। আমিও বোকার মতো কাজ করেছি, হরিণীকে সরদারের হাতে তুলে দিয়ে কাপুরুষের মতো এখানে এসে হাত গুটিয়ে বসে আছি। আমি হরিণীর সাথে যে কাজটা করেছি এতে আমার আর নিজাতির মধ্যে কোনো পার্থক্য রইলো নাহ। ভুল যেহেতু আমি করেছি এর সংশোধনও আমিই করবো। আমি আবারও ফিরবো ভুজঙ্গপুর গ্রামে। হরিণীর জন্য নাহ হোক আমাদের সন্তানের জন্য ফিরবো। কিন্তু আমি যে নিজের অজান্তেই হরিণীকে ভালোবেসে ফেলেছি। একদিকে অরিন অন্য দিকে হরিণী আর আমাদের সন্তান। কি করবো আমি.? কাকে বেছে নিবো.?

যা হবার দেখা যাবে, আগে ভুজঙ্গপুর গ্রামে যাই তারপর দেখি কি হয়।

কয়েক ঘন্টা কেটে গেলো আমার সিদ্ধান্ত নিতে। সবশেষে সিদ্ধান্ত একটাই সেটা হলো আজ যেভাবেই হোক আমি ভুজঙ্গপুর গ্রামে ফিরবো।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাথে সাথে অরিনকে কল করি...

"হ্যালো! হ্যাঁ অরিন.?"

"হ্যাঁ বলো.?"

"একটা কথা জিজ্ঞেস করতাম.?"

"হ্যাঁ করো"

"ইয়ে মানে! তোমার উপর কে বা কারা কালোজাদু করেছিলো এটা কি পরে জানতে পেরেছিলে.?"

"নাহ! আমি এসব নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি। জানার প্রয়োজন মনে করিনি কে বা কারা আমার সাথে এমন শত্রুতা করতে চেয়েছে বা করেছে"

"আচ্ছা এখন কোথায় আছো.?"

"এইতো পুলিশ স্টেশনে আছি! কেনো.?"

"আচ্ছা ওখানেই থাকো আমি ভুজঙ্গপুর গ্রামে ফিরে তোমাকে কল করবো"

"কি!!! সত্যি! তুমি আবারও ফিরবে.?"

"হ্যাঁ! আমি এখনই গ্রামের উদ্দেশ্যে বের হবো। পৌঁছেই তোমাকে কল করবো"

"ঠিক আছে! তাড়াতাড়ি এসো।"

----------------

রাতের অন্ধকারের ভিড়ে যখন দিনের আলো হারিয়ে যায় ঠিক তখন আমি ভুজঙ্গপুর গ্রামে গিয়ে পৌঁছাই। আজকে আকাশের অবস্থা বেশি ভালো নাহ। যেকোনো সময় মেঘ ভেঙ্গে বৃষ্টি শুরু হতে পারে। এই অদিনে বৃষ্টির আবহাওয়া দেখে সত্যিই অবাক লাগছে। যাই হোক এটা দিয়ে আমার কোনো কাজ নেই, আমার কাজ হলো হরিণীকে সরদারের হাত থেকে আবারও ফিরিয়ে আনা।

তাড়াতাড়ি করে চলে গেলাম অরিনদের ফার্ম হাউসে। ফার্ম হাউসের চারপাশটা কেমন ঝিমঝিমে নিস্তব্ধতায় ঘেরা। কেমন একটা গা ছমছমে অবস্থা। কিছুদিন আগেও এই জায়গাটা কত প্রাণবন্ত ছিলো কিন্তু আজ কেমন যেনো পরিত্যক্ত কবরস্থানের মতো লাগছে। সারা বাড়ি ঠান্ডা, শিউরে শিউরে শীতল হাওয়া বইছে। হাল্কা মৃদু হাওয়া এসে আমার শরীরে লাগে, যখন শীতল হাওয়া এসে আমার শরীরে লাগে তখন মনে হতো আমার শরীর থেকে ঝরে পরা ঘামগুলো বোধহয় হিম হয়ে যাচ্ছে। চারিদিকে চোখ বুলিয়ে দোতলায় উঠতে শুরু করি। এক পা দু পা করে উঠতে উঠতে এক পর্যায়ে দোতলায় গিয়ে উঠি। দোতলায় উঠা মাত্র দেখি যে ঘরটিতে হরিণীকে বন্দী করে সরদারের হাতে তুলে দিয়ে ছিলাম সেই ঘর থেকে রক্তের শ্রোত বেয়ে আসছিলো। আমার বুঝতে বাকি রইলো নাহ, এখানে খারাপ কিছু হয়েছে। হয়তো আমার আসতে দেরি হয়ে গেছে। সরদারের লোকেরা বোধহয় হরিণীকে মেরে ফেলেছে।

মনের মধ্যে হরিণীকে হারানোর ভয়টা এবার যেনো মাত্রাতিরিক্ত কাজ করছিলো। দৌড়ে সেই ঘরের কাছে চলে গেলাম। ঘরটির দরজা খোলা ছিল। কপাটি'গুলো এখনো নড়ছে, হয়তো আমি আসার কিছুক্ষণ আগেই এখান থেকে সবাই চলে গেছে। কিছু মুহুর্ত দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভিতরে প্রবেশ করলাম। ঘরের ভিতরে প্রবেশ করা মাত্রই যেনো আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরলো। আমি মোটেও এই দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম নাহ।

দরজার সামনেই সরদারের একজন লোকের নিথর দেহ পরে আছে। শরীরে অজস্র বার আঘাতের চিহ্ন। দেখে মনে হচ্ছে ধারালো কিছু দিয়ে বার বার আঘাত করে মারা হয়েছে। আর এই মৃত দেহ থেকেই রক্তের শ্রোত বইছে। আমি শান্ত অবশান্ত হয়ে ঘরের ভিতরে দ্বিতীয় কদম পা রাখতেই দেখি ভিতরের সবকিছু এলোমেলো হয়ে পরে আছে। হরিণীকে যে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে গিয়েছিলাম সেই শিকলে ঝুলে আছে সরদারের আরেকজন লোক। বুঝতে বাকি রইলো নাহ, হরিণীর মধ্যে থাকা বিষ দিন দিন জমা হতে হতে এতটাই বিষাক্ত হয়েছে যে ওর শরীরে অধিক শক্তির উৎপত্তি হয়েছে যে শক্তির বলেই হরিণী এই দুইজনকে মারতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু হরিণী কোথায়..?

ঘরের চারিদিকে হরিণীর নাম ধরে ডাকছি কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ নেই। মনের মধ্যে তখন ভয় কাজ করছিলো, আমিও তোহ হরিণীর সাথে বেইমানি করেছি, ও হয়তো বুঝতে পেরেছে আমি এখানে এসেছি। কোথাও লুকিয়ে বসে আছে হয়তো, আমি ওর সামনে গেলেই আমার উপর ঝাপিয়ে পরবে আমাকে মারার জন্য।

এদিক সেদিক আড় দৃষ্টিতে তাকিয়ে পা টিপে টিপে হাঁটছি। হঠাৎ করে চোখগুলো ঘাটের তলায় গিয়ে আটকায়। মনে হলো খাটের তলায় কিছু একটা নড়তে দেখলাম। ভয়ে আমার গলা৷ শুকিয়ে আসছে, কি করবো বুঝে উঠতে পারছি নাহ। তারপর নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে পা বাড়ালাম খাটের দিকে। হন্তদন্ত হয়ে খাটের তলায় চোখ ঘুরিয়ে দেখি কিছুই নেই। তার মানে আমার ভুল ছিলো। কিন্তু ওটা কি পরে আছে খাটের গলায়..?

ভালো মতো তাকিয়ে দেখি একটা খাতা। হ্যাঁ! এই খাতাটা তোহ আমি চিনি!! এটা হরিণীর ছবি আঁকার খাতা। কি মনে করে যেনো খাতাটার দিকে হাত বাড়াই। হয়তো হরিণীকে ছাড়া এখন ওর খাতাটাই আমার কাছে একমাত্র ওর স্মৃতির অবলম্বন।

মনের মধ্যে একরাশ অপূর্ণ ভালোবাসা নিয়ে হরিণীর ছবি আঁকার খাতাটা তুলে নিলাম। খাতাটা হাতে নিয়ে যেটা দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ, আমি কখনো আশাও করিনি হরিণীর মনের ভিতর এতটা ক্ষোভ জন্মাতে পারে। কিছুদিন আগে হরিণীর ওর খাতায় অরিনের যে ছবি এঁকেছিলো সেই ছবিটাতে রক্ত মাখা পায়ের ছাপ দেওয়া।

এতগুলো দিন হরিণীর সাথে থেকেছি, ওর আচার আচরণ যদি আমি নাহ বুঝি তাহলে ওকে বুঝার ক্ষমতা আর কারো নেই। ওর সাথে যেদিন আমার শেষ বারের মতো কথা হয়েছিলো সেদিন বলেছিলাম, ওর জন্য আমার আর অরিনের বিয়ে ভেঙ্গে গেছে। হরিণী আমার পাশে যে অন্য কাউকে সহ্য করতে পারবে নাহ এটাই তার প্রমাণ। হরিণী অরিনের কোনো ক্ষতি করার আগেই আমাকে অরিনের কাছে পৌঁছাতে হবে। হরিণী নিশ্চয়ই অরিনের কোনো ক্ষতি করার জন্যই এখান থেকে চলে গেলে। ও হয়তো বুঝতে পেরেছে আমি এখানে আসবো এজন্যই অরিনের ছবিতে রক্তের ছাপ দিয়ে ফেলে গেছে।

নাহ! আমি বার বার দোটানায় পড়ে যাই! এবার যেভাবেই হোক আমাকে অরিন ও হরিণীকে বাঁচাতে হবে। হরিণী যে সরদারের লোকেদের মেরে ফেলেছে এটা কি সরদার টের পায়নি.?

একটা বার যদি এই সরদারের মুখটা দেখতে পারতাম! যাগগে এখন এসব ভেবে কাজ নেই। আমাকে এখন অরিনের কাছে পৌঁছাতে হবে তাও হরিণী পৌঁছানোর আগে। তার আগে জানতে হবে অরিন এখন কোথায় আছে।

---------------------

"হ্যাঁ! হ্যালো.? অরিন!!"

"হুম বলো! তোমার ভয়েস এমন শুনাচ্ছে কেনো.?"

"ওসব ছাড়ো!! আগে বলো তুমি কোথায়.?"

"আর বলো নাহ! বাইরে প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে! এজন্য অ্যাপার্টমেন্টে আসতে দেরে হয়ে গেলো।"

"তু-তুমি এ-এখন তোমা-র অ্যাপার্টমেন্টে আছো.?"

"নাহ! নাহ! আমি তোহ আজকে ইরিনের অ্যাপার্টমেন্টে থাকবো"

"তাহলে ইরিন কোথায় থাকবে.?"

"ইরিন আজকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে থাকবে"

"কি বলছো.? ইরিন এখন কোথায় আছে.?"

"ইরিন তোহ সকাল থেকেই আমার অ্যাপার্টমেন্টে আছে! কেনো বলো তোহ.? কি হয়েছে.?"

"এখন এসব ফোনে বলার মতো সময় নাহ! তুমি ইরিনের অ্যাপার্টমেন্টেই থাকো! নাহ! নাহ! তুমি এক কাজ করো, তুমি চৌরাস্তার মোচড়ে এসে দাঁড়াও আমিও আসছি তারপর আমরা একসাথে তোমার অ্যাপার্টমেন্টে যাবো।"

"মানে কি বুঝলাম নাহ!"

"অরিন! প্লিজ এখন এসব বলার সঠিক সঠিক সময় নাহ! আমাদের এক মিনিট দেরি হলে ইরিনের জীবন সংশয় হতে পারে"

"কি বলছো.?"

"হ্যাঁ! তুমি প্লিজ এক্ষুনি বের হও আমিও বের হচ্ছি!

--------------

এবার আমার ভয় হতে শুরু করছে! কারণ অরিন আর ইরিন দেখতে অবিকল একই রকম। হরিণী যদি অরিনকে ভেবে ইরিনের কোনো ক্ষতি করে বসে। আল্লাহ নাহ করুক এমনটা যেনো নাহ হয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের ওখানে পৌঁছাতে হবে।

বাইরে বেরিয়ে দেখি ধুম বৃষ্টি শুরু হয়েছে সাথে বজ্রপাতও হচ্ছে। মাথার উপর ছাউনি দেওয়ার মতো তেমন কিছুই পাচ্ছিলাম নাহ তাই কোনো কিছু ছাড়াই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই বেরিয়ে পরলাম।।

কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি চৌরাস্তার মোচড়ে এসে পৌঁছাই। আমি পৌঁছানোর আগেই অরিন সেখানে পৌঁছে গেছে।

" কি হয়েছে আরিয়ান.? এত আর্জেন্ট এখানে আসতে বললে.?"

"অরিন! আমাদের এখন এক মুহুর্তও সময় নষ্ট করলে চলবে নাহ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের ইরিনের কাছে যেতে হবে"

"কেনো.? কারণটা তোহ বলবে.?"

"তুমি হয়তো আগেই বুঝতে পেরেছো যে হরিণী কোনো সাধারণ মানুষ নাহ! ও মানুষের মতো দেখতে হলেও ওর মধ্যে অসাধারণ কিছু শক্তি রয়েছে। আমি ওর শক্তির ভয়ে ওকে সরকারের লোকেদের হাতে তুলে দিয়ে শহরে চলে গেছিলাম তারপর তোমার অতীতের সবকিছু শোনার পর নিজেকে ছোট মনে করতে শুরু করি। সারাক্ষণ মনে করতে থাকি আমার আর নিজাতির মধ্যে কোনো পার্থক্য রইলো নাহ, যেভাবেই হোক হরিণীকে সরদারের হাত থেকে বাঁচাতে হবে তাই আবারও এখানে ফিরে আসি। এখানে আসার পর দেখতে পাই যে, হরিণী ওর মধ্যে থাকা বিষের শক্তি প্রয়োগ করে সরদারের লোকেদের মেরে ফেলেছে। শুধু তাই নয়, আমি যেদিন শহরে চলে গেছিলাম সেদিন হরিণী তোমার ছবি এঁকেছিল আর আজ সেই ছবিতে রক্তে রাঙানোর ওর পায়ে ছাপ দিয়ে চলে গেছে। এতগুলো দিন তোহ আমি হরিণীর সাথে থেকেছি তাই আমি ওর রেখে যাওয়া সতর্কবাণী বুঝতে পেরেছি। হরিণী এবার তোমাকে আমাদের রাস্তা থেকে সরাতে চাচ্ছে কিন্তু ও তোহ জানে নাহ, তোমার অ্যাপার্টমেন্টে তুমি নাহ ইরিন আছে। আর বড় কথা তোমাকে আর ইরিনকে তোহ দেখতে অবিকল একই রকম, হরিণী তোমাকে ভেবে ইরিনের নাহ কোনে ক্ষতি করে বসে।"

"কি বলছো এসব.? তাড়াতাড়ি চলো। একেই মহা মুশকিলের আছি তার মধ্যে এই অদিনে বৃষ্টি। তাড়াতাড়ি পা চালাতে হবে"

-----------------------

আমি আর অরিন তাড়াতাড়ি করে অরিনের অ্যাপার্টমেন্টে চলে আসি ইরিনের খোঁজে।

অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকতেই আমাদের শরীরের লোমগুলো দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের শিরায় শিরায় তখন ভয় কাজ করতে শুরু করে। রক্ত হিম হয়ে যাওয়া একটা পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলাম ওই মুহুর্তে।

ঘরের চারিদিক নিস্তব্ধতায় ঘেরা, কারো কোনো উপস্থিতি টের পাচ্ছিলাম নাহ যেটুকু শব্দ আসছিলো সবটাই যেনো ঘুনে ধরা কাঠপোকার কুরকুর শব্দ। সারা ঘর এলোমেলো, জিনিসপত্র এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে আছে। কারো কোনো টুঁশব্দটুকুও পাচ্ছিলাম নাহ। আমরা তোহ ভেবেই নিয়েছি ইরিন আর বেঁচে নেই। আজ নিশ্চয়ই হরিণী ইরিনকে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে।

ধীরে ধীরে রুমের দিকে এগিয়ে যেতে থাকি, আমরা যত রুমের দিকে এগোচ্ছি ততই যেনো মনের ভিতরে ভয় কাজ করছে। দরজার সামনে যেতেই আমাদের পায়ের নিচের নিচের মাটি কেঁপে উঠলো, রুমের ভিতর থেকে রক্ত ভেসে আসছে। রক্ত দেখে আমি আর অরিন দুজন দু'জনের দিকে নিশ্চুপ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দৌড়ে ভিতরে গেলাম।

ভিতরে প্রবেশ করে দেখি পুরো ঘর এলোমেলো হয়ে আছে, জিনিসপত্র ভাঙ্গাভাঙ্গি হয়ে পরে আছে। আর টিভিতে কার্টুন চলছে।

পুরো ঘরের এমন অবস্থা দেখে অরিন আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বলে...

"ও-ওই মেয়েটা আমার বোনকেও ছাড়লো নাহ"

আমি কি বলে অরিনকে শান্তনা দিবো ভেবে পাচ্ছিলাম নাহ। নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল ওই মুহুর্তে।

হঠাৎ করে রুমের এক কোণা থেকে একটা ছোট্ট বাচ্চার কান্না শব্দ ভেসে আসে। আমরা পিছন ঘুরে তাকিয়ে দেখি ইরিনের কোলে একটা ছোট্ট বাচ্চা। আর ইরিনের শরীরে অনেকগুলো আঘাতের চিহ্ন। শরীর থেকে অঝোরে রক্ত পরছে কিন্তু তাও ইরিন ছোট্ট বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে বসে আছে। সৌভাগ্য বসৎ ইরিন এখনো সুস্থ আছে। অরিন, ইরিনকে সুস্থ অবস্থায় দেখে দৌড়ে গিয়ে ইরিনকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতে বললো....

"ব-বোন ত-তুই ঠিক আছিস তোহ.? হ-হরিণী তোর ক-কোনো ক্ষতি করেনি তোহ.? আর পুরো বাড়ির এই হাল হলো কিভাবে..? আ-আর এ-এই বাচ্চাটা কে.? কার বাচ্চা এটা.?"

"কি হলো ইরিন চুপ করে আছো কেনো.? বলো!! হরিণী এখানে এসেছিলো.? আর ফ্লোরে রক্ত কিসের.?"

ইরিন একটা দীর্ঘ শ্বাস ফেলে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো...

"ব-ব-বলছি! বলছি! স-স-ব বলছি! আ-আমি আজ এ-একটুর জন্য মরতে মরতে বেঁচে গেছি। আজ সময় মতো যদি টিভি অন নাহ হতো তাহলে হয়তো আমি মারা যেতাম"

"কি!! কি হয়েছিলো ব-বোন.? আ-আর এ-এই বাচ্চাটা কে.? দেখ আমার কিন্তু ভয় হচ্ছে.?"

------------

সন্ধ্যার পর খেয়াল করলাম আকাশে মেঘ জমেছে, বুঝতে বাকি রইলো নাহ আজ এই অদিনে বৃষ্টি হবে। তখন খুব ক্ষুধাও পাচ্ছিলো তাই রান্নাঘরে চলে গেলাম গিয়ে দেখি খাওয়ার মতো তেমন কিছুই নেই। অনেক খুঁজাখুঁজি করে মুড়ি আর চানাচুর বের করে এনে টিভির সামনে বসে কার্টুন দেখতে দেখতে মুড়ি চিবচ্ছিলাম। হঠাৎ বাইরে ধুম বৃষ্টি শুরু হয়, কারেন্ট যাবে যাবে ভাব তখনই দরজায় কেউ জোরে জোরে ধাক্কাতে থাকে, আমি দরজা খুলতে যাবো তখনই কারেন্ট চলে যায়। ফোনের ফ্লাশ অন করে দরজা খুলে দেখি, হরিণী নামের সেই মেয়েটা। দেখে মনে হচ্ছিল হরিণী অন্তঃসত্ত্বা। চুলগুলো এলোমেলো অগোছালো হয়ে আছে, পড়নের কাপড়গুলোও নোংর হয়ে ছিলো, বিভিন্ন জায়গায় ছেড়াও ছিলো,শরীর থেকে রক্ত পঁচা দুর্গন্ধ আসছিলো। আমি নাক চেপে বললাম, "কি দরকার.? এখানে কি চাই.?"

তখনই আকাশে বিদ্যুৎ চমকালো, বিদ্যুৎ চমকানোর আলো স্পষ্ট হরিণীর ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত মুখটা দেখা যাচ্ছিল। দেখতে এতটাই ভয়ংকর লাগছিলো যে মনে হচ্ছিল আমি কোনো জ্যান্ত লাশকে দেখছিলাম।

আমি কিছু বলার আগেই ও আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। আমার চুল ধরে ফ্লোরে ফেলে দেয়। তারপর অন্ধকারের মধ্যেই আমাকে চুল ধরে ফ্লোরে হেঁচড়াতে থাকে। আমি নিজেকে অনেক ছাড়ানোর চেষ্টা করি কিন্তু ওর হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারি নাহ।

ও আমাকে অনবরত চুল ধরে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ালে আঘাত করতে থাকে। আঘাত পেতে পেতে এক পর্যায়ে আমি ফ্লোরে পরে যাই তারপর ও আমার দিকে একের পর এক ঘরের জিনিসপত্র ছুড়তে থাকে। কখনো চেয়ার, কখনো ফুলদানি আবার কখনো কখনো অন্যান্য জিনিসপত্র। পুরো ঘর এলোমেলো হয়ে গেলো, এক মুহুর্তের জন্য মনে হয়েছিলো আমি বোধহয় আজকেই মারা যাবো। মৃত্যুকে একদম চোখের সামনে থেকে দেখছিলাম। আমি আজরাইলকে দেখিনি কিন্তু হরিণীর মধ্যে থাকা ভয়ংকর রূপ দোখেছি। মৃত্যু নাকী অনেক যন্ত্রণার হয় অনেক বার শুনেছি কিন্তু কখনো দেখিনি। আজ সচক্ষে আর সজ্ঞানে এটা উপলব্ধি করেছি।

তারপর আমি হাতে ভর দিয়ে পিছনে হেঁচড়ে সরতে থাকি আর হরিণীও ওর হাতে এক টুকরো কাঠ ভাঙ্গা নিয়ে আমার দিকে এগোতে থাকে। বিশ্বাস করুন আমি তখন ওর মধ্যে স্বয়ং আজরাইলকে দেখছিলাম। যদিও অন্ধকারে ওর মুখটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছিল নাহ কিন্তু ওর ফর্সা গায়ের রঙ অন্ধকারে জ্বলজ্বল করছিলো। আমি পিছতে থাকি ও আমার দিকে এগোতে থাকে। কাঠের টুকরোটা আমার পেটে ঢোকাতে যাবে আমি চোখ বন্ধ করে আল্লাহ বলে চিৎকার দিলাম আর ঠিক ওই মুহুর্তে আল্লাহরই রহম সাথে সাথে কারেন্ট চলে আসে আর আমার পিছনে থাকা টিভিতে কার্টুন চলতে শুরু করে।

হরিণীরও ওর হাতে থাকা কাঠের টুকরো ফেলে দিয়ে কার্টুন দেখতে বসে পরে। আমি সুযোগ বুঝে রুম থেকে বেরিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দি।

বেশ কিছুক্ষণ পর কেনো নাহ আমার ওই ঘরটাতে উঁকি দিতে মন চাইলো, আমি দরজা খুলে ভিরতে উঁকি দিতেই হরিণীর চোখে চোখ পরে যায়। ও আমার দিকে বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থেকে আবারও আমার দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। আমি ভয়ে দরজা লাগিয়ে দি। দরজা লাগিয়ে দেওয়ার পর ভিতরে কিছু একটা পরে যাওয়ার শব্দ শুনতে পাই। শব্দটা শোনার পর পরই হরিণীর কান্নার শব্দ পাচ্ছিলাম। বুঝতে বাকি রইলো নাহ, হরিণীই পরে গেছে।

বুঝতে পারছিলাম মেয়েটা ব্যাথায় কাতরাচ্ছে কিন্তু নিজের জীবনের ভয়ে দরজা খোলার সাহস পাচ্ছিলাম নাহ। যত সময় এগোচ্ছে হরিণীর কান্নার শব্দ তত বাড়ছে। একজন নার্স হওয়ায়৷ পেশা ও দায়িত্বের খাতিরে নিজের জীবনের পরোয়া নাহ করে দরজা খুলে ওর কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।

দরজা খুলে দেখি হরিণী ফ্লোরে পরে আছে আর ওর শরীর থেকে অনবরত রক্ত পরছে। দেখেই মনে হচ্ছে ওর ডেলিভারি টাইমিং হয়ে এসেছে। এখন যদি কোনো পদক্ষেপ নাহ নেওয়া হয় তাহলে ওর এবং ওর সন্তান দু'জনেরই জীবন ঝুঁকিতে। আমি দৌড়ে ওর কাছে চলে গেলাম। আমার কোলে ওর মাথা রেখে ওর হাতটা শক্ত করে ধরে বললাম...

"ভয় পেও নাহ আমি আছি, তোমার কিচ্ছু হবে নাহ"

মেয়েটা আমার প্রশ্নের কি জবাব দিলো জানেন....?

"কি.?"

"আআআআহ! আ-আমার যা হবার হোক! আ-আআআ!! আপনি আমার সন্তানকে বাঁচান"

আমি তখন বুঝতে পারলাম মা কেনো পৃথিবীর সবচেয়ে মহীয়সী নারী আর কেনোই বা তার পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

মায়েদের জীবন যতই বিপদে থাকুক নাহ কেনো মায়েরা সবসময় সন্তানদের সুরক্ষার কথাই ভাবে। আমরা এই কথাগুলো তখন বুঝতে পারি যখন আমরা নিজেরা সন্তান জন্ম দিবো অথবা কোনো মাকে তার সন্তানের জন্য মন থেকে ত্যাগ করতে দেখবো।

বিছানা থেকে একটা বালিশ এনে হরিণীকে শুইয়ে দিলাম। তারপর আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী হরিণীর প্রসব করানোর চেষ্টা করতে থাকি কিন্তু কিছুতেই ওর প্রসব সম্পন্ন হচ্ছিল নাহ।

"এ-একটু কষ্ট করো প্লিজ! আমি এক্ষুনি গরম পানি করে আনছি"

তাড়াতাড়ি করে রান্নাঘরে গিয়ে কুসুম-গরম পানি আর একটা তোয়ালে নিয়ে এলাম। গরম পানিতে তোয়ালেটা ভিজিয়ে সাময়িক পদ্ধতিতে প্রসব সম্পন্ন করলাম। তখন হরিণীর কোল আলো করে এই ছেলে শিশুটির জন্ম হয়। এমন পরিস্থিতিতে ওর জন্ম হয়েছে যে পরিস্থিতিতে আমার আশেপাশে ধারালো কিছুই ছিলো নাহ যেটা দিয়ে ওরর নাভি কাটবো। দৌড়ে চলে গেলাম অরিনের বেড রুমে। পুরো ঘর খুঁজেও কোনো ধারালো জিনিস পাচ্ছিলাম নাহ। সবশেষে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে একটা ব্লেট পাই সঙ্গে সঙ্গে ওইটা হাতে নিয়ে হরিণীর কাছে চলে এলাম। বাচ্চার নাভি কেটে ওকে হরিণীর পাশে শুইয়ে দিলাম।

খেয়াল করে দেখলাম মেয়েটা আকুল দৃষ্টিতে ওর বাচ্চার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরছে। প্রতিটা মেয়ের তোহ এই একটাই স্বপ্ন থাকে কবে সে তার নিজের নারী ছেড়া ধনের মুখ দেখবে। কেনো জানি নাহ আজ আমিও হরিণীর কষ্ট মাথা সুখগুলো উপভোগ করতে পারছিলাম। ওর চোখের পানি যেনো আমারও চোখ ভিজিয়ে দিচ্ছিলো। তখন হরিণীর থেকেও ওর সন্তানের জন্য আমার বেশি কষ্ট হচ্ছিল, ওর সন্তানের জন্য মায়া লাগতে শুরু হচ্ছিল। কি নিষ্পাপ এই শিশুটি। আহা! কি সুন্দর ওর চোখ, একদম মায়ের মতো চেহারা হয়েছে। চোখগুলোও মায়ের মতোই বড় বড়। দেখলে মনে হয় কোনো জলজ্যান্ত হরিণের চোখগুলো উপড়ে এনে ওর চোখে লাগানো হয়েছে। আমি জানি নাহ আমার কেনো এই বাচ্চাটির প্রতি এত মায়া জন্মালো, হয়তো আমার হাতে এই বাচ্চার জন্ম হয়েছে তাই!! হয়তো! হয়তে নাহ।

ছেলেকে মাটিতে রেখে হরিণী আবার উঠে দাঁড়ালো। কেনো জানি নাহ আমার মনে আবারও ভয় কাজ করতে শুরু হলো। হয়তো এবার আমাকে মেরে হরিণী ওর সন্তানকে নিয়ে এখান থেকে চলে যাবে। আমি এক পা এক পা করে পিছতে থাকি। তখন দেখি হরিণী খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।

ও চলে যাওয়ার পর আমিও চিন্তা ভরা মাথা নিয়ে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরের এক কোণায় বসে ছিলাম তারপর আপনারা এলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো হরিণী আমাকে মারতে চায় কেনো..?

"হরিণী তোমাকে নাহ অরিনকে মারার জন্য এখানে এসেছিলো"

"মানে.?"

"হরিণী আমাকে ভালোবাসতো আর এটা সন্তানটাও আমারই। হরিণীর মা মারা যাওয়ার পর ও আমার সাথে তোমাদের ফার্ম হাউসেই থাকতো তারপর একদিন ওর সাথে... যাই হোক! একদিন অরিন আমাকে আর হরিণীকে একসাথে তোমাদের ফার্ম হাউসে দেখে আর সেদিন আমাদের ব্রেক আপ হয়ে যায় তারপর আমি হহরিণীর সাথে এই বিষয়ে অনেক রাগারাগি করে ওকে সরদারের হাতে তুলে দিয়ে শহরে চলে গেছিলাম তারপর থেকেই হয়তো হরিণী ভেবে রেখেছিলো যদি কোনোদিন ও সরদারের লোকেদের হাত থেকে রক্ষা পায় তাহলে অরিনকে মেরে ফেলবে। তাছাড়া তুমি আর অরিন তোহ দেখতে অবিকল এক রকম এজন্যই হরিণী তোমাকে অরিন ভেবে ভুল করেছে"

"আরিয়ান!!"

"হ্যাঁ অরিন বলো.?"

"হরিণী কোথায় যেতে পারে..?"

-----------

- হরিণী! হরিণী! তুমি কি আমার ডাক শুনতে পাচ্ছো?? দেখো আমি ফিরে এসেছি!! আ-আর এ-এই দেখো আ-আমার কোলে আ-আমাদের স-সন্তান! হ-হরিণী!! ক-কোথায় তুমি!!"

হরিণী যখন ইরিনের কাছে আমাদের সন্তানকে রেখে বেরিয়ে এসেছে শুনলাম তখনই আমার মাথায় ঘুরছিলো হরিণী কোথায় যেতে পারে। তারপর হুট করে মনে পরলো ওর ছোটবেলা যেখান'টাতে কেটেছে এতগুলো বছর যেখানে ছিলো ওই জায়গা ছাড়া ওর যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই। তাই অরিন ও ইরিনকে নিয়ে হরিণীকে খোঁজার জন্য ভুজঙ্গপুর গ্রামের একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। আর হ্যাঁ! ওদের সাথে হরিণীকে খুঁজতে বের হবার আগেই বলে দিয়েছি, আমিও হরিণীকে নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছি। যদি ভালোবাসা আর আমাদের সন্তানের জন্য অরিনের দেখা ভবিষ্যতকে মিথ্যা প্রমাণ করতে হয় তাহলে তাই করবো। আমি হরিণীর শূন্যতা আর উপভোগ করতে পারছি নাহ। কেনো জানি নাহ আজ হঠাৎ ওর প্রতি আমার মনে অগাধ ভালোবাসার সৃষ্টি হয়েছে। মনে হচ্ছিল এক মুহুর্তের জন্য যদি ওকে আমার কাছে পাই তাহলে এমন ভাবে শক্ত করে ধরে রাখবো যাতে আল্লাহ ব্যাতিত এই ত্রিভুবনের দ্বিতীয় কোনো শক্তি আমাদের আলাদা করতে নাহ পারে।

খেয়াল করলাম অরিন আমার চোখে মুখে হরিণীর জন্য ভালোবাসার ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেয়ে বার বার চোখ মুছছিলো আর কান্না লুকিয়ে অনেক বার বলার চেষ্টা করতে গিয়েও বলতে নাহ পেরে মাথা নাড়িয়ে আমার সাথে আসতে রাজি হয়।

গ্রামের শেষ প্রান্ত পুরোটা খুঁজা প্রায় শেষ। হরিণী যে কুঁড়েঘরে থাকতো সেখান থেকে শুরু করে নদীর পাড়, জঙ্গল, হাঁটার পথ সবকিছুই খোঁজা শেষ। এখন কোথায় খুঁজবো ওকে..?

কিছুক্ষণ চারিদিকের পরিবেশ একদম কোলাহল মুক্ত হয়ে গেলো। সবকিছু স্তব্ধ, শুধু রাতের পোকা আর আমরা তিনজন মানুষের নিঃশ্বাস নেওয়ার শব্দ ছাড়া আর কোনো শব্দ ভেসে আসছিলো নাহ।। তারপর হঠাৎ বেশ খানেকটা দূর থেকে কিছু কুকুরের ডাক শুনতে পেলাম। প্রথমে ব্যাপারটা ইগ্নোর করলেও হঠাৎ মনে পরে সেদিনের কথা, ওই লোকটা বলেছিলো হরিণী মাকে নাকী এই গ্রামের সবাই কুত্তাওয়ালী বলতো। আর ওইদিন কুকুরগুলো যখন আমাকে আর অরিনকে ঘিরে ধরেছিলো তখন হরিণীই আমাদের বাঁচিয়েছিলো। এসব ভেবে ভেবে আমরা কুকুরের ডাক অনুসরণ করতে থাকি। অনেকটা পথ যাওয়ার পর পিছন থেকে কেউ একজন আমার নাম ধরে ডাক দেয়....

- আরিয়ান!!

- কে..? [এই বলে পিছন ঘুরে তাকাই]

- আরিয়ান!! আমি!

- রাশেদ আঙ্কেল!! আপনি এখানে কিভাবে.?

- তুমি শহরে যাওয়ার পর থেকে তোহ নিজের ফোন বন্ধ করে রেখেছিলে। এই কয়েকদিন অনেক ভাবে তোমার সাথে যোগাযোগ করার ট্রাই করেছি কিন্তু কোনো ভাবেই হয়ে উঠেনি। সময়ের জন্য তোমার বাসায় যেতে পারছিলাম নাহ, আজকে সময় বের করে তোমার বাসায় যাই, গিয়ে দেখি তোমার বাসায় তালা দেওয়া। তারপর অরিনের কাছে কল দিয়ে তোমার খবর জানি। ও জানায় যে তুমি নাকী আবারও গ্রামে এসেছো তাই আমিও চলে এলাম।

--------

এরপর আমি, অরিন, ইরিন আর রাশেদ আঙ্কেল মিলে হরিণীকে খোঁজার জন্য কুকুরের ডাক অনুসরণ করতে থাকি। কুকুরের ডাকের পিছু করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা একটা বিশাল বট গাছতলায় এসে পৌঁছাই। এতক্ষণ ধরে এই জায়গায় ঘুরঘুর করছি কিন্তু এই জায়গাটা আমাদের চোখে পরেনি।

গাছটার এক পাশে অনেকগুলো কুকুর কিছু একটা ঘিরে দাঁড়িয়ে ঘেউঘেউ করছে। আমরা তাড়াতাড়ি করে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি হরিণী আহত হয়ে সেখানে পরে আছে আর কুকুরগুলো ওর চারিদিক ঘিরে দাঁড়িয়ে যেনো ওকে কিছু একটা বলছে কিন্তু ও সবাইকে উপেক্ষা করছে।

আমি দৌড়ে গিয়ে হরিণার মাথাটা আমার কোলে তুলে নিলাম। আলতো করে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললাম....

- হ-হরিণী! এই দেখো আমি চলে এসেছি। আমি আর তোমাকে একা ফেলে যাবো নাহ। আমরা এখান থেকে অনেক দূরে চলে যাবো যেখানে তুমি আমি আর আমাদের সন্তান ছাড়া অন্য কেউই থাকবে নাহ।

হরিণী চুপ করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কোনো কথা বলছে নাহ। হয়তো অভিমান করেছে। কিন্তু আমার তোহ হরিণীর কণ্ঠ শোনার জন্য মনটা ছটফট ছটফট করছে। কেমন অস্বস্তি হচ্ছে, দম বন্ধ অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। আজ হঠাৎ কি হলো আমার নিজেও জানি নাহ।

----------------------

আমি হরিণী। আর পাঁচটা মানুষের মতো আমার জীবনটা সাধারণ ছিলো নাহ। আমার জীবনটা ছিলো অনেকটা লজ্জাবতী গাছের মতো। পাতা হয়ে ফুটেছি ঠিকই কিন্তু কারো ছোঁয়া সহ্য করার ক্ষমতা ছিলো নাহ। এই কথাটার মানে হলো, ছোট থেকেই আমি আযানের ধ্বনি সহ্য করতে পারতাম নাহ। আযানের ধ্বনির থেকে বাঁচার জন্য বা নিজেকে লুকানোর জন্য জলের বালতিতে নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম যাতে ওই শব্দ আমার কানে নাহ পৌঁছায়। কোনো পবিত্র বাণী সহ্য করতে পারতাম নাহ, এমন মনে হতো আমার কান ঝলসে যাচ্ছে। আগরবাতি, ধূপসহ কোনো সুগন্ধি সহ্য করতে পারতাম নাহ, আমার শরীর গুলিয়ে বমি আসতো। আরো অনেক সমস্যা আছে যা ধীরে ধীরে বুঝা যাবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হাজার চেষ্টা করেও আমি কারো সাথে মিশতে পারতাম নাহ।

প্রায় অনেক বছর আগের কথা, প্রথম প্রথম সবকিছু স্বাভাবিক ছিলো, তারপর একদিন গ্রামের এক মেয়ের সাথে আমার ঝগড়ার সৃষ্টি হয় রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে নাহ পেরে আমি মেয়েটিকে কামড়ে ধরি। আশ্চর্য ভাবে মেয়েটি সেদিন আমার সামনে ছটফট করতে করতে মারা যায়। ওইদিনের পর থেকে গ্রামের লোকেরা আমাকে কাল নাগিনী বলতে থাকে। আমাকে আর আমার আম্মা-কে করে দিলো একঘরে। জানি নাহ, হয়তো আম্মা কিছু জানতো আমার ব্যাপারে যেটা আমার কাছ থেকে লুকিয়েছে। হঠাৎ একদিন দেখলাম আম্মা গ্রামের সব কুকুরদের ধরে ধরে আমাদের বাড়িতে এনে বেঁধে রাখলো। কত যত্ন সহকারে ওদের লালন পালন করতো। আমিও বড় হতে লাগলাম, আস্তে আস্তে কুকুরগুলোকে বাঁধ মুক্ত করে দেওয়া হলো। ওরা ওদের স্বাধীনতা বুঝে নিলো, তখন কেউই আমাদের ছেড়ে অন্য কোথাও যেতো নাহ সবগুলো কুকুর আমাদের বাসায়ই থাকতো।

সময়টা তখন খেয়াল নেই প্রায় ৭ ববছর আগের কথা তোহ হবেই। হঠাৎ একদিন আমার ভিতরে অসহ্য যন্ত্রণা হতে থাকে। মনে হচ্ছিল আমি এক্ষুনি মারা যাবো। আমার ভিতরের সবকিছু যেনো ছিঁড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হচ্ছিল। এমনটা আগে কখনো হয়নি। হাত, পা এর নখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছিলো। কান, ঘাড়, চোখ থেকে গরম আভা বের হচ্ছিল। কেমন এক অদ্ভুত অনুভূতি যা বুঝানোর মতো নাহ। মৃত্যুর যন্ত্রণার সাথে এক ভালো লাগা কাজ করছিলো আমার। মুখে এক সয়তানি হাসি দিয়ে এগিয়ে গেলাম একটা কুকুরের দিকে, খুব আদর করে জড়িয়ে ধরলাম তাকে তারপর হিংস্র বাঘের মতো কামড়ে ধরলাম ওর গলায়। এভাবেই যখন আমার মধ্যে বিষক্রিয়া দেখা দিতো তখন এক এক করে কুকুরের জীবন উৎসর্গ দিতাম। তখন থেকেই শুরু আমার শিকল বন্দী জীবন।

এভাবেই সবকিছু চলছিলল তারপর একদিন খবর এলো আম্মা নাকী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ওইদিন থেকে আমার জীবনে আরো একটা যুদ্ধ শুরু হলো। আম্মার লাশ দাফন করে যেদিন আমাকে আবারও আমাদের কুটিরে রেখে যায় সেদিন রাতে কে বা কারা যেনো আমাকে ধরে নেওয়ার জন্য আসে। আমি তখন আযানের শব্দের হাত থেকে বাঁচার জন্য বালতিতে মাথা গুজেছিলাম ওই মুহুর্তেই দুষ্টু লোকগুলো আমাকে ধরতে এসেছিলো কিন্তু পারেনি। আমি তাদের আসার শব্দ শুনতে পেরে লুকিয়ে পরি। আড়াল থেকে দুইজনের চেহারা দেখেছিলাম আর একজন লম্বা বড় কালো পোশাক পড়া ছিলো আর মুখে ছিলো কালো মুখোশ। সেই কালো মুখোশ পড়া লোকটা বালতির মধ্যে লেগে থাকা আমার কিছু চুল কুড়িয়ে নিয়ে চলে গেলো। আমি তখনও জানতাম নাহ সে ওই চুল দিয়ে কি করবে।

তারপর নিজেকে বাঁচানোর জন্য পালালাম। ওখান থেকে পালিয়ে চলে গেলাম আরিয়ানের কাছে। ওখানে গিয়েও আমার সাথে এমন অনেক কিছু ঘটেছে যা আমি আরিয়ানের কাছে লুকিয়েছি। প্রথম দিন যখন আরিয়ান আমাকে একা রেখে বের হয় ওইদিন আমি আপন মনে বিছানায় শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ চোখ খুলে দেখি একটা মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ভয়ে ভয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম সে কে.? মেয়েটি প্রথমে চুপ করে থেকে এক বিকট শব্দে উত্তর দিলো "আমি রিশা" তোকে নিতে এসেছি। চল আমার সাথে, আমি তোকে তোর বাবার কাছে নিয়ে যাবো।

আমি মেয়েটাকে এর আগে কখনো দেখিনি কিন্তু কেনো জানি নাহ মেয়েটাকে চেনা চেনা লাগছিলো। হঠাৎ করে মেয়েটা আমার হাত ধরে টেনে বিছানা থেকে ফেলে দেয়।

তখনই আযানের সময় হয়ে যায়। আমার হাত পায়ের নখ বড় বড় হতে শুরু করে কিন্তু আরিয়ানের দেওয়া সেই নখ কাটার যন্ত্রটা খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ। তাই দাঁত দিয়েই কাটতে থাকি। নিজেকে আযানের শব্দের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য পানিতে মাথা ডুবাতে যাই কিন্তু সেই মেয়েটা কিছুতেই আমাকে যেতে দিচ্ছিল নাহ। হঠাৎ করে মেয়েটার চেহারা বিভৎস হয়ে গেলো আর হাওয়ায় উড়তে উড়তে বলে,

- চিনিস আমাকে.? আমি কে.? আমি কালো পরী!! ইফরিদ জ্বীনের সবচেয়ে কাছের। তার রক্ত কোথায় কোথায় আছে আমি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে নাহ। আমিই এবং আমার মতো অন্যান্য কালো পরী ছাড়া আর কেউ তোদের মতো ইফরিদের বংশধরের কাছে পৌঁছাতে পারবে নাহ।

- কি-কিন্ত তুমি নাহ বললে তুমি রিশা.?

- হ্যাঁ! আমি রিশা! তুই জানিস কালো পরী কারা হয়.?

- ন-নাহ!

- যে আত্মাগুলোর সাথে পাপ জড়িত থাকে তাদের কালো পরী বলে।৷ কেমবমাত্র পাপাত্মারাই পারে ইফরিদের গোলামী করতে। বেঁচে থাকতে আমার মধ্যে কোনো অশুভ ছায়া নাহ থাকেও মারা যাওয়ার আগ মুহুর্তে আমার উপর এক অশুভ শক্তির নজর পরে সেই থেকে আমিও হয়ে গেলাম কালো পরী। ইফরিদের গোলাম! হা!হা!হা!

এই বলে মেয়েটা উধাও হয়ে যায়। তারপর আবারও একের পর এক দিন কেটে যায়৷ একদিন আমি আর আরিয়ান সবকিছু উপেক্ষা করে একে অপরের কাছে আসি। তারপর আবারও নিয়তি আমাদের দুইজনকে আলাদা করে দিলো। আমি ভাবতেও পারিনি আরিয়ান আমাকে ধোঁকা দিবে। আরিয়ান যেদিন আমাকে সরদারের হাতে তুলে দিলো আমি সেদিনই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি, যদি কোনোদিন আমি মুক্তি পাই তাহলে সরদারের লোকেদের আর যে মেয়ের জন্য আরিয়ান আমাকে ধোঁকা দিয়েছে সেই মেয়েকে বাঁচতে দিবো নাহ। আমার প্রতিশোধ পূরণ হলে আমি আমার মধ্যে থাকা বিষের বিষক্রিয়ায় নিজের জীবন দিয়ে দিবো। আমি চাইলে ওদেরকে মধ্যেই আমার শরীরে থাকা বিষ দিয়ে মারতে পারতাম কিন্তু মারিনি কারণ আমি চাইনি আমার শরীরে থাকা বিষ আর কারো জীবন নষ্ট করুক। এবার নিজেকে নিজেরই শেষ করার সময় এসেছে তাই এক ফোঁটা বিষও নষ্ট করিনি। আমার আশেপাশে থাকা কুকুরগুলো দেখছেন, এরা বুঝতে পারে কখন আমার শরীরে বিষের পরিমাণ বেড়ে যায়। যখন আমার শরীরে বিষের পরিমাণ বেড়ে যায় তখনই ওরা আমার আশেপাশে এসে এমন করে। এতগুলো বছর অনেক নিষ্পাপ প্রাণ কেড়ে নিয়েছি আর নাহ।৷

সবকিছু ছেড়ে যখন এখানে চলে আসি তখন রিশা নামের সেই মেয়েটি আগের বারের মতো বিভৎস চেহারা নিয়ে আবারও আসে। এবার এসে সে একটা কথা বলেছিলো....

- হরিণী!! তোকে নিতে এসেছি। তৈরি হয়ে নে, আমাদের মা-বাবা আর আমি তোর জন্য অপেক্ষা করছি।

আমি ভয়ে এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করতে থাকি। যেদিকে যাই সেদিকেই ওই মেয়েটা আমার পিছু করছিলো। সবশেষে এখানে এসে পৌঁছাই।

-----------------

- হরিণী!! একটু কথা বলো নাহ! এতটাই অভিমান করেছো যে আমার সাথে একটি বারের জন্যও কথা বলছো নাহ।। আমার জন্য নাহ হোক আমাদের সন্তানের জন্য হলেও একটু কথা বলো।

এই বলে হরিণীকে জড়িয়ে ধরলাম।

- ভয় পেয়ো নাহ আরিয়াম, ওর উপর ইফরিদের ক্ষোভ নেই। ও নাভি নিয়েই জন্মেছে। ও আমার মতো হয়নি, ও তোমার মতোই সাধারণ মানুষ। ও তোমার আর আমার ভালোবাসার চিহ্ন। কথা দাও ওকে সবসময় আগলে রাখবে.? ওকে সরদারের হাত থেকে রক্ষা করবে। ওই সরদারের নজর এতদিন আমার উপর ছিলো এখন আমার সন্তানের উপরেও ওর নজর পড়বে। তু-তুমি কথা দাও ওর কোনো ক্ষতি হতে দিবে নাহ।

এই কথাটুকু বলেই আমার কাঁধে মাথা রেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলো হরিণী।

আমি চিৎকার করে বললাম!

- হরিণীইইই!! তুমি আমাকে একা করে দিয়ে কোথায় চলে গেলে। আমি এখন একা একা কিভাবে বাঁচবো। ওহ খোদা তুমি কেনো সবসময় আমার সাথে এমনটা করো, আমি যাকেই মন থেকে চাই তাকে তুমি আমার কাছ থেকে কেড়ে নাও। হরিণী!!!! তুমি দেখো, আমাদের সন্তানকে আমি জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবো। কোনো খারাপ মানুষের কবলে পরতে দিবো নাহ।

হরিণীর মাথাটা আমার কোলে রেখে অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পরলাম। আমার আশেপাশে কি হচ্ছে কোনো হুশ জ্ঞান নেই আমার। আমার মনে হচ্ছিল, এই বুঝি আমার পৃথিবীটা থমকে গেলো। একটা মানুষকে কতটা ভালোবাসে তার জন্য মানুষ এমন পাথর হয়ে যায় আজ বুঝলাম। রিশা ছিলো আমার আবেগ কিন্তু হরিণী সত্যি সত্যি আমার ভালোবাসা হয়ে এসেছিলো। কিন্তু আমি এবারও আমার ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের করে নিতে পারলাম নাহ।

আমি যখন আবারও কান্নায় ভেঙ্গে পরি তখন হঠাৎ করে চারিদিকে বাতাস বইতে শুরু করে। এক পর্যায়ে খেয়াল করে দেখলাম আমার সামনে সেই কাফনে মোড়ানো লাশটা। এবার ওই লাশটার মুখ খোলা। মুটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে, এটা রিশা।

রিশা ইরিনের হাত থেকে আমার আর হরিণীর সন্তানকে কেড়ে নিয়ে গেলো। রিশা আস্তে আস্তে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। রিশা যত হাওয়ায় মিলচ্ছে ততই অরিন, ইরিন, আর রাশেদ আঙ্কেল মৃত্যুর কোলে ঢলে পরছে। রিশা যেতে যেতে বললো।

- ইফরিদ নিজের বংশধর কোনোদিন কারো জন্য রেখে যায় নাহ। যেকোনো সময় তার বংশধরকে নিজের রাজত্বে নিয়ে যাবেই। আজ সে সম্পূর্ণ হয়েছে। তার দুই মেয়ে তার কাছে চলে গেছে। যার মাধ্যমে আমাদের দুই বোনের জন্ম সেই আজ ইফরিদের কাছেই আছে। এখন বাকি এই বাচ্চাটা। একেও নিয়ে গেলাম।

মুহুর্তেই রিশা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো আর অরিন, ইরিন ও রাশেদ আঙ্কেলও মারা গেলো। গতবারের মতো এবারও আমি নিঃশ্ব হয়ে গেলাম। তখনই কেউ একজন পিছন থেকে আমার কাঁধে হাত রাখে......