পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১১

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১১ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১১

এরপর আমি আর অরিন ছাঁদে চলে গেলাম ওর বাবা মায়ের সাথে কথা বলতে।

ছাঁদে গিয়ে দেখি অরিনের বাবা মা ছাঁদের উপর ডাইনিং সাজিয়ে বসে আছে।

আমাদের দেখে তারা অনেক খুশি হয়েছে, বিশেষ করে আমাকে দেখে।

"আরে! এসে পরেছো তোমরা.? আমরা তোহ ভেবেছি তোমরা সকালে আসবে, তোমাদের রেখেই আমরা ব্রেকফাস্ট করে ফেলেছি। এখন তোমাদের জন্য লাঞ্চ নিয়ে বসে আছি। এসো বসো তোমরা"

অরিন:- বাবা! মা! এইযে আরিয়ান! ওর জন্যই এত অপেক্ষা, এত প্রার্থনা।

"ওয়েলকাম! ওয়েলকাম! আমি অরিনের বাবা মো: শহীদুল্লাহ্।"

"আসসালামু আলাইকুম! আঙ্কেল, আমি আরিয়ান।"

"ওয়া আলাইকুমুস সালাম! তোমাকে আর নতুন করে পরিচয় দিতে হবে নাহ। আমরা প্রতিদিনই অরিনের মুখে তোমার কথা শুনি!"

"এইযে আরিয়ান! বলো তোহ আমি কে.?"

"আপনি নিশ্চয়ই অরিনের আম্মু!"

"হ্যাঁ! একদম ঠিক বলেছো আমি অরিনের আম্মু আর মিস্টার শহীদুল্লাহ্'র মিসেস। আমি শহীদুল্লাহ্ তাসলিমা"

"আসসালামু আলাইকুম আন্টি!"

"ওয়া আলাইকুমুস সালাম! আরে তোমরা এখনো দাঁড়িয়ে আছো কেনো বসো.!!"

অরিন:- আরিয়ান! বসো।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! বসছি।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- তা বাবা! কি খবর তোমার.? দিনকাল কেমন যাচ্ছে.?

আরিয়ান:- আলহামদুলিল্লাহ আঙ্কেল! আপনাদের.?

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- হ্যাঁ আলহামদুলিল্লাহ আমাদেরও ভালোই।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- আরিয়ান! অরিন কি তোমাকে অনেক বেশি বিরক্ত করে.?

আরিয়ান:- নাহ! নাহ! আন্টি। অরিন তোহ আমাকে কখনোই বিরক্ত করে নাহ বরং আমাকে শাসন করে। আমিই ওকে সবসময় বিরক্ত করি।

অরিন:- ইয়ে! আরিয়ান!!

আরিয়ান:- ওহ্! আচ্ছা আর বলবো নাহ। তবে আন্টি অরিনকে পুলিশ নাহ বানিয়ে স্কুল টিচার বানালে ভালো হতো। অনেক ভালো শাসন করতে পারে।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- হা!হা!হা! আসলেই অরিন সবাইকেই শাসন করে। বাড়িতেও আমাদের সবাইকে ওর হুকুম মতো চলতে হয়।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- আরে! তাসলিমা, ওদের খেতে দিচ্ছো নাহ কেনো.? খাবার শেষে কথা হবে আগে সবাই খেয়ে নাও।

অরিন:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! মা খেতে দাও, পরে কথা হবে।

আরিয়ান:- উমম! রান্না কি আন্টি করেছেন.?

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- হ্যাঁ বাবা! আমিই করেছি। আর আমাকে আন্টি নাহ বলে মা বললে বেশি খুশি হবো!!

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- হ্যাঁ! আমাকেও আঙ্কেল নাহ ডেকে বাবা ডাকবে।

আরিয়ান:- বাবা! মা! কতদিন এই নাম ধরে ডাকি নাহ কাউকে।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- তাতে কি.? আমরা আছি তোহ! আমরাই এখন থেকে তোমার বাবা মা! অরিন যেমন আমাদের সন্তান তুমিও তেমনই আমাদের সন্তান।

আরিয়ান:- আজ নিজেকে সত্যি অনেক সুখী মানুষ মনে হচ্ছে।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- আচ্ছা বাবা! এখন এসব বাদ দাও, খেয়ে বলো তোহ তোমার নতুন মা কেমন রান্না করতে পারে

আরিয়ান:- খাবারের গন্ধেই মনে হচ্ছে খাবারগুলো অনেক সুস্বাদু হয়েছে।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- খেয়ে তোহ দেখো। তোমার মায়ের হাতের রান্না খেয়েই আমি ওর প্রেমে পরেছিলাম

আরিয়ান:- কি! সত্যি.?

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- হ্যাঁ! ওর রান্নার প্রেমে পরেছিলাম আমি।

আরিয়ান:- বাহ্! ইন্টারেস্টিং তোহ। একদিন আপনাদের লাভ স্টোরি শোনা উচিৎ।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! অবশ্যই শুনবে কেনো নাহ।

অরিন:- উহু! উহু! আপনারা হয়তো ভুলে গেছেন আমি আপনাদের মেয়ে।

আরিয়ান:- দেখেছেন এখনই হিংসা শুরু হয়ে গেছে। বিয়ের পর হয়তো আমাকে আপনাদের সাথে মিশতেই দিবে নাহ।

অরিন:- উফফ! তোমরা আরিয়ানকে পেয়ে আমাকে ভুলেই গেছো, আমার অভিমান হয় নাহ বুঝি।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- কই দেখি! দেখি! আমার সোনা মামনিটা। রাগ করে নাহ, আরিয়ান তোহ আমাদের নতুন অতিথি আর তুমিই তোহ ওর জীবনের সব ঘটনা আমাদের কাছে বলেছো। ছেলেটার তুমি আর আমরা ছাড়া আর কেউই এখন দুনিয়াতে নেই। এখন যদি আমরা ওকে আপন করে আগলে নাহ রাখি তাহলে আরিয়ান কি ভাববে বলো তোহ!

আরিয়ান:- থাক! আঙ্কেল, আমি কিছুই মনে করিনি। ওর এমন রাগ অভিমান আমাকে কষ্ট দেয় নাহ বরং ও রাগ করলে মনে হয় ও আমাকে আরো বেশি ভালোবাসছে।

অরিন:- হয়েছে! হয়েছে! খাও এবার। বাকি কথা যেতে যেতে বলো।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- আরিয়ান!

আরিয়ান:- হ্যাঁ বাবা!

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- অরিনের সম্পর্কে তোহ সবকিছুই জানো.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ বাবা! আমিও অনিরের সম্পর্কে সবকিছু জানি অনিরও আমার সম্পর্কে সবকিছু জানে।

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- তাহলে তোহ ভালোই! তোমরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে সবকিছু আগে থেকে বলে নিয়েছো। আমাদের তাহলে আর কোনো আপত্তি নেই। আমরা তোমাদের বিয়েতে রাজি।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- আরিয়ান! অরিনের আগে একটা সম্পর্ক ছিলো, জানো তোহ সেটা.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! বাবা, আমি সবকিছু জানি। শুনুন, আমি অরিনকে ভালোবাসি অরিনও আমাকে ভালোবাসে। তাছাড়া অরিনের আগে আমারও একজনের সাথে সম্পর্ক ছিলো কিন্তু সে এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। অরিন আমার এবং আমার প্রাক্তনের সম্পর্কে আগে থেকেই সবকিছু জানে তাছাড়া আমিও অরিনকে বিশ্বাস করি এবং ভালোবাসি। ওর কার সাথে সম্পর্ক ছিলো কি ছিলো নাহ এসব নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। আমি সর্বাবস্থায় অরিনের পাশে আছি এবং থাকবো।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- বাহ্! অরিনের পছন্দ আছে বলতে হয়। একদম খাটি সোনা। আমাদেরও তোমাদের সম্পর্ক নিয়ে কোনো প্রকার আপত্তি নেই।

অরিন:- তাহলে বাবা আজ উঠি! আরিয়ানের সাথে আমার কিছু জরুরি কথা আছে তাছাড়া পুলিশ স্টেশনেও অনেকগুলো কেস পরে আছে।

মিস্টার শহীদুল্লাহ্:- আচ্ছা! আচ্ছা! ঠিক আছে। তাহলে৷ আরিয়ানকে নিয়ে আবারও এসো।

অরিন:- ঠিক আছে আসবো!

মিসেস শহীদুল্লাহ্:- আরিয়ান বাবা! রান্না কেমন হয়েছে বললে নাহ.?

আরিয়ান:- মা! প্রথমেই তোহ বললাম আপনার হাতের রান্না মানেই অমৃত।

অরিন:- আরিয়ান চলো এবার উঠি আরেক দিন আসবো।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! হ্যাঁ! চলো।

এরপর মিস্টার এন্ড মিসেস শহীদুল্লাহ্'কে বিদায় জানিয়ে আমি আর অরিন ভুজঙ্গপুর গ্রামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পরলাম।

গাড়ি কিছু দূর যাওয়ার পর অরিন আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে...

"এইযে মিস্টার! কি ভাবছেন.?"

"কই! কিছু নাহ তোহ! তুমি কিছু বলবে বলেছিলে.?"

অরিন:- হ্যাঁ! তোমার সাথে আত্মার জগত নিয়ে কিছু কথা ছিলো।

আরিয়ান:- অরিন! আমার মনে হয় তুমি রাজকন্যা ইলাহ্ এবং উনার লিখা বই নিয়ে একটু বেশিই ভাবছো।

অরিন:- আরিয়ান! তুমি আমার পরিস্থিতিটা বুঝতে পারছো নাহ, প্রথমত আমি একজন পুলিশ অফিসার ওই প্রাসাদের আসল সত্যিটা ইনভেস্টিগেশন করাটা আমার কর্তব্য। দ্বিতীয়ত আমি ওই প্রাসাদ থেকে ইবাদত সম্পূর্ণ করে জীবন নিয়ে ফিরেছি এবং রাজকন্যা ইলাহ্'র কিছু ম্যাসেজও পেয়েছি যেগুলো উনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন।

আরিয়ান:- কই দেখি তোমার সেই রাজকন্যা ইলাহ্'র ম্যাসেজটা

অরিন:- হ্যাঁ দিচ্ছি দাঁড়াও!

এরপর অরিন রাস্তার এক পাশে গাড়ি পার্ক করলো। গাড়ি থামিয়ে আমাকে কিছু পুরনো কাগজ বের করে দিয়ে বললো..

অরিন:- এই নাও! বিশ্বাস নাহ হলে তুমি নিজেই পড়ে দেখো। এগুলো ১৮-১৯ শতকে লিখা হয়েছে।

আরিয়ান:- তুমি কিভাবে জানলে.?

অরিন:- এইগুলো আমি ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়েছিলাম। উনারা এই কাগজগুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পেরেছে এগুলো সব ১৮-১৯ শতকের মধ্যে লিখা হয়েছে।

আরিয়ান:- বাহ্! পুলিশ ম্যাডাম আপনি তোহ আপনার ইনভেস্টিগেশনে অনেক দূর পর্যন্ত এসে পরেছেন।

অরিন:- হ্যাঁ! এবার বাকিটা রাস্তা পার হতে তোমার সাহায্য লাগবে।

আরিয়ান:- সাহায্য নাহ! তোমার পাশে থাকা আমার দায়িত্ব! সারাজীবন এভাবেই তোমার পাশে থাকবো।

অরিন:- আমিও! অনেক বিপদ অতিক্রম করে তোমাকে আমার জীবনে আপন করে পেয়েছি। কখনোই হারাতে দিবো নাহ তোমাকে। আগামীতে যতই বিপদ আসুক একসাথে দু'জনে মিলে মোকাবিলা করবো।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! আজ এবং এখন থেকে আমাদের দু'জনের উদ্দেশ্য একটাই।

অরিন:- হ্যাঁ! প্রথমে আমাদেরকে সরদারকে খুঁজে বের করতে হবে আর রিশা আপুর আত্মাকে মুক্তি দিতে হবে তারপর রাজকন্যা ইলাহ্'র আত্মাকেও মুক্তি দিতে হবে।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! কই কাগজগুলো দাও পড়ে দেখি রাজকন্যা ইলাহ্ আমাদের জন্য কি ম্যাসেজ রেখে গেছেন।

অরিন:- হ্যাঁ! এই নাও।

অরিনের হাত থেকে কাগজগুলো নিয়ে পড়ে দেখলাম। ওতে লিখা ছিলো...

"আমি জানি, একদিন নাহ একদিন ঠিকই কেউ আমার লিখা এই চিঠিগুলো খুঁজে পাবে। আমি এটাও জানি যে তুমিই সেই ব্যক্তি যে আমার লিখা চিঠিগুলো খুঁজে পেয়েছো। যদি তুমি সত্যি সত্যি আমার লিখা চিঠিগুলো পেয়ে থাকো তাহলে মন দিয়ে চিঠিতে থাকা সম্পূর্ণ লিখাগুলো পড়ো....

নিশ্চয়ই তুমি প্রাসাদের বাইরে ও ভিতরে থাকা সকল বিপদের মুখোমুখি হয়েও যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিলে সেই উদ্দেশ্যে ইবাদত সম্পূর্ণ করেছো!

কারণ তুমি যদি ইবাদত সম্পূর্ণ করে নাহ থাকো তাহলে কখনো আমার লিখা চিঠিগুলো পেতে নাহ।

যাই হোক, আমি জানি তুমি সেই মেয়ে যে নিজের জীবনসঙ্গীর শুভশক্তির জোড়ে এতদূর অব্দি এসেছো। তোমার জীবনসঙ্গীর শুভশক্তির জোড়ে তুমি এই প্রাসাদে থাকা সমস্ত ভয়ঙ্কর আত্মাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছো।

মনে রেখো, তোমার জীবনসঙ্গী কোনো সাধারণ মানুষ নাহ, সে হচ্ছে শুভশক্তির প্রতীক, তার মধ্যে রয়েছে " Holey Power" যা শুধুমাত্র ১০০ জনের মধ্যে ১ জনের মধ্যেই থাকে।

তোমার জীবনসঙ্গী শুধু তোমার নাহ আমার জীবনও রক্ষা করতে পারে যদি তোমরা চাও তাহলে!

এই মুহুর্তে সয়তান বিভিন্ন ভাবে আমাকে নিজের বশে করতে চাচ্ছে, বহুবার বশ করেও নিয়েছিলো। কিন্তু তোমাদের উদ্দেশ্যে এই ছোট্ট কিছু বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এতটা কষ্ট করলাম। আমার বিশ্বাস তোমরা আমাকে সয়তানের হাত থেকে মুক্তি করবে। কারণ শুভশক্তির প্রতীক কখনো কাউকে বিপদে থাকতে দেখে চলে যেতে পারে নাহ।

আর একটা কথা, তোমাদের জীবনের সকল রহস্য এই প্রাসাদেই উন্মুক্ত হবে। তাছাড়া আরো একটা নতুন রহস্যের মুখোমুখি হতে চলেছো তোমরা যা তোমাদের চোখের আড়ালে হচ্ছে। তোমাদেরই আপনজন, তোমাদেরই পিঠ পিছু আঘাত করবে।

চিঠিটা যদি সম্পূর্ণ পড়ে থাকো তাহলে দয়া করে তোমার জীবনসঙ্গীকে খুঁজে বের করো যাতে সে তোমার জীবনের কালো অতীতকে মুছে দিতে পারে এবং তার জীবনের অভিশপ্ত অধ্যায়কেও খন্ডন করতে পারে। সবশেষে তোমাদের দু'জনেরই জীবন চক্র এই প্রাসাদের সাথে জড়িত। তোমাদের জীবনের কালো অধ্যায় খন্ডন করতে হলে তোমাদের এই প্রাসাদে আসতেই হবে, আর এই প্রাসাদে আসলে তাকে তোহ আত্মার জগতে প্রবেশ করতেই হবে কারণ তার জীবন যে আত্মার জগতের সাথে সম্পৃক্ত।

একটা কথা মনে রেখো, যে ব্যক্তি শুভশক্তির প্রতীক সে যখন আত্মার জগতে প্রবেশ করবে৷ তখন তাকেও সয়তান নিজের বশে করতে চাইবে এমনকি নিজের বশে নিয়েও যেতে পারে। কিন্তু, যে শুভশক্তির প্রতীক সে চাইলেই নিজেকে এবং অন্যকে সয়তানের বশ থেকে মুক্তি করতে পারবে। শুধুমাত্র তাকে নিজের মধ্যে শুভশক্তিকে উপলব্ধি করতে হবে। তাকে মন থেকে বিশ্বাস করতে হবে যে তার মধ্যে "Holey Power" আছে। তার মনোবল শক্ত করতে হবে।

শেষ ধাপে বলে যাই, তোমাদের জীবনের বিপদ মুক্তি করতে একমাত্র আমিই পারি তোমাদের সাহায্য করতে তাই তোমরা দয়া করে আমাকে সাহায্য করো যাতে আমি তোমাদের সাহায্য করতে পারি এবং শতবছরের এই অখন্ডনীয় কাহিনী খন্ডন করতে পারি।

আজ হয়তো সয়তান আমার শরীরসহ রুহ্'কেও নিজের বশে নিয়ে যাবে, হয়তো আমি চাইলেও সয়তানের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো নাহ, যত বছর নাহ তোমরা আমাকে সাহায্য করবে তত বছর আমি আত্মার জগতেই আটকা পরে থাকবো।

সাহায্য করো আমাকে, এই আত্মার জগতেই তোমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে"

রাজকন্যা ইলাহ্'র লিখা চিঠিগুলো পড়ে রীতিমতো আমার মাথা ঘুরতে শুরু করলো।

এটা কি ভাবে সম্ভব! উনি সবকিছু আগে থেকেই জানতেন.?

আর আমাদের জীবনের সকল প্রশ্নের উত্তর ওই প্রাসাদেই আছে.?

যাই হোক, যদিও কখনে ওই প্রাসাদে অথবা আত্মার জগতে আমাকে যেতেই হয় তাহলে সকল প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তবেই ফিরবো আর রাজকন্যা ইলাহ্'কেও সয়তানের হাত থেকে মুক্তি করবো।

আনমনে যখন এসব ভাবছিলাম তখন অরিন ডাক দিয়ে বলে...

"কি ভাবছো.?"

আরিয়ান:- অরিন! তার মানে, আমার সাথে যে তোমার একটা সম্পর্ক হবে এটা রাজকন্যা ইলাহ্ আগে থেকেই জানতো.?

অরিন:- হয়তো তাই! চিঠিগুলো তোহ পড়লেই, কি মনে হয় উনাকে সাহায্য করা কি আমাদের কর্তব্য নাহ.?

আরিয়ান:- হ্যাঁ! তবে এসব নিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে নাহ, সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে আমাদের।

অরিন:- হ্যাঁ ঠিক বলেছো।

আরিয়ান:- হ্যাঁ! আচ্ছা শুনো!

অরিন:- হ্যাঁ বলো!!

আরিয়ান:- কোথাও ঘুরতে যাবে.?

অরিন:- হ্যাঁ! চলো পার্কে যাই। কিন্তু তার আগে তোমাকে আর একটা কথা জানাতে চাই...

আরিয়ান:- হ্যাঁ বলো কি কথা.?

অরিন:- রাজকন্যা ইলাহ্ বলেছিলো যে, পৃথিবীতে কেউ মারা গেলে তার শরীর যদি পৃথিবীতে অক্ষত থাকে তাহলে তাকে আত্মার জগত থেকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব তবে যদি কেউ পৃথিবী এবং আত্মার জগত উভয়েই মারা যায় তাহলে তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাহ।

আরিয়ান:- কি! আচ্ছা! আচ্ছা! ওয়েট! ওয়েট! আমি তখন তোমার কথাটা মন দিয়ে শুনি'নি!

তার মানে হচ্ছে, রিশার শরীর তোহ পৃথিবীতে অক্ষত নেই তাই ওকে আত্মার জগত থেকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নাহ।

অরিন:- আরিয়ান! তুমি এখনো রিশা আপুর ফেরার অপেক্ষায় আছো তাই নাহ

আরিয়ান:- অরিন! তুমি আমাকে ভুল বুঝছো...

অরিন:- আমি এতক্ষণ ভুল বুঝে ছিলাম এখন একদম ঠিক বুঝতে পারছি। তুমি আমাকে কখনোই ভালোবাসোনি! সবসময় শুধু মুখেই বলে এসেছো ভালোবাসো...

আরিয়ান:- অরিন! এবার কিন্তু বেশি বলছো...

অরিন:- হ্যাঁ! এখন তোহ বেশি বলছিই মনে হবে। আমি তোমার সাথে আর কোনো কথাই বলবো নাহ।

আরিয়ান:- অরিন! প্লিজ বুঝার চেষ্টা করো আমি সেভাবে কিছুই বলতে চাইনি।

অরিন:- বাদ দাও এসব! গাড়িতে উঠো, তোমাকে ফার্ম হাউসে পৌঁছে দিয়ে আমাকে পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে। অনেক কাজ বাকি....

আরিয়ান:- অরিন! প্লিজ শুনো আমার কথা...

অরিন:- আরিয়ান! প্লিজ, এসব বাদ দাও আমার ভালো লাগছে নাহ কিছু..

আরিয়ান:- ঠিক আছে, তোমাকে আর জোড় করবো নাহ।

অরিন:- হ্যাঁ প্লিজ!

অরিন আমার উপর অভিমান করে গাড়ি ড্রাইভ করতে লাগলো। আমিও ওকে জোড় করলাম নাহ আমার সাথে কথা বলতে কারণ আমি জানি অরিন আমার সাথে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারবে নাহ।

পুরোটা পথ অরিন আমার সাথে একটুও কথা বললো নাহ, এবার আমার কেমন অস্থির অস্থির লাগতে শুরু করলো...

যে আমার সাথে এক মুহুর্ত কথা নাহ বলে থাকতে পারে নাহ, সে এতটাই অভিমান করেছে যে পুরোটা পথ একবারও কথা বললো নাহ।

নিজেকে অপরাধী মনে করতে লাগলাম, তখনই অরিন বললো...

"এখানেই নেমে যাও, আমি এখন থেকে পুলিশ স্টেশনে চলে যাবো তুমি কিছু দূর হেঁটে ফার্ম হাউসে চলে যেও...."

আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে চুপ করে গাড়ি থেকে নেমে পরলাম। নিজেকে এবার একটু বেশিই অপরাধী মনে হচ্ছিল।

ইশশ মেয়েটাকে একটু বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেললাম। কিন্তু কি করবো আমি এখনো রিশাকে ভুলতে পারছি নাহ। যাই হোক, যেভাবেই হোক অরিনের রাগ ভাঙ্গাতে হবে।

আনমনে নিজেকে অপরাধী ভাবছিলাম তখনই অরিন আমাকে বিদায় নাহ জানিয়ে চলে গেলো।

আমার কেমন কান্না পাচ্ছিলো কিন্তু কান্না করতে পারছিলাম নাহ।

আমি তাহলে সত্যি সত্যি অরিনকে ভালোবেসে ফেলেছি, এজন্যই ওর নিরবতা আমাকে এতটা কষ্ট দিচ্ছে।

উফফফ! কি করবো এখন.? আমি ওর অবহেলা আর নিতে পারবো নাহ। সবকিছু হারিয়ে একমাত্র ওকেই তোহ পাশে পেলাম, ওকে কিছুতেই হারাতে পারবো নাহ।

হাজারো মন খারাপ নিয়ে এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতে একটা রেডিমেড কাপড়ের দোকানের সামনে গিয়ে পৌঁছাই।