পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১৯

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৯ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১৯

সবার সাথে কথা শেষ করে আমি আমার রুমে চলেে যাই।

রুমে আসার বেশ কিছুক্ষণ পর মনে হলো ডাইনিং থেকে অনেক জোরে কোনো শব্দ ভেসে এলো। মনে হলো কেউ ডাইনিং রুমে ভাঙচুর কররছে। আমি ছুটে ডাইনিং-এ চলে গেলাম। গিয়ে দেখি ডাইনিং রুম একদম স্বাভাবিক আছে।

এইতো কিছুক্ষণ আগেও মনে হলো এখানে ভাঙচুর হচ্ছিল কিন্তু এখন তোহ সবকিছুই স্বাভাবিক আছে তাহলে কোত্থেকে শব্দটা এলো।

হঠাৎ মনে হলো কেউ একজন আমার পিছন থেকে দৌড়ে একপাশ থেকে আরেক পাশে চলে গেলো। আমি পিছন ঘুরে তাকাতেই দেখি কেউ নেই।

মনের ভুল ভেবে উপরে উঠতে লাগলাম তখনই বাইরে থেকে কারো চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেলাম। দৌড়ে বাইরে চলে গেলাম। এদিক সেদিন খুঁজেও কাউকে পেলাম নাহ। মনে মনে ভাবতে লাগলাম আমি হয়তো পাগল হয়ে গেছি। আমার সাথে যা যা হচ্ছে আমি যেগুলো এক্সপেরিয়েন্স করছি এগুলো সবকিছু হয়তো বাসায় বলে দেওয়া উচিৎ। আমার হয়তো জেনারেল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন।

একা একাই এসব বলতে বলতে এক পা দু পা করে হাঁটছিলাম তখন কেউ পিছন থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে চিৎকার দিতে যাবো তখনই সেই লোকটা আমাকে তার দিকে ঘুরিয়ে আমার মুখ চেপে বললো...

"আমি! আমি! আমি!"

লোকটা স্পর্শ আর কণ্ঠ আমার খুব পরিচিত তাই মিট মিট করে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করতে লাগলাম কে এই লোকটা কিন্তু অন্ধকারে লোকটার মুখ দেখা যাচ্ছিলো নাহ। তাই জিজ্ঞেস করলাম....

"আজব তোহ! কে আপনি.?"

"অরিন! তুমি আমাকে চিনতে পারছো নাহ.?"

"নিজাতি.?"

"হ্যাঁ! আমি কষ্ট পেয়েছি তুমি আমাকে চিনতে পারোনি!"

"এত রাতে তুমি এখানে কি করছো.? কেউ দেখে ফেললে কি হবে বুঝতে পারছো.?"

"আমার ব্যক্তিগত ফুলের কাছে আমি এসেছি তাতে কার কি এসে গেলো দেখে লাভ নেই আমার"

"এইযে মিস্টার, আমি কিন্তু এখনো আপনার ব্যক্তিগত হইনি!"

"হওনি মানে.? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো নাহ.?"

"হ্যাঁ বাসি"

"তুমি আমাকে ভালোবাসো মানেই তুমি আমার ব্যক্তিগত ফুল"

"হয়েছে! এবার বলো কেনো এসেছো.?"

"তাড়িয়ে দিচ্ছো.?"

"তাড়িয়ে দিচ্ছি নাহ, শুধু কারণ জিজ্ঞেস করছি"

"অভিমান করেছো.?"

"অভিমান করবো কেনো.?"

"নাহ এমনি, চলো তোমাকে কিছু দেখাবো"

"এত রাতে.?"

আমার প্রশ্নের কোনো উত্তর নাহ দিয়ে নিজাতি আমার হাত ধরে হাঁটতে লাগলো।

"নিজাতি, কোথায় যাচ্ছি আমরা বলবে তোহ.?"

"অরিন! দেখো, ওই চাঁদটা যেনো আজ আমার চাঁদের সৌন্দর্য কাছে একদমই ফিকে। এই পূর্ণিমা মাখা রাত, শান্ত আকাশ, শীতল বাতাস আর.... "

"আর কি.?"

"আর তুমি। তুমি জানো, তুমি যতটুকু সময় আমার সাথে থাকো ততটুকু সময় আমি মন খুলে হাসতে পারি, নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি মনে হয়।"

"হয়তো তোমার সাথে আমার পরিচয় বেশি দিনের নাহ কিন্তু তারপরও আমি তোমাকে নিয়ে আমাদের আলাদা একটা পৃথিবী সাজিয়েছি যেখানে থাকবে তুমি আর থাকবো আমি।"

"তোমার ওই মায়াবী চোখ আর মিষ্টি হাসি আমাকে পাগল করেছে। এখন মনে হয় যদি একদিন তোমার হাসিমাখা মুখ নাহ দেখি তাহলে আমার বেঁচে থাকাই বৃথা! একদিন যদি তোমার চোখের দিকে নাহ তাকাই তাহলে যেনো আমি অন্ধ হয়ে গেছি। জানি নাহ তুমি আমাকে কি জাদু করেছে, এখন তোমাকে ছাড়া একটা মুহুর্ত আমার কাছে কয়েক হাজার বছরের সমান মনে হয়। তোমাকে ছেড়ে থাকাটা অনেক কষ্টের আমার জন্য"

নিজাতির হাতগুলো শক্ত করে ধরে ওর হাতে একটা আলতো চুমু দিয়ে বললাম...

"ভালোবাসি তোমাকে প্রিয়! তুমি আমার নিঃশ্বাসে মিশে গেছো, তোমাকে হারানো মানে আমার বেঁচে থেকে মরে যাওয়া।"

এবার নিজাতি আমার হাতগুলোতে চুমু দিয়ে বললো...

"আচ্ছা অরিন! তুমি কি জানো আজকের দিনের একটা বিশেষত্ব আছে.?"

"যেমন.?"

"আজকে কত তারিখ.?"

"২৯শে ফেব্রুয়ারী! কেনো.?"

"তুমি জানো ২৯শে ৪ বছর অন্তর অন্তর একবার হয়। এই দিনটাকে বলা হয় লিপ ইয়ার মানে অধিবর্ষ।"

"হ্যাঁ! বুঝলাম কিন্তু এটার সাথে আমাদের কি সম্পর্ক.?"

"একটু পরই বুঝতে পারবে!"

"এখন বলো"

"অন্যান্য দিনের তুলনায় আজকের দিনটা সবদিক দিয়েই সুন্দর। আজকেট চাঁদটা সুন্দর, আজকের পরিবেশটাও সুন্দর তাছাড়া আজকের তুমিটাও সুন্দর"

এতটুকু কথা শেষ করে নিজাতি ওর হাত দিয়ে আমার চোখ বন্ধ করে দেয়।

"একি! নিজাতি, কি করছো.? চোখ ছাড়ো!"

"বিকেলে বলেছিলাম নাহ তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে.?"

"হ্যাঁ! কিন্তু সারপ্রাইজ'টা তোহ কালকে দিবে বলেছিলে.?"

"হ্যাঁ কালকেই দিবো ভেবেছিলাম কিন্তু পরে ডিসিশন চেঞ্জ করলাম। ভাবলাম, আজকের দিনটা সুন্দর চার বছরে একবার এই দিনটা পাওয়া যায় তাই কিছুতেই আজকের মতো সুন্দর দিনটাকে বৃথা বয়ে যেতে দিতে পারি নাহ। এজন্য তোমার সাথে সময় কাটাতে চলে এলাম। আমাদের কিছু সুন্দর মুহুর্ত তৈরী হবে যেগুলো আমাদের একে অপরকে কোনোদিন ভুলতে দিবে নাহ।"

"কিন্তু এই লিপ ইয়ারের রহস্য কি, একটু বলবে প্লিজ.?"

"আমি তোমার চোখ ছেড়ে দিলাম, কিন্তু! তুমি চোখ খুলবে নাহ। চোখ বন্ধ করে নিজের মনকে প্রশ্ন করো ❝লিপ ইয়ার কি❞"

নিজাতি আমার চোখ ছেড়ে দেওয়ার পর আমি অনেকটা আগ্রহ নিয়ে মন থেকে নিজের মনকে প্রশ্ন করলাম "কি এই লিপ ইয়ার! আর কি-বা এই লিপ ইয়ারের রহস্য" তখনই মনে হতে লাগলো কোনো অচেনা অদৃশ্য শক্তি আমার কানে কানে বলতে লাগলো.......

"ঐতিহ্যগত ভাবে এই বছরটিকে সমস্ত কল্পনাতীত এবং অকল্পনীয় দুর্ভাগ্যের সাথে সমৃদ্ধ করে, লিপ ইয়ারে জন্ম নেওয়া শিশুদের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়ে থাকে এই জাতীয় শিশুদের ভাগ্যবান হিসাবে বিবেচনা করে। যারা কেবল চুম্বকের মতো সৌভাগ্য আকর্ষণ করবে নাহ, বরং উদারভাবে তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে ভাগ করে নেবে। তারা অলৌকিক ক্ষমতা, অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে সমৃদ্ধ, তারা অকথ্য সম্পদ এবং অসাধারণ স্বাস্থ্যের ভবিষ্যদ্বাণী করে।

একটি অ-মানক ইভেন্ট লক্ষণগুলির একটি গুচ্ছ দ্বারা অনুষঙ্গী হয় - একটি অধিবর্ষ কোন ব্যতিক্রম নয়। যার নাম জুলিয়াস সিজার, ল্যাটিন bis sextus এবং গ্রীক "vissextus" এর সাথে ব্যঞ্জন। পৃথিবী 365 দিন এবং 6 ঘন্টায় সূর্যের চারপাশে ঘুরে। সঞ্চিত সময় প্রতি 4 বছর ফেব্রুয়ারিতে অন্য দিনে ঢেলে দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারী 29 হলো সেন্ট কাসিয়ানের স্মরণের দিন, যিনি ঈশ্বরের সামনে দোষী ছিলেন এবং প্রতি 4 বছরে একবার নাম দিবস উদযাপন করার জন্য সম্মানিত ছিলেন। তার নামের সাথে অনেক কিংবদন্তি যুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যে, তিনি নরকের দরজার অভিভাবক ছিলেন, সাধারণভাবে, মানুষের মনে এই চরিত্রটি নেতিবাচক। এটা স্পষ্ট যে, কেনো একটি অধিবর্ষকে খারাপ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

এই দিনে আপনি যাদু বিদ্যার কাছ থেকে নানাভাবে সাহায্য চাইতে পারেন, নিরাময়কারীরা যারা প্রিয়জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, একাকীত্ব থেকে মুক্তি দিতে এবং ভালো স্বপ্নগুলি উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে। আসল বিষয়টি হলো তাদের দুর্দান্ত শক্তি থাকবে, যার অর্থ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কেউ খারাপ সমন্বয় করতে সক্ষম হবে নাহ। মন্দ কাজের জন্য, একটি লিপ ইয়ারে কালো জাদুকরদেরও আগেরগুলির চেয়ে বেশি শক্তি থাকে, অর্থাৎ, তারা তাদের অন্ধকার কাজগুলি সম্পাদন করার সুযোগ পাবে। এই দিনটা যতটা শুভ শক্তির জন্য ঠিক ততটাই অশুভ শক্তির জন্যও। অনেক খারাপ মানুষ আছে যারা নিজের কার্য সিদ্ধির জন্য সাধারণ মানুষকে পিশাচের হাতে তুলে দেয়। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া গেছে, এই দিনের মধ্যরাত হলো কালোজাদুকরদের জন্য একটি মহারাত। এই রাতে তারা পিশাচ ও মানুষের মিলনের মাধ্যমে পৃথিবীতে এক অলৌকিক শক্তির আবির্ভাব করতে চায় যার মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে অধিক শক্তিশালী করতে পারে।

তাই এই রাত যেমনটা সাধারণ তেমনটাই অসাধারণ। মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু আবার মানুষই কালো শক্তির সবচেয়ে বড় বন্ধু।"

আমি অবাক হয়ে সবকিছু শুনছিলাম। কিন্তু কে আমার কানে কানে এসব বলছিলো আমি জানি নাহ। আমি শুধু তার বলা কথাগুলোকে উপলব্ধি করছিলাম। নিজাতিকে ডাকার জন্য চোখ খুলতেই আমি অবাক।

নিজাতি ওর মুখে গোলাপ গুঁজে আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আমাকে প্রপোজ করলো....

"I Love You So Much আমার বসন্তের ফুল। তুমি কি আমার বুড়ো বয়সের সঙ্গী হবে। হে প্রিয়তমা, তুমি কি আমার পথ চলার সাহারা হবে।"

আমি লজ্জায় মুখে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে স্থির কণ্ঠে জবাব দিয়ে বললাম "হুম"। নিজাতি ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে এসে আলতো ভাবে ওর হাত দিয়ে আমার কপাল থেকে চুল সরিয়ে দিলো। আমার মুখমন্ডলে ওর শাহাদাৎ আঙ্গুলটা বুলিয়ে দিতে দিতে বললো....

"সারপ্রাইজ...."

আমি চোখ খুলে দেখতেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিলাম। কারণ, নিজাতি আমাকে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে নিয়ে এসেছে। আমি খুশিতে ওকে জড়িয়ে ধরলাম।

"কি হলো.? পছন্দ হয়নি.?"

"আমার! আমর খুব খুব খুব পছন্দ হয়েছে৷ নিজাতি। আমি ভাবতেও পারিনি তুমি আমাকে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে নিয়ে আসবে।"

"আসুন মহারানী আপনার আসন গ্রহণ করুন"

"নিজাতি তুমিও নাহ! এসো.."

এরপর আমি আর নিজাতি গিয়ে টেবিলে বসলাম। আমি এক দৃষ্টিতে নিজাতিকে দেখছিলাম। মানুষটা কত মায়াবী, ওর মতো একজন সুদর্শন মানুষ আমার মতো মানুষকে এতটা ভালোবাসে এটা ভাবাও দূর্লভ। আমি সত্যি ভাগ্যবতী, নয়তো আমি কোনোদিন এত ভালোবাসা ডিজার্ভ করি নাহ। কিন্তু আমার ভয় হয় যদি কোনোদিন নিজাতি আমাকে ছেড়ে চলে যায় তাহলে এই মানুষটাকে ছাড়া আমি কিভাবে বাঁচবো। আমি যে দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো।

"কি ভাবছো অরিন.?"

"নাহ! তেমন কিছু নাহ। তোমাকে এসব করতে কে বলেছে.?"

"আমার চাঁদের জন্য করবো নাহ তোহ কার জন্য করবো.? আচ্ছা এক মিনিট"

আমি কিছু বলবো তার আগেই নিজাতি সবগুলো মোমবাতি নিভিয়ে দিলো।

"কি হলো নিজাতি.? এটা কেনো করলে.?"

"আমি চাই, আমার চাঁদের সৌন্দর্যের আলোয় চারিদিক আলোকিত হোক। এসব মোমবাতির কোনো প্রয়োজন নেই।"

"নিজাতি! এমন পাগলামো করার কি দরকার বলো তোহ! আমার কিন্তু লজ্জা লাগছে!"

নিজাতি কিছু নাহ বলে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। এক পা এক পা করে আমার দিকে এগিয়ে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পরলো। পকেট থেকে একটা আংটি বের করে বললো...

"অরিন তুমি কি আমার সাথে বুড়ী হবে.?"

আর সাথে সাথে চারিদিকে আলো জ্বলে উঠলো। আকাশে আতশবাজি ফুটতে শুরু হলো, উপর থেকে আমাদের উপর গোলাপের পাপড়ি ঝড়ে পরতে লাগলো।

একদিনে এত সারপ্রাইজ যেনো আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল নাহ। মনে হচ্ছিল আমি কোনো স্বপ্ন দেখছি। আমি নিজাতির প্রপোজাল এক্সেপ্ট করতে যাবো তখনই আমার চোখ আটকায় ওর হাতের আংটির দিকে।

এটা তোহ সেই আংটি যেটা আমি ওইদিন রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। আংটি'টা তোহ এখনও আমার আঙ্গুলেই আছে। মনে মনে আংটির বিষয়ে ভেবে আমার আঙ্গুলের উপর হাত বুলাতেই অনুভব করি আংটি'টা এখন আর আমার আঙ্গুলে নেই।

আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই নিজাতি আংটি'টা আমার আঙ্গুলে পড়িয়ে দিলো।

তারপর.........

------------

"তারপর কি.?"

"তারপর থেকেই আমার জীবনে অন্ধকার নেমে"

"মানে.?"

"সেই রাতটাই ছিলো আমার জীবনের জন্য অভিশপ্ত একটা রাত। সেই রাত আমার জীবনটাকে এলোমেলো করে দিয়েছিলো।"

"হেলামি নাহ করে বলো নাহ কি হয়েছিলো সেদিন। খারাপ কিছু হয়নি তোহ.?"

"আরিয়ান! শুধু খারাপই নাহ, সেদিনের পর থেকে তোমার সাথে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি বেঁচে থেকেও মৃত ছিলাম"

"দেখো অরিন! তোমার জীবনেও যে এত ভয়ংকর স্মৃতি থাকতে পারে আমি কল্পনাও করিনি। কিন্তু আমার উপর আস্থা রাখো, তোমার অতীতে কি হয়েছে নাহ হয়েছে তার জন্য আমি কোনোদিনই তোমাকে ছেড়ে চলে যাবো নাহ।"

-------------

তারপর.......

নিজাতি আমার হাতে চুমু দিয়ে বললো.....

"আমি কিন্তু এখনো আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি"

আমার তখন কি হয়েছিলো আমি নিজেও জানি নাহ। মনে হচ্ছিল আমি সম্পূর্ণ রূপে নিজাতির মোহে আটকে গেছিলাম। শুধু ইচ্ছে হচ্ছিল নিজাতি যা বলবে তাই করবো। আজ আমার সবটা ওকে উজাড় করে দিয়ে দিবো।

আমার সবটা উজাড় করে দেওয়া মনে হওয়াটাই হয়তো আমার কাল হয়ে এসেছিলো।

আমি ডেঁপ ডেঁপ করে শুধু নিজাতিকেই দেখে যাচ্ছিলাম। আমার মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছিল নাহ অথচ আমি অনেক কিছু বলতে চাচ্ছিলাম।

একটু পর নিজাতি আমার ঠোঁট ওর ঠোঁট জোড়া রাখলো আমিও ওকে সাঁই দি। এরপর নিজের অজান্তেই আমরা ফিজিক্যাল হয়ে যাই৷ অজানা কারণে নিজেদের মধ্যে কিছু কোয়ালিটি টাইম ক্রিয়েট করে ফেলে।

কিন্তু কেনো এমনটা করলাম..?

জানি নাহ! আমাদের দুজনের মধ্যেই কথা ছিলো কোনোদিন একে অপরের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে এমনটা করবো নাহ। কিন্তু সেদিন নিজেকে আর নিজের মনকে আটকাতে পারিনি, আমার সবটাই সেদিন নিজাতিকে উজাড় করে দিয়েছিলাম।

----------------

"অরিন! এই অরিন! উঠ!! আর কত ঘুমাবি.? উঠ!"

সকালে আম্মু ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। তাড়াতাড়ি করে ঘুম থেকে উঠে পরলাম। উঠে দেখি আজকেও কলেজের জন্য লেইট। কিন্তু কাল রাতে আমি কখন বাসায় ফিরলাম.? যাই হোক, আমি যে কাল রাতে বাইরে ছিলাম কেউ টের পায়নি।

ঘুম থেকে উঠে গোসল করে কলেজের জন্য রেডি হয়ে বেরিয়ে পরলাম।

ওইদিন কলেজ শেষে পার্কে গিয়ে নিজাতির জন্য অপেক্ষা করি কিন্তু সেদিন নিজাতি আর আসেনি। মন খারাপ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাই।

পরদিন আবারও কলেজে যাই, ওইদিন কলেজে যাওয়ার পর সিনথিয়া জিজ্ঞেস করে.....

"কিরে অরিন! তুই নাকী প্রেমে পরেছিস.? তা কে সেই ব্যক্তি.? পরিচয় করিয়ে দিবে কবে.?"

"ইয়ে মানে! তুই তোহ তাকে চিনিসই"

"কি বলছিস.? আমি তাকে কিভাবে চিনবো.? আমাদের কলেজের কেউ নাকী.?"

"হ্যাঁ!"

"কি!! সত্যি.? নাম বল, কে সে.?"

"আমাদের কলেজের নতুন স্যার"

"নতুন স্যার.?"

"হ্যাঁ! ওইযে কিছুদিন আগে একজন নতুন স্যার জয়েন হলো নাহ। নাম নিজাতি।"

"তোর মাথা ঠিক আছে.?"

"কেনো.? কি হলো আবার.?"

"আমাদের কলেজে এই বছর নতুন কোনো টিচার আসেনি। আর তুই বলছিস, নিজাতি নামে নাকী একজন টিচারের সাথে তোর সম্পর্ক। এই নামে কেনো কোনো নামেই এই বছরে আমাদের কলেজে টিচার জয়েন হয়নি। ছেলেটা মনে হয় তোর কাছে মিথ্যা বলেছে"

সিনথিয়া আর কোনো কথা নাহ বলে সেখান থেকে চলে যায়। আমিও ওর কথা শুনে চিন্তায় পরে গেলাম। উনি যদি আমাদের কলেজের কেউ নাহ হয়ে থাকে তাহলে আমার কাছে কেনো মিথ্যা বললো!!

কলেজ শেষে আবারও এক বুক আশা নিয়ে পার্কে যাই এই ভেবে যে আজকে হয়তো নিজাতি আসবে আমার সাথে দেখা করতে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম সেদিনও নিজাতি এলো নাহ।

দিন দিন আমার বিষণ্ণতায় ডুবতে শুরু করলাম। ছোট ছোট জিনিসে ভয় পেতে শুরু করলাম। আমার চারিদিকে নিজাতিকে অনুভব করতে থাকি। অন্ধকারে থাকলে মনে হয় দম বন্ধ হয়ে মারা যাবো। কান্না হয়ে উঠে আমার নিত্য দিনের সঙ্গী। একা থাকতে শুরু করলাম। খাওয়া দাওয়া সব ভুলে সারাদিন কান্নায় ভেঙ্গে পরেছিলাম আমি। আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে নানা ভাবে মেন্টালি সাপোর্ট করেছিলো যাতে আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাই কিন্তু আমার শুধু একটাই আকাঙ্খা ছিলো আমার মনে, যদি আর একটা বার নিজাতির সাথে দেখা করতে পারতাম। ওকে জিজ্ঞেস করতাম ও কেনো আমার সাথে এমনটা করলো, কি দোষ ছিলো আমার, আমার মধ্যে কি কমতি ছিলো যার কারণে আমাকে ছেড়ে চলে গেলো, একটা বারও আমার সাথে যোগাযোগ করার প্রয়োজনও মনে করলো নাহ।

আমার বারংবার মনে হতো হয়তো সুইসাইড করলেই এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবো।

--------

"শুনো অরিন, সুইসাইড করলে শুধু একটা মানুষ মারা যায় নাহ, তার সাথে মারা যায় সেই মানুষটার পরিবার, তার বন্ধু-বান্ধব, তার আপনজন সবশেষে মারা যায় তার প্রিয় মানুষটা। যাকে ছাড়া একটা সময় মৃত মানুষটা অচল ছিলো।"

"হয়তো! কিন্তু আমার জীবনের মোড় ঘুরে গিয়েছিলো তার পরের দিন সকালে"

"মানে.? কি হয়েছিলো তার পরের দিন সকালে.?"

"জানতে চাও.?"

"যদি জানাতে চাও!!"

-----------

পরদিন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে গেলাম। ভাবলাম বাইরে ঘুরলে হয়তো মনটা ভালো হয়ে যাবে। রুম থেকে বের হতেই আমার শরীর গুলিয়ে কেমন বমি আসতে থাকে। ছুটে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। বমি হওয়ার পর নিজেকে অনেকটা হাল্কা মনে হচ্ছিল। হুট করে শরীর খারাপ হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিলাম নাহ।

আস্তে আস্তে সিঁড়ি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম। পা বাড়াতেই মাথা ঘুরতে শুরু করে। ❝ ওহ্ মা গোহ❞ বলে একটা চিৎকার দিয়ে মাথায় হাত দিয়ে নিচে পরে গেলাম।

আম্মু আর ইরিন কোত্থেকে ছুটে এসে আমাকে তুলে নিয়ে সোফায় বসালো। ইরিন দৌড়ে গিয়ে রান্নাঘর থেকে আমার জন্য এক গ্লাস পানি এনে আমাকে সেই পানি খাওয়ালো। পানি খাওয়ার পর আমি কিছুটা৷ ব্যাটার ফিল করি। শান্ত হয়ে বসে ছিলাম। মনের ভিতরে হাজারটা আশা আকাঙ্খা কিন্তু কোনো কিছু প্রকাশ করার মতো নাহ। ইরিন আর আম্মু আমাকে বুঝাতে লাগে যা হয়ে গেছে তা যেনো ভুলে যাই। কারো জন্য কারো জীবন থেমে যায় নাহ তাই আমি যেনো সবকিছু আবার নতুন করে৷ শুরু করি। নিজাতিকে যেনো দুঃস্বপ্ন ভেবে ভুলে যাই। নিজাতিকে ছাড়া যেনো আমি প্রাণ বিহীন মানুষ হয়ে গেছি। কিছু দিনের পরিচয়ে যে একটা মানুষকে এতটা ভালোবেসে ফেলবো বুঝতে পারিনি। তাকে ছাড়া নিজেকে পাগল মনে হবে ভাবিনি। তাকে ভুলে থাকার কষ্ট মেনে নেওয়া যায় নাহ, হয়তো এরই নাম ভালোবাসা।

কিছুক্ষণ পর কেউ এসে দরজার কড়া নাড়লো....

আম্মু গিয়ে দরজা খুলে দেখে, দরজার বাইরে একটা ভিক্ষুক মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। আম্মুকে দরজা খুলতে দেখে মহিলাটি বলে....

"আল্লাহর ওয়াস্তে কয়ডা টেহা দান করেন গো আফা! দুই দিন যাবৎ কিচ্ছু খাইতে ফারি নাহ! এই দেহেন মুহের বিতরে ঘাও অইছে। কিছু মুহে দিলেই জ্বালা পোড়া করে। অসুখের দায়ে মাইনষের দারে দারে ভিক্ষা করতে বাইর অইছি গো আফা! কয়ডা টেহা অইলে ইকটু ডাক্তারের কাছে যাইতাম হানে।"

"আচ্ছা! আচ্ছা! এই সমস্যা কতদিন যাবৎ আপনার"

"সমস্যা! সমস্যা তোহ মেলা দিনের কিন্তু কি আর করার কন আফা! গরীব মানুষ দিন আনতেই দিন ফুরায় ডাক্তার দেহামু কেমনে আর ঔষধই বা খামু কেমনে"

"আচ্ছা বুঝলাম! আপনি একটু দাড়ান আমি আপনাকে কিছু টাকা দিচ্ছি। আর শুনুুন! বিকেলে একবার আমাদের বাসায় আসবেন আমার দেবর ডাক্তার যদিও সে অর্থোপেডিক্সের ডাক্তার তারপরও উনি মেডিসিন বিভাগেরও আজগর আলী হাসপাতাল আর পিজি হাসপাতালেও উনার চেম্বার হয়। আপনি বিকেলে আসলে আমি বিনামূল্যে আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।"

"আপনে মেলা ভালা মানুষ গো আফা! আল্লাহ আপনের ভালা করবো।"

"আল্লাহ যেনো তাই করে। দোয়া করবেন"

"হ! দোয়া তোহ করিই আল্লাহ জানি হগ্গলরে ভালা রাখে"

"আচ্ছা আপনি এখানেই দাড়ান আমি এক্ষুনি আসছি"

"আফা! আফা! হুনেন নাহ"

"হ্যাঁ বলুন"

"কইছিলাম কি, আমি কি আপনেগো ঘরের ভিতরে ইকটু ঢুকতে পারি। নাহ মানে একটা জিনিস দেখতাম আরকি"

"কি জিনিস.?"

"আমি ভিতরে আইয়া কই.?"

"আচ্ছা আসুন"

মহিলাটা ভিতরে প্রবেশ করার সাথে সাথে আমাদের পুরো বাড়িতে হাল্কা মৃদু হাওয়া বইতে লাগলো।

আমাদের বাড়িতে উনার প্রবেশ ছিলো অসাধ্য সাধনের মতো। উনার আগমনেই আমাদের জীবনে থাকা অন্ধকার কেটে আলোর দেখা মিলে।

------------

"কিভাবে.?"

"সামনেই বুঝতে পারবে!"

"কি হয়েছিলো পরে.?"

"ধৈর্য ধরো! সব বলছি। আমি তখনও সত্যির মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম নাহ।"

"কিসের সত্যি.? আচ্ছা একটা কথা বলো, তোমার সাথে ওইসব অলৌকিক ঘটনা ঘটার কারণ কি.?"

"হ্যাঁ! কেনো আমার সাথে এসব ঘটেছিলো এই সত্যিরই মুখোমুখি হতে হয়েছিলো আমাকে"

"কেনো.?"

"বলছি...."

-----------------

মহিলাটি আমাদের বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে করতে বলছিলো.....

"ওম ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎস্যবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।।"

আম্মু অবাক হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলো..

"আপনি....."

"হ্যাঁ! আমি হিন্দু"

তারপর মহিলাটি আমার আর অরিনের দিকে ডেঁপ ডেঁপ করে তাকিয়ে থাকে। এক পর্যায়ে মহিলাটি আমার সামনে এসে আমার পায়ে হাত রেখে নিচে বসে পরে। পুরো বাড়িতে এত জায়গা থাকতেও মহিলাটি আমার কাছে কেনো এসে বসলো সেটা একটু পরই বুঝতে পারলাম।

"মা'জি ভাঙ্গা মন নিয়া বইয়া থাকলে অইবো.? নিজের ভাঙ্গা মন নিজেরই জোড়া লাগাইতে অয়!"

"আশ্চর্য! আপনি কি করে জানলেন আমার মন ভেঙ্গেছে.?"

"মন ভাঙ্গার আওয়াজ অনেক দূর দূর অব্দি হুনন যায় গো মা'জি। আমিও আপনের মন ভাঙ্গনের শব্দ দূর থাইকাই ইস্পষ্ট হুনছি"

"মানে!"

"এত মানে মানে কইরেন নাহ তোহ! আপনি যার জন্য নিজেরে কষ্ট দিতাছেন তার রহস্য জানেন.?"

"মানে.?"

"আবার কয় মানে!! যারে ভালো বাইসা এত কষ্ট সহ্য করতাছেন তার আসল সত্যি জানার ক্ষমতা আছে তোহ আপনের.?"

"আপনি কি বলতে চাইছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি নাহ! প্লিজ ক্লিয়ারলি বলবেন একটু.?"

"আচ্ছা হুনেন মা'জি! আপনের হাত খানা ইকটু দেহি তোহ! দেন হাত খানা আমার দিকে দেন"

আমিও কিছু নাহ ভেবে তার দিকে আমার ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলাম। সে অনেকক্ষণ ধরে আমার হাতটা নেড়ে চেড়ে দেখলো তারপর গম্ভীর কণ্ঠে বললো.....

"হে ভগবান! কে করেছে এই পাপ কাজ.? এই নিষ্পাপ মেয়েটির অনিষ্ট কে করেছে.? যে এই কাজ করেছে তাকে তুমি শাস্তি দিও"

মহিলাটির মুখে এসব আজগুবি কথা শুনে আমরা সবাই বিভ্রত হয়ে গেলাম, কি বলছে এই মহিলা.? তাছাড়া এই মহিলাটি কিছুক্ষণ আগেও অশুদ্ধ ভাষায় কথা বলছিলো আর এখন স্পষ্ট শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছে। সবাই কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর আম্মু তাকে জিজ্ঞেস করলো....

"কি বলছেন এগুলা, কে কার অনিষ্ট করেছে.?"

"আপনাদের কিভাবে বুঝাবো যে আপনাদের উপর মৃত্যুর ছক আঁকা হয়েছে। বিপদ আপনাদের পিছনে পরে আছে"

"মানে.?"

তারপর মহিলাটি আমার দিকে আঙ্গুল উঠিয়ে বললো....

"এইযে! এই মেয়েটির গর্ভে বেড়ে উঠছে আপনাদের বিপদ"

ইরিন তখন রেগে গিয়ে বললো....

"কি যা-তা বলছেন আপনি.? এক্ষুনি বেড়িয়ে যান বলছি"

আমি ইরিনকে থামিয়ে সেই মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম....

"কে আপনি.? কেনো বলছেন এসব.? কি আপনার পরিচয়.?"

"মা'জি আমি আপনার ক্ষতি চাই নাহ! আমি আপনার সাহায্য করার জন্য এসেছি"

"আমি নাহ আপনার কোনো কথা বুঝতে পারছি নাহ, প্লিজ ক্লিয়ারলি বলুন কি বলতে চান আপনি"

"মা'জি আপনি জানেন, আপনি যাকে এতদিন ধরে ভালোবেসে গেছেন তার আসল পরিচয় কি.? সে কে.?"

"জানি নাহ! কিন্তু এতটুকু জানি, সে আমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমার কাছে একটার পর একটা মিথ্যা বলেছে সে আমার কাছে অনেক সত্যি লুকিয়েছে"

"জানতে চান নাহ সে কে.? তার আসল পরিচয় কি.?"

"হ্যাঁ চাই!"

তখন পাশ কাটিয়ে ইরিন চিল্লাতে চিল্লাতে বলে....

"আমরা কেউ কিচ্ছু জানতে চাই নাহ, আপনি চলে যান এখান থেকে। আপনার এসব ফালতু কথা শোনার সময় বা ইচ্ছে আমাদের কারোর নেই"

"ইরিন! তোকে একবার চুপ করতে বলেছি। এটা আমার জীবনের সাথে জড়িত তোর নাহ। তাই ভালো হবে যদি তুই চুপ করে থাকিস।"

"ওকে! ফাইন! তোদের যা ইচ্ছে কর আমি আর কিচ্ছু বলবো নাহ। আমাকে যদি তোরা

আপন ভাবতি তাহলে কোনোদিন এভাবে বলতে পারতি নাহ। আমি আর তোদের মধ্যে কোনে কথা বলবো নাহ, গেলাম আমি। আর তোরা সবাই মিলে এই ভিক্ষারিকে পূজা কর"

ইরিনে এরূপ ব্যবহারে আমরা সবাই বিরক্ত হলাম। যখন যা মন চায় তাই বলে কারো কোনো কথার কোনো মূল্য দিতে শেখেনি এখনো।

"আচ্ছা! আপনি বলুন কি জানেন আমার ভালোবাসার মানুষ সম্পর্কে.?"

"মা'জি সে মানুষ নাহ"

"মানে.?"

"মানে! সে কোনো মানুষ নাহ। সে ছিলো একজন পিশাচ যাকে ডাকা হয়েছিলো আপনার ক্ষতি করার জন্য।"

"কি যা-তা বলছেন আপনি.? এতক্ষণ আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম এসব ফালতু কথা শোনার জন্য.? এখন তোহ মনে হচ্ছে ইরিনই ঠিক ছিলো"

"মা'জি বিশ্বাস করুন আমাকে! আমি একদম সত্যি বলছি। আমি কোনো মিথ্যা বলছি নাহ"

"এগুলো কি বিশ্বাস করার মতে বলুন.?"

"এগুলো যদি বিশ্বাস করার মতো নাহ হয় তাহলে বলুন আপনার সাথে কি কোনো অশরীরী ঘটনা ঘটেনি.? আপনার পিছনে কি অশুভ আত্মা নেয়নি.?"

"আ-আপনি এসব জানলেন কিভাবে.?"

"কি হলো বলুন.?"

"হ্যাঁ আমার সাথে এসব ঘটেছিলো। কিন্তু আপনি জানলেন কিভাবে..?"

"আচ্ছা শুনুন তাহলে......."

আপনি যাকে ভালোবাসেন সে কোনো মানুষ ছিলো নাহ। সে ছিলো একজন অশরীরী প্রেতাত্মা। তাকে ডেকে আনা হয়েছিলো শুধুমাত্র আপনার অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের কার্য সিদ্ধি করার জন্য। যে এই কাজটা করেছে তার বিশাল বড় কোনো উদ্দেশ্য ছিলো।

মোট কথা তারা তাদের উদ্দেশ্যের দার কিনারায় পৌঁছে গেছে। সেটা কিভাবে জানেন.? সেটা হলো....

আপনার সাথে ওই পিশাচের দৈহিক মিলন করনো। আর আপনিও ওর মন ভোলানো কথার প্রেমে পাগল হয়ে ওর মায়ায় আটকে নিজেকে সপে দিয়েছেন ওর কাছে।

আপনি হয়তো জানেন নাহ, মানুষ আর পিশাচের মিলনে যে বাচ্চা নারীর গর্ভে বেড়ে উঠে তাদের দেহ সাধারণ বাচ্চাদের তুলনায় ৪গুন বেশি বৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

ইতিমধ্যে আপনি গর্ভবতী হয়ে গেছেন। আর যদি এই বাচ্চা একবার পৃথিবীতে জন্ম নেয় তাহলে কি হবে বুঝতে পারছেন.?

এই বাচ্চাকে কাজে লাগিয়ে ওই সয়তান লোকগুলো যারা আপনার ক্ষতি চাচ্ছে তারা নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করবে।"

"আ-আমি গর্ভবতী আ-আপনি জানলেন কিভাবে.?"

"আপনি ওই পিশাচের প্ররোচনায় পা দেননি.?"

"হ্যাঁ দিয়েছি! কিন্তু আমি গর্ভবতী হলাম কখন.? আর আপনিই বা নিশ্চিত কিভাবে যে আমি গর্ভবতী.?"

"পিশাচকে ডাকা এত সহজ নাহ! যারা পিশাচকে ডাকতে পারে তারা মোটেও কোনো সাধারণ মানুষ নাহ। পিশাচ জাতি অনেক দাম্ভিক আর অহংকারী হয়ে থাকে এদের শুধুমাত্র অধিবর্ষেই ডাকা যায়। যে বছরের ফেব্রুয়ারী মাস হবে ২৯ দিন। আর বিগত চার বছর পর এই বছরেও ফেব্রুয়ারী মাস ২৯ দিন ছিলো। আর আপনাকে সেই পিশাচ প্ররোচিত করে নিজের ফাঁদে ফেলে ওই দুষ্টু লোকদের সাহায্য করেছে। আর আমি তোহ একবার বললামই মানুষ ও পিশাচের মিলনে জন্ম নেওয়া বাচ্চারা হয় অনেক শক্তিশালী এরা অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় চার গুন বেশি বৃদ্ধি পায়। আর রইলো আমি নিশ্চিত কিভাবে যে আপনি গর্ভবতী কি নাহ...

আজকে সকালে আপনার বমি হয়নি.? মাথা ঘুরিয়ে পরে যাননি.?"

"হ্যাঁ এ সবকিছুই হয়েছে! কিন্তু আপনি জানেন কিভাবে.?"

"এমন অনেক কিছুই আছে যা আমি জানি! বললাম নাহ, আপনার মন ভাঙ্গার আওয়াজ অনেক দূর অব্দি শোনা গেছে তাই তোহ সেই আওয়াজের খোঁজ করতে করতে এখানে ছুটে এসেছি। আচ্ছা মা'জি একটা কথা বলুন"

"কি কথা.?"

"আপনি স্বপ্নে কি দেখে ভয় পেতেন.?"

তারপর মহিলাটিকে আমি আমার স্বপ্নে দেখা সবকিছু খুলে বলি। আমার কথা শুনে মহিলাটি অবাক হয়ে বললো...

"আচ্ছা মা'জি ওই লাশটা কি আপনাকে কিছু বলতো..?"

"হ্যাঁ বলতো তোহ! ল্যাটিন ভাষায় কিছু বলতো"

"কি কি বলতো মনে আছে আপনার.?"

"উমম! কিছুটা মনে আছে..."

"একটু মনে করার চেষ্টা করুন।"

আমি মাথায় অনেক জোড় খাটিয়ে মনে করার চেষ্টা করতে লাগলাম। অবশেষে মনে করে বললাম....

"হ্যাঁ! মনে পড়েছে! আমাকে দুইদিন দুইটা কথা বলেছিলো"

"কি কি.?"

"প্রথম দিন বলেছিলো, "Venire nolui, vocatus sum. Non te nunc accipiam. Ibo cum consummavero opus meum." আর দ্বিতীয় দিন বলেছিলো "Nullo conatu usus est, nullo modo a me effugere potes. Ubicumque te celas, statim ad te perveniam."

"আপনি জানেন এগুলোর মানে কি.?"

"নাহ! আপনি বলুন"

"এগুলোর মানে হলো, সে আসতে চায়নি তাকে ডেকে আনা হয়েছে। একবার যেহেতু সে এসেছে তাহলে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করেই ছাড়বে আপনি ওর কাছ থেকে যতই পালানোর চেষ্টা করুন কিন্তু পালাতে পারবেন নাহ। আর দেখুন সত্যি সত্যি পালাতে পারলেন নাহ। আপনি ওর ক্ষোভের শিকার হলেন এবং নিজের অজান্তেই একটা অশরীরীর কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েন এবং তার বাচ্চাকেও নিজের গর্ভে বড় করছেন"

"আমার সাথে কেনো এমনটা হলো! আমার মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে। আর এই বাচ্চার কি করবো.? আমি চাই নাহ আমার মধ্যে কোনো পিশাচের সন্তান বেড়ে উঠুক যা আমার এবং আমার পরিবারের বিপদ ডেকে আনতে পারে। আপনি এর কোনো একটা বিহিত করুন প্লিজ!"

"আচ্ছা মা'জি আপনি কি ওই পিশাচের সাথে কোথাও গিয়েছিলেন.?"

"হ্যাঁ! ২৯শে ফেব্রুয়ারী রাতে ওর সাথে ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে গেছিলাম"

"কোন জায়গায় গিয়েছিলেন কিছু মনে আছে.?"

"নাহ! ওর সাথে কিছু পথ যাওয়ার পর ও আমাকে অধিবর্ষ সম্পর্কে জানানোর জন্য চোখ বন্ধ করতে বলেছিলো তাই আমি চোখ বন্ধ করি তারপর অদৃশ্য কেউ আমাকে অধিবর্ষ সম্পর্কে অনেক কিছু বলে। তারপর যখন আমি চোখ খুলি তখন দেখি আমরা অচেনা একটা জায়গায় উপস্থিত হয়েছি যে জায়গাটা আমি চিনি নাহ।"

"তারপর এমন কোনো কিছু মনে আছে যা আপনার কাছে সন্দেহ লেগেছিলো.?"

"হ্যাঁ! হ্যাঁ! নিজাতির একটা বিষয় আমার কাছে অনেক সন্দেহ লেগেছিলো"

"কোন বিষয়টা.?"

"তাহলে প্রথম থেকে শুনতে হবে আপনাকে"

"হ্যাঁ বলুন"

"একদিন রাতে আমার বান্ধবীর মতো দেখতে কেউ আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে ফুল কুড়াতে নিয়ে যায় সেখানে গিয়ে বুঝতে পারি আমি কোনো বাগানে নাহ বরং একটা কবরস্থানে চলে এসেছি আর ওইটা আমার বান্ধবী রূপী কোনো সয়তান ছিলো। আমি সেখানেই জ্ঞান হারাই, জ্ঞান ফেরার পর ওই কবরস্থানের পাশের মাদ্রাসায় নিজেকে আবিষ্কার করি। ওখানকার একজন মহিলা বলেছিলো, ওই কবরস্থান থেকে নাকী কেউ বেঁচে ফিরতে পারেনি আমিই প্রথম যে ওখান থেকে বেঁচে ফিরেছি। আমার উপর কার নাহ কার নাকী নজর পড়েছে তাই আমাকে সাবধানে থাকতে বলে। পরদিন কলেজে যাওয়ার পথে আমি একটা আংটি পাই। আংটির উপর পালি ভাষায় কিছু লিখা ছিলো যেটা আমি নিজের অজান্তেই বুঝেছিলাম। ওটার উপর লিখা ছিলো 'বন্ধন'। তারপর নিজাতির সাথে পরিচয়। ওইদিন যখন ওর সাথে ডিনারে যাই তখন নিজাতি আমাকে সেইম একই আংটি পড়ায় পরে আমার আঙ্গুলে হাত দিয়ে দেখি আমার আঙ্গুলে কোনো আংটি নেই। আমি ব্যাপারটা লক্ষ্য করেছিলাম কিন্তু কিছু করার আগেই নিজাতির সাথে ফিজিক্যাল হয়ে যাই"

"আমার আন্দাজ একদম ঠিকই ছিলো! যে আপনার উপর তুকতাক করেছে সে প্রথমে আপনাকে ওই পিশাচের ডেরায় নিয়ে গেছে তারপর পিশাচকে আপনার শরীর দ্বারা আকর্ষিত করেছে। পিশাচও আপনাকে দেখে আকর্ষিত হয়ে পৈশাচিক আংটির মাধ্যমে আপনার কাছে এসেছে। তারপর ২৯শে ফেব্রুয়ারী আপনাকে নিয়ে তাদের জগতে যায় এবং সেখানেই বাকি কাজটা সম্পন্ন করে।"

"আচ্ছা একটা সত্যি কথা বলবেন প্লিজ.?"

"হ্যাঁ মা'জি বলুন কি জানতে চান"

"আপনার আসল পরিচয় কি.? আর আপনি আমার সম্পর্কে এতকিছু জানলেন কিভাবে.? তাছাড়া আপনি কেনোই বা আমার হেল্প করছেন.?"

"মা'জি!! আমার নাম পবিত্রা। আমার ঠিকানায় পৌঁছাতে হলে বহু দূরের পথ পারি দিতে হয়। আমি আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো নই, আমার মধ্যে অন্যের বিপদ এবং তাদের কিভাবে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে হয় এসব বুঝা ও স্পষ্ট দেখার ক্ষমতা আছে। কিছুদিন আগে আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম আপনার খুব বিপদ। স্বপ্নের মধ্যে আপনার বিপদ ও আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারবো সবটাই জানতে পেরেছি সবশেষে আপনার ঠিকানা মতো পৌঁছে গেলাম আপনাকে সাহায্য করার জন্য। আশা করি আপনারা আমার কথা বুঝতে পেরেছেন এবং আমাকে বিশ্বাস করবেন"

"হ্যাঁ! আমরা আপনাকে বিশ্বাস করি। এবার বলুন আমরা এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাবো কিভাবে.?"

"আমি যা বলবো তাই করতে পারবেন.?"

"হ্যাঁ পারবো"

"প্রথমত আজকের মধ্যে আমাকে একটা কালো পাঠা জোগাড় করে দিতে হবে তারপর বাকি কাজ আমি করবো"

"কালো পাঠা.?"

"হ্যাঁ কালো পাঠা! পারবেন আজকের মধ্যে জোগাড় করে দিতে.?"

"হ্যাঁ পারবো"

"একটা বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে"

"যেমন.?"

"ওই পাঠার শরীরে যেনো কালো ব্যতিত আর কোনো রঙ নাহ থাকে"

তারপর আমরা পবিত্রার কথা মতো আব্বুকে কল করে একটা কালো পাঠা জোগাড় করার কথা বলি। আব্বু কারণ জিজ্ঞেস করলে তাকে সবটা খুলে বলি।

-------------

দিন শেষ হয়ে যখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো ঠিক তখনই আব্বু আর চাচ্চু একটা কালো পাঠা নিয়ে এসে হাজির হলো।

পাঠা'টাকে পবিত্রা ওর সাথে করে নিয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর পবিত্রা একটা পাত্রে করে কিছু নিয়ে এলো। ওকে জিজ্ঞেস করলে ও বলে, ওই পাত্রের মধ্যে নাকী পাঠা বলির রক্ত।

"মা'জি আমি কাপড় পরিধান করবো। আমাকে একটা কক্ষে নিয়ে চলুন যেখানে নির্বিঘ্নে নিজেকে সজ্জিত করতে পারি"

পবিত্রাকে একটা রুমে নিয়ে গেলাম। পবিত্রা সেই রুমে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিলো। কিছুক্ষণ পর সে বেরিয়ে এলো। তাকে দেখে চেনাই যাচ্ছে নাহ একটু আগেও এই মহিলাটিকে একজন অসহায় মানুষ হিসেবে চিনতাম আর এখন একদমই রূপ পরিবর্তন করে ফেলেছে।

একটা টকটকে লাল কাপড় পড়েছে। গলায় রুদ্রাক্ষের মালা। কপালে লম্বা করে লাল রঙের সিঁদুর টানা। চোখে ঘন কালো কাজল। পবিত্রাকে দেখতে একদম লোকমুখে শোনা হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী মা চন্ডির মতো লাগছিলো।

রুম থেকে বেরিয়ে আমাদের ড্রয়িংরুমে এসে দাঁড়ালো। মেইন ডোরের উপরে তিনটা লেবু আর কয়েকটা বেলপাতা টাঙ্গিয়ে দিলো। তারপর ফ্লোরে চক দিয়ে একটা বৃত্ত এঁকে সেই বৃত্তের ভিতরে একটা তারা আকলো।

তারপর চক দিয়ে আঁকা প্রতিচ্ছবির উপরে সেই বলি দেওয়া পাঠার রক্ত মিশ্রণ করলো। এবার সেই রেখাগুলো লাল বর্ণ ধারণ করলো।

সবশেষে বৃত্তের ভেতরে আঁকা তারার পাঁচ কোনায় পাঁচটা মোমবাতি বসিয়ে দিয়ে ওই তারার মধ্যখানে নিয়ে আমাকে বসালো।

তারার ভেতরে আমাকে বসানোর পর সবগুলো মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলো। তারপর ওই বৃত্তের পাশে আরো একটা ছোট্ট বৃত্ত আকলো। একই ভাবে ওই ছোট বৃত্তটাতেও পাঠার রক্ত মিশ্রণ করলো। তারপর ওই ছোট বৃত্তের ভেতরে পবিত্রা বসে পরলো।

বৃত্তের ভেতর থেকে পবিত্রা চিৎকার করে বললো "মা'জি আপনার চুলগুলো খুলে বসুন"

আমি নিজের হাতে যত্ন করে চুলের খোঁপা খুলে ফেলি।

"মা'জি এবার চোখ বন্ধ করে আপনার ধর্মের গ্রন্থ যা যা পারেন পড়তে থাকুন"

পবিত্রার কথা মতো আমি যা যা দোয়া কালাম পারতাম সব পড়তে থাকি। কিছুক্ষণ পর পবিত্রা জোরে জোরে গীতার কিছু অংশ পড়তে শুরু করে।

"ওম হ্রীং জূং সঃ ভূর্ভুবঃ স্বঃ

ওম ত্রয়ম্বকম য়জামহে

সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনং।

উর্বারুকমিব বন্দনাৎ

মৃত্যুর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।

ওম স্বঃ ভুবঃ ভূঃ

ওম সঃ জূং হৌং ওম।।

ওম মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব ত্রাহিমাং শরণাগতমজন্ম মৃত্যু জরা ব্যাধি পীড়িতং কর্ম বন্ধনঃ"

সাথে সাথে আমার চারিদিকে আগুন দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে। তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।

-------------------

যখন জ্ঞান ফিরে তখন আমি পবিত্রার কোলে মাথা রেখে ঘুমচ্ছিলাম। আর পবিত্রা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলো। আমার জ্ঞান ফিরতে দেখে পবিত্রা বলে....

"মা'জি আপনার আর কোনো বিপদ নেই। পিশাচের নজর আপনার উপর থেকে সম্পূর্ণ ভাবে কেটে গেছে আর কোনোদিন সে আপনাকে বিরক্ত করবে নাহ। এবার আপনাকে একটা দায়িত্ব দিয়ে গেলাম, আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বাচ্চাটিকে নষ্ট করে ফেলবেন"

"পবিত্রা! থ্যাংক ইউ সো মাচ। তোমাকে কি বলে ধন্যবাদ দিবো আমি নিজেও জানি নাহ"

"মা'জি!! ধন্যবাদ দিয়ে লজ্জিত করবেন নাহ। আপনাকে সাহায্য করতে পেরে আমি ধন্য। তবে মা'জি একটা কথা মাথায় রাখবেন, প্রতিটা মানুষের যেমন এক পাশ খারাপ তোহ অন্য পাশ ভালো হয় ঠিক তেমনই প্রতিটা জোড়ার-ও কিন্তু একপাশ খারাপ ও অপর পাশ ভালো হয়!"

এই বলে পবিত্রা চলে যায়। আমরা সবাই নির্বাক হয়ে ওর চলে যাওয়া দেখি। পবিত্রা চলে যাওয়ার পর আম্মুকে জিজ্ঞেস করি কি হয়েছিলো আমার.? আমি জ্ঞান হারানোর পরে কি হয়েছিলো.?

"পবিত্রা মন্ত্র পড়ার সময় হঠাৎ করে তোর চারিদিকে আগুন জ্বলে উঠে আর তুই জ্ঞান হারাস। কিন্তু তারপরও পবিত্রা মন্ত্র পড়া বন্ধ করে নাহ। একের পর এক নতুন নতুন মন্ত্র পড়তেই থাকে।

❝ওম ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎস্যবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।।❞

❝ওম হ্রীং জূং সঃ ভূর্ভুবঃ স্বঃ

ওম ত্রয়ম্বকম য়জামহে

সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনং।

উর্বারুকমিব বন্দনাৎ

মৃত্যুর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।

ওম স্বঃ ভুবঃ ভূঃ

ওম সঃ জূং হৌং ওম।।

ওম মৃত্যুঞ্জয় মহাদেব ত্রাহিমাং শরণাগতমজন্ম মৃত্যু জরা ব্যাধি পীড়িতং কর্ম বন্ধনঃ❞

এত এত মন্ত্র পড়ার পরও যখন কোনো প্রতিফল হচ্ছিল নাহ তখন বাধ্য হয়ে পবিত্রা ওর আসন ছেড়ে উঠে তোর কাছে চলে যায়। তোর বৃত্তে গিয়ে পবিত্রা তোর কানে কানে জোরে জোরে একটা মন্ত্র পড়ে...

❝নাসৈ রোগ হরে সব পীড়া, জো সুমিরে হনুমন্ত বলবীরা

সঙ্কট তে হনুমান ছুড়াবৈ, মন ক্রম বচন ধ্যান জো লাবৈ।।❞

আর সাথে সাথে তুই চোখ খুলে তাকাস। চোখ বড় বড় হয়ে গিয়েছিলো। টকটকে লাল দেখে মনে হচ্ছিল তোর চোখে আগুন জ্বলছে। তোকে দেখতে অনেক ভয়ংকর লাগছিলো। তারপর পবিত্রা আরো জোরে মন্ত্র পড়া শুরু করে। তুই সহ্য করতে নাহ পেরে কানে আঙ্গুল গুঁজে একটা চিৎকার দিস। তোর মুখ থেকে কালো ধোঁয়া জাতীয় কিছু বের হয় তারপর তুই আবারও জ্ঞান হারাস। এরপর যখন পুনরায় জ্ঞান ফিরে সবটা তোহ তোর জানাই"

----------------------

পবিত্রা চলে যাওয়ার পরদিনই ডিসিশন নি আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলবো। বাসার সবাই সাপোর্ট করলেও ইরিন কিছুতেই রাজি হয়নি। ইরিন তখনও পবিত্রাকে বিশ্বাস করতে পারেনি। তারপর ইরিন ও বাসার সবাইকে নাহ জানিয়ে একদিন আমিই হসপিটালে গিয়ে বাচ্চা অ্যাভিয়েশন করে আসি।

তারপর কেটে যায় অনেকগুলো বছর কিন্তু আমি তখন আমার জীবনে আসা প্রথম পুরুষকেই ভালোবাসি। এরপর তোমাকে পেলাম, শুরু হলো আমার জীবনের নতুন অধ্যায়।

হয়তো আমার জীবনে তোমার মতো এতটা কষ্ট নেই কিন্তু এতটুকু জানি আমিও সুখী নই। আমি ঠিক ততক্ষণ সুখী যতক্ষণ তুমি আমার পাশে থাকো। এলাহাবাদ রাজার প্রাসাদ থেকে ফেরার পর যেভাবে তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম আজ থেকে আবারও তোমার জন্য অপেক্ষা করবো। আমার বিশ্বাস তুমি ফিরবে।"

এই বলে অরিন চলে যায়। আমি কি করবো বসে বসে ভাবতে থাকি!