পুনর্জন্ম (The Another Love Sory) — পর্ব ১২
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১২ · ২৩ পর্বের মধ্যে ১২
হাজারো মন খারাপ নিয়ে এক মনে আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটতে শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতে একটা রেডিমেড কাপড়ের দোকানের সামনে গিয়ে পৌঁছাই।
দোকানটা দেখে মনে পরলো, হরিণীর তোহ পড়ার মতো ভালো কোনো জামা নেই। এখান থেকে ওর জন্য কিছু জামা কিনে নিয়ে গেলে কেমন হয়..
তারপর দোকানে গিয়ে হরিণীর জন্য সুন্দর সুন্দর ২ সেট জামা কিনলাম। একটা হলুদ রঙের আর একটা সবুজ রঙের। জানি নাহ জামাগুলো কেমন হয়েছে তবে আমার কাছে তোহ ভালো লেগেছে জামাগুলো এবার হরিণীর পছন্দ হয় কি নাহ দেখা যাক..!
গতবারের মতো এবারও বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। বাড়ি পৌঁছে দেখি ড্রয়িংরুমে টিভিতে কার্টুন চলছে অথচ পুরো ড্রয়িংরুমে কেউ নেই। ভাবলাম হরিণী হয়তো ওর রুমেই আছে তাই টিভি অফ করে ওর রুমে চলে গেলাম, কিন্তু নাহ! হরিণী তোহ ওর রুমেও নেই।
আবার কোথায় গেলো মেয়েটা.?
নাহ! আমাকে সত্যি সত্যি পাগল বানিয়ে ছাড়বে এই মেয়েটা। হুটহাট করে কোথায় চলে যায় কে জানে!!
হরিণী! হরিণী! কোথায় তুমি..? হরিণী! আমার ডাক শুনতে পাচ্ছো...?
হরিণীকে ডাকতে ডাকতে আমার রুমে গিয়ে ঢুকি!
রুমে ঢুকতেই আমার মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা হয়ে গেলো.....
ফাজিল মেয়ে! এতক্ষণ যাবৎ আমার রুমে বসে ছিলো অথচ আমার ডাকের সারা দিচ্ছিল নাহ।
রাগের দৃষ্টিতে হরিণীর দিকে তাকিয়ে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখি হরিণী ছবি আঁকছে!!
ওর সামনে গিয়ে ওর আঁকা ছবিগুলো আমি হাতে নিয়ে দেখি, ছবিগুলো দেখে মনেই হয় নাহ এগুলো হাতে আঁকা কোনো ছবি, মনে হচ্ছে এই ছবিতে প্রাণ আছে।
"ওহ্! বলতে ভুলে গেছি, হরিণীর ছবিটা ছিলো একটা ঘোড়ার"
ছবিটা ঘোড়ার হলেও এটা আসল ঘোড়া নাহ, এই ঘোড়ার মাথায় ছিলো একটা শিং আর দুইটা ডানা যাকে আমরা সবাই ইউনিকর্ন বলে থাকি।
তবে ইউনিকর্ন শুধুমাত্র মানুষের কল্পনাতেই আছে এগুলো বাস্তবে নেই। কিন্তু যাই বলি, হরিণীর কল্পনা শক্তির কিন্তু অনেক গুণ আছে।
মানুষ কল্পনা করেও এত ভালো ছবি আঁকতে পারে, তাও কোনো আর্ট ক্লাস করা ছাড়াই।
আমার দেখা হরিণীই প্রথম যে কোনো রকম আর্ট ক্লাস করা ছাড়াই এত সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে ছবি আঁকতে পারে।
হরিণীর আঁকা ছবিটা দেখে আমার মুখে একটু মুচকি হাসি ফুটলো, মেয়েটা চুপচাপ হলেও প্রতিভা আছে ওকে যত দেখছি তত অবাক হচ্ছি।
কে এই হরিণী.? এত মায়াবী কেনো এই মেয়েটা.?
একটু আহ্লাদী সুরে হরিণীকে জিজ্ঞেস করলাম...
"হরিণী! ছবিটা কি তুমি এঁকেছো.?"
হরিণী ঘাড় নাড়িয়ে জবাব দিলো "হ্যাঁ"
আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম...
"আরো ছবি এঁকেছো নাকী এটাই.?"
"নাহ! নাহ! আরো এঁকেছি!"
"আচ্ছা! তোমার আঁকা সবগুলো ছবি দেখবো তার আগে দেখো তোহ তোমার জন্য কি এনেছি"
হরিণী অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, ওর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পরছে। বুঝতে পারলাম সে বুঝে গেছে আমি তার জন্যই এই নতুন জামাগুলো এনেছি।
"কি হলো হরিণী.? কাঁদছো কেনো.?"
"নাহ! এমনি! আসলে আমার এই একটাই জামা ছিলো আজকে নতুন জামা দেখে অনেক খুশি হয়ে গেছি তাই খুশিতে কান্না করে দিলাম"
"তুমি কি করে জানলে এগুলো তোমার জন্য এনেছি.? এগুলো তোহ তোমার জন্য আনিনি আমি!"
"আপনিই তোহ বললেন, এই দেখো তোমার জন্য কি এনেছি.? তাই মনে করেছি এগুলো আমার জন্য এনেছেন!"
"আহা কতটা বুদ্ধিমতী! তুমি ঠিকই আন্দাজ করেছো এগুলো তোমার জন্যই এনেছি! এখন এগুলো আমি গুছিয়ে রাখছি তোমার যখন দরকার হবে এখান থেকে বের করে নিও"
"ঠিক আছে!"
"তোহ হরিণী.? আমি কি এবার তোমার আঁকা বাকি ছবিগুলো দেখতে পারি.?"
"হ্যাঁ! দেখুন!"
হরিণীর জবাব শুনে আমি খাতার পৃষ্ঠা উল্টাই, দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় হরিণী আমার ছবি এঁকেছে! ছবিটি ছিলো ওইদিনের যেদিন হরিণী আর আমি রিক্সায় বসে হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছিলাম।
মেয়েটা স্মরণ শক্তি আর ছবি আঁকার প্রতিভা দেখে সত্যিই আমি মুগ্ধ। এক নজর দেখে কেউ এত নিখুঁত ভাবে ছবি আঁকতে পারে তা হরিণীকে নাহ দেখলে জানতামই নাহ।
ছবিটা অসম্ভব রকমের সুন্দর হয়েছে। আমি মুখে হাল্কা হাসির রেখা টেনে হরিণীকে আবারও জিজ্ঞেস করলাম....
"হরিণী! এটা তোহ আমি.? তুমি আমার ছবি এঁকেছো.? এত ভালো ছবি আঁকা কোথায় শিখেছো.? একদম বাস্তব মনে হচ্ছে!"
হরিণী মাথা নিচু করে জবাব দিলো...
"আসলে, ওইদিন আপনাকে খুব সুন্দর লাগছিলো তাই ওইদিনের স্মৃতিটা ভুলিনি, সেই স্মৃতিটাকে সবসময় মনে রাখার জন্য ছবিটা এঁকেছি! পছন্দ হয়নি আপনার.?"
"কি বলছো.? এত সুন্দর ছবি কার নাহ পছন্দ হবে.? শুধু আমার নাহ যে কারোরই পছন্দ হবে। আর আমি তোহ খুব খুশি হয়েছি এই প্রথম কেউ আমাকে একবার দেখে এত সুন্দর ও নিখুঁত ভাবে ছবি এঁকে দিলো"
"সত্যি! আপনার পছন্দ হয়েছে.?"
"হ্যাঁ! বাবা, সত্যি! আমার খুব পছন্দ হয়েছে। তুমি কি আরো ছবি এঁকেছো নাকী.?"
এবার হরিণী একটু ভয় পেয়ে আমার হাত থেকে খাতাটা টান দিয়ে নিয়ে গেলো।
"কি হলো.? খাতা নিয়ে গেলে কেনো.? আমাকে আর ছবি দেখাবে নাহ.?"
কিছুটা ভয় আর সংকোচ নিয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও হরিণী আমাকে খাতাটা দেখতে দিলো...
এবার হরিণীর হাত থেকে খাতাটা নিয়ে তৃতীয় পৃষ্ঠায় যেতেই আমার শরীরে কাটা দিয়ে উঠলো...
একটা মানুষের কল্পনা এতটা ভয়ংকর হয় কিভাবে..? হ্যাঁ! একদম ঠিক ভাবছো তোমরা, তৃতীয় পৃষ্ঠায় ভয়ংকর একটা ছবি আঁকা ছিলো যেটা দেখতে মানুষের মতো হলেও সম্পূর্ণ মানুষ নাহ। এটার পা দুটো ঘোড়ার পায়ের মতো শরীরের রঙ লাল চেহারাটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে নাহ তবে ওর মাথায় দুইটা গরুর শিং-এর মতো লম্বা লম্বা শিং ছিলো।
এমন অদ্ভুত ছবি দেখে হরিণীকে জিজ্ঞেস করলাম...
"হরিণী! কি এসব.? এটা কার ছবি একেছো তুমি.??"
"জানি নাহ! আমি ওকে প্রায়ই আমার স্বপ্নে দেখি! মাঝে মাঝে বাস্তবেও দেখি। ও আমাকে নিয়ে যেতে চায় কিন্তু আমি ওর সাথে যেতে চাই নাহ.!"
এই বলে হরিণী আমাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে শান্তনা দিচ্ছিলাম তখন ড্রয়িংরুম থেকে অরিনের চিৎকার....
"আরিয়ান! আরিয়ান! কোথায় তুমি.? বাইরে এসো.? "
এই রেহ এখন আবার অরিন এলো কেনো.?
আমি বোধহয় মেইন ডোর লক করতে ভুলে গেছিলাম, ইশশ এখন যদি অরিন হরিণীকে দেখে ফেলে তাহলে তোহ ও আমাকে ভুল বুঝবে..!কিছু নাহ বুঝতে উঠতে নাহ পেরে হরিণীর আঁকা ছবির খাতা ও রঙ তুলিসহ হরিণীকেও খাটের তলায় লুকিয়ে রেখে বলি ওখান থেকে যেনো হরিণী বের নাহ হয়।
হরিণীকে খাটের তলায় লুকিয়ে রেখে রুমের দরজা বন্ধ করে নিচে নামতে যাবো তখনই দখি অরিন দোতলায় এসে হাজির....
"কি ব্যাপার! কখন থেকে ডেকে যাচ্ছি তোমাকে কোনো সারা শব্দ নেই কেনো.? আর মেইন ডোর লক করোনি কেনো.?"
"আ-আসলে অরিন ত-ত-তোমার সাথে ঝগড়া করে বাসায় ফেরার পর থেকে কেমন একা একা লাগছিলো তাই খেলায় ছিলো নাহ। ত-তুমি এখানে হঠাৎ.? "
"তুমি জানোই তোহ আমি তোমার সাথে রাগ করে থাকতে পারি নাহ! চলো ভিতরে বসে কথা বলি."
"এই নাহ! চলো বাইরে কোথাও যাই.?"
"হ্যাঁ! যাবো তোহ! কিন্তু কিন্তু একটু বসে কথা বলি তারপর বের হই!"
অনিচ্ছা সত্ত্বেও অরিনকে নিয়ে রুমে ঢুকলাম। রুমে ঢুকে দেখি হরিণীর আঁকা ছবির খাতার বেশির ভাগ অংশ খাটের তলায় বাইরে পরে রয়েছে। ইশশ তাড়াহুড়োয় পুরোপুরি লুকাতে পারিনি! এবার কি হবে..?
"আরিয়ান! এই আরিয়ান.?"
"উমম! হ্যাঁ! কিছু বললে.?"
"তোমার মন কোথায় পরে আছে.? ঠিক আছো তোহ তুমি.?"
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমি একদম ঠিক আছি! বলো কি বলবে.? "
"আআ! আহ্! ওইটা কি পরে আছে.?"
"ক-ক-কোনটা.?"
"এইযে খাটের তলায়.? দাঁড়াও তোহ দেখতে দাও.?"
"অ-অরিন! ওসব কিছু নাহ? এগুলো দেখে তোমার কোনো লাভ হবে নাহ.?"
এবার যদি অরিন সত্যি সত্যি খাতাটা তুলতে ঝুঁকে তাহলে তোহ হরিণীকে দেখে ফেলবে! কি হবে এখন.? কি করবো আমি.?
"আরে! তুমি এত ভয় পাচ্ছো কেনো.? খাতাই তোহ দেখবো, এমন ভাব করছো যেনো খাটের তলায় কি নাহ কি লুকিয়ে রেখেছো। হা!হা!হা!"
আমার বারন করা সত্ত্বেও অরিন খাটের তলা থেকে খাতাটা তুললো...
কি ব্যাপার! অরিন খাটের তলা থেকে খাতা তুললো অথচ হরিণীকে দেখে কোনো রিয়াকশন করলো নাহ.?
একটু সন্দেহ হলে আমিও খাটের তলা দেখার জন্য উঁকি দিলাম। কিন্তু খাটের তলায় হরিণী ছিলো নাহ...
আবার কোথায় গেলো মেয়েটা! যাই হোক, এবার বড় জোড় বেঁচে গেলাম। কিন্তু হরিণী কোথায় গেলো..?
"ওয়াও! আরিয়ান.? ছবিগুলো কি তুমি একেছো.?"
"কোন ছবি.?"
"এগুলো কি তুমি একেছো.?"
"নাহ! নাহ! এগুলো আমি আকিনি এগুলো তোহ আমাকে একজন একে দিয়েছে!"
"সত্যি! কে একে দিয়েছে বলো নাহ! আমিও তাকে বলবো সে যেনো আমারও একটা ছবি এঁকে দেয়"
"আচ্ছা! আমি তাকে বলে দিবো সে যেনো তোমারও একটা ছবি এঁকে দেয়"
"আচ্ছা! কবে বলবে.?"
"আজকেই বলে দিবো!"
"সত্যি!! "
এই বলে খুশিতে অরিন আমাকে জড়িয়ে ধরে।
"আরিয়ান!চলো আমরা এখন বাইরে যাবো! সামনে একটা পার্ক হয়েছে অনেক লোকজন আসে ওখানে। রাতের বেলা ওখানে ঘুরার মজাই আলাদা!"
এতটুকু বলে অরিন ছুটে নিচে চলে গেলো আর আমাকেও তাড়াতাড়ি আসতে বললো!
অরিন চলে যাওয়ার পর আমি হরিণীকে খুঁজতে থাকি। আশ্চর্য মুহুর্তের মধ্যে কোথায় উধাও হয়ে গেলো মেয়েটা।
পুরো ঘর খুঁজেও যখন পাচ্ছিলাম নাহ তখন চোখ গেলো জানালার দিকে।
দেখি, হুট করে জানালা নিজে থেকে খুলে গেলো আর হরিণী জানালায় উল্টো হয়ে ঝুলে আছে।
"আল্লাহ! আল্লাহ! একবার যদি এই মেয়ে এখান থেকে পরে তাহলে ওকে বাঁচানোর সাধ্য কারো নেই"
তাড়াতাড়ি করে গিয়ে ওকে জানালা দিয়ে টেনে ঘরের ভিতরে ঢুকালাম।
"শুনো হরিণী! আজকে যা করেছো, করেছো! এরপর থেকে আর কোনোদিন এমন পাগলামো করবে নাহ। আমি বাইরে গেলাম তুমি চুপটি করে ঘরে বসে থাকবে।"
হরিণী ঘাড় নেড়ে জবাব দিলো। আমিও রুম থেকে তড়িঘড়ি করে বের হবো তখনই অরিন আবারও ডাক দেয়....
"কি হলো.? যাওয়ার ইচ্ছে আছে নাকী আমি চলে যাবো.?"
"দাঁড়াও! আসছি..., হরিণী আমি গেলাম লক্ষী মেয়ের মতো এখানেই থাকবে!"
এই বলে আমিও রুম থেকে বেরিয়ে অরিনের কাছে এসে পরলাম ওর সাথে সাথে পার্কে যাবো বলে।৷ আমাকে দেখে অরিন বললো...
"এতক্ষণে মহারাজের আসার সময় হলো। তা মহারাজ এবার কি আমরা বের হতে পারি.?"
"হ্যাঁ! মহারানী, চলুন এবার আমরা বের হই।"
ফার্ম হাউস থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের পথ হাঁটতেই আমরা পার্কে এসে পৌঁছাই।
এই ১৫ মিনিট দুইজন দুইজনের হাতটা শক্ত করে ধরে ছিলাম আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম
"এই হাত যেনো কোনোদিন আলাদা নাহ হয়! সারাজীবন যেনো এভাবেই শক্ত করে ধরে থাকতে পারি"
জানি নাহ আমাদের এই প্রতিজ্ঞা কতটা মজবুত হবে কিন্তু যতদিন এই দেহে প্রাণ আছে ততদিন প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ থাকবো এবং একে অপরের ভালোবাসায় অটুট থাকবো।
এই ছেড়ে যাওয়া যুগে যেনো আমরা একে অপরের থেকে যাওয়া মানুষ হয়ে উঠতে পারি।
১৫ মিনিটের রাস্তা যেনো আমাদের কাছে ভালোবাসার হাজারো প্রতিজ্ঞার এক একটি প্রহর ছিলো।
নাহ! এই ১৫ মিনিট কেউ কারো সাথে টু শব্দও করিনি! এতক্ষণ শুধু আমরা শক্ত করে হাত ধরে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম।
পার্কে এসে আমরা একটা বেঞ্চে গিয়ে বসি। প্রায় ৫ মিনিট দুজনই স্তব্ধ ছিলাম কেউ কারো সাথে কথা বলার মতো সাহস পাচ্ছিলাম নাহ অথচ সবসময়ই একে অপরের সাথে ঝগড়া করি। এই তোহ ২০ মিনিট আগেও কত খুনসুটি করলাম আর এখন দু'জনই চুপ।
কিছুক্ষণ পর নিরবতা কাটিয়ে আমিই অরিনকে জিজ্ঞেস করলাম...
"অরিন! I'm Extremely Sorry! আসলে আমি তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কথাটা বলিনি!"
"বুঝতে পেরেছি আরিয়ান! আমি কিছু মনে করিনি কিন্তু একটা বিষয় কি জানো, আমার পছন্দের মানুষটা আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে নিয়ে ভাবলে আমার অনেক বেশি হিংসা হয়। আমি সবসময় চাইতাম আমার ব্যক্তিগত একজন মানুষ হোক। আর সেই ব্যক্তিগত মানুষটা তুমি। এজন্য তোমার প্রতি আমি অনেকটা পজেসিভ। তোমার প্রতি আমি সর্বদা লয়াল থাকতে চাই, তোমাকেই ফার্স্ট এন্ড লাস্ট প্রায়োরিটি করতে চাই এবং আমি চাই আমিও যেনো তোমার প্রথম ও৷ শেষ প্রায়োরিটি হই। তুমিও আমার প্রতি লয়াল থাকো।"
অরিনের মুখ থেকে এসব শুনে নিজেকে অনেকটা অপরাধী ভাবতে শুরু করি। মেয়েটা এতকিছুর পরও নিজে থেকে আমার সাথে সবকিছু ঠিক করে নিলো। আমাকে আজও সেই প্রথম দিনের মতোই ভালোবাসে। নাহ! আমি কিছুতেই ওকে কষ্ট দিতে পারবো নাহ।
অরিনের গালে আমার দু হাত দিয়ে আলতো করে ধরে বললাম..."আল্লাহ ব্যাতিত তোমাকে আমার কাছ থেকে কেউ কোনোদিন আলাদা করতে পারবে নাহ। ওই উপরওয়ালাই তোহ তোমার আর আমার ভাগ্য এক করে রেখেছেন তাই তোহ এত বাঁধার পরও আমরা ঠিকই একজন আরেকজনের কাছে এসেছি। তুমি যেখানেই থাকো নাহ কেনো তোমাকে আমি ঠিকই আমার করে ছাড়বো এটা আমার প্রতিজ্ঞা তোমার কাছে"
অরিন আমার হাতগুলো ওর হাত দিয়ে ধরে কিছু বলতে যাবে তখনই একটা ছোট বাচ্চা আমাদের কাছে দৌড়ে এসে বলে....