প্রাপ্তি (দ্বিতীয় অধ্যায়) — পর্ব ০৬
লেখক: বিনতে ফিরোজ · পর্ব ০৬ · ২৫ পর্বের মধ্যে ৬
ঘরটা ছোটো। তবে একজন মানুষ আরাম করে এখানে থাকতে পারে। ঘরের দিকে তাকালেই তার মালিকের রুচিশীলতার ছাপ পাওয়া যায়। আফতাব নিজেও টের পেলো। সে যার পাণিপ্রার্থী তার রুচিশীলতা দেখার মত। ঘরে ঢুকতেই কিছু লতাপাতার সাথে তার একদফা ধাক্কাধাক্কি হয়ে গেছে। তবে কিছুক্ষণ পর বুঝতে পেরেছে ওগুলো কৃত্রিম লতাপাতা। কেউ খুব যত্ন নিয়ে বানিয়ে দরজার উপর থেকে ঝুলিয়ে রেখেছে। দেখলে মনে হবে সদ্য জন্ম নেয়া একগুচ্ছ বুনো লতাগুল্ম এ ঘরে এসে ঠাই নিয়েছে। দেয়ালের এক প্রান্তে একটা ছোট্ট ক্যানভাস ঝুলছে। পেন্সিল স্কেচ করে এক জোড়া শিশু হাতের ছবি আঁকা। সেদিকে কতক্ষণ তাকিয়ে বিছানার কোণায় তাকালো আফতাব। আয়িশা চুপ করে বসে আছে। বারবার দরজার দিকে তাকাচ্ছে। সম্ভবত বোনের আশায়।
"তোমার নাম কি?"
আফতাবের দিকে তাকালো আয়িশা। আফতাব বুঝত পারলো মেয়েটার নজর ধীরে ধীরে তীক্ষ্ণ হচ্ছে। সে বেশ ভড়কে গেলো। আয়িশা সন্দেহী কণ্ঠে বলল,"আপনি আমার নাম জানেন না?"
"তোমার কি মনে হয়?"
"অবশ্যই আমার নাম জানেন। আমার আপাইকে দেখতে এসেছেন। আমাদের খোঁজ না নিয়েই এসেছেন নাকি!"
আফতাব বেশ অবাক হলো।
"তোমার সেন্স অফ হিউমার খুবই ভালো।"
"জাঝাকাল্লাহু খইরন।"
"এটা আবার কি?"
"এর মানে আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক। আপনি আমার প্রশংসা করলেন তাই বললাম। কিন্তু এখন দোয়া করা দরকার ছিল আপনি ভালো হলে আপনার সাথে আমার আপাইয়ের বিয়েটা হয়ে যাক। এটা কিভাবে দোয়া করতে হয়? আপনি জানেন?"
আফতাব মাথা নাড়ল। তবে দোয়ার কথা শুনে বেশ হাসিও পেলো। আয়িশার পরবর্তী কথায় সেই হাসি দপ করে মুছে গেলো।
"থাক ভাবিমণির থেকে জেনে নিবো। জাঝাকাল্লাহু খইরন মানে কি আপনি তাই জানেন না। জানেন কি আপনি?"
"কিছুই জানিনা।"
করুন মুখে বলল আফতাব। আয়িশার হাসি পেলো। তাদের ক্লাসে একটা দুষ্টু মেয়ে আছে। কোনোদিন পড়া করে আসে না। ম্যাডাম এসে পড় ধরলেই বলে,"ম্যাডাম!আমি কিছুই জানিনা।"আর তারপরই কান্নাকাটি শুরু করে দেয়। দুই তিনবার এমন হওয়ার পর ম্যাডাম ওর পড়া ধরাই বন্ধ করে দিয়েছেন। আয়িশার মুখ টিপে হাসা দেখে আফতাব ভুরু কুঁচকে বলল,"তুমি হাসছো কেনো?"
"আমাদের ক্লাসে একটা মেয়ে আছে। কিছু ধরলেই বলে,"ম্যাডাম!আমি কিছুই জানিনা।" আপনাকে দেখে ওর কথা মনে হচ্ছে।
আফতাব হতাশ হলো। মাত্র শিক্ষক হিসেবে জীবন শুরু করেছে। তাকে দেখে নাকি একটা পড়া চোর মেয়ে কথা মনে হচ্ছে। হতাশ চোখে নিজের অন্ধকার ভবিষ্যৎ দেখতে পেলো সে। সেই ক্ষণে আফিয়া ঘরে ঢুকলো। আয়িশা প্রায় চিৎকার করে বলল,"আপাই তোকে কি সুন্দর লাগছে! মা শা আল্লাহ!"
আয়িশার চিৎকারে দরজার দিকে তাকালো আফতাব। লাজুক মুখে এগিয়ে আসা নত চোখের এক মেয়েকে দেখলো সে। আফিয়া এগিয়ে এসে বোনের পাশে বসলো। আফতাবের মুখোমুখি। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আফতাবের মনে হলো সে আসলে ছ্যাচড়ামি করছে। ভাবনাটা মনে হতেই সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন মনে করলো। প্রেস্টিজ ইস্যু। কোনোভাবেই রিস্কে ফেলা যাবে না।
আফিয়া নতকণ্ঠে সালাম দিল। তটস্থ হলো আফতাব। তার আগে দেয়া উচিত ছিল।
"ওয়া আলাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?"
"আমিও ভালো আছি। আলহামদুলিল্লাহ।"
আফিয়া মেঝের দিকে তাকিয়ে আছে। হালকা সবুজ ওড়না জড়ানো মুখটার দিকে তাকালো আফতাব।
"আপনি যে এমন পর্দা করেন সেটা তো জানতাম না।"
"এমন পর্দা বলতে?"
"মানে একেবারে কোনো পুরুষের সামনেই যান না এটা আর কি।"
আফিয়া উত্তর দিলো না। সে যে কোনো পুরুষের সামনে যায় না এটা ঠিক না। রাস্তায় বের হওয়ার সময় এখনও মুখ ঢাকা শুরু করেনি সে। তবে সেসময় ভুল করেও মুখ কোনো ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে না আফিয়া। বাসায়ও তাই। অনেক আগেই বাইরের মানুষের সামনে প্রসাধনী ব্যবহার করা ছেড়ে দিয়েছে সে। তবে আজ নিজেকে আয়নায় দেখার পর মনে হয়েছে এটা রোজকার আফিয়া নয়। নিজের চেহারার পরিবর্তন ধরার মতো বুদ্ধি তার আছে। সেই বিশেষ জিনিসটা যেমন তার চোখ লেগেছে তেমন করেই একজন পুরুষের চোখে লাগবে এবং খুব ধারালো ভাবেই লাগবে। আফিয়া সেটা জানে। সেজন্যই বাকি দুজনের সামনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সে।
"আপনি তো অনেক সুন্দর ছবি আঁকতে পারেন। আর্ট আপনার পছন্দের বিষয় নাকি?"
আফতাব কথা বাড়ানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু বিষয় খুঁজতে যেয়ে ব্যর্থ হলো। শেষমেষ দেয়ালের ঐ এক জোড়া হাতকেই সম্বল করলো। অবাক হলো আফিয়া।
"আপনি জানলেন কি করে?"
"ঐ যে! ঐ ছবিটা দেখে। আপনি এঁকেছেন না?"
ছবিটার দিকে নির্দেশ করলো আফতাব। আফিয়া তাকালো। যেদিন মাহিবাকে ডাক্তার দেখিয়ে আনা হয়েছিল এটা সেদিনই এঁকেছে সে। তবে মাহিবাকে দিতে সাহস করেনি। বলা বাহুল্য মাহিবার সাথে তার জড়তা আজও কাটেনি। কিন্তু জিনসটা কেউ খেয়ালও করেনি। তাতেই মন খারাপ ভাবটা বেড়েছিল। আফতাবের কথার উত্তর দিলো সে।
"হুঁ।"
"প্র্যাকটিস করলে কিন্তু আরো ভালো করতে পারবেন। কিপ ইট আপ।"
আফতাব বলল,"আপনার জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে আপনি কোন বিষয়গুলো এক্সপেক্ট করেন?"
আফতাবের দিকে একবার তাকাল আফিয়া।
"জীবনসঙ্গীর থেকে কি আশা করি সেটা আপনাকে বলতে পারছি না। তবে সামনের ধাপে যেতে হলে যেটুকু আপনার মাঝে থাকতে হবে সেটা বলতে পারি।"
কৌতূহলী হলো আফতাব।
"আগেরটা বলা যাবে না কেনো?"
"জীবনসঙ্গী হলো পুরোটা জীবনে আমার ছায়া। তার থেকে আমার আশা আকাঙ্খা কেমন হবে এটা আমি যে কারো সাথে শেয়ার করতে চাই না। একমাত্র সেই ব্যক্তিই আমার এই কথাগুলো জানবে।"
আফতাব মুগ্ধ হলো। এভাবে কি সে কখনও ভেবেছে? মনে হয় না।
"তাহলে শেষটুকুই বলুন।"
"আমাকে এটুকু নিশ্চয়তা দিয়ে হবে যে আপনার ইনকাম হালাল। কোনরকম হারামের ছোঁয়া সেখানে নেই।"
"আমি সদ্যই একটা কলেজে জয়েন করেছি। শুনেছেন বোধহয়। এখানে আবার হারাম টাকা উপার্জনের উপায় আছে নাকি?"
আফতাবের মুখে এক টুকরো হাসি। কৌতুকের চিহ্ন। সেদিকে তাকিয়ে আফিয়া শান্ত কণ্ঠে বলল,"যে চায় সে ঘরে বসেই হারাম কামাই করতে পারে। আপনি তো রাস্তায় নেমেছেন। চারদিকে হারামের হাতছানি।" আফিয়ার কথা শুনল আফতাব। মাথা নাড়লো।
"তারপর?"
"আমার প্রাইভেসি নিশ্চিত করতে হবে। আমার নিজস্ব এলাকায় কেউ যেনো হস্তক্ষেপ না করে সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে।"
কথাটা বুঝতে বেশ সময় লাগলো আফতাবের।
"আমাদের তো জয়েন্ট ফ্যামিলি না। আমরা চারজনই।"
"আপনার সাথে কথা আগালেও নিশ্চয়ই আপনার ফ্যামিলির প্রত্যেকটা মানুষ আমার খুব কাছের হবে না। কিছু কিছু সম্পর্কে একটা সম্মানজনক দূরত্ব থাকা আবশ্যক। হোক সেটা শ্বশুর। দেবরের ক্ষেত্রে আরো বেশি। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।"
"আপনি কি আলাদা থাকতে চান? শ্বশুর শাশুড়ি ছাড়া?"
কথার এই পর্যায়ে এসে আফতাবের স্বর কিছুটা অন্যরকম শোনালো। আফিয়া বুঝলো না এটা তার শোনার ভুল নাকি।
"বাবা মা পরিবারের মাথা। বৃদ্ধ বয়সে তাদের মাধ্যমে আল্লাহ পরিবারে বরকত দেন। জেনেশুনে আমি কখনোই সেই বরকত থেকে বঞ্চিত হতে চাইবো না। আপনার পরিবার দশজনের হলেও আমার সমস্যা নেই। শুধু আমার নিজস্ব এলাকাটুকু যেনো আমারই থাকে সেই নিশ্চয়তাটুকু আমি চাই।"
সেসময় এ কথার তাৎপর্য আফতাব বোঝেনি। তবে বুঝতে বেশি দেরিও হয়নি। দুই দিন পরেই চাচাতো বোনের শ্বশুর বাড়িতে তাদের দাওয়াত ছিলো। পুরোটা দিনে একটা মুহূর্ত যখন বোনের ঘর লোকশূন্য হতে দেখলো না,যখন দেখলো তার ভাসুর থেকে দেবর পর্যন্ত সকলের সেই ঘরে অবাধ যাতায়াত তখন বুঝলো নিজস্ব এলাকা কাকে বলে এবং কেনো বলে।
আফতাব প্রতিউত্তরে কিছু বলার আগেই আফতাবের মা সেখানে আসেন। নিজের ছেলের দিকে তাকিয়ে তার চেহারা পড়ার চেষ্টা করেন। সাথে এটাও চেষ্টা করেন যেনো তার চেহারায় গদগদ ভঙ্গি না আসে। বউ হওয়ার আগেই বুঝিয়ে দিতে হবে আহ্লাদ জিনিসটা ছেলের বউয়ের জন্য নয়। মা-কে দেখে আফতাব উঠে দাঁড়ালো। আফিয়ার দিকে এক নজর তাকিয়ে ছোটো করে বলল,"আসি।" মুখ ওঠালো না আফিয়া। আফতাবের মা মনে মনে বিরক্ত হলেন। এরই মধ্যে আশি নব্বইও হয়ে গেছে!
আফতাব চলে গেলে মাহিবা এবং সালেহা বেগম আসেন। দুজনেই যথাসম্ভব আন্তরিক ভাবে কথা বলার চেষ্টা করে। আফতাবের মা মাহিবার দিকে তাকিয়ে বলেন,"কি ব্যাপার? বাচ্চা কাচ্চা হবে নাকি?"
মাহিবা হকচকিয়ে গেল। সালেহা বেগম পাশ থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে খুশি খুশি গলায় বললেন,"জি আপা!এই সেদিনই জানলাম।"
মহিলা বললেন,"ছেলের বউকে খুব আদর করেন মনে হচ্ছে? যাক ভালো। মাথায় উঠে না বসলেই হলো।"
আফিয়ার দিকে তাকিয়ে মুখে হাসি নিয়ে শান্ত গলায় সালেহা বেগম বললেন,"আদর আর কি আপা। আমার মেয়েকে আমি আরেকজনের বউ হিসেবে যেমন দেখতে চাই আরেকজনের মেয়েকে আমি তেমনই রাখতে চাই। আমার ছেলের বউকে আমি দিনরাত দৌড়ের উপর রাখবো আর আমার মেয়ের শাশুড়ি তাকে আরাম করতে দেবে এটা কিভাবে আশা করি?"
সূক্ষ্মভাবে কোনো ইঙ্গিত দেয়া হলো কি না বুঝলেন না আফতাবের মা। তবে তার চেহারার ভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করলেন সালেহা বেগম। মহিলার মাথা কোনদিক থেকে কোনদিকে যাচ্ছে বোঝা মুশকিল।
"মোহরানা কেমন চান আপনারা?"
"সেটা তো আরো পরের বিষয়।"
"পরের বিষয় আগে শোনার জন্যই তো এই দেখাদেখি। না কি?"
"সেটা অবশ্য ঠিক। তবে মোহর আমার মেয়ের বিষয়। এটা নিয়ে সে-ই ভাববে।"
"কি গো মেয়ে! তুমি কি বলো?"
আফিয়ার মাথায় একবার হাত বুলিয়ে দিলেন মহিলা। সেই স্পর্শে স্নেহ খুঁজে পেলো আফিয়া। মহিলার কি তাকে পছন্দ হয়েছে নাকি? কথাবার্তায় তো মনে হচ্ছে না।
"এটা সামর্থ্যের বিষয় আন্টি। যার সামর্থ্য যেমন সে তেমন দেবে। পাত্রীকে তো কেনাবেচা করা হয় না যে দরদাম করা হবে।"
মহিলার সম্ভবত উত্তরটা পছন্দ হয়েছে। তার মুখটা মাহিবার কাছে নরম মনে হলো। তবে যাওয়ার আগে উপদেশ দেয়ার ভঙ্গিতে তিনি আফিয়াকে হলে গেলেন,"এ যুগের মেয়ে এমন ঘরকুনো হলে চলে নাকি? বাইরের মানুষের সাথে চেনা পরিচয় না হলে মানুষ চিনবে কিভাবে?"
আফিয়া কোনো উত্তর দিলো না। সবাইকে সবকিছুর উত্তর দেয়ার দরকার হয় না।
সবাই চলে গেলে বোনকে ডেকে একটা ফোন নাম্বার দিলো আহমাদ।
"এটা কার নাম্বার ভাইয়া?"
"আফতাবের।"
মাহিবা অবাক হয়ে বলল,"ওকে দিচ্ছেন কেনো?"
"কথা টথা বলুক। ছেলেটাও ফোন দিতে পারে। না ধরলে খারাপ দেখাবে।"
"ওকে ফোন দেবেই বা কেনো?"
"বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে। দুজনে একটু আলাপ করবে না? নিজেদের মাঝে একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং না হলে তো পরে সমস্যা।"
দোনামনা করলেও পুরুষের সংস্পর্শহীন এই ছোট্ট জীবনে প্রথম কোন পুরুষের আগমন আফিয়ার মনে পুলক সৃষ্টি করলো। পরিবারের ছত্রছায়ায় সেটা ডালপালা মেলতে সময় নিলো না। নাম্বারটা নিয়ে ঘরে চলে গেলো সে।
"এখান থেকে যে গুনাহের দরজা খুলে যেতে পারে আপনি জানেন না? লোকটা তো এখনও আফিয়ার জন্য পর পুরুষ।"
মাহিবা তখনও চেষ্টা করছে আহমাদকে বোঝাতে। আহমাদ বিরক্ত হয়ে বলল,"বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা কর। চেনা নেই জানা নেই এমন একটা ছেলের সাথে ও থাকবে কিভাবে? চাচ্চুর সাথে কথা বলেই আমি ওকে নাম্বার দিয়েছি। নিজেদের মধ্যে একটু জানা শোনা হোক।"
"এই জানাশোনা থেকেই তো শয়তান আমাদের পেছনে লাগে। বিয়ে হলে হয়ে যাবে না হলে হবে না। মাঝখানে এভাবে ঝুলিয়ে রাখার মানে কি?"
মাহিবা নিজেও বিরক্ত। এমন ছোটো একটা বিষয় আহমাদ বুঝতে পারছে না ভেবেই তার অবাক লাগছে। তবে এ যাত্রায় আহমাদকে কিছুটা কঠোর দেখালো। রূঢ় কণ্ঠে সে বললো,"যেটা বোঝো না সেটা নিয়ে কথা বলবে না। সবকিছুতে তোমার নাক গলাতে হবে কেনো? দুনিয়ার মানুষ কি কিছুই বোঝে না? ঠাস করে একজনের সাথে বিয়ে হলেই হয়ে গেলো নাকি!"
স্বামীর এহেন রূপ দেখে মাহিবা বাস্তবিকই চুপ হয়ে গেলো। নিজেকে এতদিনে এই পরিবারের বাইরের কেউ মনে হলো। শেষ কথার উত্তরে বলতে চাইলো,"কেনো আপনার সাথে আমার হয়নি?" কিন্তু কিছুই বলল না। অশ্রুরা কণ্ঠ রোধ করেছে। আজকাল অল্পতেই কান্না পাচ্ছে। কি জ্বা-লা!
চলমান।