প্রাপ্তি (দ্বিতীয় অধ্যায়)
লেখক: বিনতে ফিরোজ · বিভাগ: ইসলামিক · মোট ২৫ পর্ব
"চন্দ্রমল্লিকায়" সকাল হয় একটু দেরিতে। আশপাশের বড় বড় গাছগুলোর কারণে সূর্যের সৈনিক রোদেরা ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারে না। মানুষের চামড়া ঝলসে মেজাজ উত্তপ্ত করার আগেই গাছের পাতাদের সাথে রোদের এক চোট যু-দ্ধ হয়ে যায়।
"চন্দ্রমল্লিকায়" সকাল হয় একটু দেরিতে। আশপাশের বড় বড় গাছগুলোর কারণে সূর্যের সৈনিক রোদেরা ঠিক সুবিধে করে উঠতে পারে না। মানুষের চামড়া ঝলসে মেজাজ উত্তপ্ত করার আগেই গাছের পাতাদের সাথে রোদের এক চোট যু-দ্ধ হয়ে যায়। যার ফলে তারা সম্ভবত একটু শক্তি হারিয়ে ফেলে। কেননা "চন্দ্রমল্লিকার" পরিবেশ বরাবরই বেশ শান্ত এবং কোমল। জায়গাটা মাহিবার অসম্ভব পছন্দ। বিছানার সাথে লাগোয়া জানালা দিয়ে সে সময় পেলেই গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে। অপলক চোখে মুগ্ধ হয়ে দেখে কচি পাতার আড়ালে পাখিদের কোলাহল। আহমাদ সেদিন ব্যঙ্গ করে বলেছিল,
"আমি মনে হচ্ছে জেনে শুনে সতীন জোগাড় করলাম। কি আশ্চর্য! সামনে জ্বলজ্যান্ত একটা বর থাকতে মানুষ কিভাবে সারাদিন গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতে পারে!"
মাহিবা কিছু বলেনি। বেশ মজা পেয়েছিলো সে। তবে মজাটুকু স্থায়ী হলো না। চৈত্রের ঝড়ো বাতাসের সব ঝাপটা এসে জানালায় লাগতে শুরু করে। মাঝে মাঝে থাই চুইয়ে পানি পড়ে বিছানায়। ফলস্বরূপ বিছানার জায়গা বদল করতে হলো। মাহিবার মন খারাপ দেখে আহমাদ সেদিন হেসেছিল। বলেছিলো,
"নাও এবার বেশি করে গাছ দেখো।"
"এই দিন দিন নয় আরো দিন আছে
এই দিন নিয়ে যাবে সেদিনেরও কাছে।"
বলেই মুখ ঘুরিয়ে চলে গিয়েছিল মাহিবা। নালিশ করেছিল সোজা সালেহা বেগমের কাছে। সালেহা বেগম ছেলেকে বকেছেন। কেনো সে মাহিবাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলবে? কতো সাহস হয়েছে তার!
মাহিবার মন ভালো না। বলা উচিত শরীর ভালো না। শরীরের উত্তাপ মনে লেগে মনের মেজাজ গরম হয়ে গেছে। সকাল থেকেই জ্বর জ্বর ভাব হচ্ছিলো। এজন্যেই আজ কলেজে যায়নি মাহিবা। শেষমেষ সাড়ে এগারোটার দিকে শরীর কাঁপিয়ে জ্বর এলো। বিছানায় কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে পড়লো মাহিবা।
ইশিকা আজকাল সালেহা বেগমের কাছেই বেশি থাকে। তাকে কোনোমতে ঘুম পাড়িয়ে পুত্রবধূর কাছে এলেন সালেহা বেগম। কেমন এলোমেলো হয়ে শুয়ে আছে মাহিবা। তিনি ডাকলেন,
"এই মাহি! অসময়ে আবার ঘুমুচ্ছিস কেনো? রান্নাবান্না তো কিছুই হলো না।"