প্রাপ্তি (দ্বিতীয় অধ্যায়) — পর্ব ০৫
লেখক: বিনতে ফিরোজ · পর্ব ০৫ · ২৫ পর্বের মধ্যে ৫
আহমাদকে বেশ গম্ভীর দেখাচ্ছে। মাহিবা আড়চোখে দেখলো। খোঁচা দিতে ভয় লাগছে। যদি আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ঘটে! নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ,আকর্ষণ দুটোই বেশি। মাহিবাও উৎসাহিত হলো। একটু অগ্নুৎপাত দেখার জন্য তার মন আকুপাকু করতে লাগলো।
"ইয়াসির সাহেব!"
গম্ভীর গলায় ডাকলো মাহিবা। আহমাদ চোখ ওঠালো। মাহিবা এক মনে কাপড় ভাঁজ করছে। তার মুখ দেখে মনে হচ্ছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে চায়। আহমাদ ভয় পেলো। মাহিবা কি ওটাই বলতে চাচ্ছে?
"মি.ইয়াসির! আপনি কি আমার কথা শুনতে পারছেন?"
মাহিবার গলা আর গম্ভীর হলো। আহমাদ নিজের হার্টবিট শুনতে পাচ্ছে।
"হুঁ।"
"আপনি কি একটা বিষয় ভেবে দেখেছেন?"
"কোন বিষয়?"
"আমি ভেবেছিলাম আপনি বুঝদার মানুষ। এটা নিয়ে নিশ্চয়ই চিন্তা করেছেন।"
আহমাদ উত্তর দিলো না। অজানা আশঙ্কায় বুকটা কেঁপে উঠছে। মাহিবা কাছে এসে বসলো। বলল,"আপনি কি জানেন আমি প্রেগনেন্ট?"
"হুঁ।"
"বাচ্চা হলে কি হয় আপনি জানেন?"
"কি হয়?"
চুপ করে গেলো মাহিবা। আহমাদ তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। একটু পরেই বলল,"আস্তে আস্তে আমি মোটা হয়ে যাবো। ইয়া মোটা। গাল ফুলে চোখ ভেতরে চলে যাবে। মুখ ভর্তি ব্রণ হবে। গাল না ফুলে ভেঙ্গেও যেতে পারে। তখন চোয়াল দেখা যাবে। কঙ্কালের মত লাগবে। বাচ্চা যদি সিজারে হয় তাহলে কোমড়ে সমস্যা হবে। বসে থাকতে পারবো না,দাঁড়িয়ে থাকতে পারবো না। বেশিক্ষণ কাজ করতে পারবো না। রাত বিরেতে উঠে বাচ্চার কাথা পরিষ্কার করতে হবে। চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল পড়বে। এখন আমার চোখে ডার্ক সার্কেল আছে তখন ডার্ক সার্কেলে চোখ থাকবে। এমন ভূতুড়ে বউ কি আপনার চলবে?"
আহমাদ এক দৃষ্টিতে মাহিবার দিকে তাকিয়ে আছে। মাহিবা বলতে গেলো,"না চললেও কিছু করার নেই। কোল্ড কফি এন্ড ওল্ড ওয়াইফ নেভার বিট্রে। শুনেছেন না? আমি তখন হয়ে যাবো ওল্ড ওয়াইফ। বয়স্ক মহি.."
আহমাদ শেষ করতে দিলো না। শান্ত অথচ গম্ভীর কন্ঠে বলল,"চলবে না।"
মাহিবা চোখ বড় করে তাকালো।"কি বললেন?"
আহমাদ আবার বলল,"চলবে না দৌড়াবে।"
মাহিবা ফিক করে হেসে দিলো। চোখ রাঙিয়ে বলল,"না চললেও চালাতে হবে।"
"যথা আজ্ঞা।"
কিছুক্ষণ পর আহমাদ মাহিবার হাত ধরলো। নরম কণ্ঠে বলল,"আমার খেয়াল রাখা উচিত ছিল। এমনিতেই তোমার এক ইয়ার ড্রপ গেছে। আবার এবার। আসলে আমি ভয় পাচ্ছিলাম। তুমি যদি বাচ্চাটা না রাখতে চাও।"
শেষ কথাটা শুনে ছিটকে সরে গেলো মাহিবা।
"ইন্নালিল্লাহ! কি বলেন এসব!"
"না আসলে.."
"থাক কিছু বলতে হবে না আপনাকে। অনেক কিছু বলেছেন।"
মাহিবার মুখে রাগের আভাস। উঠে চলে যেতে চাইলো সে। আহমাদ দিলো না। হাত ধরে আটকে দিলো।
"আরে আমার কথাটা তো শোনো।"
অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে রইলো মাহিবা। তাকাবেই না সে। লোকটা এমন কথা ভাবলো কি করে। আহমাদ করুন কণ্ঠে ডাকলো।"মাহি!"
মুখ ঘুরিয়ে রেখেই মাহিবা বলল,"মাতৃত্ব একটা মেয়ের জীবনে কি আপনি জানেন? ছোটো থেকেই মেয়েরা পুতুল খেলায় নিজেকে পুতুলের মা ভাবে। বোন,বান্ধবী কিছুই ভাবে না। মা কেনো ভাবে? সব মেয়ের ভেতরে একটা সুপ্ত মাতৃত্ব আছে। কেউ আগে বোঝে কেউ পরে। মায়ের সম্মান কতোটা উঁচু হলে তার পায়ের নিচে সন্তানের জান্নাত ঘোষণা করা হতে পারে? একজন বাবার থেকে মায়ের সম্মান রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন গুণ বেশি বলেছেন। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ এসব জেনে কখনোই এই নিয়ামত থেকে মুখ ঘুরিয়ে থাকতে পারবে না। একটা সন্তানের জন্য মানুষ কত হাহাকার করে! সেখানে আল্লাহ কোনো কষ্ট ছাড়াই এই উপহার আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। সেখানে এমন ভাবতে গেলে আমরা কি আর মানুষ থাকবো?"
মাহিবার গলা ভারী শোনালো। আহমাদ তাকে একপাশ থেকে জড়িয়ে বলল,"সরি মাহি! আমি আসলে তোমার পড়াশোনার জন্য বলছিলাম।"
"বেঁচে থাকলে পড়াশোনা হবে ইং শা আল্লহ।"
মাহিবার নাক টানার আওয়াজে তার দিকে অবাক চোখে তাকালো আহমাদ।"এ কি! তুমি কাঁদছো কেনো?"
"কাঁদছি না। কান্না আটকাচ্ছি।"
"কান্না আসছে কেনো?"
"জানিনা। শোনেন আমার কিন্তু এখন একটু থেকে একটু কিছু হলেই কষ্ট লাগবে। আপনি ভেবে চিন্তে কথা বলবেন। এই কষ্ট কিন্তু আমার সারাজীবন মনে থাকবে।"
"কি মুশকিলে পড়া গেলো! ভুলে গেলে চলে না?"
"না। ভুলবো না। খুবই সেনসিটিভ বিষয়।"
মাথা নাড়িয়ে বলল মাহিবা। আহমাদ বলল,"তাইতো দেখছি।"
"আপনি একটা অডিও প্লেয়ার নিয়ে আসবেন।"
"কেনো? তুমি কি মিউজিক শুনবে?"
"আস্তাগফিরুল্লাহ! মিউজিক শুনবো কেনো? কুরআন তিলাওয়াত শুনবো। যখন পড়তে ভালো লাগবে না তখন শুনবো। আর কয়েকদিন পর থেকেই বাবু কথা শুনতে পারবে। কুরআন শুনে শুনেই ও দুনিয়ায় আসুক।"
"ভালো বুদ্ধি।"
আহমাদের মন চাইলো মন ভরে স্ত্রীর জন্য দোয়া করতে। মনের ভাব প্রকাশ সে বরাবরই অপারগ। কথার সমুদ্র চোখে নিয়ে মাহিবার দিকে তাকালো আহমাদ। ডান হাত সন্তর্পনে মাহিবার কপালে রেখে দিলো। ভালবাসার পরশ বুলিয়ে দিলো মাহিবার মাথায়। অর্ধাঙ্গের দিকে তাকিয়ে হাসলো মাহিবা। এই চোখের ভাষার প্রত্যেকটা অক্ষর তার চেনা।
আফিয়া অল্পবিস্তর লজ্জা পাচ্ছে। কিন্তু তার মনে হচ্ছে আরেকটু বেশি লজ্জা পাওয়া উচিত ছিল। বাকি লজ্জাটুকু কেনো আসছে না সে বুঝতে পারছে না। কাউকে জিজ্ঞেস করতে পারলে হতো। কিন্তু তার আগে এখান থেকে উঠে যাওয়া দরকার। শুধু শুধু তাকে কেনো বসিয়ে রাখা হয়েছে সে বুঝতে পারছে না।
আহমাদ চুপচাপ খাওয়া শেষ করলো। সালেহা বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটা কথা বলতে এতক্ষন লাগে? ছেলেটা মনে হচ্ছে দিনদিন আরো গম্ভীর হয়ে যাচ্ছে। মাহিবা থালাবাসন গুছিয়ে চলে যেতে চাইলো। সালেহা বেগম বিরক্ত হয়ে বললেন,"এখনই এসব করতে হবে? দুই মিনিট বস। আর তুই এমন চুপ করে গেলি কেন? হ্যাঁ না কিছু একটা বল।"
শেষটুকু যে তাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে আহমাদ বুঝলো। বলল,"হাতটা ধুয়ে আসি।"
"কথা বলতে কি হাত লাগে? মুখ দিয়ে বলা যাচ্ছে না?"
সালেহা বেগম বেজায় বিরক্ত। ছেলেটা মানুষকে উৎকণ্ঠায় রাখতে ভালোবাসে।
ধীরে সুস্থে বসলো আহমাদ। বলল,"লোকটা কখন এসেছিল?"
"লোকটা বলছিস কেনো? ওটা তোর বাবার চাচাতো ভাই।"
"যাই হোক। কখন এসেছিল?"
আহমাদ এতদিন জানতো না তার বাবার একজন চাচাতো ভাই আছে। হঠাৎ করে উদয় হওয়ায় বেশ অবাক হয়েছে সে। এতদিন পর কি মনে করে?
"ঐ বিকেলে এসেছিল।"
"কেনো?"
"কেনো আবার! আমাদের দেখতে।"
"আমার সেটা মনে হচ্ছে না।"
বাবার মৃ-ত্যু-র সময় যাকে দেখেনি,এত ঝড় ঝাপটার মাঝে যার নামও শোনেনি সে হঠাৎ দেখতে চলে এসেছে এটা আহমাদের বিশ্বাস হলো না। সালেহা বেগম কাচুমাচু করে বললেন,"আফির জন্যই এসেছিল মনে হয়।"
"তাহলে নিষেধ করে দাও। দুধের মাছি আমার পছন্দ না।"
"আরে বাবা ঐ লোক কি তোর বোন কে বিয়ে করছে? সে শুধু একটা সম্বন্ধ এনেছে।"
আফিয়া উঠে চলে গেলো। শুধু শুধু এখানে বসে থেকে মুখ লাল করার মানে হয় না। মাহিবা বলল,"আমি একটা কথা বলব?"
আহমাদ তার দিকে তাকালো। সালেহা বেগম মুখ কুঁচকে বললেন,"তোকে আবার এখন এতো শুনে কথা বলতে হবে কেনো?"
হাসলো মাহিবা। সেখানে একটু অস্বস্তি মেশানো ছিলো। আহমাদের দিকে তাকিয়ে বলল,"কার সাথে বিয়ে হচ্ছে সেটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ না? এসব ছোটখাটো বিষয় ধরলে তো সমস্যা।"
আহমাদ শক্ত কণ্ঠে বলল,"এতকিছু হয়ে গেলো সে নিশ্চয়ই শুনেছে। একটা খোঁজ নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। এমন আত্মীয়ের আনা বিয়ে আমি খোঁজও নিতে চাই না। ঐ লোককে আর আসতে নিষেধ করবে মা।"
মাহিবা নরম কণ্ঠে বলল,"সে যদি ভুল করে আপনিও তার মত আরেকটা ভুল করবেন? আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী কখনও জান্নাতে যেতে পারবে না। সে এর মর্ম বোঝেনি। তাই বলে কি আপনি বুঝবেন না? এখানে বিয়ে না দেন অন্তত তার সাথে একটু আলাপ করুন। বাবার চাচাতো ভাই। কতো কাছের সম্পর্ক। তার অসম্মান করাটা কি কখনও বাবার পছন্দ হতো?"
বাবার কথা আসতেই আহমাদ শান্ত হয়ে গেলো। চোখের পাতায় ভেসে উঠলো শান্ত,স্নিগ্ধ একটা মুখ। ছেলের নরম মুখ দেখে সালেহা বেগম বললেন,"ছেলের কথা শুনে আমার ভালই মনে হলো। তুই দেখ তোর কেমন লাগে।"
আহমাদ উঠে চলে গেলো। এতক্ষণ প্রতিটা কথা একেক লোকমা ভাতের সাথে গলাধঃকরণ করেছে আয়িশা। খেয়েছে খুবই ধীরে। খাওয়া হয়ে গেলেই তো বলবে,"যাও উঠে পড়।"খাওয়া না হলে তো আর বলতে পারছে না। কথার সারমর্ম উদ্ধার করেই দৌড়ে গেলো বোনের ঘরে। বলল,
"আপাই তোমার বিয়ে হবে?"
"জানিনা।"
আফিয়া শুয়ে ছিল। এবার উঠে বসলো। আয়িশা বলল,"মনে হচ্ছে হয়ে যাবে। কথা খুবই দ্রুত আগাচ্ছে।"
"খুব মুরব্বী হয়েছেন আপনি। সব বলার আগে বুঝে যান।"
"তা বুঝতে পারি। এই আপাই! আরেকটা জিনিস বুঝেছি!"
"কি?"
আফিয়াকে কৌতূহলী দেখালো।
"আমাদের বাড়িতে ছয় জনের বেশি মানুষ রাখা যাবে না।"
"মানে?"
আফিয়ার ভুরু কুঁচকে গেলো।
"ভাবিমণির একটা বাবু হবে তাহলে একজন বেড়ে যাবে না? এজন্য তোমাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। যেনো মানুষ ছয় জনের বেশি না হয়।"
বিস্মিত হলো আফিয়া।
"তোর মাথা তো দুর্দান্ত কাজ করছে রে! এভাবে ভাবতে থাকলে রিসার্চ করে দুনিয়া উল্টে দিতে পারবি। সাবাশ! চালিয়ে যা!"
গর্বিত বোধ করলো আয়িশা। কত্তো বড় একটা বিষয় উদঘাটন করতে পেরেছে। এ কি চাট্টিখানি কথা!
•
মাহিবা বিছানা ঝাড় দিলো। আহমাদকে লক্ষ্য করে বলল,"সায়ান ভাইয়ের নাকি চাকরি চলে গেছে?"
"হুঁ।"
"আপনি শুনেছেন! আমি ভাবলাম আপনি জানেন না।"
"খালামণি ফোন দিয়েছিল।"
"ও। আপনার কিছু করা উচিত না?"
"আমি কি করবো?"
মাহিবার দিকে তাকালো আহমাদ। তার চোখে জিজ্ঞাসা।
"এখন তো আপনার নিজের একটা ফ্যাক্টরি আছে আলহামদুলিল্লাহ। ওখানে কি তাকে কেনো কাজ দেয়া যায় না?"
"লোক নেয়ার তেমন কোনো জায়গা নেই। সব ফিল আপ। আর থাকলেই বা। আমি কিছু করবো কেনো? একটা কাজের জন্য যখন আমি ওদের কাছে ফকিরের মত গিয়েছি আমার সাথে কথা বলারও প্রয়োজন মনে করেনি। তাহলে আমি করবো কেনো?"
আহমাদের মুখ কঠিন দেখাচ্ছে। মাহিবা এগিয়ে গেলো। আহমাদের এক হাত জড়িয়ে ধরে যথাসম্ভব কোমল কণ্ঠে বলল,"ওরা আর আমরা কি এক? নাকি সায়ান ভাই আর আপনি এক? "মায়াবাড়ি" যার স্বপ্ন তাকে তো আর অন্য দশটা মানুষের মতো আমার কাছে মনে হয় না। জানেন কাউকে নিয়ে কষ্ট পুষে রাখলে বুকে চাপ বাড়ে। জীবনে কত মানুষ আমাদের কত কষ্ট দেয়। সব যদি আমরা জমিয়ে রাখি তাহলে তো পাহাড় সমান দুঃখ বুকে নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। ছোট্ট একটা জীবন। এই আছে এই নেই। কি দরকার এতো কষ্ট পুষে বাঁচার?"
আহমাদ চুপ করে গেলো। কিছুক্ষণ পর বলল,"তোমাকে কে বলেছে আমি কষ্ট পুষে রেখেছি?"
খানিকটা নরম মনে হলো আহমাদের কণ্ঠ। বরফ তবে গলতে শুরু করেছে। আরো ভালোবাসা মিশিয়ে মাহিবা বলল,"কষ্ট পুষে না রাখলে এমন করে কেউ বলে? আমি কত সময় আপনার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি। সেসব মনে রাখলে আপনি আমার সাথে আর ভালো করে কথা বলতেন? বলতেন না। সায়ান ভাইয়ের বিষয়টা আপনার মনে দাগ কেটেছে। এজন্যই আপনি এটা ভুলতে পারছেন না। কাছের মানুষের দেয়া কষ্টগুলো বেশি তাজা হয়।"
"এই দাগ মুছবো কিভাবে?"
"যে দাগ দিয়েছে তার জন্য দোয়া করুন, তার সাহায্য লাগলে সেটা করুন। একজনের কষ্ট কমার উসীলা যদি আপনি হতে পারেন তাহলে তো বিশাল সওয়াবের মালিক হয়ে যাবেন।"
আহমাদ ভাবতে বসলো। তাকে আর ঘাটালো না মাহিবা। একটা বই নিয়ে শুয়ে পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ পর শুনলো আহমাদ কারো সাথে কথা বলছে। কারো জন্য কাজ খুঁজছে। মাহিবার মুখে হাসি ফুটলো। আহমাদ ফোন রাখতেই উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলল,"দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয় তাহলে দাগই ভালো!"
আহমাদ হাসলো। মনটা হালকা লাগছে।
•
ছেলের বিষয়ে খোঁজ নিলো আহমাদ। ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো। কোনো বাজে রেকর্ড নেই। সদ্যই একটা বেসরকারি কলেজে জয়েন করেছে। ছোটো একটা ভাই আছে। বাবা অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা। মা গৃহিণী। ভাইটা পড়াশোনা করে। আহমাদের ভালোই লাগলো। একদিন বিকেলে তাদের আমন্ত্রণ জানালো।
আফিয়াকে সাজিয়ে গুছিয়ে দিলো মাহিবা। বলল,"তুমি কি ওখানে যাবে?"
"এভাবে সেজেগুজে ওদের সামনে যেতে ইচ্ছে করছে না ভাবি। আরো দুইজন তো ওখানে আছে।"
মাহিবা বলল,"আচ্ছা তোমার ভাইয়াকে বলছি।"
"আপনি একটু আস্তে ধীরে চলা ফেরা করুন। এত ছুটোছুটি করার কি দরকার?"
মাহিবা হাসলো। আহমাদকে মেসেজে জানিয়ে দিতেই বসার ঘরে কথাটা জানালো সে।
"তোমার মা বোন সব পর্দা করে নাকি?"
সালেহা বেগম এখন সচরাচর বাইরের পুরুষদের সাথে দেখা করেন না। আজও ভেতরে ছিলেন তিনি। আহমাদ বলল,"জি আন্টি চেষ্টা করে।"
মহিলাকে বিশেষ খুশি মনে হলো না। তবে আফতাব বলল,"সমস্যা নেই ভাইয়া। আমি ভেতরে যেয়েই তার সাথে কথা বলব।"
আহমাদ খুশি হল। ছেলেটাকে তার পছন্দ হয়েছে। ছোটো ভাই আস্তে করে বলল,"ভাইয়ের বউকে দেখতে পারবো না? যাব্বাবা!"
আহমাদ শুনলেও কিছু বলল না। সবাইকে নিয়ে তার মাথা ব্যাথা নেই। আফতাবের বাবা বলল,"এমন করলে তো বাবা সামাজিকতা রক্ষা করা কষ্টকর। আমাদের কতো আত্মীয়স্বজন আফতাবের বউ দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। যাক। আমাদের ঘরে এলে আমরা আমাদের মতই গড়ে নেবো। কি বলো?"
হাসিমুখে বলা কথাটা আহমাদের মনে বিশেষ খুশির সৃষ্টি করলো না। ছোটো চাচাকে কল দিয়েছিলো। তিনি এত দেরি করছেন কেনো? প্রায় আধা ঘন্টা পর ছোটো চাচা এলেন। কথাবার্তা তারপর তিনিই এগিয়ে নিয়ে গেলেন।
চলমান।