প্রাপ্তি (দ্বিতীয় অধ্যায়) — পর্ব ০২

লেখক: বিনতে ফিরোজ · পর্ব ০২ · ২৫ পর্বের মধ্যে ২

খুটখাট শব্দে মাহিবার ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দাঁড়াতে গেলেই মাথাটা হঠাৎ ঘুরে ওঠে। চট করে ধরে ফেলে আহমাদ।

"কতবার বলেছি এভাবে শোয়া থেকে একদম দাঁড়িয়ে পড়বে না। লাফ দিয়ে উঠতে হবে কেনো?"

মাহিবা উত্তর দিলো না। মাথাটা হঠাৎ কেনো ঘুরে উঠলো সে বুঝতে পারলো না। পরক্ষণেই মনে পড়ল সে দুপুরের খাবার খায়নি। আহমাদের হাত ছাড়িয়ে চলে যেতে চাইলো। বাঁধ সাধলো আহমাদ।

"কি হয়েছে? কোথায় যাচ্ছো?"

"ভাত খাবো।"

ঘড়ির দিকে তাকালো আহমাদ।

"এখনও খাওনি কেনো?"

"শখ করে।"

মাহিবার কাট কাট কথা আহমাদকে ভাবতে বাধ্য করলো। ভাবুক গলায় সে বলল,

"কিছু করেছি বলে তো মনে পড়ছে না।"

"হাত ছাড়ুন।"

আহমাদ জানে এর অর্থ,"হাতটা আরো শক্ত করে ধরুন।"সেটাই করলো সে।

"এতক্ষণ না খেয়ে ছিলে কেনো?"

"আমার যখন ইচ্ছে তখন খাবো। আমার জন্য তো আর কেউ বসে থাকে না যে তার চিন্তা করতে হবে।"

চোখ বন্ধ করলো আহমাদ। সোফায় দলামোচড় করে রাখা শাড়ির দিকে তাকালো। এই তাহলে রাগের বহিঃপ্রকাশ।

"আসলে হয়েছে কি! মিটিংয়ের পর ক্লায়েন্টদের সাথে খেয়ে নিয়েছি। কাজের চাপে ফোন দেয়ার কথা ভুলে গেছি।"

"খুব ভালো।"

"সরি।"

"ছাড়ুন।"

"আসলেই সরি।"

শব্দ করে কেঁদে উঠলো মাহিবা। আহমাদ বেশ চমকালো। মাহিবা কখনোই এভাবে কাঁদেনি। সেই যে বৃষ্টির দিনে একবার কেঁদেছিল। সেই শেষ।

"সরি মাহি! আর এমন হবে না। সত্যি বলছি। কেদো না প্লিজ।"

মাহিবা আর কোনরকম জোরাজুরি করলো না। চুপচাপ কতক্ষন কাদলো। আহমাদও আর কিছু বলল না।

রাতে ঘুমের মাঝে আর্তনাদ করলো মাহিবা। নিস্তব্ধ রাতের জালে সেই শব্দটুকু অনেক জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করলো। আহমাদ উঠে দেখলো মাহিবা পেট চেপে ধরে কাঁদছে।

"মাহি! কি হয়েছে? এই! ওঠো!"

মাহিবা উঠলো। ঘুম ছাড়ার পড় অনুভূতিরা প্রখর হলো। কান্নার বেগ বাড়লো। আহমাদ বেশ ভয় পেলো।

"আমি মাকে ডেকে আনি দাঁড়াও।"

আহমাদকে আটকালো মাহিবা। এতো রাতে শাশুড়িকে বিরক্ত করতে চায় না সে।

"আপনি একটু দুয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে দিন।"

তার চেহারায় তখনও ব্যথার ছাপ স্পষ্ট। আহমাদ তাই করলো। স্ত্রীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়ল মাহিবা। তবে আহমাদ চিন্তিত হলো।

সকাল হতেই আহমাদ সালেহা বেগমকে বলল,

"মা মাহিকে নিয়ে আজ একবার ডাক্তারের কাছে যেও তো। কাল রাতে হঠাৎ পেট ব্যথায় কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছিলো।"

"আবার পেট ব্যাথাও করছে?"

সালেহা বেগমের চিন্তিত স্বর শোনা গেলো।

"মানে? আর কি হয়েছে?"

"ওর তো গত দুই তিনদিন ধরে হঠাৎ করে দিনের বেলা জ্বর আসে। একেবারে একশো দুই তিন। আবার বিকেলের আগেই শেষ।"

আহমাদ রাগ করলো।

"আমাকে এই কথাটা কেউ একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলে না। কি আশ্চর্য!"

রাগ সরে যেয়ে সেখানে জায়গা নিলো ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তা। মাহিবার কি হলো!

"তুমি আজই ওকে নিয়ে যাও। আমি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিচ্ছি।"

কাজের মাঝে হঠাৎ মায়ের ফোন পেয়ে সেদিকে মনোযোগ দিলো আহমাদ। সালেহা বেগম তো কখনও এই সময় ফোন করেন না।

"হ্যাঁ মা বলো।"

সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করলো আহমাদ। সালেহা বেগমের কম্পিত স্বর শোনা গেলো।

"তুই এক্ষুনি হাসপাতালে আয়। এক্ষুনি!"

মনের কোণে ঘাপটি মে-রে থাকা আশঙ্কারা ভয়ের ঢেউ তুলে সজোরে আছড়ে পড়ল। হঠাৎই মাহিবার অভিমান মাখা মুখটা চোখের পাতায় ভেসে উঠলো।

চলমান।