নির্বাসিত কৃষ্ণচূড়া — পর্ব ০৯

লেখক: সাদিয়া তিন্তি · বিভাগ: রহস্য · পর্ব ০৯ · ৪৭ পর্বের মধ্যে ৯

সকালের প্রথম প্রহর। ভোরের কুয়াশা ধীরে ধীরে পাতলা হতে শুরু করেছে, আকাশের পূর্ব দিগন্তে রোদ্দুরের নরম আলোকরেখা যেন আলতো করে ছুঁয়ে দিচ্ছে নিস্তব্ধ শহরটাকে। শহর জেগে উঠছে; দোকানের শাটার খোলার শব্দ, চায়ের দোকানের কেটলির শিস, দূর থেকে ভেসে আসা কোন অস্পষ্ট সুর মিলে এক অদ্ভুত সকাল গড়ে তুলছে।

দোতলার উত্তরের সেই ঘর থেকে ভেসে আসছে এক মধুর তানপুরার সুর, যেটা যেন পুরো বাড়ি ছুঁয়ে বেরিয়ে পড়ছে গলিপথে, রাস্তার মোড়ে। মানুষ থেমে থেমে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকাচ্ছে বাড়ির দিকে, খুঁজছে --কে এই সুরের জাদুকর? কে এই মায়াবী কণ্ঠস্বর? যেন সারা পাড়া সেই সুরের উৎসের সন্ধানে মগ্ন। বাড়িটার চারপাশ জড়িয়ে গেছে এক অদৃশ্য যাদুবলয়ে।

ভেতরে, রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে নানান রকম থালা-বাসনের শব্দ, ধোঁয়ার মৃদু গন্ধ মিশে যাচ্ছে সকালের বাতাসে। উঠোনে সদ্য ফোটা গাঁদা আর জুঁই ফুলের গন্ধও ভেসে আসছে হাওয়ার সাথে। উঠোনের এক কোণে ১৫-১৬ বছরের এক কিশোর তার নতুন পাওয়া সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে যাচ্ছে আনন্দে, গলায় চাপা গুনগুন। তার চোখে সেই প্রথম সাইকেল চালানোর উচ্ছ্বাস, স্বাধীনতার স্বপ্ন।

ঠিক তখন… বাড়ির সদর দরজা পেরিয়ে প্রবেশ করলো এক মেয়ে, পাতারঙা শাড়ি তার গায়ে, দুই লম্বা বেনুনী আলতো করে কাঁধে রাখা, মুখে একরকম দুরন্ত হাসি। পায়ের নুপুরের আওয়াজ যেন তানপুরার সুরের সাথে মিশে গিয়ে এক নতুন রাগ বেঁধে ফেললো। মেয়েটা ধীরে ধীরে উঠোন পেরিয়ে বাড়ির ভেতর ঢুকলো, আর ঠিক তখনই থেমে গেল তানপুরার সুর। যেন সুর নিজেই তার জন্য থেমে গেল, নিঃশব্দে মাথা নুইয়ে দিল।

উত্তরের ঘরের জানালায় পড়লো এক লম্বা ছায়া। কালচে শাড়িতে জড়ানো সেই মেয়েটির রূপ যেন কাঁচের ওপারে রোদ্দুরে সোনালি হয়ে উঠেছে। লম্বা বেনুনী এখনো বাম কাঁধে সুন্দর করে গোঁজা, কপালে ছোট্ট এক কালো টিপ, ঠোঁটে এক নিঃশব্দ হাসি, যেন কোনো প্রাচীন রূপকথা হঠাৎ বাস্তবে নেমে এসেছে।

রাস্তার ধারে তূর্য দাঁড়িয়ে। তার দৃষ্টি অপলক, সেই দোতলার উত্তরের ঘরটার দিকে। চোখে এক অজানা শিহরণ, মনে অজস্র অমীমাংসিত প্রশ্ন। সময় যেন তার জন্য এখানে থমকে গেছে। বাইরে বেরোলেই সময় আবার ছুটে চলে যাবে বোধহয়। অতীত আর বর্তমান যেন এক সঙ্গে চলছে। রাস্তার মাঝে যেন সীমানা পেতে দিয়েছে সময়।

সে জানে না, কিভাবে এখানে চলে এসেছে। কত মুখ, কত পায়ের ছাপ তাকে এই পথে টেনে এনেছে। তূর্য জানে না ঠিক কোন টানে সে প্রকৃতিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। এটা কি তার রহস্যে আকর্ষণ নাকি অন্য কিছু!

একটা হাওয়া বয়ে গেল হঠাৎ। এক চিলতে হাওয়া, কেমন অচেনা। তূর্যর চোখের পলক পড়ল। আর… সেই মুহূর্তেই সব যেন বদলে গেল।

সব রঙ মুছে গেল। সেই দোতলা বাড়ি উধাও। সেই জানালা, সেই তানপুরা, সেই ছায়া… নেই। তার চোখের সামনে এখন শুধু এক বিশাল বহুতল ভবন। কাঁচের দেয়াল, শীতল রেলিং, গা-ছমছমে নিস্তব্ধতা। সেই সুর নেই, সেই উঠোন নেই, সেই পায়ের নুপুর নেই। জানালায় কোনো ছায়া পড়ে না। শুধু ধূসর, কোলাহলহীন এক বাস্তবতা।

তূর্য হাসে, সবটাই কল্পনা। শহর চলছে নিজের ছন্দে। চারপাশে মানুষ, গাড়ি, কোলাহল। কেউ থামে না, কেউ ফিরেও তাকায় না। শুধু তূর্য দাঁড়িয়ে আছে। একা। এক অজানা সত্যের খোঁজে।

ঠিক তখনই তার পকেটে রাখা ফোন বেজে উঠল। স্মৃতি থেকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনল সেই কম্পন। স্ক্রিনে ভেসে উঠল, নেহাল কল করছে।

তূর্য ধীরে ফোনটা কানে তুলল। “হ্যালো…”

ওপাশ থেকে নেহালের উত্তেজিত গলা, “ভাই, যেটা খুজতে দিয়েছিলি, খুঁজে পেয়েছি! নিউ মার্কেটে! ১৯৭০ সালের মেগাজিনে আর কিছু রেকর্ডে! ভাগ্যলক্ষ্মী বস্ত্রালয় একটা বড় শাড়ির দোকান ছিল, অনেক বিখ্যাত। যুদ্ধের পরেই দোকানটা উঠে যায়… শুনলাম দোকানের আসল মালিক বিদেশে চলে গিয়েছিলেন, পরে আর ফেরেননি। অন্য লোক এসে জায়গা দখল করে নিয়েছিল। পরে অবশ্য মালিকানা দেখিয়ে দোকান ছিনিয়ে বিক্রি করে দেয় দোকান। তবে নামটাও হারিয়ে গেছে।”

তূর্য কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। এক অজানা কষ্ট বুকের ভেতর বেঁধে বসছে। “বিক্রি করে গিয়েছিল… মালিক বিক্রি করে গিয়েছিলেন…”

তার ঠোঁটে অদ্ভুত এক তৃপ্তির হাসি ফুটল।

একটু নিঃশ্বাস নিল সে। আস্তে বলল তূর্য “নেহাল, তুই দারুণ কাজ করেছিস… ধন্যবাদ।"

ওপাশে নেহাল বলল,"ই-মেইল দেখিস, সেখানে আমি পুরনো কিছু ফাইল এর ডকুমেন্ট পাঠিয়েছি তোকে। আরো কিছু খুঁজতে হবে?”

তূর্য আকাশের দিকে তাকাল। শহরের কোলাহলের মাঝে হঠাৎ পরিচিত সুর ফিরে এল তার কানে, মৃদু, ফিসফিসে। সে হাসল, ধীরে মাথা নাড়ল। “না নেহাল… এইটুকুই যথেষ্ট।”

ফোনটা কেটে দিল তূর্য। চোখ দুটো বন্ধ করল। অস্পষ্ট স্বরে আউড়ালো, "রহস্য দিয়েই রহস্য ভাঙতে হবে…..।”

ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে থামল নয়ের কাঁটায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই হিয়ার চোখ দুটো ধীরে ধীরে খুলে গেল, যেন স্বপ্নলোক থেকে বাস্তবের পৃথিবীতে ফিরল সে। ঘুমের কুয়াশা ছড়িয়ে পড়ল চারপাশে, আর হিয়া উঠে বসে চারপাশটা একবার নিরীক্ষা করল, সকাল কি সত্যিই শুরু হয়েছে? নাকি এখনো রাতের কোনো ফাঁকা প্রহর?

তার পর ধীরে ধীরে আঙুলের ফাঁকে চুলগুলো জড়িয়ে নিল খোঁপা করে, যেন নিজের শৃঙ্খলাকে নিজেই গুছিয়ে নিচ্ছে। চোখ দুটো ছুঁয়ে গেল টেবিলের ওপরে রাখা মোবাইলের স্ক্রিনে, যেখানে কাল চাঁদপুরের তোলা ছবিগুলো জ্বলজ্বল করছে। হিয়া এক এক করে ছবি দেখতে লাগল। কি অমায়িক সৌন্দর্য উকি দিচ্ছে ছবি হয়ে। হিয়া যেন নিজের ছবিই পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করলো, সে নিজের অজান্তেই যেন নিজের এই স্থিরচিত্রের সাথে প্রকৃতির রুপ মেলাচ্ছে।

নিজের লম্বা চুলে হাত বোলাল, মুখে হালকা হাসি এঁকে নিল। নিজের অজান্তেই সে প্রকৃতির মতো হয়ে উঠতে চাইছে। কল্পনার প্রকৃতি যেন হিয়ার মাঝে নিজের বসবাস পাকাপোক্ত করে নিতে শুরু করেছে।

জানালার ফাঁক গলে হালকা বাতাস এসে হিয়ার মুখ ছুঁয়ে গেল। সে এক মুহূর্ত চোখ বন্ধ করে সেই স্পর্শটুকু অনুভব করল, যেন প্রকৃতিই তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরল। কিন্তু ঘরের ভেতরের বাতাস যেন এখনো ভারী, থমথমে। প্রশ্নরা ঠিক নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল, অজানা উত্তরগুলোর ভার নিয়ে।

বাড়ির পরিবেশটা গত দুই দিন ধরে ভারাক্রান্ত, গুমোট। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ সেই থেকে ঘরের ভেতরেই আছেন, বের হননি একবারও, ডায়েরিটা বালিশের নিচে রেখে আবার হাতে নিচ্ছেন, আবার রাখছেন, আবার পাতার পর পাতা উল্টে আওড়াচ্ছেন প্রতিটা শব্দ। সেই পুরোনো ডায়েরি, যা তার ছোঁয়া পেতে পেতে ৫৬ বছর কেটে ফেলেছে। আজ তার স্পর্শে শব্দগুলো পূর্ণতা পেলো যেন!

সকালের ঘুম ভাঙার পর হিয়ার প্রথম ছায়া পড়েছে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের ঘরের দরজায়। আজ বাতাসের অবস্থা বেশ হালকা। হিয়া খুব ধীরে দরজায় টোকা দিল। ভেতর থেকেও সম্মতি স্বরূপ আব্দুর রুশান মোহাম্মদ তাকে ভেতরে যেতে বলল। হিয়া দেখল মানুষটা এখনো তার আরাম কেদারায় জানালার পাশে বসা। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ হিয়ার উপস্থিতিতে একবারও চোখ না ফিরিয়ে ডায়েরিটা আঙুলের নিচে ছুঁইয়ে বললেন , “এই ডায়েরি আমার ছোঁয়া পেতে কত যুগ অপেক্ষা করেছে… পাঁচ দশক… পঞ্চাশেরও বেশি বছর…! আমি কোথায় ছিলাম তখন? কেন পাইনি এর গন্ধ, এর গল্প, এর কান্না?”

চোখের কোনায় জল চিকচিক করে উঠল, কিন্তু তিনি সেই জল মুছে ফেললেন না। শুধু একবার নিঃশ্বাস নিয়ে মৃদু হেসে বললেন, “অদ্ভুত খেলায় ভরিয়ে রাখে না সময় আমাদের?”

হিয়া নিস্তব্ধ। শব্দ ওর কন্ঠ ছোঁয় না। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ শুধু একবার হাতের ইশারায় হিয়াকে কাছে ডাকলেন। হিয়া এগোলো, চেয়ারের কাছে গিয়ে হাটু গেঁড়ে বসলো। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ খুব মমতার সাথে হিয়ার মাথায় হাত রাখলেন। "হিয়া, তুমি আমার খুব প্রিয় দাদুভাই। জীবনে প্রেম আসবে, ভালোবাসা আসবে, এটাই নিয়ম। তবে জীবনকে আমার মতো ভাসিয়ো না। জীবন যখনই সুযোগ দেবে জীবনকে আঁকড়ে ধরবে। প্রকৃতির ডায়েরিটা পড়ে আবার আফসোস হচ্ছে না। আমি আমার ব্যর্থতা দেখছি। কি হতো যদি সেদিন যদি ওকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম.....!" গলার স্বর এবার অস্পষ্ট হয়ে এল আব্দুর রুশান মোহাম্মদের। এরপর তিনি অস্পষ্ট আউড়ালেন, "অন্ততঃ সে আমার হত।"

হিয়া থমকে বসে রইল। না এ প্রেম তো মিথ্যা নয়! সত্তর উদ্ধো এক বৃদ্ধর চোখের এই আবেগ কখনোই মিথ্যে হতে পারে না। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ এবার হিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, "দাদুভাই মনে কখনো অপ্রাপ্তি কিংবা সংশয় রেখো না। পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষ আমাদের জীবনে একটা নির্দিষ্ট সময় নিয়ে আসে। যখনই নির্দিষ্ট সময়টা ফুরিয়ে যায় মানুষগুলো বিনা অনুমতিতেই বিদায় নেয়। আমরা বুঝতেও পারি না, যে কোন মানুষের সাথে ঠিক কবে আমাদের শেষ দেখা হয়ে যায় ....।

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ এক গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে হিয়ার মাথায় আবার হাত রাখলেন, আঙুলের নরম ছোঁয়া যেন শত বছরের ক্লান্তি বয়ে আনে। তিনি গলায় চাপা কাঁপন নিয়ে বললেন, “হিয়া, জানো… জীবনে সবচেয়ে বড় শূন্যতা কি? না পাওয়ার শূন্যতা না, বরং যা পেয়েও ধরে রাখতে পারি না, তার শূন্যতা… ওইটুকুই জীবনকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়।”

হিয়া নীরবে বসে, মাথা নুয়ে সেই কথাগুলো আত্মস্থ করছিল। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ ধীরে ধীরে বললেন, “ভালোবাসা কেবল কাছে থাকলেই হয় না… ওটা মনে বাঁচে, হিয়া। ওকে হয়তো আমি পাইনি, কিন্তু… আমি ওকে হারাইনি, হারিয়েছি ওকে ছুঁয়ে থাকার সুযোগটা।”

এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে তিনি আকাশপানে তাকিয়ে বললেন, “হিয়া, তোমার বয়সটা যে, খুবই ছোট। তোমাকে ভাবাবে, ভালোবাসা কি সত্যি? তখন শুধু মনে রাখবে, ভালোবাসা কখনো মিথ্যা হয় না, মানুষ হারায়, সময় ফুরায়, কিন্তু ভালোবাসা থাকে… রঙহীন বাতাসের মতো, সবখানেই। তবে অবশ্যই সেটাকে ভালোবাসা হতে হবে।”

হিয়া এবার কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলল, “বড় দাদাভাই… আপনি খুব কষ্ট পেয়েছিলেন, না?”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ হালকা হেসে বললেন, “কষ্ট না পেলে মানুষ বড় হয় না, হিয়া… ওই কষ্টই আমাদের শিখিয়ে দেয়, কতটুকু ধীরে ভালোবাসতে হয়, কতটুকু ত্যাগ করতে হয়।”

একটা নিরবতা এসে ঘরটাকে ঢেকে নিলো, যেন সময়ও হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে ওদের কাছে। হিয়া আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়াল, হাতে ডায়েরির কভারটা একবার ছুঁয়ে নিল, যেন সে সেই গল্পের শেষ লাইনটুকু অনুভব করতে চায়।

দরজার কাছাকাছি গিয়ে একবার পেছনে তাকাল। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ জানালার দিকে মুখ করে বসে আছেন, চোখে একধরনের অদেখা আলো, মুখে ক্ষীণ হাসি, যেন তিনি এখন আর এই ঘরে নেই, ফিরে গেছেন বহু বছর পেছনে, যেখানে আজও ছুটে বেড়ায় তার শখের নারী।

হিয়া ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। বাইরে পায়ের নিচে মেঝে নরম মনে হলো, বাতাস গায়ে এসে শিহরন তুলল। তার মনে বারবার রিপিট টেলিকাস্টের মতো বাজতে থাকলো, আব্দুর রুশান মোহাম্মদের উচ্চারিত প্রত্যেকটা শব্দ।

হিয়া হালকা এক নিশ্বাস ফেলল, ধীরে পায়ে পায়ে হেঁটে গেল অজানা এক উত্তর খুঁজতে, যে উত্তরের নাম তূর্য। তবে এখানে প্রশ্ন কোথায়? হিয়ার কাছে তো কোন প্রশ্ন নেই তাহলে সে প্রশ্নের উত্তর কি করে তূর্য হয়?

_________

চলবে...... ❤️