নির্বাসিত কৃষ্ণচূড়া — পর্ব ২১

লেখক: সাদিয়া তিন্তি · বিভাগ: রহস্য · পর্ব ২১ · ৪৭ পর্বের মধ্যে ২১

চাবির দিকে তাকিয়ে থাকা তূর্যের চোখ যেন ধীরে ধীরে সরে আসে সেই ছেঁড়া খামগুলোর দিকে। বাক্সের এক কোণে চাপা পড়ে থাকা পাঁচ-ছয়টা খাম। হালকা বাদামি রঙের, কাগজে ছত্রাকের দাগ, আর আঠা শুকিয়ে গিয়ে খামগুলো প্রায় খোলাই হয়ে গেছে। কেউ যেন অনেক যত্নে লিখেছিল চিঠিগুলো, কিন্তু কোনোদিনই পাঠানো হয়নি। তূর্য প্রথম খামটা হাতে নেয়। চিঠির কাগজটা ভাঁজ খুলতেই প্রায় ছিঁড়ে যায়, কাগজ এতটাই পুরোনো হয়ে গেছে। ছিঁড়ে যাওয়া অংশগুলো হাতের ছোঁয়াতেই গুঁড়ো হতে চায়। তারপরও যত্ন করে তূর্য হাতে গোছায়। খুব অগোছালো হাতের লেখা,

"প্রিয় রুশান,

আমি জীবনে একদিনের জন্য হলেও আপনার নাম ধরে আপনাকে সম্বোধন করতে চাই।

আমি আপনাকে বলতে চাই আমার মনের গভীরে যে সুপ্ত অনুভূতিরা বাসা বেঁধেছে, তারা শুধু অনুভূতি নয়, তারা আপনাকে ছুঁয়ে যাওয়ার মত এক একটা মস্ত বড় আবেগ। এক অদ্ভুত নিয়মে, আপনি কখনো জানতেই পারেন নি, কেউ একজন আপনার নামে তার জীবন উৎসর্গ করে বসে আছে।

যদি ভাবতে যাই আমার আপনার কি ভালো লাগে, তবে হিসেব বেশ গোলমেলে হয়ে যাবে। হিসেব কষতে হবে আপনার কি আমার ভালো লাগে না। তবে এখানেও অদ্ভুত নিয়ম! ভালো না লাগার কিচ্ছু খুঁজে পাওয়া আমার জন্য অসম্ভব।

আমার ভালো লাগে তোমার এই চুপচাপ থাকা স্বভাবটা, কারো সাথে না কথা বলার ব্যাপারটা, নিজের আলাদা একটা জগতে থাকা।

আপনার ঘরের সামনে দিয়ে যতবার হেঁটে হেঁটে যাই, ততবার আমার বুকের মাঝে ধুকপুক শব্দ হয়। ভয় লাগে যদি সেই শব্দটা আপনার কানে পৌঁছে যায়! একদিন আপনাকে সব জানাবো। আপনি কি হাসবেন? আপনি এত অন্যরকম কেন রুশান ভাই? আপনি একটা মস্ত মায়া। আর যে মায়া আমি শুধু ডুবছি আর ডুবছি। খুব তাড়াতাড়ি সে দিন আসবে আমার যেদিন এই অনুভূতি কাগজে নয়, আপনার কান শুনবে।

ইতি

আপনার একান্ত নিজের তুহুরা"

হিয়া প্রচন্ড আচঙ্কিত হয়ে বলে ওঠে, “তুহুরা তাহলে বড়দাদাকে ভালবাসত?”

মিম নিজের কপালে হাত দিয়ে বলে ওঠে, “এ কেমন গোলক ধাঁধা! তুহুরা হয়তো ওর মনের কথা কাউকে বলতেই পারেনি।”

পিউ বাক্স থেকে আরেকটা খাম তুলে দেয় তূর্যর হাতে। চিঠি খুলে পড়তে শুরু করে তূর্য, এখানেও সবটা অস্পষ্ট, তবে যা কিছু বোঝা যায় তাতে লেখা,

"প্রিয় রুশান ভাই,

আপনাকে কখনোই বলতে পারিনি। এতবার ইচ্ছে হয়েছে, গলা পর্যন্ত উঠে এসেছে কথা, কিন্তু কণ্ঠ গহবরে আটকে গেছে।

আপনি যখন পুকুরঘাটে বসে বই পড়েন, আমি দূর থেকে দেখি। মনে হয়, আমার সমস্ত দুনিয়া ওই বইয়ের পাতায় লেখা যা আপনার কপালের রেখার মতো শান্ত।

আপনি হাসেন না একদমই কিন্তু যেদিন হালকা হেসেছিলেন, সেদিন মনে হয়েছিল গোধূলির আলো আমার নাম ধরে ডেকেছে। আমি জানি, আপনি হয়তো এসব কোনোদিনই জানতে পারবে না।

তবু আমি লিখি। আজ বিকেলে খালাম্মা আর খালুজান কথা বলছিলেন। আপনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হবেন, এরপরই আপনার আর আমার বিয়ে দিয়ে দেবে। খালুজান চায় আপনি যেন খুব ভালো একটা সরকারি চাকরি পান। আমিও চাই আপনি অনেক অনেক সফল হন। বিয়েতে কিন্তু আমার লাল স্বর্ণকাতানই চাই! ইস! কি লজ্জাজনক কথাবার্তা! আপনার প্রনয়ে আমি দিনকে দিন বেহায়া হয়ে যাচ্ছি।

ইতি

আপনার একান্ত নিজের তুহুরা"

চুপ করে যায় সারা ঘর। যেন শব্দটা বাতাসেও থমকে গেছে। আরও খাম একে একে খোলে তারা তবে চিঠি নেই, ফাঁকা। তিন চারটে খাম পেরিয়ে একটা চিঠি মেলে,

"প্রিয় রুশান,

হয়তো এইটাই আমার আপনাকে লেখা শেষ চিঠি। আর লিখতে পারছি না, হাত কাঁপছে, চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। আমি এখন ক্লান্ত। ভালোবাসা খুব নিষ্ঠুর, জানেন?

কেন আপনি প্রকৃতিকে ভালোবাসলেন? আমার ভালবাসা কি আপনার চোখের নজর একবারও ছুঁলো না? একটাবারের জন্যও কি আমার দিকে তাকিয়ে দেখা গেল না, রুশান ভাই!

আপনাকে আমি ঠিক তখন থেকে ভালবেসেছি যখন থেকে আমি ভালোবাসার মানে বুঝতে শিখেছি। আপনি আমার সঙ্গে কেন এমন করলেন? আপনার এই পাগলামি প্রকৃতির জায়গায় কি তুহুরার নামে হতে পারত না?

প্রকৃতি আপনাকে কতটাই বা ভালোবাসবে রুশান ভাই? সে তো এটা জানতেই বছর কাটিয়ে দেবে, যে কেন আপনার প্রিয় রঙ সাদা। পুরো পৃথিবী যেখানে গোলাপে অন্ধ সেখানে কেন আপনার প্রিয়, অবহেলায় বেড়ে ওঠা গন্ধরাজ। কেন আপনি ঘন্টার পর ঘন্টা আপনার ঘরের দক্ষিণে তাকিয়ে থাকেন। প্রকৃতি কোনদিন জানতেই পারবে না, আপনি কেন ছাদের পূবে বাগান বিলাস লাগিয়েছেন। সে কি করে জানবে যে উপন্যাস নয়, কবিতা আপনার প্রিয়! আমি আপনাকে নিজের রন্ধে রন্ধে ঠিক এমন ভাবে গ্রহণ করে নিয়েছি, যেন তা আমার রক্তে মিশে গেছে। প্রকৃতি কখনো জানতেও পারবেনা, যে কেউ তার থেকেও রুশানকে অনেক বেশি ভালোবেসে ছিল। কিন্তু দিন শেষে পাওনার খাতায় কিচ্ছু মেলেনি তার।

পৃথিবী কি এমন নিষ্ঠুর! যে যা চায় তার কিছুই তার মেলে না?

গতরাতে গভীর কষ্টে একান্নটার মত চিঠি পুড়িয়ে দিয়েছি। এখন খুব আফসোস হচ্ছে। অন্ততঃ আপনার জানা উচিত কেউ আপনাকে ঠিক কতটা গভীর ভালোবাসতো। আমি চাই আপনি জানুন আমার ভালোবাসা কতটা গভীর ছিল, কিন্তু ঠিক সেদিন যেদিন আমি এই দুনিয়ায় থাকবো না। ধরে নেন এটাই আমার শেষ ইচ্ছা। ইচ্ছে কখনোই মৃত্যুর আগে পূরণ হতে নেই। আর আমি যদি কোনদিন হুট করে মারা যাই, জেনে নেবেন ভালোবাসার শূন্যতায় আমি মারা গেছি। আমি এক আজন্ম দুর্ভাগ্য নিয়ে জন্মেছিলাম সেই দুর্ভাগ্য আমায় মেরেছে। বেলা শেষে তুহুরাকে কেউ ভালোবাসে নি। তুহুরার ভাগ্য তুহুরাকে কিচ্ছু দেয়নি। তুহুরা শুধুমাত্র রুশানকে চেয়েছিল।

আপনি ভালো থাকেন। আপনি যাকে চান তাকেই পান। এই অপ্রাপ্তির কষ্ট কোনদিন আপনাকে না ছুক। আপনি আমার দোয়ায় ছিলেন, থাকবেন।

যদি কখনো এই চিঠিগুলো পান, মনে রাখবেন, একজন ছিল, যে শুধু আপনাকে ভালোবেসেছিল নিঃশব্দে, নিঃস্বার্থে।

ইতি তুহুরা"

সবাই চুপ। কারো কোন শব্দ নেই। বাকি চিঠির খামে কোন চিঠি নেই। শুধু খাম। ঘরের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে আসে। সবার মুখে নিঃশব্দ আতঙ্ক। পিউ, মিম, হিয়া কারোরই মুখে কোনো শব্দ নেই। তূর্য শেষ চিঠিটা মুঠো করে ধরে রাখে, যেন হাত ফস্কে পড়ে গেলে চিরতরে হারিয়ে যাবে কোনো অমূল্য সত্য।

ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিক রাত তিনটা ছুঁয়েছে। এই গভীর রাতে, নিঃস্তব্ধ ঘরের মধ্যে, দেয়ালের ঘড়ির শব্দ যেন বুকে পাথরের মতো বাজে। সবার চোখে এক অপূর্ণ ভালোবাসার অভিমান জমে ওঠে।

তাদের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চিঠিগুলো তখন আর কাগজ নয়, সেগুলো একেকটা জীবন্ত নিঃশ্বাস একটা আত্মার কথা বলা, এই দুভাগ্যবান প্রেমিকার কথা বলে।

ঘরের বাতাসে এক অদ্ভুত গন্ধ, যেন রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে ভেসে আসছে তুহুরার দীর্ঘশ্বাস।

সকলেই চুপচাপ বসে থাকে। কেউ আর কিছু বলে না। ভোর তখনও অনেক বাকি…

হিয়া হঠাৎ নিঃশব্দতা ভেঙে বলে ওঠে, “আমার খুব জানতে মন চাইছে… এই গল্পে আসলে কে কাকে পেল? কেউ পেলও কি? এত রহস্য কেন এই সাদামাটা জীবনে?”

তার কণ্ঠে কান্না চেপে রাখা কৌতূহল, এক ধরনের বেদনার খাঁজ। মিম নিচু গলায় বলে, "আমার প্রশ্ন এখানে যে, তুহুরাকে এতো অবহেলা কেন? তার ঘর এখনো এ বাড়িতে আছে, তার জিনিসপত্র তো ঘরেই যত্নে রাখা যেত চিলেকোঠায় এতো অযত্নে ফেলে রাখার মানে কি?”

পিউ ধীরে ধীরে বলে, “সে যে কারণেই হোক, আসলেও কি কেউ জানতো যে, তুহুরা রুশান মানে বড় দাদাকে ভালবাসত?”

শুধুই অজস্র প্রশ্ন, তবে এদের কোন উত্তর নেই। তূর্য চুপচাপ তাকিয়ে থাকে ছিঁড়ে যাওয়া চিঠিগুলোর দিকে। তার ঠোঁট কাঁপে, কিন্তু কিছু বলে না। তার চোখে এক নিঃশব্দ ভাষা যেন সে নিজেই খুঁজে ফিরছে সেই না-বলা শেষ কথাগুলো। তার অংক কোনভাবেই মিলছে না। এসব কিছুর মাঝেও তার মস্তিষ্কে গাঢ়ভাবে গেঁড়ে আছে, আজ সন্ধ্যেতে সদ্য শোনা মিনু রহমানের সেই সামান্য কথার অংশটুকু। এইসব গল্পের মধ্যে তাহলে মিনু রহমানের পাপ কোনটুকু? কলকাতায় শঙ্খ! এই শঙ্খ চরিত্রটা আসলে কে? এপার বাংলার একজনকে ওপার বাংলা থেকে চিঠি পাঠাচ্ছে তাও সেই যুগে? এটা কি স্বাভাবিক নেওয়া উচিত? শঙ্খ ছেলে না মেয়ে?

ঘরের এক কোণে বাতাস একটু নড়ে ওঠে। জানালার পর্দাটা হালকা দুলে ওঠে।

আর হিয়া নিচু গলায় ফিসফিস করে বলে, “আমাদের এখন ঠিক কি করা উচিত?”

সকলেই তূর্যর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন সে যেটাই বলবে সেটাই সকলের চুপচাপ মেনে নেবে। তূর্য একটু চুপ থেকে বলে, "এই চিঠি গুলোর অপেক্ষার বয়স ৫০ বেরিয়ে গেছে। অন্ততঃ এখন সে মানুষটার জানা উচিত যে তাকে ভালোবাসার মানুষ আরো একজন ছিল। আর হতেই পারে বড় দাদা এই শঙ্খ নামের চরিত্রটাকে জানেন।"

সবাই চুপ করে বসে থাকে, সকলের মাঝে সকল রকম কথা ফুরিয়ে গেছে যেন। ভোর হলেই তাদের ছুটতে হবে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। এ শহর ছেড়ে শত শত কিলোমিটার দূরে। তবে তারা কেউই যেন এই মুহূর্তে আর বাড়ি ফিরতে চায় না, সকলেই থেকে যেতে চায় জিদ করে হলেও।

ভোর হওয়ার আগেই ওরা সবাই নিঃশব্দে যে যার কক্ষে ফিরল। কেউ কারও দিকে তাকাল না, কেউ কিছু বলল না কেবল দরজা খোলার শব্দ এলো। তবুও, আজ রাতটা ওদের ভেতরে একটা কিছু জমাট বেঁধেছে।

ঘুমের নামগন্ধ নেই কারও চোখে। তূর্য বিছানায় বসে ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে শুধু। আলিফ চুপচাপ বসে থাকে চেয়ারে। পিউ একটানা চিঠিগুলোর কিছু লাইন কাগজে টুকে রাখে, যেন হারিয়ে না যায়। মিম জানালার পাশে বসে এক কাপ কফি হাতে নিয়ে গভীর চিন্তায়। আর হিয়া সে শুধু ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়, যেন নিজের ভেতরের প্রশ্নগুলো থেকে পালানোর চেষ্টা করছে।

সকালটা ধীরে ধীরে আলোয় ডুবে যায়। শহরটা যেন নিঃশব্দ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। আর এই বাড়ির ভেতর সকালের নাস্তার টেবিলে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা নেমে আসে। সবার হাতেই এক কাপ চা, কিন্তু কেউ তখনো কিছু বলছে না।

শেষমেশ ব্যাগ গুছিয়ে সবাই তৈরি হয় বিদায়ের জন্য। আজ আর থেকে যাওয়ার কোন উপায় নেই। সকলের চোখে অঘুমন্ত ক্লান্তি, কিন্তু মন ভরতি এক অসম্পূর্ণ প্রশ্নের ভার। গাড়িগুলো এসে দাঁড়ায়। মিম, পিউ, হিয়া একে একে দরজার দিকে পা বাড়ায়। তখনই তূর্য ইশারায় হিয়াকে সব বোঝায়। যেন সময় হয়েছে বাক্সটা তার যোগ্য মানুষের হাতে পৌঁছে দেয়ার। তূর্য ধীরে ধীরে সেই কাঠের বাক্সটা বের করে হিয়ার হাতে দেয়। চোখে একবার ইশারা দিয়ে মিম, পিউ আর আলিফকে বুঝিয়ে দেয় মিনু রহমান আর আব্দুর রবিউল মোহাম্মদকে সামলাতে। হিয়া বাক্সটা হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটতে থাকে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের ঘরের দিকে। তূর্য পিছে যায়।

বৃদ্ধ মানুষটি তখন জানালার পাশে বসে, চুপচাপ বাইরে তাকিয়ে ছিলেন। বাতাসে তার সাদা চুল উড়ছে, আর চোখে অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার ক্লান্তি।

হিয়া কাঁপা কাঁপা হাতে বাক্সটা এগিয়ে দেয়।

নম্র কণ্ঠে বলে, “বড় দাদা, আমরা চিলেকোঠায় গতকাল এই বাক্সটা পেয়েছিলাম। আমরা জানি না আপনি সব জানতেন কিনা… কিন্তু আপনার জানা উচিত।”

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ কিছু একটা বুঝেও যেন বুঝতে পারেন না। ধীরে ধীরে বাক্সটা হাতে নেন। একবার ভালো করে দেখেই বলেন, "তুহুরার গহনার বাক্স!"

হিয়া মাথা নাড়িয়ে বলে, "হ্যাঁ তবে এর ভেতরে গহনা নয় কিছু চিঠি আছে। আপনার জন্য।"

বাক্সটা টেবিলে রেখে, খুলে একবার হাত বুলিয়ে নেন সব জিনিসে। তার হাতে পড়ে রুপোলি পায়েলটা। তিনি তুলে ধরেন নিজের সামনে। আব্দুর রুশান মোহাম্মদের চশমার কাঁচ ঝাপসা হয়ে আসে। ঠোঁট কাঁপে, কিন্তু কোনো শব্দ আসে না। তার চোখ জলে ভরে যায়।

অবশেষে, অনেকক্ষণ চুপ থাকার পর তিনি বলে উঠেন, "এটা...... এটা তো প্রকৃতির!"

হিয়ার চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তূর্য দরজা থেকে আরো কয়েকপা এগিয়ে আসে। হিয়া বিষ্ময় নিয়ে বলে, "প্রকৃতির মানে?"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ বলেন, "এটা প্রকৃতির পায়েল। আমি দিয়েছিলাম ওকে।"

তূর্য আরো একটু এগিয়ে এসে বলে, "আপনি নিশ্চিত এটাই সেটা? একই পায়েল তো তুহুরারও থাকতে পারে!"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ বলেন, "এই পায়েলের লকটা দেখো, ইংরেজি অক্ষর P এর মতো। এই পায়েলটা রুপো দিয়ে গড়া। আমি নিজে গড়িয়েছিলাম এটা প্রকৃতির জন্য।”

তূর্য আর হিয়া পরস্পরের দিকে তাকায়। দুজনের চোখেই প্রশ্ন। হিয়া এবার প্রশ্ন করলো, "তুহুরা প্রকৃতিকে চিলতো?"

আব্দুর রুশান মোহাম্মদ চুপচাপ পায়েলটা হাতে ধরে বসে পড়েন। তার চোখ তখন দূরে, বহুদিন আগের কোনো এক স্মৃতির দিকে হারিয়ে গেছে। এরপর বললেন, "অসম্ভব। তুহুরা কেন, রবি ছাড়া প্রকৃতিকে আর কেউই দেখে নি, এবাড়ির।"

_____________

চলবে..... 🖤