নির্বাসিত কৃষ্ণচূড়া — পর্ব ৩২

লেখক: সাদিয়া তিন্তি · বিভাগ: রহস্য · পর্ব ৩২ · ৪৭ পর্বের মধ্যে ৩২

আজকের বিকেলের মতো সূর্য এত মন্থরভাবে কখনো ডুবে যায়নি বোধহয়, এভাবে এক সাথে এতো চোখে। যেন প্রতিটা রঙ মেখে গেছে সব গল্পের গায়ে।

তূর্য যে নিজের লাগাম ছাড়া অনূভুতির দাস হয়ে উঠেছে তা সে জানে। তাও সে এ দাসত্ব করতে প্রস্তুত। হিয়ার চোখের অরণ্যের নীরবতার ঠাণ্ডা আগুনের তাপেই যেন তূর্য নিজেকে নিঃশেষ করতে প্রস্তুত। তবে এই অনুভবের স্রোতে হঠাৎ এক ধাক্কা। তূর্যর ফোনটা বেজে ওঠে।

অপ্রত্যাশিত নয়, তবু এতটাও প্রত্যাশিত নয়। স্ক্রিনে নম্বরটা ভেসে উঠতেই তূর্য এক মুহূর্ত থেমে থাকে, তারপর খুব ধীরে কলটা রিসিভ করে। ওপাশ থেকে কণ্ঠটা বললো কেবল, "অপেক্ষা করছি। ফাইল রেডি‌।"

তূর্য আর কোনো প্রশ্ন করে না। ফোন পকেটে রেখে ধীরে পা ফেলে নেমে যায় নিচে, বাড়ির বাইরে। সব যেন সময়ের হিসেব।

এদিকে হিয়া তার অস্থিরতার অদ্ভুত চক্রে আটকে আছে। এই অনুভুতির মুক্তির আশায় সে খোলা আকাশ খোঁজে। অন্ধকারে পায়চারি ফেরে সারা ছাদ। কিন্তু হঠাৎ ছাদের কোণার খোলা রেলিং থেকে চোখ যায় নিচে, দরজার পাশের অন্ধকার চাতালে।

একটা কালো হুডি পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না। তার হাতে একটা মাঝারি সাইজের ফাইল। লোকটা চারপাশ দেখে না, শুধু তূর্যের দিকে এগিয়ে আসে। খুব শান্ত, সুনিয়ন্ত্রিত ভঙ্গিতে। লোকটা ফাইলটা তূর্যের দিকে এগিয়ে দেয়, তূর্য কোন প্রশ্ন করে না। হাতে ফাইল তুলে নেয় নিঃশব্দে। তারপর লোকটার সঙ্গে হাত মেলায়। লোকটাকে একটা ছোট্ট প্যাকেট এগিয়ে দেয়। কোন দীর্ঘ আলাপ নেই, কোন উত্তেজনাও না। যেন এ এক বহু পুরোনো ঠিকানায় বহুবার দেখা হয়েছে এরকম।

লোকটা যেতেই তূর্য ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায়। হিয়া রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকে স্তব্ধ, চোখে কেবল ধরা পড়ে নিঃশব্দ কৌতূহল। তবে এই দৃশ্যও যেন হিয়ার অস্থিরতা কমাতে অক্ষম। হিয়ার চোখে দৃশ্যটা উপস্থিত হলেও এসবের ব্যাখ্যা খুঁজে ফেরার অবসর নেই তার। তার বুকের ভেতর এখন কেবল একটা অনির্বচনীয় টানাপোড়েনে আটকে গেছে। সে পাগলের মতো খুঁজতে চায় তূর্যর শক্ত শব্দের অর্থ। ছাদের বাতাসে দীর্ঘ সময় হেঁটে বেড়ায় হিয়া। যেন প্রতিটি পা ফেলে নিজেকে বোঝাতে চায়, তার এই বিক্ষোভ, এই হঠাৎ বুক ধড়ফড় করে উঠা এই নির্জন সন্ধ্যার নিঃশব্দতা। এই সবটাই কেবল এক ধরণের বিভ্রম।

সন্ধ্যায় চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রাতের খাবার সবখানে হিয়ার উপস্থিতি যেন অনুপস্থিতির মতোই নিঃশব্দ। সে যেন কোনো এক জটিল দ্বন্দ্বের মধ্যে আটকে গেছে। তবে তার এই নীরবতা শুধু শব্দের অভাবে নয়, এই নীরবতা আসলে স্পষ্ট কোন অনুভব, যা বোঝার যুদ্ধ চলছে।

সময় পেরোয়। রাতটাও যেন হিয়ার ঘরের চার দেয়াল ছাড়িয়ে তার মনের দেয়ালে ধাক্কা খেতে খেতেই গড়িয়ে যায়। বাতাসে হালকা দোলনচাঁপার গন্ধ, কিন্তু এই সুবাস তাকে আরো চঞ্চল করে তুলছে। সে বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে আছে ঠিকই, কিন্তু ঘুম এসে থেমে যায় তার চোখের পাতার ধারে। তার ভেতরে চলা দ্বন্দ্বটা অস্পষ্ট। সে শুধু এটুকু জানে, তূর্যকে নিয়ে তার মনে এক অজানা ঝড় চলছে।

রাত কেটে ভোর হয়। জানালার কাঁচে ধুয়াচিটে আলো জমতে থাকে। ঘুম না হলেও চোখ বন্ধ রেখে একটা ছদ্মবিশ্রাম নিয়ে উঠে বসে হিয়া। আজকের সকালটা তার ভেতরের বিক্ষোভকে লুকিয়ে রাখতে শেখার সকাল। সে নিজের মুখে এক টানটান স্বাভাবিকতার মুখোশ পরে ফেলে।

মিম এসব তোলপাড়ের এক নিরব দর্শক। তবে সে যেন কোন রকম হস্তক্ষেপ করতে নারাজ। সে চায় এরা নিজেদের মতো সব গুছিয়ে নিক। এসব ভাবনার ফাঁক তলে দু'জনেই চট জলদি তৈরি হয়ে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার আয়োজনে। আজ অবশ্য মনের বিরুদ্ধেই ছুটতে হচ্ছে ক্যাম্পাসের চৌকাঠে। এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার শেষ তারিখ আজ। তাদের অবহেলাই অবশ্যই এটাকে শেষ তারিখে এনে আটকেছে। কিন্তু এখন আর বাহানার সময় নেই।

সকালের নাশতা খুব শান্তভাবে থামে। হিয়া তূর্যের দিকে একবারও তাকায় না। চোখাচোখি হলেই যেন তূর্য বুঝে যাবে তার মনের হাল। এই ভয়টাই তাকে স্থির ধরে রেখেছে।

খুব দ্রুত খাবার শেষে ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে মিম আর হিয়া বেরিয়ে পড়ে তাদের ক্যাম্পাসের পথে। রোদটা হালকা, বাতাসে গাছের পাতার চিরচির শব্দ। হিয়া আর মিম পাশাপাশি হাঁটছে। রাস্তার ধারের সবুজ পাতা গুলো বাতাসে হালকা দুলছে। তাদের এই পথটুকু যেন সকাল আর বিকেলের মাঝখানে কোনো এক নীরব যাত্রাপথ, যেখানে শব্দ কম, ভাবনারা বেশি। মিম হঠাৎ হিয়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুই এখন কি চাস হিয়া?”

হিয়া কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে, তারপর ভ্রু কুঁচকে জবাব দেয়, “কি চাই মানে?”

মিম থামে না, পা চালাতেই থাকে, কিন্তু গলাটা নরম করে, "আমি জানি না, তোর সাথে আসলে কি নিয়ে কথা বলা উচিত।”

হিয়া কিছুই বলে না। মিম নিজে থেকেই বলে ফেলে, “আমি ঠিক বুঝতে পারছি না– ইটস লাভ? অবসেশন? নাকি শুধুই পছন্দ?

কিন্তু সে যা-ই হোক, আমি চাই তুই এভাবে ঝিমিয়ে না থাক। এই রুপটা তোর সাথে যাচ্ছে না একদম।"

কথাগুলো যেন হিয়ার মনে ঝিমিয়ে থাকা হৃদস্পন্দন দ্রুত করে তোলে। লাভ, লাইক অর অবসেশন? এ শব্দগুলো সে শুনেছে মাত্র। তাও বারংবার। কিন্তু আজ এই শব্দগুলো যেন তার মনের দরজায় প্রথমবার তার নিজের নামে এসেছে।

হিয়া কিছু বলে না। চুপচাপ হাঁটে। তার মনের ভিতরে যেন উল্টেপাল্টে যাচ্ছে কোনও পুরনো পাণ্ডুলিপি, যার প্রতিটা পাতায় শুধু প্রশ্ন, উত্তর নেই। প্রশ্ন মানেই তিনটা শব্দই, লাভ, লাইক অর অবসেশন। সে আসলে কিসে বাঁধা পড়েছে? সে কি কোন অনুভূতির ট্যাগলাইন খুঁজছে…?

এই সব প্রশ্ন যেন তার ভেতরে ঝিমিয়ে পড়া আগুনটাকে উসকে দিচ্ছে। তখনই মিম আবার মুখ ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করে, “আজ কি তুই যাবি তূর্য ভাইয়ের সাথে? শঙ্খ সাহেবের সাথে দেখা করতে?”

প্রশ্নটা হিয়ার কানে পড়তেই যেন হঠাৎ থেমে যায় সবকিছু। যে এক পা দু'পা করে সে হাঁটছিল, তাও একেবারে থেমে গেল। চোখ বড় করে তাকিয়ে পড়ে মিমের দিকে। সে তো ভুলেই বসেছিল, শঙ্খ সাহেবের কথা। তার চোখে হঠাৎ আবার আলো জ্বলে ওঠে। চঞ্চলতা ফেরে তার মুখে। সে ব্যাগ থেকে তড়িঘড়ি ফোন বের করে তূর্যর নম্বর খুঁজে বার করে। হাত যেন কাঁপছে না, কিন্তু মনটা কাঁপছে প্রচণ্ড। দ্রুত সে মেসেজে লিখে, "বিকেলে কখন যেতে হবে শঙ্খ সাহেবের সাথে দেখা করতে?"

তারপর স্ক্রিনের দিকে চেয়ে থাকে নিঃশ্বাস। সময় যেন থেমে যায় কয়েক মুহূর্ত। তবে উওর আসে না। একটা মিনিট, দুইটা... পাঁচটা... সাত মিনিট পার হয়। হিয়া ফোনটা ব্যাগে ঢোকাতে গিয়েও থেমে যায় বারবার। বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও পায়চারি চলতে থাকে লাগাতার। ঠিক দশ মিনিট পর, ফোনটা হালকা শব্দে ভাইব্রেট করে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটাই শব্দ, “সাড়ে চারটায়।”

হিয়ার বুকের ভেতর যেন হালকা কিছু নেমে আসে। কোনো উত্তর ছাড়া এই সময়টাই যেন অনেক কিছু বলে দেয়। মিম পাশ থেকে ঠোঁট টিপে হেসে বলে,"তুই পাগল হয়ে গেছিস হিয়া। নিজেও ক্লাসে যা আমাকেও যেতে দে। প্লিজ।"

হিয়া এবার হেসে ফেলে। একটুখানি মাথা নিচু করে বলে, "যা যা ক্লাসে। আজ বিকেলের অপেক্ষায় থাকতে পারছি না আমি।"

মিম মৃদু হেসে বলে, "উনিই যদি তুহুরার শঙ্খ হয় তবে অনেক কিছুই বোধহয় জানা যাবে। আমারো খুব যেতে ইচ্ছে করছে তোদের সাথে।"

হিয়া খুশি হয়ে বলে, "চল তবে। তূর্য ভাইকে বললেই তোকেও নেবে।"

মিম ফোনে সময় দেখে বলে, "না না। এতো সাহস নেই আমার। থাক তুই ক্লাস আছে আমার।"

মিম তাড়াহুড়ো করে চলে যায়। হিয়া চুপচাপ নিজের ডিপার্টমেন্ট ছেঁড়ে হাঁটতে থাকে টিএসসির চত্ত্বরে। তখনও সকালটায়, শেষের ব্যস্ততা ঘুরপাক খাচ্ছে। এখানে ছড়ানো ছিটানো জীবনচিত্র চোখের সামনে মেলে আছে। যার মাঝে জড়িয়ে আছে সবাই। তবে এতো আয়োজনের মাঝেও হিয়া তার ভেতরে যেন খুব একা। চারপাশের পৃথিবীর সাথে তার কোনো সমঝোতা নেই আজ। সে হেঁটে যায় ধীরে, টিএসসির ভেতরের পুরনো একটা গাছের ছায়ায় গিয়ে দাঁড়ায়। মাথার ওপরে কাক ডাকে, হাওয়া বইছে ফাল্গুনের পরশে, কিন্তু তার ভেতরের কুয়াশা কাটছে না কিছুতেই। সে পাথরের বেঞ্চটায় বসে। চারপাশে মানুষ আসছে যাচ্ছে, তবু সে একেবারে একা।একাকিত্বে সে উদ্ভট স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছে আজ। হিয়া চোখ মেলে আকাশের দিকে তাকায়। মেঘের আড়াল ছেড়ে সূর্য উঁকি দিচ্ছে একটু একটু করে। ঠিক যেমন করে কোনো সম্পর্ক নিঃশব্দে উঁকি দেয় বাস্তবের কোল থেকে।

হিয়া এবার চোখ বন্ধ করে, বাতাসের দিকে মুখ তুলে বসে থাকে কিছুক্ষণ। বেশ কিছু সময় কাটানোর পর তার মনের ভার যেন একটু হালকা হয়। এক ধরনের আত্মসমঝোতার ভারে সে একটু সোজা হয়ে দাঁড়ায়। পায়ে পায়ে ফিরে যায়। ডিপার্টমেন্টে পৌঁছে, নীরবভাবে সাবমিট করে তার এসাইনমেন্টটা। মিমও ততক্ষণে নিজের কাজ সেরে নিয়েছে। আজ আর ক্যাম্পাসের অলি গলিতে আটকে না থেকে দুইজনেই রওনা হয় বাড়ির উদ্দেশ্যে। সব যেন বিকেলের আয়োজন।

দুপুরের কাঠফাঁটা রোদেই বাড়ি ফেরে তারা। তবে এখানে যেন অন্য আয়োজন। আব্দুর রবিউল মোহাম্মদ এসেছেন একেবারে বিনা নোটিশে। তিনি মহা আরামে বসার ঘরে বসেই জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন নিজের ভাই আর মাসুম সাহেবের সাথে। মাসুম সাহেব অবশ্যই প্রায় রোজই আসেন আব্দুর রুশান মোহাম্মদের সাথে সময় কাটাতে। তবে নিজের দাদাভাইকে দেখে হিয়া একেবারে চমকালো। সে দৌড়ে গিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো নিজের আব্দুর রবিউল মোহাম্মদের দিকে। খুব সরলতা নিয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এটা একদম ঠিক না দাদাভাই। আপনি যে আসবেন একবার বললে আমি আরো কতো আগেই চলে আসতাম।”

আব্দুর রবিউল মোহাম্মদ হাসেন, হিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, “তোকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিলো। তাই ভাবলাম তোকে চমকে দেই, এই কারনেই হুট করে হাজির হলাম।”

হিয়ার মনের সব ভার যেন একেবারে গায়েব হয়ে গেল। আচমকা নিজের প্রিয় মানুষকে দেখে। আব্দুর রুশান মোহাম্মদ হিয়ার এমন বাচ্চামি দেখে হেসে বললেন, “গত রাতেই রবি বলেছিল ওর আসার কথা। খাবার টেবিলে তো তুমি এলে আর চলে গেলে তাই হয়তো শুনতে পাও নি, হিয়া।”

মাসুম সাহেব দিপ্ত হেসে বললেন, “সে ভালো হয়েছে। অপ্রত্যাশিত বিষয় গুলো বেশি খুশি দেয়। দেখনা হিয়া খুশিতে চমকিত।”

এই উল্লাস চলে আরো কিছু সময়। হিয়া আর মিম কিছু সময় কাটিয়ে সোজা উঠে যায় ঘরে। ফ্রেশ হয়ে নেয়, তারপর নিচে নেমে আসে দুপুরের খাবার খেতে। খাবারের টেবিলেও আজ বড় আয়োজন। তবে কিছু একটা অপ্রত্যাশিত নিরবতা। তূর্য অনুপস্থিত। হিয়া এ বিষয়ে বিশেষ কোন প্রশ্ন করে না। বাকি সবাইও এড়িয়ে যায় ওর শূন্যতা।

খাবার শেষে আব্দুর রুশান মোহাম্মদের ঘরে জমে ওঠে আবার আড্ডা। সাহিত্য, স্মৃতি, দেশ সব মিলিয়ে কথার বহর কিছুতেই কমে না। হিয়া কেবল হাসে মাঝে মাঝে, মাথা নাড়ে, কিন্তু মন তার অস্থির। চোখ বারবার ঘড়ির দিকে যায়। ঘড়িতে তখন দুপুর ৩টা ছুঁই ছুঁই, কিন্তু তূর্যের কোনও খোঁজ নেই। অস্থিরতায় হিয়া অবশেষে ফোনটা বের করে মেসেজ পাঠিয়ে দেয়, "আপনি কোথায়? বিকেল তো হয়ে গেল প্রায়..."

মিনিটখানেক পরেই রিপ্লাই আসে, "বন্ধুদের সাথে আছি। তুই রেডি হয়ে থাকিস। ঠিক ৪:৩০টায় যেতে হবে।"

হিয়ার চোখে নেমে আসে কিছুটা স্বস্তি, কিছুটা শঙ্কা, আর এক অদ্ভুত উত্তেজনা। সে লিখে, “দাদাভাই এসেছে। আমি খুব সারপ্রাইজড একদম হুট করেই হাজির।”

সাথে সাথেই তূর্যর রিপ্লাই, “গতরাতেই বড় দাদা বলেছিলেন ছোট দাদা আসবে আজ। আমি অবশ্য অবাক হইনি। তুই তো অন্য জগতেই ছিলি। সে যাক, এসব এখন ভাবার বিষয় নয়। ঠিক টাইমে তুই রেডি না হলে তোকে ছাড়াই আমি চলে যাবো। এখন বিরক্ত করিস না।”

হিয়া তূর্যের শেষ মেসেজটা পড়ে চুপ করে বসে থাকে কিছুক্ষণ।

______________

চলবে...... 🥀