প্রাপ্তি (দ্বিতীয় অধ্যায়) — পর্ব ২৫
লেখক: বিনতে ফিরোজ · পর্ব ২৫ · ২৫ পর্বের মধ্যে ২৫
ইশিকা গম্ভীর ভঙ্গিতে লাঠি হাতে বসে আছে। সামনের দুইজন জড়সড় হয়ে আছে। ডানের জন চট করে তাকিয়ে বামের জনকে খোঁচা দিল। ইশিকা গর্জে উঠলো।
"কি হচ্ছে! কি হচ্ছে! কোনো খোঁচাখুঁচি চলবে না। পড়া পারবে না তো মা-ই-র একটাও মাটিতে পড়বে না।"
ডানের জন কেঁদে উঠতে চাইলে বামের জন তাকে সতর্ক বাণী দিলো।
"কান্নাকাটি বন্ধ কর। নাহলে শুধু শুধু বেশি মা-র খাবি।"
সেসময় বছর পাঁচেকের একটা ছেলে হেলেদুলে এলো। ঘুম ঘুম চেহারা নিয়ে ধপ করে দুই বোনের মাঝে বসে পড়ল। ইশিকার গম্ভীর মুখটা মুহূর্তেই হাসি হাসি হয়ে গেলো।
"কি হয়েছে ভাইয়া? ঘুম পাচ্ছে?"
ছেলেটা মাথা নাড়ালো। ইশিকা হাত বাড়িয়ে বলল, "আসো ঘুম পাড়িয়ে দেই।"
"ও তো এখনো একটা পড়াও দেয়নি বড়াপু!"
"চুপ করো তোমরা! নিজেরা পড়া পারো না আর অন্যজনের পড়া নিয়ে টেনশন করো। আজকের মতো ছেড়ে দিলাম। কালকেও যদি এরকম করেছো তো দেখবে কি করি! আসো ভাইয়া কোলে আসো।"
মেয়ে দুটো কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে আয়িশার কাছে গেলো। ভগ্ন কণ্ঠে বলল, "ফুপি!"
আয়িশা হতাশ নিশ্বাস ছেড়ে বলল, "ইশু পুরো নারীবি-দ্বে-ষী হয়ে গেছে রে। কি আর করবি। এই ছিলো তোদের ঘটে। চল ঘুম পাড়িয়ে দিই।"
ভাইজি দুজনকে কোলে নিয়ে নিজের ঘরে গেলো আয়িশা। দুই দিকে দুটো খাট। নিজেরটাতে শুতেই মেয়ে দুটোর মুখের বুলি ফুটলো।
"ফুপি!"
"বল।"
মশারী বের করলো আয়িশা। বড় জন বলল, "বলো তো আমি বড় নাকি ও?"
"যে বড় তার ডান গালে একটা তিল আছে। তারপর তিল ছাড়া জন তারপর তোদের ভাই। হওয়ার সময়ই মুখস্থ করেছি। ভুল হওয়ার কোনো চান্সই নেই।"
দুজনকে হতাশ মনে হলো। অপরিচিত কারো সাথে দেখা হলে বেশি মজা হয়। দুজনকে কেমন গুলিয়ে ফেলে।
ছোট জন অতি উৎসাহের সাথে ডাকলো, "ফুপি!"
"বলার আগে মশারী চারপাশে গুঁজে দে।"
দুজনেই মশারী গুঁজলো। আয়িশা ভেতরে আসলে তাকে জেঁকে ধরে বলল, "আমাদের হওয়ার দিন নাকি বড় ফুপির বিয়ে ছিলো? তাই?"
"না তো। বিয়ে তার আগে দিন হয়েছে। ঐদিন ছিলো বউভাত।"
"বউভাত কি?"
"বউ কে ভাত খাওয়ানোর দিন।"
"কেনো এর আগে বউ ভাত খায় না?"
"জানিনা। তোরা কি ঘুমাবি নাকি ইশিকার কাছে দিয়ে আসবো?" দুই বোনের ক্রমাগত প্রশ্নে আয়িশা দিশেহারা হয়ে গেলো।
"না না! এই যে শুয়ে পড়ছি।"
"ও ফুপি!"
অন্ধকারের মাঝে প্রশ্ন করলো একজন।
"আবার কি?"
"আম্মু কি তখন অনেক অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল?"
এই পর্যায়ে আয়িশা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তার কিশোরী মুখে খেলা করলো ফেলে আসা দুঃখ অতীতের ছাপ। চিন্তা, কান্নামাখা হাসি। চোখের পাতায় খেলা করলো সেদিনের কথা। এই তো সেদিন! পাঁচ বছর নাকি হয়ে গেছে! কি আশ্চর্য কথা!
•
আহমাদের মুখে যেনো র-ক্ত জমে গেছে। সালেহা বেগম ছেলেকে দেখে ভয় পেলেন।
"তোর কি হচ্ছে আহমাদ?"
"আমি নিশ্বাস নিতে পারছি না মা।"
প্রকৃতই আহমাদের শ্বাস প্রশ্বাস কষ্ট শুরু হয়েছিল। সালেহা বেগম ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে দিলেন।
"আল্লাহকে ডাক বাবা। ডাক্তার তো গেছেই। তুই দোয়া কর। একজন স্বামীর দোয়া, বাবার দোয়া কি আল্লাহ ফিরিয়ে দেবেন?"
আহমাদ মুখে হাত দিয়ে বসে রইলো। বুকটা ভারী লাগছে। মনে হচ্ছে প্রশ্বাসের বাতাসগুলো জমে বুকে সাইক্লোন তৈরি করছে।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন থিয়েটার থেকে ডাক্তার বের হলেন। ঘড়িতে তখন দশটা সতের। দৌঁড়ে গেলেন সাহেদ সাহেব। তবে আহমাদ সহসাই উঠতে পারলো না।
"এই যে আপনার নাতি নাতনীদের নিন। রোগীকে ক্লিন করে কেবিনে দিয়ে দেওয়া হবে। কিছুক্ষণ সময় লাগবে। আর আমরা কিন্তু একজনের মিষ্টি খাবো না। তিনজনের জন্য আলাদা মিষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে।"
আহমাদ শুধু শুনলো। এগিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েও নিজের ছেলে মেয়েদের কোলে নিতে পারলো না। মালা বেগম, সাহেদ সাহেব এবং সালেহা বেগম তিনটা বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে আছেন। সকলের মুখেই কান্না মাখা হাসি। অদ্ভুত সুন্দর এক একটা চেহারা। আহমাদ অবাক হয়ে বলল,
"আশ্চর্য! এতগুলো বাচ্চা আমার একার!"
মাহিদ বলল, "আপনার একার হবে কেনো দুলাভাই! দুটো আপনার দুটো আমার।"
"চারটা কেনো? এখানে তো তিনটা।" আহমাদকে বিভ্রান্ত দেখালো।
"ইশিকা আছে না!"
"ওহ হ্যাঁ হ্যাঁ! ইশিকা আছে তো। ইশিকা আছে।"
আহমাদকে দেখে মনে হলো এক হালি বাচ্চার মুখে বাবা ডাক শোনার জন্য বেচারা এখনও মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে উঠতে পারেনি।
মাহিবাকে কেবিনে দেওয়া হলে আহমাদ সবার আগে দেখা করতে গেলো। মাহিবা তখন চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। যু-দ্ধে বিজয়ী সফল গাজী। আহমাদ সোজা যেয়ে মাহিবাকে জড়িয়ে ধরলো। অস্ফুট স্বরে বলল, "মাহি!"
মাহিবা চোখ খুললেও কোনো শব্দ করতে পারলো না। তার মুখ শুকিয়ে আছে। ঠোঁট দুটো যেনো শুষ্ক মরুভূমি। বেশ কিছুক্ষণ পর আহমাদ উঠে দাঁড়ালো। স্ত্রীর মুখটা দেখেই তার পানির প্রয়োজনীয়তা বুঝলো। পানি খাওয়াতেই মাহিবা বলল, "বাবুরা কই?"
"আছে। মা, বাবারা কোলে নিয়ে আছে।"
"আযান দিয়েছেন?"
"না তো।"
আহমাদের না বলা শুনে মাহিবার হাসি পেলো।
"ভুলে গেছেন?"
"হুঁ।"
মাহিবা স্বামীর মুখশ্রীতে অপলক তাকিয়ে রইলো। সে তো ভেবেছিলো এই মুখ বুঝি আর দেখা হবে না।
"মাহি!"
"হুঁ।"
"তুমি তখন ঐ কথা কেনো বললে?"
"কোন কথা?"
"মাফ করে দেওয়ার কথা।"
"কতো মানুষই তো বাচ্চা হতে যেয়ে মা-রা যায়। আমিও তো মা-রা যেতে পারতাম। তার আগে আপনার থেকে ক্ষমা চাইতে হবে না? তাছাড়া আফিয়ার বিষয়টা নিয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। আমি.."
"আমি তোমাকে অনেক আগেই ক্ষমা করে দিয়েছি মাহি। তোমার ওয়েটা ঠিক ছিলো না। বিষয়টা অন্যভাবেও হ্যান্ডেল করতে পারতে। সেই বুদ্ধি তোমার আছে। কিন্তু তোমার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তো আমি জানি। আমার বোনকে যে খুশি রাখতে চায় তার উপরে আমি কতদিন রাগ ধরে রাখতে পারি বলো! তোমার ঐ অবস্থা দেখে আমি অনেক ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম তুমি বোধহয়.."
"ম-রেই যাবো? কিন্তু দেখুন এবারও ম-রি-নি। এতো সহজে আপনাকে শান্তি দিচ্ছি না।"
স্ত্রীর হাত মুঠোয় নিয়ে আহমাদ ধীর কণ্ঠে বলল, "এমন শান্তি আমি কক্ষনো চাই না মাহি। কক্ষনো না।"
মাহিবা দেখলো এক যোগে তার দুটো মেয়ে আর ছোটো ছেলেটার কানে আজান দিচ্ছে তার জীবনের তিন পুরুষ।
•
বাতাসে দুলতে থাকা হালকা আকাশি রঙা পর্দা সরিয়ে দিলো মাহিবা। এগিয়ে যেয়ে মশারী চেক করলো। আয়িশার মশারী ঠিকঠাক থাকলেও ইশিকার মশারী চারদিকে ছড়িয়ে আছে। মশাদের যাওয়ার খুবই সুন্দর এবং সহজ পথ। ভেতর ঢুকে চারপাশে গুঁজে ছেলেটার দিকে তাকালো মাহিবা। দেখতে একদম আহমাদের মতো লাগে। চট করে একটা চুমু দিয়ে দিলো ছেলের গালে। ইশিকা বলল, "আমারটা কই?"
"তুই ঘুমাসনি!"
"ঘুমিয়েছিলাম যেভাবে তালি বাজিয়ে মশা মা-র-ছো আরেকটু হলে তো সবাই উঠে যাবে।"
হেসে ইশিকার মাথায় চুমু দিলো মাহিবা। বলল, "ঘুমিয়ে পড়। কাল এক জায়গায় নিয়ে যাবো।"
"সত্যি!"
"সত্যি। ঘুমের দোয়া পড়েছিস?"
"পড়েছি। তিন কুলও পড়েছি।"
"গুড। ঘুমিয়ে যা এবার।"
দরজায় আসতেই মাহিবা দেখলো আহমাদ দাঁড়িয়ে আছে। ফিসফিসিয়ে বলল, "আপনি না ঘুমাচ্ছিলেন?"
ভেতরে উঁকি দিয়ে আহমাদ বলল, "উঠলাম মাত্র। চলো ছাদে যাই।"
মাহিবা বের হতে হতে বলল, "ভাবছি কাল থেকে একটাকে মায়ের কাছে দিয়ে দেবো। আয়িশুর শুতে কষ্ট হয়। আবার মাও একা একা থাকেন। তার থেকে একেক জন একেক দিন দাদীর কাছে থাকবে। দাদীকে চিনবে।"
"ইশিকা কি তোমার ছেলেকে ছাড়বে?"
মাহিবা হাসলো। সে নিজেও জানে ছেলেকে শাশুড়ির কাছে রাখা যাবে না। ইশিকা রাখতে দেবে না।
ছাদে নীরব বাতাস বইছে। আকাশে চাঁদ নেই। সেখানে নক্ষত্রদের রাজত্ব। দোলনায় বসে আকাশের দিকে তাকালো মাহিবা। আহমাদ পাশে এসে বসলো। এক হাতে জড়িয়ে নিলো অর্ধাঙ্গীকে। মাহিবা কাঁধে মাথা রাখতেই শুনলো আহমাদ বলছে, "তোমাকে কেমন মলিন দেখাচ্ছে মাহি। আমার চার বাচ্চা সামলাতে গিয়ে তুমি নিজেই হারিয়ে যাচ্ছো।"
আবেগী কথার বিপরীতে হাই তুলে মাহিবা বলল, "আফসোস না করে দশ পনেরো হাজার টাকা দিন। একটা মেকওভার করে আসি।"
আহমাদ শুকনো কেশে বলল, "তোমাকে একটা চমৎকার খবর শোনাই।"
"কি?"
"কাল আফিরা আসছে।"
"সত্যি!"
আহমাদ মাথা নাড়লো। বোনের আগমনের খবরে স্ত্রী আনন্দিত। এই চিত্র সম্ভবত সমাজের অর্ধেক পুরুষের স্বপ্ন ছবি।
"মাহি!"
"হুঁ।"
"আগামীকাল "কৃষ্টি"র উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।"
"মা শা আল্লাহ। আল্লাহ আপনার ব্যবসায় অনেক অনেক বারাকাহ দান করুক।"
"কৃষ্টি" আহমাদের ফেব্রিক্স কোম্পানির মহিলাঙ্গন। মাহিবার সেদিনের পরামর্শকে কাজে লাগিয়ে হেমার নকশী কাঁথা সেলাই পুঁজি করেই "কৃষ্টি"র যাত্রা শুরু। তারপর আশপাশ থেকে এমন আরও কিছু মহিলার খোঁজ পাওয়া গেলো যারা বিধবা, ডিভোর্সী। তাদের হেমা নিজের হাতে গড়ে তুললেন। এখন হেমার নির্দেশেই বিশজন মহিলার দল হাতের কাজ করে যাচ্ছে। তাদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে "কৃষ্টি"র উদ্বোধন হবে।
"কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেলো যে।"
"কি সমস্যা?" আহমাদের দিকে তাকালো মাহিবা। নক্ষত্রের টিমটিমে আলোয় মানুষটাকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে!
"এতদিন তো মা হেমা আন্টির সাথে যোগাযোগ করে এদিকটা দেখছিল। এখন তো মা আরো দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাকে আর এসবে টানবো না। নাজমা আন্টির কথা ভেবেছিলাম। তিনিও অসুস্থ। কিন্তু মহিলাদের তদারকী করার জন্য তো একজন মহিলা দরকার।"
"কেনো আপনার সেই পিএ কই?"
"বাইরের মোমবাতি অনেক আগেই নিভিয়ে দিয়েছি মাহি।"
মাহিবা একটু রগড় করতে চাইছিল। আহমাদের শান্ত কণ্ঠের বিপরীতে হঠাৎ মনে হলো কাউকে তার পুরোনো পাপের রেশ ধরে কথা শোনানো আল্লাহর একদম পছন্দ নয়। যেখানে আল্লাহ ক্ষমা করে দিচ্ছেন সেখান মানুষ কোন ছাড়।
"তাহলে এখন কি করবেন ভাবছেন?"
"কাউকে তো এই পোস্টে আসতে হবে। নয়তো ওদের সাথে আমার কানেকশন করা সম্ভব হচ্ছে না। আফি থাকেই এতো দূরে। আসতে যেতেই লাগে একদিন। ওকে কিভাবে বলবো?"
"তাহলে কাকে বলা যায়?"
মাহিবা ভাবতে বসলো। কাকে বলা যায়।
"মাহি!"
"হুঁ।"
"নিয়োগের কোয়ালিফিকেশন ঠিক করেছি।"
"কি?"
"দুইবার অনার্স ড্রপ দিতে হবে, চার বাচ্চার মা হতে হবে।"
মাহিবা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।
"আপনার মাথায় কি ঘুরছে?"
মাহিবার হাত ধরে কাতর কণ্ঠে আহমাদ বলল, "আমার পিএ হবে মাহি! প্লিজ!"
•
নামফলকের নামটা পড়তেই মায়ের দিকে তাকালো ইশিকা।
"এটা কার কবর মা?"
"ইশুর। আমার ইশুর।"
"কিন্তু আমি তো এখানে।"
মাহিবা টলমল চোখে বলল, "আল্লাহ সবার জীবনে কিছু বীজের মতো মানুষ দেন মা। তাদের মাটি চাপা দিয়ে আমরা আমাদের জীবনের ফুল ফোঁটাই। এই মানুষটা ছিলো আমার জীবনের সেই বীজ। আমার ইশু। আমার প্রাপ্তি। বলো মা, আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর।"
ইশিকা কি বুঝলো কে জানে। মায়ের হাত শক্ত করে ধরলো। ধরা গলায় বলল, "আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর।"
সমাপ্ত।
(আলহামদুলিল্লাহ। "প্রাপ্তি"র সিক্যুয়াল এখানেই শেষ। অনেকের আবদারে লেখা শুরু করেছিলাম। পাঠকের ইচ্ছা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। সাধ্যের মধ্যে থাকলে রাখার চেষ্টা করি। দ্বিতীয় অধ্যায়ে আপনাদের আকাঙ্ক্ষা ঠিক কতটা পূরণ করতে পেরেছি জানিনা। আপনারা না বললে জানাটা কষ্টকর। মাহিবার ছেলেমেয়েদের মুখে বুলি ফুটে গেলো। আপনাদের মুখের বুলি ফুটবে কবে? একটু কষ্ট করে রিভিউ দিয়েন। কেমন?
হ্যাপি রিডিং💝)