পুনর্জন্ম (এক প্রেম কাহিনী) — পর্ব ০৬
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৬ · ৯ পর্বের মধ্যে ৬
রিশা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আমি আবারও সেই রুমটিতে গেলাম যেখানে কেনান দাদুর পেইন্টিং ছিলো।
রুমটিতে কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করার পর আমি একটা ভিশন দেখতে পেলাম, ভিশনটা কিছুটা এইরকম ছিলো...
এই বন্ধ ঘরটি কত সুন্দর করে সাজানো হয়েছে, আমি বিয়ের সাজে এই ঘরের খাটে বসে আছি পাশে সেই নীল নয়না মেয়েটিও হঠাৎ করে একটা কালো বিড়াল এসে আমার উপরে পড়লো এবং সাথে সাথে ভিশনটা ওইখানেই মিলিয়ে যায়। তারপর আমি কেনান দাদু আর সেই নীল নয়না মেয়েটির পেইন্টিং এর পাশে গেলাম, আমার মনে হচ্ছে মেয়েটি সত্যি সত্যি আমার দিকে তাকিয়ে আছে আমিও কিছুক্ষণ মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইলাম একটু পর মনে হলো মেয়েটির পেইন্টিং এর ভিতরে চোখের পলক ফেললো এটা দেখে আমি ভয়ে গেয়ে তাড়াতাড়ি ওই রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।
সকালে নাস্তা করলাম, নাস্তা শেষে রিশা বলছে ওকে গ্রাম ঘুরে দেখানোর জন্য আমিও নাহ করলাম নাহ, বেরিয়ে পড়লাম ওকে গ্রাম ঘুরে দেখানোর জন্য।
আমরা অনেকক্ষণ গ্রাম ঘুরলাম, গ্রাম ঘুরতে ঘুরতে সময় প্রায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হবে হবে তখন ইচ্ছে হলো একটিবার ঝর্ণার ধারে গেলে কেমন হয়...
যেই ভাবা সেই কাজ রিশাকে নিয়ে ঝর্ণার ধারে চলে এলাম।
রিশা আর আমি একটা পাথরের উপর বসলাম কিছুক্ষণ পর আমি আবারও একটা ভিশন দেখতে পাই...
আমি আর সেই নীল নয়না মেয়েটি একটা নৌকায় বসে আছি, নৌকার এক কোণে আমি আর আমার থেকে কিছুটা দূরে সেই মেয়েটি, ঝর্ণা থেকে যে ধারা নামছে সেই পানি হাতে নিয়ে মেয়েটি আমার দিকে ছুড়ে মারছে আমিও ওর দিকে পানি ছেড়ে মারছি, দেখে মনে হচ্ছে আমরা একে অপরকে অনেকদিন ধরে চিনি আমরা একে অপরেকে অনেক ভালোবাসি হঠাৎ দেখলাম মেয়েটি সেই বিভৎস চেহারায় আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে আমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে স্বজ্ঞানে ফিরে দেখি রিশা আমাকে পানি ছুড়ে মেরেছে যার ফলে আমি ভিশন থেকে বাস্তব জগতে ফিরে আসি।
বুঝতে পারছিলাম নাহ তখনও আমার সাথেই কেনো বার বার এমন হচ্ছে। নিজের পরদাদা'দের মতো দেখতে হওয়াটা কি অপরাধ..?
সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আমরা বাসায় ফিরে আসি।
বাসায় আসার পর আম্মু আমাকে ডাক দিয়ে বললো...
আম্মু:- আরিয়ান তোর কাছে একটা কথা বলছি মনযোগ দিয়ে শোন...
আমি:- হ্যাঁ, আম্মু বলো...
আম্মু:- এখান থেকে যাওয়ার পর থেকে আমাদের সাথে অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ধটছে আজকে কিছুক্ষণ আগেও আমার সাথে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো, আমি চাই নাহ তোর আর রিশার কোনো প্রকার ক্ষতি হোক তাই জন্য তুই আর রিশা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিয়ে করে ফেল..!
আমি:- হ্যাঁ তা তোহ করবোই কিন্তু কি হয়েছিলো আজকে.?
আম্মু:- আমি রান্নাঘরে রান্না করতে গিয়েছিলাম হঠাৎ দেখি আমার মতো কেউ নাহ আমার মতো কেউ নাহ আমি নিজেই কাঁচা মাংস চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছি, মাংস খেতে খেতে এতটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে গেছি যে নিজেই নিজের শরীর থেকে মাংস কেটে কেটে খাচ্ছি তারপর তোর আব্বু আমাকে পিছন থেকে কাঁধে হাত দিতেই আমার হুশ ফিরলো তারপর বুঝলাম আমি এতক্ষণ জেগে জেগে দুঃস্বপ্ন দেখেছি।
রান্না শেষ করে গোসল করে নিজের রুমে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই দেখি আমি নিজের হাতে নিজের মুখের চামড়া ছিঁড়ছি এটা দেখে ভয়ে একটা চিৎকার দিতেই তোর আব্বু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে অভয় দিয়ে বললো এটা নাকী আমার মনের ভুল।
আম্মুর মুখে এসব শুনে আমিও আম্মুকে কিছুটা অভয় দিয়ে বললাম...
আমি:- অনেকক্ষণ তোহ হলো গ্রাম ঘুরে এলাম, চলো এবার খেতে যাই।
তারপর ডাইনিং-এ গিয়ে সবার সাথে রাতের খাবার শেষ করে যে যার রুমে চলে গেলাম ঘুমনোর জন্য, আজকে রুমমেট চেঞ্জ হয়ে গেলো, আমি, আব্বু আর রনি এক রুমে থাকবো আম্মু আর রিশা পাশের রুমে থাকবে।
যথারীতি আমরা আমাদের যে যার রুমে চলে গেলাম।
আমরা আমাদের রুমে শুয়ে আছি, আমিও প্রায় বেঘোর ঘুমে, হঠাৎ অনুভব হলো কেউ যেনো আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, চোখ খুলে দেখি কেউ নেই হঠাৎ....
সেই ছবির ঘর থেকে কান্নার শব্দ ভেসে আসছে আমি ছুটে সেই ঘরের দরজার সামনে হাজির হলাম। দরজাটা একটু ফাঁক করে ভিতরে তাকাতেই ভিতর থেকে একটা কালো অবয়ব আমি দিকে ছুটে এলো আমি ভয়ে পিছিয়ে গেলাম।
পিছিয়ে গিয়ে দেখি আমি বন্ধ চার দেওয়ালের ভিতর আটকে আছে চারিদিকে শুধু কাঠের দেওয়াল।
হঠাৎ করে পুরো ঘরটি কালো কাক দিয়ে ভরে গেলো, কালগুলো আমাকে ঘিরে ধরেছে, কা কা শব্দে পুরো ঘরটি মেতে উঠেছে আমি কিছু বুঝতে নাহ পেরে চিৎকার দিতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেলো।
তার মানে এতক্ষণ আমি স্বপ্ন দেখছিলাম, ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি রনি পাশে নেই, রনিকে খুঁজতে খুঁজতে সেই ছবির ঘরের সামনে গিয়ে থামলাম, ভিতরে উঁকি দিতেই দেখি রনি কালোজাদু করছে ওর বিপরীত পাশে অন্ধকারে কেউ একজন বসে আছে রনি সেই অন্ধকারে বসে থাকা লোকটির সাথে কথা বলছে, আমি হাল্কা উকি দিয়ে কথাগুলো শোনার চেষ্টা করলাম...
রনি:- ভুলে যেওনা তোমার আর আমার জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক, তোমাকে আমিই মুক্তি করেছি।
তোমার জন্য তৌহিদ আর আব্রাহামকেও বলি দিয়েছি শুধুমাত্র তোমাকে মুক্তি দিয়ে আমাদের ভালোবাসাকে পূর্ণরূপ দেওয়ার জন্য।
এবার তোমার কাজ হলো, রিশার শরীরকে কাবু করা, তুমি রিশার শরীর কাবু করতে পারলেই আমি আরিয়ানকে বলি দিয়ে ওর রক্ত দিয়ে তোমাকে গোসল করাবো তাহলে তুমি সারাজীবনের জন্য রিশার শরীরে থাকতে পারবে।
তুমি সারাজীবনের জন্য রিশার শরীরে থাকতে পারলেই আমরা আবার নতুন করে আমাদের জীবন শুরু করবো তারপর আমরা অনেক দূরে চলে যাবো যেখানে কেউ আমাদের খুঁজে পাবে নাহ।
তার মানে রিশা ঠিকই বলেছিলো, রনি আমাদের মিথ্যা বলেছে, তৌহিদ আর আব্রাহামকে তাহলে রনিই খুন করেছে...?
কিন্তু রনি কেনো এমনটা করলো আর কার জন্যই এমনটা করলো..?
এখন কার সাথে কথা বলছে রনি..?
কার সাথে কথা বলছে দেখার জন্য ভিতরে একটু ভালো মতো উঁকি দিতেই দেখি রনির অপর প্রান্তে রিশা বসে আছে...
আমি প্রথম ভেবেছিলাম হয়তো রিশাও রনির সাথে মিলিত, সেও আমাকে ঠকাচ্ছে, কিন্তু নাহ..? এটা তোহ রিশা নাহ..! তাহলে কে ও...? এই রিশার চোখগুলো সম্পূর্ণ সাদা চেহারার রঙ ফেকাসে।
হঠাৎ করে রনি বলে উঠলো...
রনি:- "হানা রাণী" এবার নিজের আসল রূপে আসো.! যেদিন রিশার শরীর নিজের বশে আনতে পারবে সেদিন নাহয় রিশা হয়ে থেকো.?
রনি এই কথা বলার সাথে সাথে রিশার রূপ ধারণ করা মেয়ে সেই নীল নয়না মেয়েটিতে পরিনত হলো..!
তার মানে এই নীল নয়না মেয়েটির নাম "হানা"।
ওর সাথে রনির কি সম্পর্ক.?
ওর সাথে যদি রনির সম্পর্ক থেকে থাকে তাহলে ওর ছবি কেনান দাদুর পাশে কেনো..?
ওর সাথে যদি কেনান দাদুরও কোনো সম্পর্ক নাহ থাকে তাহলে আমার আর আমার পরিবারের পিছনে কেনো পড়ে আছে.?
এটার একমাত্র কারণ কি শুধু রনির সাথে ওর প্রেম কাহিনী সম্পূর্ণ করা, তার জন্যই এতকিছু..?
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই রনি আর হানা আমাকে দেখে ফেলে আমি ওদের কাছ থেকে পালানোর জন্য একটা দৌড় দিলাম....
[গল্পে বিভিন্ন জায়গায় বানান ভুল হওয়ার জন্য আমি দুঃখিত]
গল্পটা কেমন হচ্ছে ভালো নাকী খারাপ অবশ্যই জানাবে আর গল্পে আর কোন কোন ক্লাইম্যাক্স অ্যাড করলে গল্পটা আরো বেশি সুন্দর হতো সেটাও জানাতে ভুলো নাহ।