পুনর্জন্ম (এক প্রেম কাহিনী) — পর্ব ০৫

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৫ · ৯ পর্বের মধ্যে ৫

আমরা লজ্জা ও অপমানবোধে চুপ করে রইলাম।

রফিক দাদু:- আমি আগেই জানতাম এমন কিছু একটা হবে।

রিশা:- আগেই জানতেন মানে.?

রফিক দাদু:- যেদিন আরিয়ান দাদুভাই প্রথম এই গ্রামে পা রেখেছিলো সেদিনই বুঝেছিলাম পিছনে ফেলে আসা অতীত এবার নতুন করে শুরু হওয়ার সময় এসেছে।

আমি:- মানে.? পিছনে ফেলে আসা অতীত বলতে কিসের কথা বললে..?

রফিক দাদু:- সময় হোক সব জানতে পারবে.!

এই বলে রফিক দাদু চলে গেলো।

অনেক রাত হয়েছে বিধায় আমরাও ঘুমতে চলে গেলাম।

যে যার মতো করে ঘুমচ্ছে হঠাৎ আমি দেখলাম সেই নীল নয়না মেয়েটি পায়ে ঘুঙুর পরে আমার রুম থেকে বেরিয়ে গেলো আমিও তার পিছু পিছু বের হয়ে গেলাম।

মেয়েটি একটা বন্ধ ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলো আমিও ওর পিছু পিছু বন্ধ ঘরে ঢুকতেই দেখি সামনে দেওয়ালে আমার একটা বড় পেইন্টিং কিন্তু আশ্চর্য করা বিষয় পেইন্টিং এর আমিটা জমিদারের পোশাক পড়া ছিলো। পাশেই আরেকটা পেইন্টিং রাখা আছে ওইটা ধুলোবালি দিয়ে একদম মাখামাখি শুধু বুঝা যাচ্ছে পেইন্টিং-এ দুটো চোখ।

চোখ দুটো আমি এর আগেও দেখেছি, হ্যাঁ এই চোখ দুটো আমি চিনি.! এগুলো সেই নীল নয়না মেয়েটির চোখ।

হঠাৎ করেই কেউ আমার কাঁধে হাত দিতেই আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম...

রফিক দাদু:- আমি.! আমি দাদুভাই.!

আমি:- ওহ্.! আপনি।

রফিক দাদু:- অবশেষে তুমি তোমার অতীতের বাহুডোরে পৌঁছে গেছো.?

আমি:- মানে.? আর এই পেইন্টিং-এ আমার মতো দেখতে এই লোকটা কে.?

রফিক দাদু:- এটা তোমার পরদাদার বড় ভাই "কেনান" তুমি দেখতে অবিকল তার প্রতিচ্ছবি। এজন্যই তোমার পিতা-মাতা তোমাকে গ্রামে নিয়ে আসতে ভয় পেতো। কারণ তারা জানতো, তুমি গ্রামে আসলে অতীতে ঘটে যাওয়া কাহিনি নতুন করে শুরু হবে।

আমি রফিক দাদুর কথার আগামাথা কিছুই বুঝতে পারছিলাম নাহ। তারপর রফিক দাদুর কাছে "কেনান" দাদুর কাহিনি জিজ্ঞেস করলে সে বললো...

রফিক দাদু:- ধৈর্য ধরো দাদুভাই, এই কাহিনি তুমি নিজেই জানতে পারবে কারণ এই কাহিনি তখনও শেষ হয়নি আর এতদিনেও শেষ হয়নি।

এই বলে রফিক দাদু চলে গেলো, আমি হাত দিয়ে আমার মতো দেখতে কেনান দাদুর পেইন্টিং এর পাশে থাকা দ্বিতীয় পেইন্টিং'টি পরিষ্কার করলাম। পরিষ্কার করে পেইন্টিং'টা যেরূপ দেখলাম, কেনান দাদু একটা চেয়ারে বসে আছে আর তার পাশে সেই নীল নয়না মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে।

তখন বুঝতে পারলাম, হয়তো এই মেয়েটি আমাকে কেনান দাদু ভেবে হন্ট করছে কারণ আমি দেখতে হুবহু কেনান দাদুর মতোই।

অনেক চিন্তা করে রুমে গিয়ে খাটে বসলাম ফোন হাতে নিয়ে দেখি রাত প্রায় ২টার কাছাকাছি।

তখন রিশা আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করে...

রিশা:- কি হয়েছে.?

আমি রিশার কাছে গতকাল রাত থেকে আমার সাথে কি কি ঘটে চলেছে সবটা বললাম এবং এখন আমার মতো দেখতে কেনান দাদুর কথাও খুলে বললাম।

রিশা আমাকে অভয় দিয়ে পাশে শুয়ে পড়লো।

যেহেতু আমরা অ্যাঙ্গেজড ছিলাম তাই এক রুমে থাকতে আমাদের কোনো অসুবিধা ছিলো নাহ।

আমিও সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে একটা ঘুম দিলাম ঘুম থেকে উঠে দেখি আব্বু আম্মু পাহাড়িতলা গ্রামে এসে হাজির।

আব্বু আমাকে ডাক দিয়ে একান্ত কিছু কথা বললো যা শুনে আমি থমকে গেলাম....

আব্বু:- কালকে তুই যখন তোর আম্মুকে কিছু নাহ বলে চলে এলি তখন তোর আম্মু আমাকে কল দেয়, আমি তাড়াতাড়ি করে বাসায় গিয়ে তোর আম্মুকে শান্তনা দি। তারপর আমি রুমে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম কিছুক্ষণ পর তোর আম্মু আমাকে নাস্তা দিয়ে গেলো আমিও কাজ করতে করতে নাস্তা খেতে শুরু করি ৫ মিনিট পর আবার তোর আম্মু নাস্তা নিয়ে এসে আমাকে দেখে একটা চিৎকার দিয়ে বললো....

তোর আম্মু:- তুমি এগুলো কি খাচ্ছো..?

আমি:- তুমি নাহ নাস্তা দিয়ে গেলে.? আমি তোহ নাস্তা খাচ্ছি.!

তোর আম্মু:- তুমি ভালো করে দেখো তুমি কি খাচ্ছো.? আর আমি তোহ এইমাত্র এলাম তোমাকে কখন নাস্তা দিলাম আমি.?

আমি তাকিয়ে দেখি প্লেটে মুরগির নাড়িভুড়ি আর পোকামাকড় আর ওইগুলো আমি খাচ্ছি।

চোখ তুলে তাকাতেই দেখি তোর আম্মুর মতো দেখতে একজন মহিলা তোর আম্মুরই পিছনে দাঁড়িয়ে হাসছে.!

আমি তোর আম্মুকে কিছুটা অভয় দিয়ে রিশাকে কল দিয়ে জানতে পারি রিশাও নাকী পাহাড়িতলা গ্রামে এসেছে কিন্তু সে'ও নাকী আসার পথে এক্সিডেন্টের মুখোমুখি হয়েছিলো কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় সে সুরক্ষিত আছে তারপর এখানে এসে তৌহিদ আর আব্রাহামের ঘটনাও শুনলাম।

আমি:- আচ্ছা আব্বু কেনান দাদুর কি হয়েছিলো..?

আব্বু আমার মুখে এই প্রশ্ন শুনে চুপ হয়ে গেলো কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো...

আব্বু:- এই দেখো তোর আম্মু আমাকে সেই কখন ডেকেছিলো আমাকে, আমি গেলাম কেমন..?

এই বলে আব্বু চলে গেলো....

কিছুক্ষণ পর রিশা আমার কাছে এসে বললো...

রিশা:- একটা কথা বলবো...?

আমি:- হ্যাঁ বলো.!

রিশা:- আমার নাহ রনির কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছে নাহ.!

আমি:- কি বলছো.?

রিশা:- হ্যাঁ, আমার হচ্ছে রনি আমাদের কাছে মিথ্যা বলছে..

আমি:- রনি যদি মিথ্যা বলতো তাহলে আমাদের সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটছে, তৌহিদ আর আব্রাহামের লাশ আর কেনান দাদুর ছবি, কেনান দাদুর ছবির পাশে সেই মেয়েটি এগুলো কি সবটাই মিথ্যা..!

রিশা:- কি জানি, এতকিছু বুঝি নাহ আমার মনে হচ্ছে রনি আমাদের মিথ্যা বলছে। মনে রেখে যেটা চোখের সামনে হচ্ছে সেটা সত্যি নাও হতে পারে চোখের আড়ালে যেটা হচ্ছে সেটাই সত্যি।

এই বলে রিশা চলে গেলো।