পুনর্জন্ম (এক প্রেম কাহিনী) — পর্ব ০৪

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৪ · ৯ পর্বের মধ্যে ৪

রুমে গিয়ে রনিকে শুইয়ে দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলো। সে ফেলফেল করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু কিছুই বলছে না। আমি তার এই অবস্থায় গভীরভাবে চিন্তিত হয়ে পড়লাম। ঠিক তখনই আমার ফোনে রিশার কল এলো। আমি কলটি রিসিভ না করে রনির কাছে গিয়ে বসে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “কি হয়েছে? ওদের এই হাল কে করেছে?” রনি তখন আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, “তৌহিদকে অনেকবার বারন করেছিলাম, কিন্তু সে শুনলো না আমার কথা।” আমি কৌতূহল নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “কি করতে বারন করেছিলি? আর কি করেছে ওরা? একদম প্রথম থেকে বল।” রনি কিছুটা স্থির হয়ে আমার দিকে তাকালো এবং বললো, “ঠিক আছে, তাহলে শোন! ওইদিন যখন তুমি আর আব্রাহাম নিষিদ্ধ স্থান নিয়ে কথা বলছিলি, তখন আড়াল থেকে তৌহিদ সবটা শুনছিলো। ওর মনে হয়, ওই নিষিদ্ধ স্থানে হয়তো কোনো মানুষ রয়েছে, যে সবাইকে ভয় দেখায়। তার মনে হয়েছিলো যদি সেখানে ডাকাত দল থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই সেখানে অনেক ধনসম্পত্তি রয়েছে। এই এমন একটি লোভ তার মনে ধরেছিলো। তৌহিদ আমাকে ও আব্রাহামকেও লোভ দেখিয়েছিলো, আর আমরাও তার লোভে পড়ে যাই।”।আমি স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করলাম, “হ্যাঁ, তারপর? তোরা কালকে আমাদের সাথে না ফিরে গিয়ে সেখানে কি করেছিলি?” রনি বললো, “কালকে তোরা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে আমরা সেই নিষিদ্ধ স্থানে পৌঁছাই,” রনি বললো। ঠিক সেই মুহূর্তে রিশা আবারও কল করে। আমি রনিকে থামিয়ে রিশার কল রিসিভ করলাম। রিশা জিজ্ঞেস করলো, “তুমি আবারও পাহাড়িতলা গ্রামে এসেছো?” আমি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বললাম, “ইয়ে মানে, হ্যাঁ এসেছি।” সে বললো, “আমিও আসছি, ওয়েট করো, কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাবো।” কিন্তু কথাগুলি শেষ হতেই সাইড থেকে একটি ট্রাক এসে রিশার গাড়িকে ধাক্কা দিলো। ফোনের এপাশ থেকে আমি গাড়িতে ধাক্কার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি অবাক হয়ে গেলাম। রনি আমাকে জোরে জোরে ধাক্কা দিয়ে প্রশ্ন করতে লাগলো, “কি হয়েছে?” কিন্তু আমি যেনো ভেঙে পড়েছি। আমার চোখের সামনে আমার প্রিয় বন্ধু আর অতিথি বন্ধুর মাথাবিহীন লাশ ভেসে উঠলো, আবার আমার প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয়ে আমার মন স্তব্ধ হয়ে গেলো।

আমি নিচে নেমে সদর দরজা খুলতেই দেখি রিশার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন। সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে খান ভিলার দিকে এগিয়ে আসছে। আমি তখন অতিরিক্ত মনোযোগে দৌড়ে গিয়ে রিশাকে জড়িয়ে ধরলাম এবং বললাম, “তুমি ঠিক আছো তো? জানো, আমি খুব ভয় পেয়ে গেছিলাম! আমি ভেবেছিলাম তোমাকে হয়তো হারিয়ে ফেলেছি।” রিশা উত্তর দিলো, “হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি। গাড়িটা মাঝ রাস্তায় পার্ক করে রেখেছিলাম। দরজা খোলা ছিলো, তোমার সাথে কথা বলতে বলতে গাড়ি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তখনই ট্রাক এসে ধাক্কা দিলো।” শুনে আমি এক মুহূর্তের জন্য মনে করলাম, আমি তাকে আর ফিরে পাবো না।

কথাগুলি শেষ করে আমরা তিনজন আবার ভিতরে চলে গেলাম। আমি রিশাকে তৌহিদ এবং আব্রাহামের সমস্ত কাহিনী খুলে বললাম, কিন্তু গতকাল রাত থেকে আমার সাথে কি ঘটেছে তা তার কাছে গোপন রাখলাম। রিশা জিজ্ঞেস করলো, “রনি, সত্যি করে বল, তোরা কালকে ওখানে কি করেছিলি?” আমি সাথে যোগ দিলাম, “হ্যাঁ, রনি ভাই, প্লিজ সত্যি করে বল কি হয়েছিলো।” রনি কিছুটা দম নিয়ে বললো, “কালকে তোরা বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরে আমরা সেই নিষিদ্ধ স্থানে গিয়েছিলাম। তারপর...” বলেই সে আবার চুপ হয়ে গেলো। আমি অসহিষ্ণু হয়ে বললাম, “কি হলো? চুপ করে গেলি কেনো? বল।” রনি বললো, “আমি সেই কালো সময়টাকে আর মনে করতে চাইছি না।” তার চোখে পানি এসে গেলো। রিশা বললো, “দেখ, এভাবে চুপ করে থাকলে কোনোকিছুই সমাধান হবে না!” রনির কণ্ঠে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট, “তারপর আমরা সেখানে গেলাম। যাওয়ার পরই তৌহিদ তার হাতে থাকা বড় দা দিয়ে গাছে পেঁচানো সুতা আর তাবিজগুলোকে নষ্ট করলো। আমি আর আব্রাহাম অনেকবার নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তৌহিদ আমাদের কথা শোনেনি। সবশেষে তৌহিদ আব্রাহামকে বললো যে ওই মাটির পাত্রটাতে একটা ইট ছুঁড়তে হবে, হয়তো ভিতরে কিছু আছে। আব্রাহামও তৌহিদের কথা মতো একটি বড় ইটের টুকরা ছুঁড়ে মারলো। মুহূর্তেই চারপাশে বড় বড় তেলাপোকা এসে ভরে গেলো। কিছুক্ষণ পর এসব তেলাপোকা একত্র হয়ে একটি মেয়ের অবয়বে রূপ নিলো।” রিশা বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “এটাও সম্ভব? আচ্ছা তারপর কি হলো?”

রনি কাঁদতে কাঁদতে বললো, “তারপর সেই মেয়েটি হাওয়ার বেগে আব্রাহামের কাছে গিয়েছিলো এবং মাথা টেনে ছিঁড়ে ফেললো। এসব দেখে আমি ও তৌহিদ তাড়াতাড়ি পালানোর চেষ্টা করলে সেই ডাইনী তৌহিদের মাথাও টেনে ছিঁড়ে ফেললো। ভাগ্য ভালো, আমি বেঁচে ফিরেছি।” হঠাৎ করে রফিক দাদু দরজার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে বললেন, “আমার নাতিটা আর বেঁচে নেই?” আমরা সবাই চুপ করে রইলাম। কি জবাব দেবো তাকে?