পুনর্জন্ম (এক প্রেম কাহিনী) — পর্ব ০৭
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০৭ · ৯ পর্বের মধ্যে ৭
আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই রনি আর হানা আমাকে দেখে ফেলে আমি ওদের কাছ থেকে পালানোর জন্য একটা দৌড়ে খান ভিলা থেকে বেড়িয়ে এলাম।
পাগলের মতো রাতের অন্ধকারে এদিক সেদিন ছুটাছুটি করছি, কি করবো.? কোথায় যাবো.?
তখনই আম্মুর কল, কল রিসিভ করতেই আম্মু বললো.....
আম্মু:- আরিয়ান কই তোরা..?
আমি কিছু বলার আগেই আম্মু আবার বললো...
আম্মু:- ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি রিশা আমার পাশে নেই কিছুক্ষণ পর তোর আব্বু আর রনি এসে বললো তুইও নাকী তোদের রুমে নেই.!
তোরা কি একসাথে আছিস..?
আমি কোনো উত্তর নাহ দিয়ে কল কেটে দিয়ে রাস্তার এপাশ ওপাশ এদিক সেদিন ছুটাছুটি করছি রিশাকে খুঁজার জন্য।
হঠাৎ আমার পিছন থেকে কেউ একজন কাঁধে হাত দিলো আমি পিছনে তাকালাম, তাকিয়ে দেখি রিশা কাঁদো কাঁদো গলায় বলছে...
রিশা:- ওহে আমার প্রাণপ্রিয় স্বামী, আপনি কোথায় যাচ্ছেন আমাকে একা রেখে.?
এই বলে রিশা হাওয়ায় উড়তে শুরু করলো, তার চোখগুলো একদম সাদা, চুলগুলো হাওয়ায় উড়ছে।
হঠাৎ সে আমার এক লাফে আমার কাঁধে ঝাপিয়ে পড়ে আমার গলায় একটা কামোড় দিলো আমি প্রচন্ড যন্ত্রণায় চিৎকার দিলাম।
রিশাকে আমার ঘাড় থেকে কোনোমতে নামিয়ে আমি আবার দৌড়াতে শুরু করি, এবার দৌড়াতে দৌড়াতে আমার মাথায় মাওলানা আলতাফ সাহেবের কথা এলো...
আমি ছুটে গেলাম আলতাফ হুজুরের বাসায়।
বাসায় গিয়ে শুনি সে নাকী গতকাল ভোরে গ্রামের বাইরে গেছেন আসবে আজকে রাত শেষ হলে।
আমার গলা দিয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছে দেখে আলতাফ সাহেবের সাগরেদ আমার গলায় একটা কাপড় পেঁচিয়ে দিলো যাতে রক্তক্ষরণ কিছুটা কমে।
আলতাফ সাহেবের সাগরেদের কাছে পানি খেতে চাইলে সে আমাকে বসিয়ে রেখে পানি আনতে গেলো।
মিনিট দুই-একের মধ্যে ছেলেটি পানি নিয়ে এলো আমাকে পানি দিতে যাবে তখন সেখানে হানা চলে আসে, তখনও সে রিশার শরীরেই ছিলো।
হানা এসেই ছেলেটির ধর থেকে মাথাটা টেনে ছিঁড়ে ফেললো।
ছেলেটির মাথাটা ছেঁড়ার সময় আমার চোখে মুখে রক্ত ছিটকে গিয়ে পড়লো, এটা দেখে হানা বললো...
হানা:- কেমন লাগছে রক্তের স্বাদ.? খুব সুস্বাদু তাই নাহ.?
আমি ভয়ে দৌড়ে মসজিদের ভিতরে ঢুকে বসে পড়লাম, বাইরে থেকে হানা চেচিয়ে চেচিয়ে বলছে...
হানা:- কতক্ষণ লুকিয়ে থাকবে.? একবার নাহ একবার তোহ বের হতেই হবে তোমাকে.?
আমি মনে মনে যা যা দোয়া পারতাম পড়তে থাকলাম, খানিকক্ষণ পর হানা কান্না করতে করতে বলছে....
হানা:- প্রিয় কেনান মনে করো সেই দিনগুলো যখন তুমি আর আমি একসাথে কত স্বপ্ন বুনেছি, মনে করো আমাদের বিবাহে আবদ্ধ হওয়া সেই দিনটা..! মনে করো..! মনে করো.! মনে করো.!
বলে চিল্লাতে চিল্লাতে এক ভয়ঙ্কর রুপে হাওয়ায় উড়তে উড়তে আমার দিকে একটা গাছের ডাল ছুড়ে মারে, ডালটা মসজিদের দরজা ভেদ করে আমার বুকে এসে লাগে আমি ছিটকে আরো ভিতরে গিয়ে পড়লাম। কিন্তু তারপরও আমি দোয়া পড়া বন্ধ করি নাহ।
ভোর হবে হবে মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ পরই ফজরের আযান দিবে ঠিক তখনই হানা আমাকে বলছে...
হানা:- কি ঠিক করলে এখানেই থাকবে.? আচ্ছা থাকো এখানে আমি তোমার ভালোবাসাকে নিয়ে চলে গেলাম..!
এই বলে হানা কোথায় যেনো গায়েব হয়ে গেলো,, কিছুক্ষণ পরেই ফজরের আযান হলো।
বেশ কিছুক্ষণ পর দেখি আলতাফ সাহেব আসছেন।
তাকে দেখে কিছুটা স্বস্তি বোধ করলাম।
সে আসা মাত্রই তাকে সবটা খুলে বললাম, এসব শুনে সে বললো....
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- আপনাকে তোহ আগেই বলেছিলাম বড় কোনো বিপদ হওয়ার আগে এই গ্রাম ছেড়ে চলে যান...
আমি:- ফিরেই তোহ গিয়ে ছিলাম কিন্তু রনিই তোহ আমাকে আবার গ্রামে আসতে বাধ্য করলো.!
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- বলেছিলাম নাহ আপনার বন্ধুই হবে আপনার বিপদের কারণ.?
আমি:- হ্যাঁ বলেছিলেন তোহ.!কিন্তু এখন কি করা যায়, হানা তোহ রিশাকে নিয়ে চলে গেলো ওর সাথে।
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- এখন একটাই উপায় আছে....
আমি:- কি উপায়.?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- আপনাকে আগের জন্মের সবকিছু মনে করতে হবে.
আমি:- মানে..?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- এটা বিশ্বাস করুন আপনিই কেনান সাহেব।
আমি:- আচ্ছা বিশ্বাস করলাম এবার আমাকে কি করতে হবে...?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- চলুন আমার সাথে..
মাওলানা সাহেবের সাথে চলতে চলতে একসময় আমাদেরই গ্রামের বাড়ি খান ভিলায় এসে পৌছলাম।
আমি:- আপনিও তাহলে ওদের দলেরই.?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন সাহেব..!
আমি:- আপনি ওদের দলের নাহ হলে আমাকে এখানেই কেনো ফিরিয়ে আনলেন..?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- কারণ আপনার জীবন রহস্য এই বাড়িতেই দাফন করা আছে। এখানে নাহ আসলে আপনার কিছুই মনে পড়বে নাহ.!
হুজুরের কথা মতো আবারও বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলাম, প্রবেশ করতেই দেখি আমার আব্বু আম্মুর মাথা বিহীন লাশ ফ্লোরে পড়ে আছে, তাদের এমন করুন মৃত্যু দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারলাম নাহ, নিজেকেই নিজে দোষারোপ করছি আমি যদি সেদিন গ্রামে আসার বায়না নাহ ধরতাম তাহলে এতকিছু হতো নাহ, কেনো যে সেদিন ছোট বাচ্চাদের মতো জ্বেদ ধরেছিলাম। একটা জ্বেদের জন্য আজ কতগুলো মানুষের প্রাণ গেলো.!
আমাকে কাঁদতে দেখে মাওলানা সাহেব আমাকে শান্তনা দিয়ে বললো...
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- এতে আপনার কোনো দোষ নেই সাব.! এটাই আপনার নিয়তি, ভুলে যাবেন নাহ ফেলে আসা অসম্পূর্ণ অতীত সারাজীবন কিন্তু অসম্পূর্ণ থাকে নাহ।
এখনো সময় আছে সবকিছু ঠিক করার, আর আমি জানি এই মরণ খেলা একমাত্র আপনিই বন্ধ করতে পারবেন, আপনি ভেঙ্গে পড়লে হবে নাহ.! আপনাকে শক্ত হতে হবে, এই লড়াই আপনার, আপনাকেই লড়তে হবে এই লড়াই.!
উঠুন..সাহেব, উঠুন.! নিজেকে সামলান, হানা আর জিলানীকে আপনিই সায়েস্তা করতে পারে..!
আমি:- জিলানী আবার কে..?
মাওলানা আলতাফ সাহেব:- এজন্য বলেছি আগে আপনার অতীত সম্পর্কে সব জানুন তারপর যুদ্ধে নামুন.!
আমি আমার প্রশ্নের উত্তর নাহ পেয়ে হুজুরের পিছু পিছু গেলাম।
হুজুর আমাকে নিয়ে দোতলার সেই বন্ধ ঘরটির ভিতরে গেলেন, ভিতরে ঢুকতেই দেখি রফিক দাদু আহত হয়ে নিচে পড়ে ছটফট করছে তার পেটে একটা ছুড়ি ঢোকানো, একটু ভালো মতো খেয়াল করে দেখলাম রফিক দাদুর হাতে একটা হেয়ার পিন টাইট করে ধরে আছে....
আমি দৌড়ে গিয়ে রফিক দাদুর পেট থেকে ছুড়িটা বের করে রফিক দাদুকে আমার বুকের সাথে জড়িয়ে জিজ্ঞেস করলাম...
আমি:- কি হয়েছে রফিক দাদু.? তোমার এই হাল কে করেছে..? নিচেও দেখলাম আব্বু আম্মুকেও কেউ নৃশংসভাবে হত্যা করেছে.! কি হয়েছিল দাদু.? ওও দাদু বলো নাহ কি হয়েছিল.?
রফিক দাদু আমাকে আরেকটু কাছে ডেকে হেয়ার পিনটা আমার হাতে দিয়ে আস্তে আস্তে বললো.....