পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ০২
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ০২ · ২৮ পর্বের মধ্যে ২
চেয়ার টান দিয়ে বসে চোখ গরম করে আয়াত দুরুদের উদ্দেশ্যে কথা ছুড়ে মারলো "এইযে মিস্টার! আমি এই টেবিলে আগে এসেছি। সো! এটা আমার টেবিল। আপনি অন্য কোথাও যান" দুরুদও কম যায় নাহ ভেঙ্গাতে ভেঙ্গাতে বললো "এইযে মিস্টার! আমি এই টেবিলে আগে এসেছি। সো! এটা আমার টেবিল। আপনি অন্য কোথাও যান। ওহ্! হ্যালো ম্যাডাম। এই টেবিলের কোত্থাও আপনার নাম লিখা নেই যে এটা আপনার টেবিল। সো! এখানে আমি আর আমার ফ্রেন্ডসরা বসবো। আপনি একা মানুষ কোথাও নাহ কোথাও ঠিকই জায়গা করে নিতে পারবেন। এটা আমাদের দিয়ে আপনি অন্য কোথাও যান।" আয়াত মুখ ভেঙ্গচি দিয়ে কিছুটা ভাব নিয়ে চুলে আঙ্গুল প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে বললো "লিসেন! কথা বাড়াবেন নাহ বলছি নয়তো এখানে লাশ পড়ে যাবে।" "হা!হা!হা! উনি ফেলবেন লাশ। তা কাকে খুন করবেন.? মশা!!" রসিকতা করে দুরুদ উত্তর দিলো। আয়াত রাগে গজগজ করতে করতে বললো "দেখুন বাড়াবাড়ি করবেন নাহ। আপনারা যাবেন এখান থেকে।" "ম্যাম! ম্যাম! স্যার! আপনারা প্লিজ ঝগড়া করবেন নাহ! আমরা খুবই দুঃখিত যে আজ আমাদের ক্যাফের সবগুলো টেবিল অনেক তাড়াতাড়ি বুক হয়ে গেছে। আপনারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া নাহ করে একটা টেবিলেই যদি মানিয়ে নিতেন।" আকুতি কণ্ঠে বললো সেখানকার একজন ওয়েটার। আয়াত সয়তানি একটা হাসি দিয়ে মনে মনে ভাবলো, অ্যাপার্টমেন্টের পাশে এত সুন্দর ভিউওয়ালা ক্যাফে হয়তো আর পাওয়া যাবে নাহ। তার চেয়ে ভালো হবে এই বড়লোকের বেটার সাথেই আপোষ করে নেওয়া। "আ-আ-আমি বলছিলাম কি!! আ-আমরা নিজেদের মধ্যে লড়াই নাহ করে কেনোনা আপোষেই টেবিলটা বুক করি। আর দেখুন চেয়ার আছে চারটা আমরা মানুষও হলাম চারজন। তাছাড়া বিল যা আসবে চার ভাগের তিন ভাগ আপনাদের আর এক ভাগ আমার।" "ওরেহএএ মোহতারমা!! এতক্ষণ একা টেবিল বুক করার জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিলেন আর এখন কি সুন্দর সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন" খোঁচা দিয়ে কথা বলে নিজেই হেসে দিলো দুরুদ। "ভেবে দেখুন টেবিল কিন্তু একটাই" আড়চোখে দুরুদের দিকে তাকিয়ে আবারও অন্য দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে আয়াত।
-----------------------------
অর্ডার কনফার্ম করার জন্য ওয়েটার এসেছে আয়াত ও দুরুদের টেবিলে। "স্যার! ম্যাম আপনারা কি কিছু অর্ডার করবেন.?" "টেবিল যেহেতু বুক করেছি নিশ্চয়ই কিছু নাহ কিছু অর্ডার করবো" গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিলো দুরুদ। বুঝা গেলো আয়াতের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার কারণে সে তেলে বেগুনে আছে। "আশ্চর্য! আপনি ওর সাথে এমন ব্যবহার করছেন কেনো.? ওর যেটা কাজ ও তোহ সেটাই করবে। আপনার ইচ্ছে হলে অর্ডার করবেন নাহয় করবেন নাহ শুধু শুধু এত সুন্দর পরিবেশটা নষ্ট করবেন নাহ" প্রতিবাদী কণ্ঠে দুরুদকে খোঁচা দিয়ে কথা বলতে আয়াতের খুব ভালো লাগছে। মনে মনে সে খুব হাসছে। খুব বেশিই হাসছে। "এক মিনিট! হোয়াট ডু ইউু মীন.? এখানকার পরিবেশ আমি নষ্ট করছি.?" রাগে ফোসফাস করতে করতে দুরুদ জবাব দিলো। বড় বড় চোখে আয়াতের দিকে তাকিয়ে আছে এক্ষুনি বুঝি ওই চোখগুলো দিয়ে আয়াতকে খেয়ে ফেলবে। "নাহ! নাহ! আমি কি একবারও বলেছি নাকী! যাগগে শুনো আমার জন্য একটা রেড ভেলভেট চকলেট কেক আনবে। সাথে একটা ক্যান্ডল। একটা হাফ বোতল শ্যাম্পেন আরররররর আর কিছু লাগলে ডেকে নিবো" "ওরে বাবা! এই ম্যাডাম দেখি আবার শ্যাম্পেনও খায়! হা!হা!হা!" আয়াতকে সবার সামনে ছোট করলো যেটা আয়াতের দৃষ্টিকটু মনে হলো। "এক্সকিউজ মী শুনো! অর্ডারটা ক্যান্সেল করে দাও আমি চলে যাচ্ছি" দুরুদ হয়তো বুঝতে পেরেছে আয়াত তার কথার জন্যই অর্ডার ক্যান্সেল করে চলে যাচ্ছে। "আরে ভাই আপনি কি রাগ করেছেন.? আমি তোহ জাস্ট মজা করে বলেছি। জাস্ট কিডিং ম্যান।" আয়াত অসহায় দৃষ্টিতে দুরুদের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো "আজ আমার বার্থডে। আর এই শহরে আমি একা। কাউকে নিয়ে সেলিব্রেট করতে পারবো নাহ তাই যখন দেখলাম আপনাদের সাথে আমার টেবিল বুক করতে হচ্ছে তাই ভাবলাম শ্যাম্পেনটা আপনাদের জন্য অর্ডার করি।" অনুতপ্ত দৃষ্টিতে দুরুদ আয়াতের দিকে তাকায়। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যাবে তখনই সেখানে দারিয়া ও তার দুই বান্ধবী এসে হাজির। "দুরুদ! তুমি কেনো এমন করছো.? তুমি কি বুঝতে পারছো নাহ আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।" আয়াত অবাক দৃষ্টিতে হা করে দুরুদের দিকে তাকায়। দুরুদ আমতা আমতা চোখে আয়াতের চোখ থেকে চোখ সরিয়ে নিলো। "দারিয়া তোমাকে কতবার বলেছি আমার পিছু পিছু আসবে নাহ। আমি তোমার মুখও দেখতে চাই নাহ। নষ্ট মেয়েে মানুষ। তোমাকে বলেছিলাম নাহ আমার নতুন গার্লফ্রেন্ড হয়েছে এইযে পরিচিত হও। ইয়ে তোমার নামটা..." আয়াত দুরুদের দিকে আড়দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে দারিয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলে "হাই! আমি আয়াত। আপনার এক্সের প্রেজেন্ট। ভাগ্যিস ও আপনাকে ছেড়ে দিয়েছে নয়তো ওর মতো খাঁটি সোনা কোথায় পেতাম। তাই নাহ দরুদ সোনা.?" দুরুদ কি বলবে বুঝতে পারছে নাহ। মাথা চুলকাতে চুলকাতে বল "হ্যাঁ! হ্যাঁ! দারিয়া তুমি এবার এখান থেকে চলে যাও আমাদের ডিসটার্ব করবে নাহ।" এই বলে দুরুদ আয়াতের সামনে গিয়ে আলতো করে আয়াতের কোমরে হাত দিয়ে দরুদের বাহুতে আয়াতকে লাগিয়ে আয়াতের ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়। আয়াত অজানা অনুভূতিতে চোখ বন্ধ করে শুধু গোঙ্গাচ্ছে। একটু জোর খাঁটিয়ে দরুদকে দূরে সরিয়ে দিয়ে বাম হাতে উল্টো পাস দিয়ে নিজের ঠোঁট মুখে চোখ বড় বড় দরুদের দিকে তাকায় আয়াত। দুরুদ কানের ধরার মতো ভান করে আয়াতকে সিচুয়েশন সামলাতে বলে। দারিয়া তোহ মানতে নারাজ। সে কিছুতেই দরুদকে হারাতে পারবে নাহ। অথচ সেই কিন্তু দরুদের সাথে বেইমানি করেছে। "তোমার রুচিতে এতটাই দুর্ভিক্ষ নেমেছে যে ওর মতো সাদা বুড়ির প্রেমে পড়েছো। ভাবতেই অবাক লাগছে।" আয়াতের তোহ আকাশ থেকে পরার মতো অবস্থা। কেউ ওর সাদা চামড়া নিয়ে খোঁচা দিলে ওর মাথায় আগ্নেয়গিরি ফাটে। "ওহ হ্যালো! তুই কাকে কি বলছিস জানিস.? তুই নিজের চেহারা দেখেছিস আয়নায়.? দেখতে তোহ একদম পঁচা আলুর মতো চেহারা।" সাইড থেকে মল্লিকা নামে দারিয়ার এক বান্ধবী চেচিয়ে উঠলো "এই তুই কাকে কি বলছিস.? তুই জানিস ও কে.?" "ও কে এসব দেখে আমার কোনো লাভ নেই। এতটুকু বুঝে গেছি একটা নষ্ট ফ্যামিলির নষ্ট নষ্ট মেয়ে" রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে আয়াত জবাব দিলো। মল্লিকা আর দারিয়ার পাশ কাটিয়ে জেরিন ছুটে এসেছে আয়াতকে চড় মারার জন্য। আয়াত জেরিনের হাত খপ করে ধরে পার্সটা দরুদকে ধরতে বললো। তারপর জেরিন চুল ধরে দুইবার লাটিমের মতো ঘুরিয়ে ঠাস করে ফর্সা গালে আয়াতের পাঁচ আঙ্গুলের ছাপ বসিয়ে দিলো। জেরিনকে মারতে দেখে দারিয়া আয়াতকে মারার জন্য যেই নাহ এগিয়ে এলো আয়াত পার্সের ভিতর থেকে লিপস্টিক বের দারিয়ার নাকের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। অন্য দিকে মল্লিকা আক্রমণ করলে দরুদ আয়াতের পার্স থেকে আইলাইনার বের করে মল্লিকার চোখে লাগিয়ে দেয়। দারিয়া, মল্লিকা আর জেরিন মাটিতে পরে কাতরাচ্ছে। আয়াত, দুরুদ আর ওর দুই বন্ধু পরিস্থিতি বুঝে সেখান থেকে পালায়। ক্যাফেতে মারামারি করে ৪জন একসাথে বের হলেও পুলিশের ভয়ে চারজন আলাদা আলাদা হয়ে যায়। আয়াত ও দুরুদ একসাথে আর বাকি দুইজন কোথায় পালিয়েছে কেউ জানে নাহ।
----------------------------
অন্ধকার রাত। চারিদিক থেকে শুধু ঝিঁঝি পোকার ডাক, রাস্তায় ইয়া বড় বড় ইটের দেওয়াল পাশে একটা পরিত্যক্ত পুরনো বাড়ি আর বাতাসের মিষ্টি ছাড়া অনুভব করার মতো শুধু একটা জিনিসই আছে সেটা হলো দুইজন অপরিচিত মানুষ একসাথে আচেনা একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে কারো অপেক্ষায়। ক্যাফে থেকে মারামারি করে যখন আয়াত আর দুরুদ একসাথে বের হয় তখন দুরুদের ফোনে ওর একজন কলেজ ফ্রেন্ডের কল আসে। কল রিসিভ করতেই ফোনের অপর প্রান্ত থেকে আশরাফের কণ্ঠ ভেসে আসে। "হ্যাঁ! হ্যালো। দুরুদ" কোনো দরকারে দুরুদের ফোনে কল দিলো আশরাফ। দুুরুদ জিজ্ঞাসা সুরে উত্তর দিলো "হ্যাঁ! বল। কি হয়েছে.?" আশরাফ নরম কণ্ঠে দুরুদকে বললো "এই শোন নাহ! হসপিটাল থেকে কল এসেছিলো। একজন পেসেন্টের বাড়ি গিয়ে তাকে ড্রেসিং করে দিয়ে আসতেে হবে। এই মুহুর্তে কোনো স্টুডেন্ট ফ্রী নেই আর তুই তোহ সবসময় ফ্রী থাকিস তাই ভাবলাম কাজটা তোকেই দেওয়া যায়। তাছাড়া তুই তোহ এসব কাজে এমনিতেও কাঁচা একটু আধটু কাজ করলে চর্চা ভালো হবে। আর শোন কাজ শেষে পেসেন্ট চার্জ দিবে বলেছে। ওইদিন তুই নাহ বললি তোর বাবাকে দেখাবি তুইও রোজগার করতে পারিস তাহলে আজ থেকেই শুরু করে দে। কি বলিস.? যাবি.?" "এখন.? আচ্ছা ঠিক আছে লোকেশন সেন্ট কর আমি যাচ্ছি। কত চার্জ দিবে সেটা বল.?" উৎসুক কণ্ঠে আশরাফকে প্রশ্ন করলো দুরুদ। "তোর কাজ দেখে যদি উনাদের ভালো লাগে তাহলে মোটা অংকের টাকা পাবি। আর আমি লোকেশন সেন্ট করছি ওয়েট।" এই বলে আশরাফ কল কেটে দিলো। আশরাফ কল কাটার সাথে সাথে দুরুদ আয়াতকে বললো "এই ম্যাডাম শুনুন!" আয়াত রাগান্বিত চোখে দুরুদের দিকে তাকিয়ে রইলো। দুরুদ আবারও আমতা আমতা করে বললো "ইয়ে মানে! একটা অপারেশনে যাবো আপনি চাইলে আজকে জন্য আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারেন।" আয়াত নখ খুঁটতে খুঁটতে বললো "অপারেশন.? কার অপারেশন.?" "আরে এই অপারেশন সেই অপারেশন নাহ। মানে আমার লাইফের ফার্স্ট হোম সার্ভিস এটা তাই এটার নাম অপারেশন দিলাম" মৃদু স্বরে হেসে বললো দুরুদ। "ছিহ্! আপনার এসব বাজে কাজে আমি নেই।" লজ্জায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বললো আয়াত। মাথা চুলকাতে চুলকাতে অবাক দৃষ্টিতে হা হয়ে তাকিয়ে আবারও বললো দুরুদ "বাজে কাজ মানে.?" আয়াত আমতা আমতা করে বললো "হোম সার্ভিস কোন দিক দিয়ে ভালো কাজ বলুন তোহ.?" "হা!হা!হা! আপনি এত নেগেটিভ মাইন্ডের কেনো বলুন তোহ.? একজন পেসেন্টের বাসায় যাবো ড্রেসিং করতে। এটার কথাই বললাম।" হাসতে হাসতে বললো দুরুদ। "সে যাই হোক আমি আপনার সাথে কোথাও যাবো নাহ তাছাড়া আমি তোহ আপনাকে তেমন ভাবে চিনিও নাহ" খিচখিচ করে জবাব দিলো আয়াত। "মনে করে নেন এটা আপনার বার্থডেতে আমার পক্ষ থেকে একটা ছোট্ট গিফট" আকুতি সুরে বললো দুরুদ। এমন ভাবে বললো আয়াত আর নাহ করতে পারলো নাহ। যেনো এই অচেনা শহরে শুধুমাত্র এই একটা মানুষকেই মন থেকে বিশ্বাস করা যায়। কেনো এই অচেনা অজানা শহরের এক অপরিচিত মানুষকে এতটা আপন মনে হচ্ছে, কেনো তাকে এমন অন্ধবিশ্বাস করছে জানে নাহ আয়াত। অল্প অনুরোধেই যখন আয়াত রাজি হয়ে যায় তখনই আশরাফ দুরুদের ফোনে লোকেশন সেন্ট করে। লোকেশনের জায়গাটা দুরুদ নিজেও চিনে নাহ। তারপরও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। বেশ কিছুক্ষণ সময় পর তারা দু'জনই তাদের গন্তব্য স্থানে এসে পৌঁছায়। কিন্তু কিন্তু দূর্ভাগ্যবশতঃ সেখানে চারিদিকে বড় বড় ইটের দেওয়াল আর একটা পরিত্যক্ত পুরনো বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই বাড়িটার দিকে তাকালেই আয়াতের কয়েক ঘন্টা আগের কথা মনে পরে যায়। ভয়ে সে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। পিছন থেকে দুরুদ আয়াতের কাঁধে হাত দিতেই আয়াত ভয়ে একটা চিৎকার করে দুরুদকে জড়িয়ে ধরে। দুরুদ আয়াতকে শান্তনা দিতে দিতে ওর মাথায়৷ হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। আহ! কি স্মুথ হেয়ার। এত স্বচ্ছ চুলে এর আগে কখনো হাত বুলায়নি দুরুদ। আর কি মাতোয়ারা চুলের গন্ধ। ইচ্ছে হচ্ছিল সারাক্ষণ শুধু এই চুলের ঘ্রাণ নিতে। বলতে পারছিলো নাহ দুরুদ তুমি আমার বুকের পাঁজর থেকে তোমার মাথাটা সরিয়ো নাহ আমি সারাজীবন তোমাকে এভাবেই আমার বুকে জড়িয়ে রাখতে চাই। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই দু'জনই দু'জনের কাছে অচেনা। অচেনা হওয়া সত্ত্বেও দুরুদের সাথে এখানে আসাতে রাজি হয়েছে আয়াত এটাই যেনো বিশাল পাওয়া মনে করছে দুরুদ। আয়াত এখনো দুরুদের বুকে মাথা রেখে ভয়ে ডুবে আছে ওইদিকে দুরুদও আয়াতের ভয়কে কাজে লাগিয়ে আয়াতকে শক্ত করে ধরে আছে যেনো পৃথিবীর কোনো শক্তি আয়াতকে দুরুদের বুক থেকে আলাদা করতে নাহ পারে। হঠাৎ পিছন থেকে গম্ভীর একটা কণ্ঠ ভেসে এলো "মিস্টার দুরুদ।"