পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১৯

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৯ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১৯

মধ্যরাত। নিস্তব্ধ শহর। পুরো শহর এখন ঘুুমের জগতে স্বপ্ন খুঁজতে ব্যস্ত। রাত্রিপুষ্পগুলোর সুগন্ধ ছড়িয়ে পরেছে পুরো শহর জুড়ে। তার সাথে শহরের আকাশে রয়েছে সুন্দর একটা পূর্ণিমার চাঁদ। ঘুমিয়ে আছে পুরো শহর, ঘুমিয়ে আছে চিশতিও। "চিশতি! চিশতি! এই চিশতি, উঠো!" ফিসফিস গলায় চিশতিকে ডাকছে নিমু। নিমুর গলার আওয়াজ পেয়ে মুহুর্তেই চিশতির ঘুম ভেঙ্গে যায়। চিশতি লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে চেঁচিয়ে বলে "তুমিইইইইইইই! এত রাতে এখানে কি করছো?" নিমু তাড়াতাড়ি করে চিশতির মুখ চেপে ধরে বলে "পাগল নাকী তুমি! এক্ষুনি তোহ সবার জেগে যেতো।" চিশতি নিজের মুখ থেকে নিমুর হাত সরিয়ে দিয়ে আস্তে আস্তে বলে "এত রাতে কি মনে করে?" নিমু একটা দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে "চলো এক জায়গায় যাবো" চিশতি আড়দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে "কোথায়?" নিমুর ঠোঁটের ভাজে এখনো হাসি লেগে আছে। মুখটা চিশতির কানের কাছে নিয়ে গিয়ে কানে কানেে বললো "ছাঁদে যাবো!" চিশতি লাফিয়ে উঠে বললো "পাগল হয়ে গেছো তুমি? এত রাতে ছাঁদে গেলে ভুতে ধরবে। নাহ বাবা থাক আমি যাবো নাহ তুমিই যাও" নিমু হাসতে হাসতে বললো "তুমি আসলেই বোকা! তোমার সাথে একটা জলজ্যান্ত জ্বিন যাচ্ছে, আর কোন ভুত আসবে শুনি?" চিশতি লজ্জামাখা কণ্ঠে বললো "ভুলেই গেছি তুমি যে জ্বিন" নিমু মৃদু হেসে আবার বললো "তাহলে.....?" চিশতি দৃষ্টিপাত করে বললো "হ্যাঁ চলো!" এরপর নিমু নিজের হাতটা চিশতির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো "আমার হাতটা শক্ত করে ধরো, একদম ছাড়বে নাহ!" নিমুর কথা মতো চিশতি ওর হাতটা শক্ত করে ধরে। চোখের পলকেই নিমু এবং চিশতি দু'জনেই বদ্ধ ঘর থেকে সোজা বাড়ির ছাঁদে গিয়ে পৌঁছায়। নিমুর এই প্রকার অলৌকিক শক্তি দেখে চিশতি রীতিমতো ভীমড়ি খেলো। "তার মানে জ্বিনো চাইলে সবকিছুই করতে পারে" নিমুকে প্রশ্ন করলো চিশতি। "জানি নাহ! হয়তো পারে হয়তো পারে নাহ!" নিমু জবাব দিলো। "চোউউউউউপ মিথ্যাবাদী! এ আমি বিশ্বাস করি নাহ! আমি জানি তুমি চাইলে সবকিছুই করতে পারো" খিটখিট করে হাসতে হাসতে বললো চিশতি। "সর এন্তে! নাটকবাজ!" মুচকি হেসে বললো নিমু। চিশতি আর কিছু বললো নাহ। রাতের পরিবেশটা উপভোগ করছে দু'জনে। কি সুন্দর স্নিগ্ধ হাওয়া। বাতাসে বইছে বিস্তীর্ণ পুষ্পসুবাস। রাত্রিপোকারা ডাকছে বিরতিহীন ভাবে। আকাশের মেঘগুলো একটু পর পর ভেসে এসে চাঁদকে লুকিয়ে দিচ্ছে। আবার একটু পর পর মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে মুখ বে ;

র করে আলোকিত চাঁদটা। সব মিলিয়ে এক অসাধারণ রাত ছিলো ওইদিনের রাতটা। "নিমু! আচ্ছা নিমু, তোমার নাম নিমু রাখা হয়েছে কেনো?" চাঁদের দিকে তাকিয়ে নিমুকে প্রশ্ন করলো চিশতি। "উমমমম! জানি নাহ। কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি। তবে আম্মাজান বলতো আমার ভাগ্য নাকী রাজ ভান্ডারের মতো সুবিশাল। যেখানেই যাই সুখ শান্তি আর ধনদৌলত অহরহ হয়ে ছড়িয়ে থাকে। তাছাড়া আমার নামের অর্থ ধনসম্পনদ।" চিশতির পাশে গিয়ে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে জবাব দিলো নিমু। নিমু জবাব শুনে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো চিশতি। কি বলবে খুঁজে পাচ্ছে নাহ। যে বাকরূদ্ধ হয়ে গেছে চিশতি। কতশত কথা বলতে চায় কিন্তু কিছুই বলতে পারছে নাহ। "আচ্ছা নিমু....." চিশতি বলার আগেই নিমু বলে "আচ্ছা চিশতি...." নিমুকে উত্তেজিত হয়ে ডাকতে দেখে চিশতি বললো "হ্যাঁ বলো!" নিমু চুপসে গিয়ে বললো "আগে তুমি বলো" চিশতিও কোনো কিছু নাহ ভেবে সরল মনে বললো "তুমি মানুষ হলে নাহ কেনো? আর যদি মানুষ হতে তাহলে কি তোমার এমন সুন্দর রূপ থাকতো?" নিমু নরম সুরে বললো "রূপের প্রেমে পড়েছো??" চিশতি থতমত খেয়ে বললো "নাহ! নাহ! কি বলো। আমি কি দেখতে কম সুন্দর নাকী, আ-আমি কেনো তোমার রূপের প্রেমে পড়তে যাবো।" নিমু মিটমিট করে হেসে বললো "তুমি জানো আমার বয়স কত?" চিশতি ভাবান্তর দৃষ্টিতে নিমুর পা হতে মাথা অব্দি পর্যবেক্ষণ করে বললো "কত আর হবে? এই ১৯-২০ এর বেশি হবে বলে মনে হয় নাহ।" নিমু খিটখিট করে হাসতে হাসতে বললো "হা!হা!হা! ১৯-২০?? ১২০০ বছর আমার" চিশতি অবাক হয়ে চেয়ে রইলো। "এ্যাঁহ্" নিমু হাসতে হাসতে বললো "এ্যাঁহ্ নাহ হ্যাঁ! আচ্ছা বলো তোমরা মানুষরা কত বছর অব্দি বাঁচো?" চিশতি খিটখিটে কণ্ঠে বললো "কেনো তুমি জানো নাহ বুঝি?" নিমু মৃদু হেসে আবার বললো জানি, কিন্তু তোমার মুখ থেকে শুনতে চাই! দেখি আমার হাঁদারামটার ঘিলুতে কিছু আছে কি-না" চিশতি রাগ করে গাল ফুলিয়ে বললো "অপমান করছো আমায়! তোমার সাথে কোনো কথা নেই" নিমু চিশতির থুতনিতে পাঁচ আঙ্গুলের আলতো ছোঁয়া দিয়ে বললো "আহাগো আমার লজ্জাবতী লতিকা! তোমার মানও আছে? হা!হা!হা! রাগ করো নাহ আমি কিন্তু মজা করছি!" চিশতি অন্য দিকে মুখ ঘুড়িয়ে বললো "বেশ কিছু বছর আগেও মানুষ প্রায় ১০০ বছরের উপরে বাঁচতো। এখন তোহ ৬০-৭০ বছর অব্দি বাঁচাই দায়।" এবার নিমু চিশতির উদ্দেশ্যে কিছু কথা বললো "ধরো, মানুষ ১০০ বছরই বাঁচলো, কিন্তু আমরা জ্বিন জাতি প্রায় ১৭০০ বছর অব্দি জীবিত থাকতে পারি। আমাদের বয়সের সাথে সাথে আমাদের শক্তিও বাড়তে থাকে। আর রইলো রূপের কথা, আমাদের নিজস্ব কোনো রূপ নেই, আমরা প্রয়োজন মতো নিজের রূপ, আকার, আকৃতি পরিবর্তন করতে পারি।" নিমুর সাথে যত বেশি ক্লোজ হচ্ছে তত বেশি অবাক হচ্ছে চিশতি। মনে হচ্ছে সে অজানা কিছু জানতে পারছে নিমুর কাছ থেকে। "তুমি চাইলে সবার সামনে মানুুষ হয়েও ঘুরতে পারবে?" চিশতির প্রশ্নের কোনো উত্তর দিলো নাহ নিমু। "চলো আমরা কার্নিশের উপরে উঠে হাঁটি।" নিমুর কথা শুনে বেশ অবাকই হলো চিশতি "কি বলছো? যদি পরে যাই?" নিমু মৃদু হেসে বললো "আমার উপর ভরসা আছে তোহ?" চিশতি ঘাড় নেড়ে জবাব দিলো "হ্যাঁ" এরপর নিমু শক্ত করে চিশতির হাত ধরলো। চিশতি একদম ছাঁদের কার্নিশে উঠে দাঁড়ালো। এক পা দু পা করে কার্নিশের উপরে হাঁটছে চিশতি। নিমু নিচে থেকে চিশতির হাত ধরে সাপোর্ট দিচ্ছে যাতে চিশতি পরে নাহ যায়।

মাঝরাতে হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো আমিনা বিবির। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে এসেছে তার। ঠোঁট শুষ্ক হয়ে গেছে। ঘুম ঘুম চোখে ড্রিম লাইটের আলোয় হাত বাড়িয়ে খাটের পাশে রাখা পানির বোতল খুঁজতে থাকে। বোতলটি হাতের নাগালে পেলেও বুঝতে পারলো বোতলে পানি নেই। পানি আনার জন্য বোতল হাতে নিয়ে হামি তুলতে তুলতে রুম থেকে বের হলো আমিনা বিবি। ঘুমন্ত শরীর নিয়ে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে রান্নাঘরে গেলেন। রান্নাঘরের লাইট জ্বালাতেই চমকে গেলেন আমিনা বিবি। "একি? এত রাতে তুমি এখানে কি করছো" ভয় পেয়ে গিয়ে বললো আমিনা বিবি। "আ-আসলে মা হয়েছে কি!! আ-আমার নাহ অ-নেক খিদে পেয়েছিলো তাই রান্নাঘরে এসে ফ্রিজ থেকে কলা বের করে খাচ্ছিলাম।" আমিনা বিবির কাছে হাতেনাতে ধরা পরে থতমত খেয়ে বললো ইছামতী। "এত রাতে কারো খিদে পায়? যাগগে, খাচ্ছো ভালো কথা লাইট জ্বালিয়ে তোহ খাবে। কলার সাথে যদি তেলাপোকাও খেয়ে ফেলো??" পুত্রবধূকে ধমকের সুরে বললো আমিনা বিবি। "তেলাপোকা!! ওও মা-গোহহহ! কই! কই তেলাপোকা" তেলাপোকার কথা শুনে ভয়ে চেঁচাতে শুরু করে ইছামতী। "এই হলো আরেক ড্রামা কুইন" বিড়বিড় করে বললো আমিনা বিবি। "জ্বি মা, কিছু বললেন?" আমিনা বিবি কি বলেছে শুনতে নাহ পেয়ে প্রশ্ন করলো ইছামতী। "নাহ! মা, কিচ্ছু বলিনি। তোমার খাওয়া শেষ হয়েছে?" বিরক্তি সুরে বললো আমিনা বিবি। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! এইতো শেষ। চলুন! চলুন!" কলা গিলতে গিলতে বললো ইছামতী। ইছামতীর সাথে কথা বলতে বলতে আমিনা বিবিও পানি পান করে বোতল ভরে পানি নিয়ে নিলো। এরপর দু'জনই রান্নাঘর থেকে বের হয়ে এলো। বারান্দা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ইছামতীর চোখ হঠাৎ ছাঁদের কার্নিশে গিয়ে আটকায়। বারান্দার পাশ দিয়ে উপরে তাকালে আকাশ এবং ছাঁদের কার্নিশ একদম স্পষ্ট দেখা যায়। ইছামতীকে অপলক দৃষ্টিতে ছাঁদে তাকিয়ে থাকতে দেখে আমিনা বিবি প্রশ্ন করলো "কি হলো? ওদিকে কি দেখছো?" ইছামতী আমিনা বিবিকে আঙ্গুলের ইশারা দিয়ে বললো "মা! দেখুন তোহ ওটা চিশতি ভাইয়া নাহ?" ইছামতীর কথায় আমিনা বিবিও ছাঁদের দিকে তাকাতেই যেনো আকাশ থেকে পরলো। "ইছামতী! আমি যা দেখছি তুমিও কি তাই দেখছো?" ইছামতী আমিনা বিবিকে জড়িয়ে ধরে বললো "হ্যাঁ! মা, আমার মনে হয় চিশতি ভাইয়াকে ভুতে ধরেছে। এত রাতে একা একা ছাঁদের কার্নিশে হাঁটছে। মা আমার খুব ভয় করছে" আমিনা বিবি ইছামতীকে অভয় দিয়ে বলে "ভয়ের কিছু নেই! এরচেয়ে কত ভয়ংকর খেল খেলেছি। চলল তোহ আমার সাথে" ইছামতী ভয়ের ঠ্যালায় বলে "নাহহহহ! মা আমি যেতে পারবো নাহ, যদি চিশতি ভাইয়ার ভেতরর ভুত থাকে তাহলে আমাকে মেরেই ফেলবে।" আমিনা বিবি বিরক্ত নিয়ে বললো "তোমার উল্টাপাল্টা চিন্তার জন্য আমার হাতে মা/র খাবে। চলো আগে চিশতির রুমে গিয়ে দেখি ও রুমে আছে কি-না" আমিনা বিবির ধমকে শান্ত হয়ে উনার কথা মতো চিশতির রুম অব্দি গেলো ইছামতী। রুমের সামনে গিয়ে আমিনা বিবি চিশতির দরজায় ধাক্কাতে থাকে। "চিশতি! এই চিশতি! দরজা খোল! চিশতি" "চি-চিশতি ভা-ইয়াআআআআ! চি-শ-তি ভাইআআআ! শুনতে পাচ্ছো? দ-দ-দরজাটা খুলো" এভাবে অনেকক্ষণ দরজা ধাক্কানোর পরও ভেতর থেকে কোনো সারা শব্দ পাচ্ছে নাহ। এবার তাদের সন্দেহ আরো প্রখর হতে লাগলো। হয়তো সত্যি সত্যি চিশতিই ছাঁদের কার্নিশে হাঁটছে। আমিনা বিবি শক্ত করে ইছামতীর হাত ধরে ছাঁদের দিকে রওনা হন। ইছামতী পায়ে ধরার মতো কাকুতি মিনতি করতে থাকে "মা! আ-আপনি আমা-র ধর্মের মা! আমার অনাগত বাচ্চার দাদিমা! আমার স্বামীর মা! আ-পনি আমারও মা। আপনি প্লিজ আমাকে ছেড়ে দিন। মা আমার ভয় করছে ওও মা, আমি যাবো প্লিজ মা!" আমিনা বিবি চোখ বড় বড় করে ইছামতীর দিকে তাকাতেই ইছামতী ভয়ে চুপসে গেলো। ইছামতী আর আমিনা বিবির পায়ের শব্দ নিমু টের পাওয়ার সাথে সাথে এক টানে চিশতিকে কার্নিশ থেকে নিজের বাহুতে এসে লাগিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে এক পাক ঘুরে আর সাথে সাথে নিমু ও চিশতি ছাঁদ থেকে গায়েব হয়ে যায়। পরমুহূর্তেই আমিনা বিবি আর ইছামতী ছাঁদে এসে দেখে ছাঁদে কেউই নেই। একসাথে দুইটা মানুষ কিভাবে ভুল দেখতে পারে? আসলেই কি মনের ভুল ছিলো? আমিনা বিবি এবং ইছামতী একে অপরের দিকে চোখাচোখি করে অবাক হয়ে ছাঁদ থেকে নামছে। "কি হলো নিমুু? হঠাৎ এভাবে টান দিলে? যদি পরে যেতাম?" চিশতির ঠোঁটে নিজের শাহাদাৎ আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরে বললো নিমু "তোমার মা আর ভাবি তোমাকে দেখে ফেলেছে। সত্যি সত্যি তুমি ছাঁদে কি-না সেটা দেখার জন্য ওরা ছাঁদে উঠেছে। কোনো উপায় নাহ পেয়ে তোমাকে আবারও তোমার রুমে নিয়ে এলাম। যাই হোক, আজকের আড্ডা এতটুকুই। আমি গেলাম। সাবধানে থাকবে।" এই বলে চিশতির রুম থেকে বিদায় নিলো নিমু। নিমু মুহুর্তেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। ও চলে যাওয়ার সাথে সাথে চিশতির রুমটা সুগন্ধি সুভাসে ভরে গেলো। চিশতি চোখ বন্ধ করে সেই ঘ্রাণ উপভোগ করলো। নিমুর পথপানে দৃষ্টিপাত করে চেয়ে থেকে বিছানায় গিয়ে পিঠ ঠেকাতে নাহ ঠেকাতে দরজায় ধাক্কা। "চিশতি! এই চিশতি! রুমে আছিস? কিরে!" দরজার বাইরে থেকে আমিনা বিবির ডাক শুনে আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠলো চিশতি। দরজা খুলে কি জবাব দিবে ভাবতে ভাবতে এক পা দু পা করে দরজার সামনে গিয়ে বললো "হ্যাঁ আম্মি! আমি তোহ ভেতরেই? ভিতরে আসবে??" চিশতির কণ্ঠস্বর পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে আমিনা বিবি বললো "নাহ! নাহ! ভেতরে আসবো নাহ! তখন এত ডাকলাম দরজা খুললি নাহ কেনো?" চিশতি আমতা আমতা করে বললো "আআ-সলে আ-ম্মি ওয়াশ-রুমে ছিলাম আমি" চিশতির জবাব শুনে আমিনা বিবি বললো "আচ্ছা ঠিক আছে! সাবধানে থাকিস। আর রাত বিরাতে পাগলামি করবি নাহ বলে দিলাম। চুপচাপ শুয়ে থাক" এই বলে আমিনা বিবি চলে গেলেন।

গভীর ঘুমে মগ্ন হয়ে ঘুমাচ্ছে চিশতি। হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গে কিছু অদ্ভুত শব্দ শুনে। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে ঘরের ভিতরে মৃদু হাওয়ায় ওয়াশরুমের দরজাটা দুলছে। ভিতর থেকে কেমন একটা শব্দ আর আলো ভেসে আসছে। কিন্তু চিশতির স্পষ্ট মনে আছে সে ঘুমানোর আগে ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়েছে। তাহলে দরজা খুললো কিভাবে? ভিতরে কি হচ্ছে দেখার জন্য বিছানা থেকে উঠে পা টিপ টিপে ওয়াশরুমের দিকে এগোচ্ছে। দরজার সামনে গিয়ে হাত বাড়িয়ে ভিতর দিকে দরজা ঠেলতেই পায়ের নিচের মাটি সরে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেলো চিশতি। ওয়াশরুমের ফ্লোরে লাল রঙের আবির দিয়ে ছয় কোণের তাঁরা আঁকা। সেই তারার মাঝে একটা মোমবাতি জ্বলছে। তার পাশেই বসে আছে দুইজন মহিলা। লাল রঙের শাড়ি পড়নে। চুলগুলো এলোমেলো হয়ে জট লেগে আছে। মুখে লাল রঙ মাখানো। চোখের নিচে কালি লেপ্টে মাখানো। দেখে চেনার উপায় নেই কারা এরা। চোখ বন্ধ করে তারা অনবরত বিড়বিড় করে তন্ত্রমন্ত্র পাঠ করছে। "ক-কা-রা আ-আ-পনারা? আ-আমার র-রুমে আ-স-লেন কি-ভা-বে?" ভয়ার্ত কণ্ঠে ডাকলো চিশতি। সাথে সাথে মহিলা দু'জন চোখ খুললো। ভয়ংকর দৃষ্টিতে চিশতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে মহিলাগুলো। মনে হচ্ছে এক্ষুনি চিশতিকে খেয়ে ফেলবে। "হা!হা!হা! কি ভেবেছিস? এত সহজে আমাদের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে যাবি? তুই আমাদের লোককে মেরেছিস এর শাস্তি তোহ তোকে পেতেই হবে।" এই বলে মহিলাটি নিজের হাত কেটে মোমবাতির জ্বলন্ত শিখায় নিজের রক্ত ঢেলে দিলো। সাথে সাথে সেখানেই চিশতির অসহ্য যন্ত্রণাদায়ক মাথা ব্যথা আরম্ভ হয়। মাথা ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে ফ্লোরে শুয়ে ছটফট করতে থাকে। মুখ থেকে তখন বার বার আমিনা বিবি আর নিমুর নামই বের হচ্ছিলো চিশতি। চিশতির ডাকে সারা দেওয়ার জন্য নিমু ছুটে আসে। "চিশতি!! আ-আমি তো-মার রুমের ভিতরে যেতে পারছি নাহ? ভিতরে নাহ গেলে তোমাকে সাহায্য করবো কিভাবে? চিশতি??" নিমুর ডাক চিশতির কান অব্দি যাচ্ছে নাহ। মাথা ব্যথায় কোনো কিছুই শুনতে পাচ্ছে নাহ চিশতি। নিমু বার বার চেষ্টা করেও চিশতির রুমে ঢুকতে পারছে নাহ। শেষ বারের মতো চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে সেখানে থেকে চলে যায় নিমু। নিমুকে চলে যেতে দেখে ওয়াশরুমে বসে থাকা মহিলা দু'জন অট্টহাসিতে মেতে উঠে। হঠাৎই ফজরের আযান শুরু হয় এবং সাথে সাথে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। চিশতিও সেখানেই ঘুমিয়ে পরে।