পুনর্জন্ম (এক নতুন অধ্যায়) — পর্ব ১৬
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: সিজন সিরিজ · পর্ব ১৬ · ২৮ পর্বের মধ্যে ১৬
প্রতিদিনের মতো আজকের দিনটাও শুরু হয়েছে এক উষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে। তবে দিনের শুরুটা সুন্দর হলেও পরমুহূর্তে ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায় লাহোরের আকাশ। "আ-আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে, আপনি আ...!" "আমিনা বিবি! আমি আমিনা বিবি!" কোনো এক অজ্ঞাত মহিলার প্রশ্নের উত্তর দিলো আমিনা বিবি। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! আমিনা বিবি। ২১শে ফেব্রুয়ারী সিটি হসপিটালে আপনার ডেলিভারি হয়েছিলো নাহ?" অজ্ঞাত মহিলাটি আমিনা বিবিকে প্রশ্ন করলো। মহিলার মুখে এই কথা শুনে আমিনা বিবি চমকে গিয়ে বলে "হ্যাঁ! কিন্তু আপনি জানলেন.....? " আমিনা বিবি কিছু বলার আগে মহিলাটি আবারও বললো "আমি জানলাম কিভাবে? কি তাই তোহ? আমিই ছিলাম সেই ডাক্তার যে আপনার ডেলিভারি করিয়েছিলাম।" উনার মুখে এসব শুনে আমিনা বিবি আবারও চমকে গেলো। এত বড় একজন ডাক্তার দিনের মধ্যে কতশত পেসেন্ট দেখে আর সে কি-না আমিনা বিবির মতো এক তুচ্ছ মানুষকে মনে রেখেছে। "আ-আপনিই সেই ডাক্তার! আমি সত্যিই খুবই দুঃখিত, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।" অনুতপ্ত হয়ে বললো আমিনা বিবি। "ইট'স ওকে! আমি ডাক্তার আইজা খান। আপনি কোথায় যাচ্ছেন জানতে পারি?" প্রশ্ন করলেন ডাক্তার আইজা খান। "বাংলাদেশ!" জবাব দিলো আমিনা বিবি। "ওহ্ মাই গড! আল্লাহর কি মেহেরবানি দেখুন একদম শেষ মুহুর্তে আপনাকে আমার সামনে এনে দাঁড় করালো।" ভিতর থেকে হাসার চেষ্টা করেও হাসতে অক্ষম হয়ে বললো আইজা খান। "মানে?" প্রশ্ন করলো আমিনা বিবি। "ওইদিন আপনার সাথে আরো একজনের ডেলিভারি হয়েছিলো সে বিষয়েই আপনাকে কিছু বলতে চাই........" "আম্মি! আম্মি! আম্মি! কি হয়েছে তোমার? ঠিক আছে তোহ সবকিছু?" হঠাৎ চিশতির ডাকে ঘোর কাটে আমিনা বিবির। "উমম! হ্যাঁ! হ্যাঁ! হ্যাঁ বাবা সবকিছু ঠিক আছে। কিছু বলবে?" কথা লুকিয়ে বললো আমিনা বিবি। "কিছু তোহ একটা ভাবছিলে, বলো আমাকে" মরিয়া হয়ে জিজ্ঞেস করলো চিশতি। "ওই একটা কথা ভাবছিলাম আরকি!" ভ্রু কুচকে বললো আমিনা বিবি। "কি ভাবছিলে?" আবারও বললো চিশতি। "দেখ বাবা! আমি চাই নাহ আমাদের কোনো কথায় তুই কষ্ট পাস। আমরা তোকে অনেক ভালোবাসি। জন্মের পর থেকে তুই আমাদের কাছ থেকে দূরে ছিলি, আমরা চাই নাহ যতটুকু সময় তুই আমাদের সাথে আছিস ততটুকু সময় আমাদের কোনো কথা বা ব্যবহারে তোর আঘাত লাগুক।" দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো আমিনা বিবি। "আম্মি! তোমরা যদি আমাকে মেরেও ফেলো তারপরও আমি তোমাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবো নাহ। তোমরা হয়তো তোমাদের ভালোবাসাটাই অনুভব করো কিন্তু আমি যে তোমাদের কতটা ভালোবাসি এটা শুধু আমি জানি। যাগগে এসব বাদ দাও আর বলো তুমি কি ভাবছিলে?" বললো চিশতি। "এটাই ভাবছিলাম যে, একটা সময় আমাদের সাথে কতগুলো মানুষ ছিলো। কত হাসিখুশি ছিলো আমাদের পরিবারটা। সময়ের সাথে সাথে কতগুলো মানুষ আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেলো। কেউ চিরতরে পরকালে চলে গেলো তোহ কেউ নিরুদ্দেশ।" চোখ মুছতে মুছতে বললো আমিনা বিবি। "এসব বাদ দে! এবার বল তুই কেনো এখানে এসেছিস?" চিশতিকে প্রশ্ন করলো আমিনা বিবি। "এইরে! ভুলেই গেছি কেনো এসেছি। তোমাকে এর আগেও অনেকবার বলেছি, আমার এই প্রবলেমটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সবকিছু খালি ভুলে যাই।" নিস্তেজ গলায় বললো চিশতি। "ঠিক আছে, তোর বিয়েটা হোক তারপর একটা বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবো তোকে।" বললো আমিনা বিবি। "আম্মি! আজকে আমার গায়ে হলুদ। আজকের দিনটা অন্তত মন খারাপ করে থেকো নাহ।" আমিনা বিবিকে জড়িয়ে ধরে বললো চিশতি। "দেখো পাগল ছেলের কান্ড! তোর বিয়েতে সব চাইতে বেশি খুশি আমি হয়েছি। আমি মন খারাপ করিনি। তুই চিন্তা করিস নাহ" এই বলে আমিনা বিবি নিজের কাজে চলে গেলো। চিশতিও নিজের রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে ভাবতে লাগলো কি বলার জন্য সে আমিনা বিবির কাছে গিয়েছিলো। অনেকক্ষণ মাথায় জোর খাটানোর পর মনে পরলো! গতকাল মাঝ রাতে হঠাৎ বাইরে প্যাঁচার ডাকের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায় চিশতির। হঠাৎ এত রাতে ঘুম ভাঙ্গায় বেশ বিরক্ত বোধ করলো চিশতি। আলতো করে চোখ খুলে দেখে রুমের পিছন দিকের জানালা খোলা আর সেখান থেকে প্যাঁচার ডাকের শব্দ ভেসে আসছে। বিছানা থেকে উঠে টিপিটিপি পায়ে গিয়ে জানালা লাগিয়ে দিলো চিশতি। জানালা লাগিয়ে ঘুরতেই অনুভব করলো চিশতির চোখের ভিতরে কি যেনো ঢুকেছে৷ চোখের ভিতরে কটকট করছে৷ সাথে প্রচুর যন্ত্রণাও করছে। তাড়াতাড়ি করে রুমের লাইট জ্বালিয়ে দিলো চিশতি। বেসিনের সামনে গিয়ে চোখে মুখে পানি দিলো তাও যেনো স্বস্তি পাচ্ছে নাহ চিশতি। হঠাৎ আয়নায় তাকাতেই চিশতি লক্ষ করলো চোখের এক কোণে চিকন কালো রঙের একটা সুতার মতো কিছু একটা নড়ছে। আঙ্গুল দিয়ে চোখ টেনে বড় করে দেখার চেষ্টা করলো চিশতি কিন্তু ব্যর্থ হলো। বারে বারে চোখের ভিতরে কটকট করছে, বেশ বিরক্ত হয়ে গেলো চিশতি। প্রথমে এক চোখে এমন হলেও পরবর্তীতে দুই চোখেই এমনটা হতে শুরু করে। চিশতি আবারও আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখ টানতে থাকে। হঠাৎ চিশতি লক্ষ করে চোখের ভিতর থেকে রক্ষা রক্ত বের হচ্ছে। হতভম্ব হয়ে তাড়াতাড়ি করে চোখ থেকে বের হওয়া রক্ত মুছতে লাগলো চিশতি। কিন্তু যত মুছছে ততই বের হচ্ছে। চোখ দিয়ে এভাবে রক্ত বের হতে দেখে চিশতি একদম স্থির হয়ে যায়। পরবর্তীতে যা হয় সেটা দেখার জন্য চিশতি মোটেও প্রস্তুত ছিলো নাহ। কিছুক্ষণ পর চিশতি খেয়াল করলো ওর চোখ থেকে মাকড়শা বের হচ্ছে ঠিক যেমনটা মানুষ বের হয় গুহা থেকে। অবাক হয়ে চিশতি শুধু আয়নার দিকে তাকিয়ে রইলো। মাকড়শাগুলো চোখ থেকে বের হওয়ার সাথে সাথে চিশতির নাক দিয়েও রক্ত পরতে শুরু হলো। এই দৃশ্য সহ্য করতে নাহ পেরে চোখ বন্ধ করে গলগল করে বমি করে দেয় চিশতি। চোখ খুলতেই দেখে বেসিন ভরা রক্ত। এরপর কি হয় চিশতির কিছুই মনে নেই। সকালে চোখ খুলে দেখে সে ফ্লোরে পরে আছে, পুরো মুখ ভর্তি রক্ত আর বেসিনেও রক্ত। তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে আমিনা বিবির কাছে সবটা বলতে গিয়েও ভুলে গেছে চিশতি। গতরাতের কথা মনে পরলেও এসবকে এতটা গুরুত্ব দিলো নাহ চিশতি। আজ তার গায়ে হলুদ এজন্য সে নূরীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য বগুড়া যাবে। বিয়ে ঠিক হওয়ার কারণে নূরী এবং নূরীর মা কয়েকদিন আগেই বগুড়া চলে গেছে। তাদের কথা একটাই, মেয়ের বাপের বাড়ি আছে, বিয়ে যদি করতে হয় তাহলে মেয়েকে বাপের বাড়ি থেকেই আনতে হবে। চিশতির বাড়ির লোকেরাও আর বাঁধা দেয়নি। বগুড়া যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে চিশতি। গায়ে হলুদের পাঞ্জাবি পরে পকেটে বেশ কিছু টাকা নিয়ে কাউকে নাহ জানিয়ে বেরিয়ে পরলো ভালোবাসার মানুষকে দেখতে। গাড়িতে উঠেছে বেশ অনেকক্ষণ হয়ে গেছে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যাচ্ছে, চিশতি এখনো গাড়িতেই, বগুড়া পৌঁছাতে আরো অনেক সময় লাগবে। এর মধ্যে মাঝ পথেই শুরু হলো তুফান। অন্য দিকে বাইরে প্রচন্ড তুফানের মাঝে মাঝে বাজ পড়ার আলোয় চারিদিক স্পষ্ট হয়ে যায়। সেই আলোয় দেখা যাচ্ছে কিছুটা দূরে দু'জন ছায়া মানব একে অপরের সাথে কথা বলছে। "তুমি যেই শক্তি লোভে চিশতিকে বিয়ে করতে চাচ্ছো সেই শক্তি কিন্তু চিশতির মধ্যে আর নেই। চিশতি হাজার চেষ্টা করলেও ওর হারিয়ে যাওয়া শক্তি আর ফিরে পাবে নাহ। এখনো সময় আছে যা করার ভেবে চিন্তে করো। পরে আফসোস করবে বলে দিলাম।" সতর্ক করার জন্য দ্বিতীয় লোকটির উদ্দেশ্যে প্রথম লোকটির বাণী ছিলো কিছুটা এই রকম। "আপনাকে কে বলেছে আমি চিশতির শক্তির লোভে ওকে বিয়ে করছি..? আপনি হয়তো ভুলে গেছেন ওর আর আমার জন্ম জন্মান্তরের বন্ধন। আমাদের জন্মই হয়েছে একে অপরের জন্য।" রাগে ক্রুদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় লোকটি প্রথম লোকটির মুখের উপর জবাব দিলো। "হা!হা!হা! এই মেয়ে! তুমি নিজেকে অনেক চালাক ভাবো তাই নাহ.? তুমি হয়তো ভুলে গেছো শীতাক্ষীকে ধোঁকা দেওয়া এত সহজ নাহ। তুমি যে গোপনে শীতাক্ষীর সাথে যুক্তি করেছো এটা আমিও জানি" দ্বিতীয় লোকটির গোপন সত্যি ফাঁস করে দিয়ে প্রথম লোকটি হাসতে শুরু করে। আমতা আমতা করে দ্বিতীয় লোকটি জবাব দিলো "আ-আ-রেএ আপনি আমাকে ভুল বুঝছেন! আ-আমি তো-হ আগে থেকেই জানি আপনি আ-মার ব্যাপারে সব জানেন। আ-মি শুধু একটু মজা করলাম। তোহ যাই বলুন, আমি কিন্তু সত্যি সত্যি চিশতিকে ওর শক্তির জন্যই বিয়ে করছি। আর যেহেতু ওর মধ্যে কোনো শক্তি নেই সেক্ষেত্রে ওকে বিয়ে করাটা বিলাসিতা" প্রথম লোকটি আবারও হাসতে হাসতে বললো "তাহলে! চলো আমার সাথে। আমাদের কালো শক্তির ডেরায়। যেখানে আমরা সবাই মিলে শীতাক্ষীর গোলামী করতে পারবো।" দ্বিতীয় লোকটিও হাসতে হাসতে বললো "চলুন" তখন আকাশ ভেঙে বাজ পড়লো আর সেই বাজ পড়ার আলোয় স্পষ্ট ওই দুই ব্যক্তির মুখ দেখা গেলো। প্রথম জন সাদিয়া। যে ছিলো চিশতির সবচেয়ে কাছের বন্ধু আর দ্বিতীয় ছিলো নূরী। যাকে নিয়ে চিশতি ঘর বাঁধার স্বপ্ন বুনছিলো। নিমিষেই যে তার এই স্বপ্ন এভাবে ভেঙে যাবে সেটা এখনো চিশতি বুঝতে পারেনি। সবকিছু ছেড়ে ছুঁড়ে নূরী সাদিয়ার সাথে তাদের কালো শক্তির ডেরায় চলে গেলো শীতাক্ষীর গোলামী করতে। শীতাক্ষীর ডেরায় আসার পর নূরী বুঝতে পারলো এটা এক ভিন্ন দুনিয়া। এর আগে যখন নূরী এসেছিলো তখন শীতাক্ষীকে নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি তার। তখন শীতাক্ষীর দুই ভাইয়ের সাথেই চুক্তিবদ্ধ করেছিলো। এবার তোহ সরাসরি শীতাক্ষীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে নূরী। সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরিধান করা একটা নারী। যোদ্ধা নারীদের মতো করে ওড়না প্যাঁচানো মুখে। দেখা যাচ্ছে শুধু চোখগুলো। এত ভয়ংকর চোখ এর আগে কখনো দেখেনি নূরী। তার চোখ যতটা নাহ ভয়ংকর তার চেয়েও ভয়ংকর তার কণ্ঠস্বর। "তুই'ই তাহলে সেই শঙ্খিনী! যে মিরানের অভিশাপে নিজের রূপ আর শক্তি হারিয়েছিলি। তুই তোহ প্রথমে আমার সাথেই চুক্তিবদ্ধ করেছিলি তাহলে আমজাদ আর রমজানকে কেনো হত্যা করলি? তুই শুধু আমার সাথে নাহ যারা তোকে নতুন রূপ দিয়েছে তাদের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিস। আর তুই ভাবছিস আমি তোকে আবারও আমার দলে সামিল করবো। সাদিয়াকে তোর কাছে পাঠানোটাও আমার একটা চাল ছিলো যেটা তুই নির্বোধ নাগিন বুঝতেও পারিসনি। ক্ষমতার লোভ তোকে অন্ধ করে দিয়েছে। হা!হা!হা! তুই এখন আমার কোনো কাজের নাহ, তবে তুই ফেলনাও নাহ। একদিন তুই আমার কাজে আসবি ততদিন তোকে আমার বন্দী হয়েই থাকতে হবে।" কর্কশ গলায় বললো শীতাক্ষী। ভয়ে চুপসে গিয়ে সাদিয়ার দিকে তাকালো নূরী। নূরীকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে একটা সয়তানি হাসি দিয়ে চোখ সরিয়ে নিলো সাদিয়া। পরমুহূর্তেই শীতাক্ষী কি করলো নূরী বুঝতেও পারলো নাহ। শুধু ওর সামনে গিয়ে একটা রুমাল ঝাড়া দিলো আর সাথে সাথে নূরী অজ্ঞান হয়ে পরে যায়। রাত প্রায় অনেক হয়ে গেলো। গায়ে হলুদের জন্য সবাই কনেকে ডাকতে রুমে গিয়ে দেখে কনে রুমে নেই। চারিদিকে কালো ঘন অন্ধকার। বাতাসে মাটির গন্ধ আর আকাশে বাজ ভাঙ্গার শব্দ। প্রবল গতির হাওয়ায় গাছপালাগুলো একবার এদিকে তোহ আরেকবার সেদিকে তুলছে। বিয়ে বাড়ির সবাই কনে খুঁজতে ব্যস্ত। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কেউ নূরীকে পেলো নাহ। সবাই ভেবে নিলো নূরীকে কেউ অপহরণ করেছে। অপহরণ নাহ করলে নূরী কোথায় যাবে, এমনটাও নাহ যে, তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই জন্য সে বিয়ে নাহ করে পালাবে। তার পছন্দ মতোই তাকে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সে যাকে পছন্দ করতো তার সাথেই বিয়ে ঠিক হয়েছে। হুট করে বিয়ে বাড়ি থেকে কনে উধাও হয়ে যাওয়াটা মোটেও কারো ভালো ঠেকছে নাহ। সকলের চোখে মুখে গভীর চিন্তা। সবার মাথায় একটাই প্রশ্ন, আজ যদি নূরীকে খুঁজে পাওয়া নাহ যায় তাহলে তারা চিশতি বাড়ি অর্থাৎ বরের বাড়িতে কি জবাব দিবে। সবাই যখন নূরীকে খুঁজতে ব্যস্ত তখনই সেখানে গিয়ে চিশতি হাজির হয়। এভাবে কাউকে কিছু নাহ জানিয়ে এখানে চলে আসায় সবাই অবাক হলো তার পাশাপাশি চিশতিকে দেখে থতমতও খেয়ে গেলো। কি করবে এখন তারা। চিশতিকে কি জবাব দিবে। "কি ব্যাপার! আ-আপনারা আমাকে দেখে এমন চমকে গেলেন কেনো? অনুষ্ঠান এখনো শুরু করেননি?" সবার উদ্দেশ্যে বললো চিশতি। পাশ থেকে নূরীর মা হাজেরা আমতা আমতা করে বললো "চ-চিশতি তুমি এ-খানে?" চিশতিও আমতা আমতা করে বললো "ইয়ে মানে আন্টি, নূরীকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এসেছি। ওকে একটু দেখেই আমি চলে যাবো!" হাজেরা চিশতির হাত টেনে সাইডে নিয়ে গিয়ে বললো "বাবা! প্লিজ আমাদের ভুল বুঝো নাহ! আসলে নূরীকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি নাহ। সারা বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজেও কোথাও পেলাম নাহ ওকে।" নূরীর মায়ের মুখে এই কথা শুনে চিশতি যেনো আকাশ থেকে পরলো। "মা-মানে কি এসবের আন্টি? আ-আপনি মজা করছেন তাই নাহ!!" হাজেরা আবারও অসহায় কণ্ঠে বললো "নাহ বাবা! মজা করছি নাহ। আমি একদম সত্যি কথা বলছি। ত-তুমি বরং আজকে রাতটা এখানেই থেক যাও যদি রাতে নূরী ফিরে আসে....." হাজের কিছু বলার আগেই চিশতি বললো "আমি থাকবল আন্টি! নূরীকে নাহ দেখে আমি কোত্থাও যাবো নাহ" নূরীকে দেখার প্রবল ইচ্ছা নিয়ে সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলো চিশতি।