এগারো নাম্বার রুম — পর্ব ০৪
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০৪ · ৪ পর্বের মধ্যে ৪
তারপর হোস্টেলের ছুটি শেষ হলো, আমরা সকল রুমের তালা খুলছিলাম যখন ৩ তলার ১১ নাম্বার রুমের সামনে গেলাম তখন ভেতর থেকে একটা বাজে গন্ধ আসছে, তাড়াতাড়ি করে রুমের তালা খুলে ভেতরে যেতেই দেখলাম, বৃদ্ধ মহিলার লাশ পড়ে আছে, আর তার দুই হাতের গোস্তোগুলো নেই শুধু হাড়গুলো আছে।
এই করুন দৃশ্য দেখে সবার চোখে পানি চলে এলো।
তারপর বৃদ্ধ মহিলার বাড়িতে খবর দিলাম আর বললাম পুলিশের কাছে যেনো নাহ যায়, হোস্টেলটা এমনিতেই নতুন নতুন হয়েছে এর মধ্যে যদি থানা পুলিশ হয় হোস্টেলের নাম খারাপ হয়ে যাব..।
তারাও রাজি হলো।
১১ নাম্বার রুমে একটা মেয়ে থাকতো নাম ছিলো সৃষ্টি, কিছুদিন পর রাতে হঠাৎ ওর চিৎকার শুনতে পেয়ে আমরা সবাই দৌড়ে গিয়ে দেখি ও নিজে নিজের হাতে কামোড় দিয়ে আছে...।
সৃষ্টি ভয়ে ১১ নাম্বার রুম ছেড়ে দেয়, তারপর আমরা অন্য একটা মেয়েকে রুম দি, কিন্তু এরপরও আরো ২ জন মেয়ের সাথে এমন হওয়ায় আমরা ঠিক করলাম কবিরাজ ডেকে আনবো....
তারপর কবিরাজ আনলাম,
কবিরাজঃ- এখানে একটা অনেক খারাপ আর ভয়ংকর শক্তি আছে, কিন্তু ওর এখানে আসার কথা ছিলো নাহ। আমি ওকে তাড়াতে পারবো নাহ।
এই বলে কবিরাজ চলে গেলো....
তারপর আমরা একটা হুজুর আনলাম,
হুজুরঃ- কি হয়েছিলো সব খুলে বলুন..?
আমরা সব ঘটনা খুলে বললাম।
হুজুরঃ- এই বৃদ্ধ মহিলা টানা ৭ দিন অনাহারী ও বিনা গোসলে ছিলো যার ফলে এই ঘরে এক খবিশের আগমন হয় আর ওদের পছন্দ অপরিষ্কার জিনিস, কিন্তু এখানে ওদের আসার কথা ছিলো নাহ তাই ওরা বৃদ্ধ মহিলার ভিতর প্রবেশ করে ওর শরীরের গোস্তো খায়,
ওকে তাড়ানোর ক্ষমতা আমার নেই, আপনারা এই রুমটা বন্ধ করে দিন আমি কিছু দোয়া পড়ে রুমটা বন্ধক করে দিয়ে যাই।
এই বলে হুজুর ১১ নাম্বার রুমটা বন্ধক করে দিয়ে যান আর আমরা ৩ তলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম।
এই বলে রফিক চাচা নিজের বক্তব্য শেষ করে বলে দেখতে চাও কি হাল হয়েছিলো আমার ভাবির..?
এই বলে রফিক চাচা ওনার ভাবির অমতে তার হাতটা দেখালো, ওনার হাতগুলো এতোটাই ভয়ংকর ছিলো যে আমি এবং আমার বান্ধবীরা ৩ রাত ভালো করে ঘুমোতে পারিনি।
রফিক চাচার কাছ থেকে কাহিনি শুনার পর অনেক কৌতুহল হয় ৩ তলার ১১ নাম্বার রুমে যাওয়ার কিন্তু তখনই মনে পড়লো ওই রুমে ৪ জনের জীবন নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিলো ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে গেছে, কে জানে আমরা গেলে আমাদের ভাগ্যে কি হয়।
জানি নাহ ভবিষ্যতে ওই ১১ নাম্বার রুম আবারো কারো উপর আক্রমণ করে কি নাহ।
এটা ভাবতে ভাবতে ইউনিভার্সিটির ৪ বছর পার করে আমি ও আমার বান্ধবীরা হোস্টেল ছেড়ে চলে আসি।
The End.....