এগারো নাম্বার রুম — পর্ব ০৩
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০৩ · ৪ পর্বের মধ্যে ৩
আস্তে আস্তে আমরা ৩ তলা উঠলাম সব রুমে তালা দেওয়া কিন্তু রুম নাম্বার ১১'র তালা খোলা, আমরা তাড়াতাড়ি করে দরজার সামনে গেলাম আর যা দেখলাম, ঘরে এক কোণ থেকে কেউ একজন গোঙ্গাচ্ছে....
আমরা তাড়াতাড়ি করে ঘরের ভিতর গিয়ে দেখি আমার ভাবি পরে আছে, আর তার হাতে সে নিজেই কামোড় দিয়ে ধরে আছে আর সে নিজের হাতের গোস্তো নিজেই খেয়ে ফেলেছে......
=> সবাই অনেক ভয় পেয়ে যাই, একদম নিস্তব্ধতায় মগ্ন হয়ে গেছে ১১ নাম্বার রুমটা।
আমি একটু ধমকের সরে বললাম...!
আমিঃ- ভাবি, এসব কি...? কি করেছো এসব...?
তখন ভাবি একটু মোটা গলায় বলছে এমন মনে হচ্ছে ভাবির সাথে আরো একটা মহিলা মিলিত হয়ে আছে.....
ভাবিঃ- কি করবো..? খিদে পেয়েছে, বহুদিন কিছু খাই নাহ, তাই নিজের গোস্তো নিজেই খাচ্ছি.।
এই বলে ভাবি অজ্ঞান হয়ে গেলো।
আমরা ৩ জন ধরাধরি করে ভাবিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম.....
ডাক্তার এ অবস্থা দেখে বললো..
ডাক্তারঃ- এক্ষুনি অপারেশন করতে হবে, আর অপারেশন করলেও তার হাতের শেফ অনেক ভয়ংকর হয়ে যাবে.।
আমিঃ- যেমনই হোক ডাক্তার আমার ভাবিকে বাঁচান.।
তারপর অপারেশন করতে নিয়ে গেলো, টানা ৮ ঘন্টা পর অপারেশন সাকসেস হয়, কিন্তু আমার ভাবির হাতের শেফ অনেক ভয়ংকর হয়ে যায়.।
২ ঘন্টা পর যখন ভাবির জ্ঞান ফিরে তখন ভাবিকে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিল....?
ভাবিঃ- আমি সব রুম পরিষ্কার করে যখন চলে আসবো তখন দেখি রুম নাম্বার ১১'র তালা খোলা, আমিও ভাবলাম রুমের তালা যখন খোলাই আছে আমি রুমটা ঝাড় দিয়ে যাই....!
রুম ঝাড় দেওয়ার জন্য ভিতরে ঢুকলাম, রুমে একটু ঝাড় দিচ্ছিলাম তখন এক কোণ থেকে কেউ খুব ক্ষিপ্ত হয়ে বললে উঠলো.....
কেউ একজনঃ- একি করছো তুমি, আমার এতদিনের সব সাজানো গুছানো জিনিসগুলো নষ্ট করে দিলে...?
আমিঃ- কে আপনি..? আমি তোহ শুধু পরিষ্কার করতে এসেছিলাম.।
তখন দেখি আমার সামনে একটা বৃদ্ধ মহিলা এসে দাড়িয়েছে আর বলছে....
বৃদ্ধ মহিলাঃ- তুই আমার ঘরটা নষ্ট করে দিয়েছিস এর শাস্তি তোকে পেতে হবে..
হঠাৎ আমার চোখ বন্ধ হয়ে এলো আর আমি আমার হাতে অনেক ব্যাথা অনুভব করলাম, যখন আমি চোখ খুলি তখন দেখি আমি নিজেই নিজের হাতে কামোড় দিয়ে আছি.!
এরপর আমার আর কিছু মনে নেই.।
ভাবির কথা শুনে আমরা হোস্টেল কর্তৃপক্ষের কাছে গেলাম তাকে এসব জিজ্ঞেস করতে কিন্তু সে কিছুই বলতে চাইলো নাহ...
তারপর তাকে পুলিশের ভয় দেখানোয় সে মুখ খুলে আর বলে.....
হোস্টেল কর্তৃপক্ষঃ- তোমরা হোস্টেলে কাজ করতে আসার আগে এখানে একটা বৃদ্ধ মহিলা কাজ করতো, তার মেজাজ খুব চড়া ছিলো, এমন ভাবে আচরণ করতো তা দেখে বোঝাই যেতো নাহ সে এখানে কাজ করে নাকী এখানকার মালিক।
সকালে সে রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে যদি দেখতো রুম বন্ধ বা মেয়েদের রুমের দরজা খুলতে দেরি হচ্ছে তাহলে সে যা ইচ্ছা তাই বলে গালিগালাজ করতে থাকতো।
তাকে নিয়ে অনেক অভিযোগ আসতো, আমরাও তাকে কাজ ছাড়াতে বলতাম কিন্তু সে কাজ ছাড়তে চাইতো নাহ..।
একদিন হোস্টেলে ৭ দিনের ছুটি পরলো সবাই সবার বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়, বৃদ্ধ মহিলাও সব রুম পরিষ্কার করে নিজের বাসায় চলে যাবে.।
বেশি অর্ধেক রুম পরিষ্কার করে সে যখনই ৩ তলার ১১ নাম্বার রুম পরিষ্কার করতে গেলো ঠিক তখনই হোস্টেলের কিছু মেয়ে বৃদ্ধ মহিলাকে ১১ নাম্বার রুমে তালা বন্ধ করে চলে যায়........।
হোস্টেল ছুটির ৩-৪ দিন পর বৃদ্ধ মহিলার ছেলে আর ছেলের বৌ আসে বৃদ্ধার খোঁজ করতে, বৃদ্ধাকে নাকী খুজে পাওয়া যাচ্ছে নাহ..।
আমরা হোস্টেলের সকল রুম তালা দেওয়া দেখে বলে দিলাম বৃদ্ধা এখানে নেই।
আমরাও মনে মনে খুশি হলাম যাক আপদ বিদায় হয়েছে...😁
তারপর হোস্টেলের ছুটি শেষ হলো, আমরা সকল রুমের তালা খুলছিলাম যখন ৩ তলার ১১ নাম্বার রুমের সামনে গেলাম তখন ভেতর থেকে একটা বাজে গন্ধ আসছে, তাড়াতাড়ি করে রুমের তালা খুলে ভেতরে যেতেই দেখলাম......