এগারো নাম্বার রুম — পর্ব ০২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০২ · ৪ পর্বের মধ্যে ২

আমরা তিনজনই রাজি হয়ে চলে আসলাম, এসে যে যার রুমে শুয়ে পড়লাম.।

চাচার কথা মতো পরদিন ইউনিভার্সিটি থেকে এসে ৮ টার মধ্যে ডাইনিং-এ খেতে চলে যাই।

খাওয়া শেষে আমরা সবাই রফিক চাচাকে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা এবার বলেন রাধুনি খালার ফুল হাতা জামা পড়ার কারণ কি..?

রফিক চাচাঃ- এই কাহিনি আজকের নাহ আজ থেকে আরো ১৭ বছর আগের কাহিনি এটা.।

আমরা অবাক হয়ে বললাম ১৭ বছর😲

তারপর রফিক চাচা বললেন.......

রফিক চাচাঃ- ১০ বছর আগে আমার বড় ভাইয়ের বিয়ে হয়, ২ বছর পর তাদের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয় তার ৩ বছর পর একটা ছেলে হয়, আমার বড় ভাই পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার ছিলেন। ভাগ্য দোষে একদিন আমার বড় ভাই ট্রাক অ্যাক্সিডেন্টে মারা যান।

তারপর থেকে আমাদের সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হতো, আমি তখন এই হোস্টেলেই কাজ করতাম, আমার যা রোজগার হতো তা দিয়ে আমাদের সংসার কোনোরকম চলতো কিন্তু ২ টা ছোট ছোট বাচ্চা আমি ভাবি আর আমার মা কিছুতেই একা পেরে উঠতাম নাহ।

তারপর শুনতে পেলাম আমাদের হোস্টেলে নাকী কাজের মানুষের দরকার....

আমি তখন ভাবিকে এখানে কাজে লাগিয়ে দি, তারপর হোস্টেল কর্তৃপক্ষ ভাবিকে কাজ বুঝিয়ে দিলেন যে সে সকল রুম পরিষ্কার করবেন আর সকল রুমের চাবি দিলেন, ভাবি লক্ষ করলো এখানে রুম ২৫ টা কিন্তু চাবি দেওয়া হলো ২৪ টা, এটা দেখে ভাবি হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করলেন....

ভাবিঃ- বাকি একটা রুমের চাবি তোহ দিলেন নাহ..?

হোস্টেল কর্তৃপক্ষ আমতা আমতা করে বললেন...

হোস্টেল কর্তৃপক্ষঃ- ওই রুমটা নষ্ট হয়ে গেছে ওখানে কেউ থাকে নাহ তুমি ওইসব নিয়ে ভেবো নাহ তুমি তোমার কাজ করো।

কাজের প্রথম দিন যখন সকল রুম ঝাড় দিতে যায় তখন ভাবি খেয়াল করে ১১ নাম্বার রুমের চাবি নেই, সে ভাবলো তার কাছে যে ২৪ টি চাবি দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে এই রুমের চাবি নেই। তারপর ডাইনিং পরিষ্কার আর রুম ঝাড় দেওয়া এসব কাজ নিয়েই ভাবি দিন কাটাতেন।

একদিন হোস্টেলে দুর্গা পুজার বন্ধ পরে, সব মেয়েরা হোস্টেল ছেড়ে যে যার বাসায় চলে যায়। ভাবিরও ওইদিন বিধবা ভাতা আনতে যাওয়ার তারিখ পড়েছে।

ভাবি ভেবেছিলো সব রুম ঝাড় দিয়ে সে ভাতার টাকা আনতে যাবে....

সব মেয়েরা চলে যাওয়ায় আমার ডিউটি শেষ হয়ে যায় তাই আমি তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যাই,

সাধারণত ভাবির আসতে সন্ধ্যা ৭ টার বেশি হয় নাহ, কিন্তু ওইদিন ৭ টা পেরিয়ে ৮ বেজে গেলো কিন্তু ভাবি এখনও আসছে নাহ এটা দেখে আমার মা অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে আর বলে...

মাঃ- ওরে রফিক তোর ভাবি এখনও আসছে নাহ কেনো.? একটু খোঁজ নিয়ে দেখ বাবা।

আমিও ভাবলাম ৯ পর্যন্ত দেখি তারপর আমি বেড় হবো..

৯ বেজে গেলো কিন্তু ভাবি এখনও আসছে নাহ, এবার আমি বেড় হলাম সাথে হোস্টেলের আর একজন স্টাফকেও খবর দিলাম..।

আমি আর ওই স্টাফ দেখলাম হোস্টেলের সব রুম তালা দেওয়া।

আস্তে আস্তে আমরা ৩ তলা উঠলাম সব রুমে তালা দেওয়া কিন্তু রুম নাম্বার ১১'র তালা খোলা, আমরা তাড়াতাড়ি করে দরজার সামনে গেলাম আর যা দেখলাম........