এগারো নাম্বার রুম — পর্ব ০১

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০১ · ৪ পর্বের মধ্যে ১

আমি নীলা, কলেজ লাইফ শেষ করে ইউনিভার্সিটিতে পড়ার জন্য শহরে এসেছি। কিছুদিনের মধ্যে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে গেলাম, থাকার জন্য ইউনিভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করলাম কিন্তু মানুষ বেশি থাকার কারণে চান্স পেলাম নাহ। খুব চিন্তা নিয়ে একটা গার্লস হোস্টেলে উঠলাম। আমার ইউনিভার্সিটির অনেক মেয়েরা ওই হোস্টেলে থাকতে আসার কারনে আমার তেমন খারাপ লাগলো নাহ। আস্তে আস্তে সবার সাথে পরিচয় হলো, হোস্টেলের সকল স্টাফদের সাথেও খাতির হলো।

কিন্তু আমি এবং আমার দুই বান্ধবী রোকেয়া আর সুরাইয়া খেয়াল করলাম আমাদের হোস্টেলে যে মহিলা রান্না করে সে কারো সাথে তেমন মিশে নাহ, কথাও বলে নাহ, আর আজব বিষয় হলো এই গরমের মধ্যেও সে ফুল হাতা জামা পড়ে রান্না করে।

এই বিষয়টা নিয়ে আমরা তিন বান্ধবী অনেক হাসাহাসি করতে লাগলাম, ওনাকে বোকাও বলতে থাকি। [ আসলে আমরা মানুষরা বড়ই অদ্ভুত কারো ব্যাপারে ভালো করে নাহ জেনেই মনে যা আসে তাই বলতে থাকি]

যাই হোক, ইউনিভার্সিটি টাইম ছাড়া হোস্টেল থেকে বের হওয়া নিষেধ থাকায় আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হোস্টেলের দারোয়ান 'রফিক চাচা' দিয়ে আনাতাম। [ কাজেই নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনাতে আনাতে রফিক চাচার সাথে অনেক ভাব হয়ে যায় ]

একদিন জানতে পারলাম আমাদের হোস্টেলের রান্নার খালা নাকী রফিক চাচার ভাবি হয়।

আস্তে আস্তে সময় কাটতে থাকে, একদিন আমরা তিন বান্ধবী নিচে ডাইনিং-এ খেতে এসেছিলাম তখন হঠাৎ রোকেয়া রান্নার খালাকে জিজ্ঞেস করে বসলো_____

রোকেয়াঃ- আচ্ছা খালা সারাদিন ফুল হাতা জামা পড়ে থাকতে আপনার গরম লাগে নাহ...?

খালাঃ- ওমা! গরম লাগবে কেনো.? আমি মাঝে মাঝেই শুনি তোমরা আমার ফুল হাতা জামা পড়া নিয়ে হাসাহাসি করো, আমাকে বোকা বলো। আমি তোমাদের বলতেই পারি আমি কেনো ফুল হাতা জামা পড়ি, কিন্তু বললে তোমরা হয়তো আমাকে অবিশ্বাস করবে এবং আমাকে পাগল ভাব্বে।

এই বলে খালা চলে যাবে ঠিক তখনই আমি অনেক কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করি___

আমিঃ- কেনো পড়েন প্লিজ বলেন খালা...?

খালাঃ- বাদ দাও।

এই বলে খালা চলে গেলেন।

আমরা তিনজন নিজেদেরকে অপরাধী বোধ করলাম এবং আমাদের মধ্যে অনেক কৌতুহল কাজ করছে খালার কাহিনিটা জানার জন্য।

তখনই আমার মনে পড়লো, রফিক চাচা তোহ রাধুনি খালার দেবর, আমরা যদি তার কাছে জিজ্ঞেস করি😀

যেই ভাবা সেই কাজ___

আমরা তিনজনই রফিক চাচার কাছে এসে রাধুনি খালার কথা জিনিস করাল।

সুরাইয়াঃ- রফিক চাচা একটা কথা বলতে চাই..?😐

রফিক চাচাঃ- কি কথা বলো.!?

আমিঃ- আসলে চাচা রাধুনি খালার ফুল হাতা জামা পড়ার কাহিনি কি 🙂

তখন রফিক চাচা বললো____

রফিক চাচাঃ- আমি এখন কিছুই বলতে পারবো নাহ, এখন আমি ডিউটিতে আছি তোমরা যদি কাহিনি জানতে চাও তাহলে কালকে ৮ টার দিকে ডাইনিং-এ আসবে তাহলেই আমি সব বলতে পারবো।

আর আমার কিছু শর্ত আছে..!

আমরা তিনজন চমকে গিয়ে বলি কি শর্ত চাচা..?

রফিক চাচাঃ- আমি যা যা বলবো তা কাউকে বলতে পারবে নাহ আর আমার কাহিনি শোনার পর তোমাদের অনেক কৌতুহল জাগবে কিন্তু কোনো মূল্যে তোমাদের ওই কৌতুহলকে কাজে লাগাতে পারবে নাহ।

আমরা তিনজনই রাজি হয়ে চলে আসলাম, এসে যে যার রুমে শুয়ে পড়লাম।