অভিশপ্ত হাসি — পর্ব ০৪
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০৪ · ৪ পর্বের মধ্যে ৪
তৃণার জ্ঞান ফিরলে দেখে সে হসপিটালে ভর্তি।
কিছুক্ষণ পর তৃণার কেবিনে তার বয়ফ্রেন্ড আসে..
ঋ:- দেখো তুমি এখন অনেক পাগলামো করছো আমার পক্ষে তোমার সাথে এই রিলেশনটা এগিয়ে নেওয়া পসিবল নাহ, সো ব্রেক আপ...
তৃণা:- হ্যাঁ, আমাকে এমন একটা সিচুয়েশনে রেখে তোমরা সবাই যে যার মতো চলে যাচ্ছো, কোনো সমস্যা নেই একদিন আমারও সময় আসবে...
ঋ:- গুড বাই এন্ড টেক কেয়ার ইউর-সেলফ
ঋ চলে গেলে তৃণাও নিজেকে ডিসচার্জ করে বাড়ি চলে আসে।
এবার সে মনে মনে বলতে থাকে, যেভাবেই হোক সে এই মৃত্যুর খেলাকে হারাবে।
এটার রহস্য সে ভেদ করবে।
তৃণা এবার ফুয়াদকে কল দিয়ে তার সাথে দেখা করতে বলে...
বেশ কিছুক্ষণ পর ফুয়াদ আর তৃণা একে অপরের সাথে দেখা করে, তৃণা ফুয়াদকে সবটা খুলে বলে, তারপর তৃণা ফুয়াদের কাছে কিছু সাহায্য চায়...
তৃণা:- ফুয়াদ আমার এখন তোমার কিছু সাহায্যের প্রয়োজন..
ফুয়াদ:- কেমন সাহায্য বলো..
তৃণা:- আমাকে একবার হোপের বাড়ির লোকদের সাথে কথা বলাতে পারবে..?
ফুয়াদ:- হ্যাঁ পারবো..
তৃণা:- তাহলে এক্ষুনি চলো..
তৃণা আর ফুয়াদ হোপের বাড়ির লোকদের সাথে কথা বলতে তাদের বাড়ি যায়...
হোপের আব্বুর মিস্টার পিটারের সাথে তাদের দেখা হয়...
তৃণা:- আমার আপনার কিছু হেল্প প্রয়োজন প্লিজ নাহ করবেন নাহ..
পিটার:- কেমন হেল্প..?
তৃণা:- হোপ আপনাদের কাছে যে হাসিটার কথা বলতো ওইটা একদম মিথ্যা নয়, ওইটা সত্যি!
হোপ আমার সামনে সুইসাইড করার পর থেকে আমি এখন প্রতিনিয়ত এটা ফেস করছি।
আপনি প্লিজ হোপের প্রফেসরের সম্পর্কে কিছু তথ্য দিন আমাকে প্লিজ...
পিটার:- আমি যতটুকু জানি হোপের প্রফেসরের নাম ছিলো জ্যাস পল...
এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি নাহ, আর হ্যাঁ! উনার লিখা অনেক বইও পাবলিশড আছে তার মধ্যে একটি হলো "U Turn"
তৃণা:- আচ্ছা আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।
তৃণা আর ফুয়াদ হোপের বাবার সাথে কথা বলে চলে আসে...
তৃণা:- ফুয়াদ তুমি এবার তোমার বাড়ি যাও আবার প্রয়োজন হলে তোমাকে কল করবো, আর হ্যাঁ আমার এই সময়টাতে আমার পাশে থাকার জন্য তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ...
ফুয়াদ:- ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করছো আমায়, একজন পুলিশ অফিসার হিসেবে এটা আনার দায়িত্ব।
তোমার যখন যেকোনো দরকারে আমাকে একটা কল দিলেই আমি চলে৷ আসবো..
তৃণা:- আচ্ছা।
তৃণা এবার নিজের বাড়িতে বসে ল্যাপটপে জ্যাস পল সম্পর্কে রিসার্চ করে জানতে পারে, সে একজন বিখ্যাত রাইটার্সের পাশাপাশি প্রাইভেট স্কুলের প্রফেসর।
সে একদিন হঠাৎ করেই নিজেই নিজের গলা কেটে সুইসাইড করে।
সে সুইসাইড করার আগে বার বার একটা বিদঘুটে হাসির কথা বলতো...
তৃণা ওয়েবসাইট থেকে জ্যাস পলের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানে চলে যায়।
তৃণা জ্যাস পলের বাড়ি গিয়ে নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেয়।
ওখানে গিয়ে জানতে পারে প্রফেসর মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী "ডায়না" একদম একা হয়ে গেছে, সে কারো সাথে তেমন মিশে নাহ, সারাক্ষণ নিজেকে ঘরেই বন্দী করে রাখেন।
তৃণা প্রফেসরের স্ত্রীকে তার মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে ডায়না বলে...
ডায়না:- মানুষটা অনেক ভালো ছিলো, হঠাৎ একদিন রাতে সে বাসায় আসার সময় তার গাড়ির সামনে একজন মহিলা এসে দাড়ায় সে মহিলাটির কাছে যেতেই মহিলাটি নাকী তার দিকে তাকিয়ে একটা বিদঘুটে হাসি দিয়ে নিজের গলা কেটে সুইসাইড করে।
এরপর থেকে সে সর্বক্ষণ একটা কথা বলতে থাকতো, বিদঘুটে হাসি আর বিদঘুটে হাসি।
উনি সেই হাসিটির একটা পেইন্টিং-ও করপছেন.।
তৃণা:- আমি কি দেখতে পারি সেই পেইন্টিং-টি।
তারপর ডায়না তৃণাকে সেই পেইন্টিং'টি দেখায়।
পেইন্টিং-টি দেখে তৃণা ভয়ে চিৎকার দিয়ে বলে...
তৃণা:- আপনার স্বামী মিথ্যা বলেনি, এটা সত্যি উনি কোনো মিথ্যা বলেননি, উবার জন্য এখন আমি এই অভিশপ্ত হাসির অভিশাপে ভুগছি।
তৃণার মুখে এসব কথা শুনে প্রফেসর জ্যাস পলের স্ত্রী ভয়ে তৃণাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
প্রফেসরের বাড়ি থেকে আসার পর তৃণার ফোনে ফুয়াদের কল...
ফুয়াদ:- তৃণা তাড়াতাড়ি একবার দেখা করতে পারবে...
তৃণা:- এখন..?
ফুয়াদ:- হ্যাঁ এখন..
তৃণা ফু্য়াদের বাড়ি গেলে ফুয়াদ তৃণাকে বলে...
ফুয়াদ:- লুক, তৃণা আমি এই কেসটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করে ২০টা ডায়েরি পেয়েছি, তার মধ্যে ১৯জন মারা গেছে আর একজন জেলে আছে...
ওই লোকটির নাম হ্যারিস, ২ বছর আগে নিজের বন্ধুকে খুন করার দায়ে জেল খাটছে।
তৃণা:- তার মানে ওই একজনই জানে কিভাবে এই অভিশাপ কাটানো যায়, ফুয়াদ তাড়াতাড়ি আমাকে ওই লোকটির কাছে নিয়ে চলো...
ফুয়াদ:- আচ্ছা চলো।
তৃণা:- দাঁড়াও..
ফুয়াদ:- আবার কি..
তৃণা:- ফুয়াদ এই মৃত্যুগুলো একটা প্যাটার্নে চলছে...
প্রফেসরের সামনে এক অচেনা মহিলা সুইসাইড করার পর থেকে প্রফেসর এমন উদ্ভট আচরণ করতে শুরু করে, তারপর উনি হোপের সামনে সুইসাইড করার পর হোপ এমন আচরণ করে, সবশেষে হোপ আমার সামনে সুইসাইড করার পর আমিও।
ফুয়াদ আমি মরতে চাই....
ফুয়াদ:- এমন কিছুই হবে নাহ, আমরা দু'জন মিলে এটার সমাধান বের করবো...
তুমি ভয় পেয়ো নাহ...
কিছুক্ষণ পর ফুয়াদ আর তৃণা হ্যারিসের কাছে যায়...
তৃণা হ্যারিসের কাছে জানায় তার একজন পেসেন্ট এখন এমন সিচুয়েশনে আছে তাই সে হ্যারিসের কাছে জানতে এসেছে কিভাবে এই অভিশাপ কাটানো যায়...
হ্যারিস:- আগে তোমার সাথে আসা পুলিশ অফিসারকে এখান থেকে যেতে বলো...
তারপর ফুয়াদ বাইরে চলে যায়....
হ্যারিস:- আমি একটা অফিসে কাজ করতাম ওই অফিসের একটা স্টাফ আমার সামনে একই ভাবে সুইসাইড করেছিলো সে বার বার বলতো তার সামনে আমাদের অফিসের বস এভাবে নিজের গলা কেটে সুইসাইড করেছিলো তাই সে প্রতিদিন বসকে দেখতো, পরে জানা যায় বসের সামনে তার ওয়াইফ সুইসাইড করেছিলো আর তার ওয়াইফের সামনে এক অচেনা লোক।
তৃণা:- তাহলে আপনি বেঁচে আছেন কিভাবে...?
হ্যারিস:- হয় নিজে মরো নয়তো কাউকে খুন করো, হা! হা! হা! আমি আমার এক বন্ধুকেই খুন করে ফেলি...
তখন তৃণা কান্না করতে করতে চিৎকার দিয়ে বলে...
তৃণা:- আমি কাউকে খুন করতে পারবো নাহ...
হ্যারিস:- তার মানে.? এই অভিশাপ এখন তোমার মধ্যে...?
তারপর হ্যারিস ভয়ে চিৎকার করতে করতে বলে...
হ্যারিস:- এই মেয়েকে কেউ এখান থেকে নিয়ে যাও ও অভিশপ্ত ওকে কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ নিয়ে যাও ওকে....
ওখান থেকে তৃণা ফুয়াদকে কিছু নাহ বলেই নিজের বাড়ি চলে যায়।
পরদিন সকালে তৃণা নিজের গাড়ি নিয়ে হসপিটালে যায়।
হসপিটালের সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে গাড়ির ড্রয়ার থেকে একটা ছুড়ি নিয়ে হসপিটালের ভিতরে চলে গেলো।
হসপিটালের ভিতরে গিয়ে তৃণা জ্যাকসনকে বার বার ছুড়ি দিয়ে আঘাত করতে থাক, ওদের চেচামেচির শব্দ শুনে সিনিয়র ডাক্তার হাম্মাম ছুটে এসে দেখে তৃণা জ্যাকসনকে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করছে।
ডাক্তার হাম্মাম তৃণাকে অনেক টানাটানি করেও আটকাতে পারে নাহ।
পরক্ষণেই তৃণা খেয়াল করলো ডাক্তার হাম্মাম তৃণার দিকে তাকিয়ে সেই বিদঘুটে হাসিটা দিয়ে নিজেই নিজের মুখের চামড়া টেনে তুলছে।
ডাক্তার হাম্মামের এই অবস্থা দেখে তৃণা ভয়ে চিৎকার দিতেই দেখে সে এখনো গাড়ির ভিতরেই বসে আছে....
তার মানে ওই সয়তানি আত্মাটা তৃণার মাইন্ড নিয়ে খেলছে।
তৃণাকে গাড়ির মধ্যে বসে থাকতে দেখে ডাক্তার হাম্মাম ওর দিকে আসতেই তৃণা ভয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ওখান থেকে চলে আসে।
তৃণা মনে করছে হয়তো এবারও ডাক্তার হাম্মামের রূপ নিয়ে ওই আত্মাটা ওর সামনে আসতে চাইছে।
তখনই তৃণার ফোনে ফুয়াদের কল আসে....
ফুয়াদ:- তৃণা, কোথায় আছো তুমি..?
তৃণা:- আমাকে এখন একা থাকতে হবে ফুয়াদ, আমি কারো সামনে যাবো নাহ তাহলে সুইসাইডও করতে পারবল নাহ আর এই অভিশাপটাও আর কারো শরীরে যেতে পারবে নাহ।
ফুয়াদ:- এই কাজটা আমরা একসাথে থেকেও করতে পারি।
কিন্তু তৃণা ফুয়াদের কল কেটে দিয়ে নিজেদের সেই ফার্ম হাউসে চলে যায় যেখানে তার মা মিসেস শ্রেয়সী আত্মহত্যা করেছিলো।
বাড়ির সামনে যেতেই তৃণার অতীতের সব কথা মনে পড়ে গেলো, যদি সেদিন সে ভয় নাহ পেতো তাহলে হয়তো তার মা আজ বেঁচে থাকতো।
এসব ভাবতে ভাবতে তৃণা বাড়ির ভিতরে ঢুকে।
ভিতরে ঢুকে সে একটা হারিকেন জ্বালিয়ে তার মায়ের ঘরে যায় সেখানে গিয়ে তৃণা কান্না করতে থাকে তখন সে দেখে তার মা তার সামনে এসে বলছে....
শ্রেয়সী:- তুই আমার মেয়ে, তোকে আমি সবসময় আগলে রাখতাম তোকে কত ভালোবাসতাম কিন্তু তুই ওইদিন আমাকে বাঁচাসনি কেনো...?
তৃণা:- আমি জানি তুমি সত্যি নও, চলে যাও তুমি, চলে যাও.....
তখনই তৃণা লক্ষ করে তার মা তার দিকে তাকিয়ে সেই বিদঘুটে হাসি দিয়ে নিজের ভয়ংকর রূপে এসে তৃণার গলা চেপে ধরে বললো....
-- তুমি অনেক দূর্বল, তুমি আমাকে তোমার মাইন্ড নিয়ে খেলতে দেয়েছো তাই তোমাকে কেউ বাঁচাতে পারবে নাহ আমার হাত থেকে...
তখন তৃণা নিজেকে শক্ত করে এবং সেই অভিশপ্ত আত্মার হাত ভেঙ্গে তার দিকে হারিকেনটা ছুঁড়ে দিয়ে বাইরে চলে আসে।
অবশেষে তৃণা এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পেলো।
এই অভিশাপ আর কারো জীবন নষ্ট করতে পারবে নাহ।
কিছুক্ষণ পর তৃণা ফুয়াদের বাসায় যায়...
তৃণা:- আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি নাহ অবশেষে আমি এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছি...
আর তোমাকে অনেক ধন্যবাদ, আমি কখনো এটাও আশা করিনি তোমাকে আমার পাশে পাবো...
ফুয়াদ:- আমি সারাজীবন তোমার পাশে আছি, কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবো নাহ..
এই বলে ফুয়াদ সেই বিদঘুটে হাসিটা দিয়ে তৃণার দিকে এগিয়ে আসতে লাগে....
তখনই তৃণার মোহ কাটে এবং দেখতে পায় সে এখনো তার মায়ের ঘরেই আছে...
সে ভয়ে চিৎকার দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে, বাইরে এসে ফুয়াদকে দেখতে পায় তৃণা এবারও মনে করে এটা সেই অভিশপ্ত আত্মার কোনো চাল এজন্য সে ছুটে আবারও তার মায়ের ঘরে চলে যায়...
তৃণা ঘরে ঢুকতেই দেখে এক বিশাল আকৃতির দানব শরীর থেকে যেনো তার চামড়া টেনে তোলা হয়েছে দেখতে কেমন কুৎসিত।
সেই কুৎসিত দানবটা তার দু হাত দিয়ে তৃণার মুখ চেপে ধরে মুহুর্তেই তৃণার মুখের ভিতরে ঢুকে যায়...
তখনই আসল ফুয়াদও তৃণার পিছু পিছু বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখে তৃণা নিজের শরীরে কেরাসিন তেল ঢেলে তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে নিজের শরীরে আগুন লাগিয়ে দেয়.....