অভিশপ্ত হাসি — পর্ব ০৩
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০৩ · ৪ পর্বের মধ্যে ৩
পরদিন সকালে তৃণা সময় মতো হসপিটালে নিজের চেম্বারের সামনে যেতেই দেখে ওর চেম্বারে তালা দেওয়া....
তৃণা:- কি ব্যাপার.? আমার চেম্বারে তালা দেওয়া কেনো..?
ছুটে চলে গেলো হসপিটালের সিনিয়র ডাক্তার হাম্মাম সাহেবের কেবিনে।
তৃণা:- স্যার, আমার চেম্বারে তালা দেওয়া হয়েছে কেনো..?
হাম্মাম:- ৭ দিনের জন্য তোমার ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে.!
তৃণা:- কি.! কেনো এমনটা করলো..?
হাম্মাম:- তুমি জানো নাহ কেনো এমনটা করা হলো..?
তৃণা:- কিন্তু স্যার..
হাম্মাম:- তৃণা, যা হয়েছে ভুলে যাও ৭ দিন পর থেকে আবার জয়েন করবে এখন তুমি আসতে পারো...
তৃণা:- স্যার, আমার লাইসেন্স বাতিল করার খবর কে দিয়েছে আপনাকে..?
হাম্মাম:- সাব ইন্সপেক্টর ফুয়াদ
তৃণা চলে আসবে তখন আবারও জ্যাকসন তৃণার গলা চেপে ধরে হাসতে হাসতে বলতে থাকে...
জ্যাকসন:- তুই মরবি, তুই মরবি, হা! হা! হা!
হাম্মাম কোনোমতে জ্যাকসনের হাত থেকে তৃণাকে ছাড়িয়ে নেয়, তৃণা আড় দৃষ্টিতে জ্যাকসনের দিকে তাকিয়ে চলে গেলো।
কিছুক্ষণ হসপিটালের বাইরে বসে থেকে তৃণা ভাবলো ফুয়াদের সাথে কথা বলা উচিৎ তাই সে পুলিশ স্টেশনে গেলো ফুয়াদের সাথে দেখা করতে...
পুলিশ স্টেশনে গিয়ে শুনে ফুয়াদ আজকে অফ ডে'তে আছে সে ছুটি নিয়েছে ২ দিনের।
তৃণা এবার ঠিক করলো ফুয়াদের বাসায় যাবে, তৃণার কাছে ফুয়াদের বাসায় যেই ঠিকানা ছিলো ওই ঠিকানা অনুযায়ী গেলে তৃণা জানতে পারে ফুয়াদ কিছু মাস আগেই সেই বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় সিফট হয়েছে...
তারপর তৃণা আবারও পুলিশ স্টেশনে গিয়ে থানার হাবিলদার বারীরের কাছ থেকে ফুয়াদের নাম্বার ও বাড়ির ঠিকানা নেয়।
এবার সে সঠিক ঠিকানায়ই এসেছে।
দরজার সামনে গিয়ে কলিং বেল চাপার কিছুক্ষণ পর কেউ একজন দরজা খুললে দেখতে পারে ফুয়াদ নিজেই দরজা খুলেছে...
তৃণাকে দেখে ফুয়াদ বললো...
ফুয়াদ:- তৃণা! তুমি.? ভেতরে আসো.!
তারপর তৃণা ভেতরে গিয়ে ফুয়াদের বাসায় আসার জন্য তাকে কতখানি পরিশ্রম করতে হয়েছে সবটা জানায়।
তারপর তৃণা ফুয়াদকে বলে...
তৃণা:- আমার লাইসেন্সটা বাতিল করার কি খুব জরুরি ছিলো..?
ফুয়াদ:- তৃণা, তুমি বুঝতে পারছো নাহ.?
আমি চাই নাহ এই সামান্য একটা কেইসের জন্য তোমার ক্যারিয়ারে কোনো দাগ পরুক তাই কেইসটা সম্পূর্ণ ডিসমিস করে দিয়েছি আর আদালত থেকে রান এসেছে ৭দিন তোমার ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল।
তৃণা:- কি! সত্যি.? কেইসটা সম্পূর্ণ ডিসমিস হয়েছে...?
ফুয়াদ:- হ্যাঁ সত্যি।
তৃণা খুশিতে ফুয়াদকে জড়িয়ে ধরে, তারপর দুইজনই হতভম্ব হয়ে গেলে তৃণা ফুয়াদকে দূরে সরিয়ে দেয়।
তারপর ফুয়াদ তৃণাকে লাঞ্চের অফার করলে তৃণা রাজি হয়ে যায়...
তৃণা ফুয়াদকে এটাও জানায় যে আজকে তার বোনের ছেলের জন্মদিন, লাঞ্চ শেষে যেনো ফুয়াদ তাকে গিফট কিনতে হেল্প করে।
তারপর তৃণা আর ফুয়াদ একটা রেস্টুরেন্টে গিয়ে লাঞ্চ করে।
লাঞ্চ শেষে তারা একটা খেলনার দোকানে গিয়ে এক্সপেন্সিভ মডেলের একটা গাড়ি কিনে আনে।
গিফট কেনা শেষে তৃণা ফুয়াদকে থ্যাংকস জানিয়ে সেখান থেকে বিদায় নেয়।
ফুয়াদকে বিদায় জানিয়ে সে একটা ক্যাট হাউস থেকে তার পোষা বিড়ালের জন্য কিছু খাবার কিনে নেয়।
তৃণার বাড়ি ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো।
বাড়ি এসে তৃণা তার বিড়ালটির জন্য খাবার রেডি করছিলো তখন সে পেছনের দরজা খোলার শব্দ পায়, প্রথমে ভাবে হয়তো কোনো চোর এসেছে তাই হাতে একটা ছুড়ি নিয়ে পেছনের দরজার সামনে যায়, গিয়ে দেখে দরজাটা খোলা...
সে দরজা বন্ধ করে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে হোপ তার দিকে তাকিয়ে সেই বিদঘুটে হাসি দিচ্ছে..
হঠাৎ হোপ তৃণার হাত থেকে ছুড়িটা নিয়ে আবারও নিজের গলা কাটছে, তৃণা চিৎকার দিতেই সব উধাও হয়ে যায় এবং দেখে ছড়িটাও তার হাতেই...
তারপর তৃণা তার বিড়ালটিকে খুঁজে খাবার খাওয়ার জন্য কিন্তু বিড়ালটি কোথায় খুঁজে পাচ্ছিল নাহ তাই সে দরজার বাইরে খাবারের বাটি রেখে ভিতরে চলে যায়।
এবার সে তার বোনের বাসায় যাওয়ার জন্য ড্রেস বের করছিলো তখন দেখতে পায় হোপ কাবাডের উপর বসে পা দোলাচ্ছে তার হাসছে...
তৃণা আবারও ভয়ে ঘরে থেকে ছুটে বাইরে চলে আসতে যাবে তখনই ঋ-এর সাথে ধাক্কা লাগে এবং সে সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে যায়।
ঋ তার চোখে মুখে পানি ছিটিয়ে দিলে তৃণার জ্ঞান ফিরে তারপর সে ঋ-এর কাছে সবটা খুলে বলে, কিন্তু ঋ তাকে বিশ্বাস করে নাহ।
তৃণা:- বিলিভ মীহ্ ঋ ওইদিনের পর থেকে আমার সাথেও একই ঘটনা ঘটছে যেমনটা হোপ আমাকে বলেছিলো...
ঋ:- এসব তোমার মনে ভুল, তুমি এগুলো নিয়ে ভাবছো বলেই তোমার চোখের সামনে এগুলো ভাসছে...
তৃণা:- প্লিজ অ্যারিক বিলিভ মীহ্
ঋ:- দেরি হয়ে যাচ্ছে চলো এবার..
তৃণা:- তুমি আমাকে বিশ্বাস করো তাই তোহ.?
ঋ:- দেরি হয়ে যাচ্ছে বললাম তোহ, যাও তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো...
তৃণা:- আমি কোত্থাও যাবো নাহ, তুমি যাও..
তখনই তৃণার ফোনের নয়নার কল..
নয়না:- হ্যাঁ, হ্যালো! তৃণা কিরে কই তোরা তাড়াতাড়ি আয়, তোদের জন্য বান্টি ওয়েট করছে তোরা নাহ আসলে ও কেক কাটবে নাহ।
তৃণা:- আসছি আপু কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর।
নয়না:- আচ্ছা তাড়াতাড়ি আয়।
ঋ:- যাও এবার তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আসো...
তৃণা তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে অ্যারিকের সাথে বেরিয়ে পরে...
কিছুক্ষণ পরই তারা নয়নার বাড়ি পৌঁছে যায়, তৃণা আর ঋ নিজেদের হাতে থাকা গিফটগুলো বান্টির হাতে দিলো।
বান্টি গিফটগুলো একটা টেবিলে রেখে কেক কাটতে চলে এলো।
কেক কাটা শেষে বান্টি সবার দেওয়া গিফটগুলো খুলছিলো, তৃণার দেওয়া গিফটটা খুলা মাত্রই বান্টি ভয়ে গিফটটা ফেলে দেয়..
গিফট ফেলে দেওয়ার পর সবাই দেখতে পায় গিফটটের প্যাকেটে তৃণার পোষা বিড়ালের লাশ।
এসব কর্মকাণ্ড দেখে তৃণাকে সবাইকে বকতে থাকে...
ঋ:- এসব কি তৃণা..?
তৃণা :- আমি জানি নাহ.!
নয়না:- তোর মিনিমাম কমন সেন্সটুকু নেই, একটা ছোট্ট বাচ্চাকে তুই এসব দিস, ছিহ্!
তৃণা:- বিশ্বাস কর আপু আমি এসব কিছুই করিনি..
নয়না:- একদম চুপ, তুই কোনো কথা বলবি, আজকের পর থেকে যেনো তোকে আমার এবং আমার ছেলের আশেপাশেও নাহ দেখি।
তৃণা নিজের আপন মায়ের পেটের বোনের মুখে এসব কথা শুনে কান্না করতে লাগলো হঠাৎ সে দেখে তাদের মধ্যে একজন মহিলা চেয়ারে বসে সেই বিদঘুটে হাসিটা দিয়ে তৃণার দিকে তাকিয়ে আছে, তৃণা ভয়ে এক পা দু-পা করে পিছতে পিছতে তার পিছনে থাকা কাচের টি টেবিলের উপর পরে যায় সাথে সাথে সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
জ্ঞান ফিরতেই দেখে সে হসপিটালে ভর্তি।