অভিশপ্ত হাসি — পর্ব ০২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০২ · ৪ পর্বের মধ্যে ২

তৃণাকে নিয়ে ফুয়াদ গাড়ির সামনে চলে এলো..

তৃণা গাড়ির পেছনের সিটে বসার জন্য গাড়িতে উঠতে যাবে তখনই ফুয়াদ বলে উঠে...

ফুয়াদ:- আমি তোমার ড্রাইভার নাহ, সামনের সিটে এসে বসো।

তৃণা ভ্রু কুঁচকে এসে সামনের সিটে বসলো।

ফুয়াদ ড্রাইভ করছে ও পাশে তৃণা বসে আছে।

কিছুটা পথ নিঃশব্দে যাওয়ার পর তৃণা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে...

তৃণা:- বিশ্বাস করো ফুয়াদ আমি হোপকে খুন করিনি, ওর মৃত্যুটা অস্বাভাবিক একটা মৃত্যু, এমন মৃত্যু এর আগে আমি কখনো দেখিনি।

আমি জানি নাহ, কিন্তু ওর বলা প্রত্যেকটা কথা আমার এখন বিশ্বাস হচ্ছে, কারণ ও আমার সামনে সুইসাইড করার পর আমিও সেইম একই জিনিস চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি।

ফুয়াদ, শুনতে পাচ্ছো তোহ..?

প্লিজ বিলিভ মীহ্..!

ফুয়াদ:- দেখো তৃণা, তোমার কথাগুলো নাহয় আমি বিশ্বাস করলাম কিন্তু এগুলো তোহ আদালতে প্রমাণ করতে হবে..?

তৃণা:- কি! এই সামান্য একটা বিষয়কে তোমরা আদালত অব্দি নিতে চাচ্ছো..?

ফুয়াদ:- এটা তোমার কাছে সামান্য মনে হতে পারে কিন্তু আমাদের কাছে অনেক কিছু।

তৃণা:- প্লিজ ফুয়াদ কিছু একটা করো, বিশ্বাস করো আমি খুন করিনি।

ফুয়াদ:- আচ্ছা ওইসব আমার উপর ছেড়ে দাও, এখন শুনো তোমাকে একটা কথা বলতে চাই...

তৃণা:- হ্যাঁ বলো..?

ফুয়াদ:- আমার লাইফে কি আবার কাম ব্যাক করা যায় নাহ.?

তৃণা:- নাহ, এটা কখনোই সম্ভব নাহ। আমি এখন নতুন সম্পর্কে আছি আমি তাকে কিছুতেই ঠকাতে পারবো নাহ।

ফুয়াদ:- আচ্ছা যাই হোক, তোমার যেকোনো বিপদে আমাকে পাশে পাবে শুধু একটা ডাক দিও।

তৃণা:- ঠিক আছে।

এসব কথা বলতে বলতে তৃণা নিজের বাড়ি পৌঁছে গেলো...

বাসায় এসে দেখে পুরো বাড়ি অন্ধকার, ভাবলো হয়তো লোডশেডিং হয়েছে।

পরে ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে লাইটের সুইচ চাপতেই পুরো ঘরে আলো জ্বলে উঠে।

লাইটের আলোয় খেয়াল করলো তৃণার জামায় রক্ত লেগে আছে, জামায় রক্ত দেখে তৃণা কিছুটা ভয় পেয়ে যায়।

এতক্ষণ সে খেয়াল করেনি যে তার জামায় রক্তের দাগ ছিলো হঠাৎ বাড়ি আসার পরই কেনো খেয়াল হলো যে তার জামায় রক্ত।

হাজারটা চিন্তা মাথায় নিয়ে তৃণা ড্রেস চেঞ্জ করার জন্য কাবাড থেকে ড্রেস বের করার সময় দেখে কাবাডের মধ্যে হোপ বসে আছে তৃণাকে দেখে সেই বিদঘুটে হাসিটা দিলো।

তৃণা প্রচন্ড ভয়ে একটা চিৎকার দিয়ে নিজের ঘরে থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুমে চলে আসে...

ড্রয়িংরুমে এসে দেখে হোপ সোফায় বসে তাকে দেখে সেই বিদঘুটে হাসিটা দিয়ে হাসছে।

তৃণা এবারও ভয়ে চিৎকার দিয়ে ওখানেই জ্ঞান হারায়।

কিছুক্ষণ পর তৃণার জ্ঞান ফিরলে দেখে সে এখনো ড্রয়িংরুমে পরে আছে।

ততক্ষণে তৃণার খুব ক্ষুধা লেগেছিলো তাই সে কিচেনে যায় কিছু খাবার খেতে।

সে যখন ফ্রিজ থেকে খাবার বের করছিলো তখন মনে হচ্ছে কেউ তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে, সে পিছনে ঘুরতেই দেখে তার প্রেজেন্ট বয়ফ্রেন্ড "ঋ" দাঁড়িয়ে আছে।

এতক্ষণে যেনো তৃণার শরীরে প্রাণ ফিরে পেলো।

ঋ'কে দেখে তৃণা প্রথমে কিছুটা ভয় পেলেও পরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তার সাথে কথা বলে।

তখন ঋ বলে...

ঋ:- তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে..

তৃণা:- কি সারপ্রাইজ..?

ঋ:- চলো আমার সাথে...

তৃণা:- কোথায় যাবো..?

ঋ:- আরে চলোই নাহ..!

তৃণা:- দাঁড়াও আমার খুব ক্ষুধা লেগেছে কিছু খেয়ে নি.?

ঋ:- উফ বাদ দাও এসব চলো আমার সাথে..

তৃণা:- আচ্ছা ঠিক আছে, একটু দাঁড়াও আমি ড্রেস চেঞ্জ করে আসছি।

তারপর তৃণা ঋ-এর সাথে বেরিয়ে পরে।

কিছুক্ষণ পর তৃণা ও ঋ একটা ফাইভ স্টার রেস্টুরেন্টে যায়, সেখানে গিয়ে তৃণা একদম সারপ্রাইড হয়ে যায় কারণ সেখানে তৃণার বড় বোন নয়না ও তার হাসবেন্ড অ্যারিক ছিলো।

তৃণা দৌড়ে গিয়ে নয়নাকে জড়িয়ে ধরে বললো...

তৃণা:- আপু.! কেমন আছিস তুই.? কতদিন পর তোর সাথে দেখা.!

নয়না:- ভালো আছি, তুই কেমন আছিস.? থাকি তোহ একই শহরে কিন্তু আমার ডাক্তার বোনটা যে এত ব্যস্ত বোনের খোঁজটুকু নেওয়ার সময় পায় নাহ।

তৃণা:- আমিও ভালো আছি। হ্যাঁ রেহ আপু সরকারি হাসপাতাল বুঝিসই তোহ।

নয়না:- এজন্যই তোহ তোর দুলাভাই তোকে একটা প্রাইভেট হসপিটালে জব দিতে চেয়েছিলো কিন্তু তুইই তোহ সরকারি হাসপাতালে জয়েন করলি।

তৃণা:- আপু..! তুই তোহ আমার ইচ্ছা সম্পর্কে জানিসই..?

নয়না:- হ্যাঁ! যাই হোক এসব বাদ দে তোর সাথে ইম্পর্ট্যান্ট কথা আছে..

তৃণা:- কি কথা রেহ আপু..?

নয়না:- আমাদের যেই ফার্ম হাউসটা আছে নাহ ওইটা বিক্রি করে দেবো ভাবছি...

তৃণা:- কি বলছিস এসব.? তোর মাথা ঠিক আছে তোহ.? আপু ওই ফার্ম হাউসটাতেই আমাদের শৈশব কেটেছে, ওই ফার্ম হাউসেই আমাদের মায়ের শেষ স্মৃতি আছে। আর তাছাড়া ওই ফার্ম হাউসটা বিক্রি করলে কত টাকাই বা পাবো।

আমি এসব সম্পর্কে কিছুই বলতে পারবো নাহ,৷ তোর যা ইচ্ছে কর।

নয়না:- কিন্তু...

তৃণা:- কোনো কিন্তু নাহ আপু, অন্য কোনো কথা থাকলে বল...

নয়না:- পরশু আমার ছেলের বার্থডে চলে আসিস।

তৃণা:- ঠিক আছে, এখন আমি গেলাম।

অ্যারিক:- আরে কোথায় যাচ্ছো.? ডিনার করে যাও.?

তৃণা:- আর ডিনার করে কি হবে জিজু..?

অ্যারিক:- তোমার বোনের কথা বাদ দাও তোহ, ও কখন কি বলে নিজেই জানে নাহ.!

ঋ:- জিজু এত করে বলছেন ডিনারটা করেই যাও, তাছাড়া তুমি তোহ কিছুই খাওনি...

তৃণা:- আচ্ছা ঠিক আছে।

ডিনার শেষে তৃণা কারো সাথে কোনো কথা নাহ বলে চলে আসে..

তৃণার এমন আচরণ দেখে সবাই হতভম্ব হয়ে গেলো, কারণ এত শান্ত শিষ্ট মেয়েটা হঠাৎ করে এত রেগে যেতে পারে কেউ কখনো কল্পনাও করতে পারেনি।

ডিনার শেষে তৃণা বাড়ি চলে আসে....

বাড়ি এসে তৃণা নিজের ড্রেস চেঞ্জ করে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে নিজেকে দেখছিলো হঠাৎ সে লক্ষ করে আয়নার ভিতরে থাকা তার প্রতিবিম্বটা সেই বিদঘুটে হাসি দিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সে ভয়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনে থেকে সরে যায়।

এবার আর কোনো দিক নাহ চিন্তা করে সে ঘুমনোর চেষ্টা করতে লাগলো।

চোখ দু'টো ঘুমে বন্ধ হয়ে আসছিলো তখন সে অনুভব করে তার অপর পাশে কেউ শুয়ে আছে, সে পিছন ফিরতেই দেখে হোপ তার দিকে তাকিয়ে সেই বিদঘুটে হাসিটা দিয়ে তার সাথে একই বিছানায় শুয়ে আছে।

তৃণা এবারও ভয়ে চিৎকার দেয়, সাথে সাথে হোপ উধাও হয়ে যায়।

সারারাত ঠিক মতো ঘুমতে পারেনি তৃণা।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্ট করে তৃণা হসপিটালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়...