অবক্ষয় রহস্য ভয় ও বিস্ময় — পর্ব ০৫
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০৫ · ৬ পর্বের মধ্যে ৫
স্নিগ্ধ দুপুর বেলা মনোরম করা হাওয়া বইছে। মুহূর্তেই যেকোনো বিষন্ন মনকে ভিজিয়ে দিবে উষ্ণতার রঙিন জলে। সূর্যের উত্তাপে ক্লান্ত মুখগুলো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ব্রিজের পাশে ছোট্ট পুকুরপাড়ে বসে আছে।
"তার মানে, আযান ভাই এতদূর থেকেই যাতায়াত করবেন?" মৃদু সুরে প্রশ্ন করলো ইকরাম। আযান কিছুটা নিস্তব্ধ থেকে বললো, "যাতায়াত তো করতেই হবে। যাতায়াত না করলে মানুষ চিনবো কিভাবে?" জুনায়েদ এবং ইকরাম দু'জনই যেনো বিস্মৃত হলো। "মানে?" ভ্রু কুচকে বললো জুনায়েদ।
"না! কিছু না!" আযানের কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছে সে কিছু একটা লুকাচ্ছে। কিন্তু কি?
"আযান ভাই, এই কোর্সটা করার উদ্দেশ্য কি আপনার?" সবকিছু হেসে উড়িয়ে দিয়ে আবারও প্রশ্ন করলো ইকরাম।
"এই কোর্সটা করার কোনো উদ্দেশ্য নেই আমার। আসল উদ্দেশ্য হলো এখানে আসা।" আনমনে বিরবির করে বললো আযান।
"আযান ভাই? কি বলছেন?" ইকরাম এবং জুনায়েদ দু'জনই একসাথে বলে উঠলো। আযান একটু নড়ে বসলো।
"না! না! তেমন কিছু না।" সেই শীতল চাহনি তার চোখে মুখে দেখা যাচ্ছে।
"আচ্ছা শুনুন! আপনি তো ওইদিন বললেন যে এদিকে থাকার জায়গা খুঁজছেন। আপনি চাইলে আমাদের পুরনো বাড়িতে থাকতে পারেন।" হঠাৎ বলে উঠলো জুনায়েদ।
"পুরনো বাড়ি?" জুনায়েদের দিকে তাকিয়ে রইলো ইকরাম।
"হ্যাঁ! আযান ভাই তো বলছিলো এদিকে একটা ব্যবস্থা করবে। যেহেতু এদিকে বাসা ভাড়া পাওয়াটা খুব কষ্টের তাই উনি চাইলে আমাদের পুরনো বাড়িতে থাকতে পারে।" আযানের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো জুনায়েদ।
"ভাড়া কত দিতে হবে?" এতক্ষণে আযান মুখ ফুটে কিছু জিজ্ঞেস করলো।
"ভাড়া? কিসের ভাড়া? আপনি ওখানে থাকবেন আমার গেস্ট হিসেবে। আমাদের বর্তমান বাড়ির পাশেই। পাঁচ মিনিটের রাস্তা। আপনি চাইলে আজকে সন্ধ্যার পর আমার সাথে গিয়ে দেখতে পারেন। আশা করি আপনার পছন্দ হবে।" এক গাল মুচকি হেসে বললো জুনায়েদ।
"হ্যাঁ! হ্যাঁ! আযান ভাই। আমার মনে হয় আপনার যাওয়া উচিৎ।" ইকরামও সায় জানালো।
"ঠিক আছে।" একবার জুনায়েদ আরেক বার ইকরামকে পরখ করে তারপর বললো আযান।
"আপনার নাম্বারটা দিন তাহলে। সেভ করে রাখি।" বললো জুনায়েদ।
"হ্যাঁ আমিও সেভ করে রাখি তাহলে।" বলেই হেসে দিলো ইকরাম। এরপর ওরা একে অপরের নাম্বার নিজেদের কাছে রেখে দিলো। নিজেদের মধ্যে টুকিটাকি কথপোকথন শেষ করে ক্লাসে চলে গেলো ওরা।
_
মুহূর্ত কিছু পূর্বে মাগরিবের আযান হয়েছে। আযানের সুমধুর ধ্বনিতে মুগ্ধ ছিলো পরিবেশ। সূর্যাস্তের শেষ মুহূর্তের লালচে ধূসর আকাশে তাকালে এখনো দেখা যায় দূর দূরান্তে একটি করে পাখি উড়ে চলে যাচ্ছে। ক্লাস শেষে জুনায়েদ আযানকে তার সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে। আযানও যাবে বলেছে।
"দেখুন আযান ভাই। এটা হচ্ছে শহরের গলি পেড়িয়ে আমাদের গ্রামের ছোট্ট খেতের পথ। জায়গাটা যেমন জনমানবহীন তেমনই অপরূপ। রাতের বেলা একটা গা ছমছমে ঠিকই কিন্তু দিনের আলো ফুটলে এই জায়গার রঙ একদম পাল্টে যায়।" আযান তার পিছু পিছু হাঁটছে। একটা শব্দও করছে না। জুনায়েদ আবারও বলতে লাগলো, "আমার নিত্য দিনের পথ এটাই। যখন একটু বেশি মন খারাপ থাকে, তখন ওইইইই জায়গায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেই মন ভালো হয়ে যায়।" হাতের ইশারায় নির্দিষ্ট স্থান দেখিয়ে বললো জুনায়েদ। এবারও পিছন থেকে কোনো শব্দ ভেসে এলো না। "আযান ভাই? আপনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?" প্রশ্ন করলো জুনায়েদ। না! পিছন থেকে এবারও কোনো শব্দ আসছে না। হাঁটারও কোনো আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতক্ষণ ধরে কথা বলে যাচ্ছে অথচ পিছে কোনো টু শব্দ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টা সন্দেহজনক মনে হতেই পিছে ফিরে তাকালো জুনায়েদ। "আযান ভাইইই!" একটু ভয়ার্ত সুরে ডাকলো। কিন্তু পিছনে কেউ ছিলো না। "এতক্ষণ তাহলে কার সাথে কথা বলছিলাম?" মনে মনে বলছে জুনায়েদ। ভয় ভয় লাগছে তার। এতদিন ধরে এই পথ ধরে যাচ্ছে, এমন ভয় কোনোদিন লাগেনি তার। হঠাৎ মনে পড়ে গেলো সেই রাতের ঘটনা। "বেশি বারাবাড়ি করছিস তুই, তোকে দেখে নিবো।" অদ্ভুত সেই লোকটা বলেছিলো এই কথাটা। ভাবতেই তার লোম দাঁড়িয়ে গেলো। যেনো সুচ হয়ে ফুটছে তার গায়ে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে। কপাল বেয়ে এক ফোটা ঘাম পড়লো। বাম হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তার পা যেনো সামনে এগোতে নারাজ। এক পা-ও নড়তে চাইছে না তার শরীর। এমন সময়ই তার ফোনটা বেজে উঠলো। স্ক্রিনে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আযানের নাম। চোখ দুইটা বড় বড় হয়ে যাচ্ছে জুনায়েদের। ঢোক গিলে কলটা রিসিভ করলো।
"হ্যাঁ! হ্যালো। আযান ভাই।" কাঁপা কাঁপা গলায় বললো জুনায়েদ।
"হ্যাঁ জুনায়েদ আমি বাসায় পৌঁছে গেছি। কালকে তোমাদের বাসা দেখতে যাবো। আর ধন্যবাদ তোমাকে আমার জন্য এতটা ভাবার জন্য।" সেই চিরচেনা গম্ভীর কণ্ঠে এক মিনিট কথা বললো আযান। প্রতুত্তরের আশা না করেই কল কেটে দিলো ওপাশ থেকে। জুনায়েদ অবাক হয়ে রইলো। বিকেলে যখন আযান আসার জন্য রাজি হয়েছিলো তখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিলো। এরপর যখন ছুটি হয় তখন হঠাৎ আযানের কোনো একটা দরকারি কাজে তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যেতে হয়। কিন্তু জুনায়েদ যে এতক্ষণ আযানের সাথে ছিলো, এটা কি মিথ্যা? তার শরীর আবারও কাঁপছে। কি করবে দিশা পাচ্ছে না।
সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এখান থেকে দেখা যাচ্ছে ক্ষেতের মাঝের সেই কবরস্থানে কয়েকজন লোক একসাথে দাঁড়িয়ে আছে। এতক্ষণে যেনো জুনায়েদ একটু সাহস ফিরে পেলো। তড়িঘড়ি করে এগিয়ে গেলো। মুহূর্তেই লোকগুলোর সামনে এসে পৌঁছায়। দূর থেকে তিন চারজন মনে হয়েছিলো। আসলে এখানে দুইজন লোক। শরীর স্বাস্থ্য স্বাভাবিকের তুলনায় একটু তরতাজা। "কি ভায়া? যাচ্ছেন কোথায়?" প্রশ্ন করলো লোকগুলোর মধ্যে একজন। জুনায়েদ ভয় পেয়েছে। কিন্তু তাদের বুঝতে দিতে চাইছে না। হাসিমাখা গলায় উত্তর দিলো, "এইতো ভাই বাসায় যাচ্ছি। আপনাদের তো চিনলাম না? এখানে কি নতুন নাকী?" প্রশ্ন করে কিছুটা শান্ত হলো জুনায়েদ। "হ্যাঁ ভাই। ওই তো সামনেই এসেছি একটা কাজে। ক্ষেতের কবরস্থান পার করে উপরের পথে আরেকটা কবরস্থান আছে সেখানেই যাচ্ছি।" দ্বিতীয় লোকটি উত্তরে বললো।
"তাহলে তো আপনারা আমার বাড়ির পথেই যাচ্ছেন। চলেন একসাথে যাই।" বুকে সাহস সঞ্চয় করলো জুনায়েদ। এতক্ষণে যেনো সে সাহস ফিরে পেলো।
"হ্যাঁ ভাই। চলেন তাহলে।" লোক দুইটা একসাথে বললো৷ "ভাই! এটা যেহেতু আপনারই এলাকা আপনিই না-হয় আমাদের পথ চিনিয়ে নিয়ে চলুন। আমরা তো আর সব রাস্তাঘাট চিনি না।" একজন বলে উঠলো। জুনায়েদ কণ্ঠ শুনে বুঝতে পারলো এটাই সেই লোকটা, যে প্রথমে কথা বলেছিলো। "হ্যাঁ! হ্যাঁ! চলুন তাহলে। আমিই চিনিয়ে নিয়ে চলি।" বলেই আগে আগে হেঁটে চললো জুনায়েদ। হাঁটতে হাঁটতে সে অনেক বার অনুভব করেছে পিছনে লোক দুইটা ফিসফিস করে কি যেনো কথা বলছে। কিন্তু তার কান অব্দি পৌঁছাচ্ছে না। সে-ও পিছে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করার সাহস পাচ্ছে না। হাঁটতে হাঁটতে তারা কবরস্থান ছাড়িয়ে চলে এসেছে। আর একটু পথ হাঁটলে তারা উপরের পথে উঠবে। "ভা....." পিছনে তাকিয়ে উনাদের ডাকতে যাবে তখনই জুনায়েদ একটা গর্তে পড়ে যায়। তার মনে হচ্ছে সে কোনো ভেজা গর্তে পড়ে গেছে। মাটি থেকে কেমন এক বিশ্রী গন্ধ ভেসে আসছে তার নাকে। হাত দিয়ে নিজেকে আটকে রাখার বৃথা চেষ্টা করতে করতে সে সোজা গর্তের অন্তরালে পড়ে যায়। হঠাৎ সে শুনতে পাচ্ছে গর্তের উপরে বড় বড় দুইটা কুকুর লাফালাফি করছে। নিভু নিভু চোখে উপরে তাকাবে তখনই কুকুর দুইটা তার উপর ঝাপিয়ে পড়লো। কুকুর দুইটা নিচে নামতেই সে উপলব্ধি করলো, এগুলো কোনো কুকুর না। এরা হচ্ছে ওই দুই ভদ্র লোক। উনারা শক্ত করে জুনায়েদকে ধরে রেখেছে। অজানা কোনো ভাষায় একে অপরের সাথে কথা বলছে। জুনায়েদ সবকিছুই বুঝতে পারছে কিন্তু কিছু করার মতো ক্ষমতা তার মধ্যে অবশিষ্ট নেই। যেনো তাকে কেউ মন্ত্রজালে আটকে রেখেছে। শরীরে কোনো প্রকার শক্তি খুঁজে পাচ্ছে না সে। মুখ দিয়েও কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। কি করবে এই মুহূর্তে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো লোক দুইটা তার দিকে তাকিয়ে বিকট শব্দে হাসছে। তার কান রিতীমতো স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। সে বার বার অনুভব করছে তার কান ফেটে যাবে৷ অসহ্য যন্ত্রণায় চোখ বন্ধ করে সজোরে এক চিৎকার দিতেই চারপাশে হাসির শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। গর্তপর ভিতর জুনায়েদ একা। লোক দুইটা নেই তার পাশে। হামাগুড়ি দিয়ে গর্ত থেকে বের হতেই তার শরীর দিয়ে হিমশীতল স্রোত বইতে লাগলো। সে নিজের আনমনেই কবরস্থানের ভিতরে চলে এসেছে। হাত মুখের ভিতরে গুঁজে কোনো রকম সাহস সঞ্চয় করে দৌঁড়ে কবরস্থান থেকে বেরিয়ে এলো। বুকের বাম পাশটা ধুকপুক করছে। মনে হচ্ছে হৃৎপিণ্ডটা এক্ষুণি ব্লাস্ট করবে। দৌঁড়ে উপরের পথে চলে এলো। এতক্ষণ খেয়ালই করেনি তার শরীর ভর্তি ময়লা। দুই হাত দিয়ে শরীর থেকে ময়লা ঝাড়তে গিয়ে বুঝতে পারলো তার জামার এক কোণা থেকে বেশ কিছুটা অংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। অবাক চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। এরপর মাথায় হাত দিতেই বুঝতে পারলো তার চুলেরও একই অবস্থা। কিন্তু এমনটা তো হওয়ার কথা ছিলো না? এমনটা হলো কেনো? কিছু তো একটা ঘটছে, কিন্তু কি?
_
"আম্মু! আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে। আমার আর সহ্য হচ্ছে না।" যন্ত্রণায় চিৎকার করছে জুনায়েদ।
"একটু সহ্য কর বাবা। ঔষধ খাওয়ালাম তো মাত্র। সব ঠিক হয়ে যাবে।" গতরাত থেকে ছেলের ধুম জ্বর দেখে জোহরা খুবই চিন্তিত। ছেলের অসুস্থতায় যেনো সে সবচেয়ে বেশি কাতর হয়ে যায়।
"আমার ভালো লাগছে না আম্মু। দেখো... আমার পায়ের সামনে বিশাল বড় একটা কুকুর বসে আছে। এটাকে সরাও এখান থেকে। আমাকে কামোর দিবে।" বাচ্চাদের মতো কান্না করছে জুনায়েদ।
"কোথায় কুকুর? এখানে তো শুধু আমি আছি। কোনো কুকুর নেই। তোমার মনের ভুল। তুমি ঘুমাও বাবা, আমি একটু কাজ করি গিয়ে।" ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলছে জোহরা।
"না! না আম্মু! তুমি এখান থেকে যেও না। তুমি চলে গেলেই কুকুরটা আমাকে কামড়াবে।" শক্ত করে মায়ের হাত ধরে রেখেছে জুনায়েদ। জোহরা একটা জোর করেই ছেলের হাত ছাড়িয়ে চলে গেলো।
সরু হাওয়া বইছে ঘরটিতে। আলোছায়ার আধার মেলা, দিনের আলোও যেনো ঘরটির অন্ধকারে আলো ফুটাতে পারছে না। নিষ্পাপ শিশুর ন্যায় খাটের এক পাশে ঘুমিয়ে আছে জুনায়েদ। জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। গতরাত থেকে কিছুই খেতে পারছে না। যা-ই মুখে দিচ্ছে বমি করে ফেলে দিচ্ছে। সকালে জোর করে জোহরা একটা পরোটা খাইয়ে তারপর ঔষধ খাওয়ায়। এখন কি সুন্দর ঘুমাচ্ছে ছেলেটা।
"উমম! আম্মু চুলে হাত দিও না। তোমার হাতগুলো অনেক ভারী।" ঘুমের তালে ফিসফিস কণ্ঠে বলছে জুনায়েদ।
" আ-আম্মু! তোমাকে তো বললাম, তোমার হাতগুলো অনেক ভারী।" কথাটুকু শেষ করতেই জুনায়েদ অনুভব করলো, সেই ভারী হাতগুলো মাথা থেকে নিচ দিকে নেমে আসছে। তার বুকের উপর এসে থেমেছে। বুকের উপর এত চাপ আগে কোনোদিন সৃষ্টি হয়নি তার। দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। মনে হচ্ছে এক্ষুণি নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মুখ দিয়ে রক্ত বমি শুরু হবে। ছটফট করতে করতে জুনায়েদ চোখ মেলে তাকায়। সে দেখতে পায় অন্ধকারের সেই লোক দুইটা তার বুকের উপর বসে আছে। তবে তাদের মাথা ছিলো কুকুরের মতো। এতটা বিভৎস দেখতে লাগছিলো। এটা সহ্য করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। এক ঝটকায় খাটের এক কিনারায় মুখ নিয়ে আসে। ভিতর থেকে যেনো সব বেরিয়ে আসছে, নাড়িভুড়ি সহ। চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে, চোখের পানিতে অস্পষ্ট দেখতে পেলো সে বমি করছে। অনেক বেশি বমি করছে। বাম হাতে চোখের জল মুছে ভালো মতো তাকিয়ে দেখলো, শুধু বমি না। তার নাক মুখ দিয়ে টকটকে রক্ত বের হচ্ছে। ডান হাত ও বাম হাত দিয়ে মুখের আশেপাশে লেগে থাকা রক্ত স্পর্শ করে চোখের সামনে তুলে ধরলো। চোখগুলো যেনো তার মার্বেলের মতো চকচক করছে। জোরে একটা চিৎকার দিলো, "আম্মুওওও" তার চিৎকারে জোহরা ছুটে এসে দেখে জুনায়েদ বিছানায় লুটিয়ে আছে। খাটের এক কিনারায় জমে আছে রক্ত।