অবক্ষয় রহস্য ভয় ও বিস্ময় — পর্ব ০২
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০২ · ৬ পর্বের মধ্যে ২
সকালের স্নিগ্ধ আলো তখনও পুরো ক্লাসরুমে পৌঁছায়নি, কিন্তু জুনায়েদ এর ক্লাস করতে আসা চাই। ক্লাসরুমে পা রাখতেই কেমন যেনো একটা অদ্ভুত নীরবতা অনুভব করলো সে। সাধারণত এই সময়ে ক্লাসরুম শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত থাকে, কিন্তু আজ… পুরো ক্লাস ফাঁকা! একটা মানুষও নেই! প্রথমে একটু অবাক হলো জুনায়েদ, তারপর ধীরে ধীরে তার কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করলো। সে কি তবে ভুল ক্লাসে এসে পড়েছে? নাকী আজ কোনো বিশেষ ছুটি? দ্রুত পায়ে নিজের সিটের দিকে এগিয়ে গেলো সে। সিটে বসতেই কেমন যেনো একটা শীতল অনুভূতি তার মেরুদণ্ড বেয়ে নামতে লাগলো। নিজের খাতা-কলম বের করে যখন সে কাজে মন দিয়েছে, ঠিক তখনই কানে এলো একটা শব্দ। প্রথমে মৃদু, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠলো, আর্তনাদ! শত শত মানুষের কান্নার শব্দ যেনো একসাথে মিশে যাচ্ছে। বুকটা ধড়ফড় করে উঠলো জুনায়েদের। শব্দটা আসছে কোথা থেকে? আশেপাশে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলো না সে। আতঙ্কটা যখন গাঢ় হতে শুরু করেছে, তখনই ঘটলো সেই ভয়ঙ্কর ঘটনাটা। জুনায়েদের দৃষ্টি আটকে গেলো তার ডেস্কে। হ্যাঁ, ঠিক তার ডেস্কে! সে স্পষ্ট দেখতে পেলো, পুরো ক্লাসের মানুষগুলো তার বন্ধু, শিক্ষক, এমনকি যাদের সে ভালো করে চেনে না, তারাও! সবাই যেনো আটকা পড়েছে ডেস্কে বন্দী অবস্থায়। তারা মুক্তি চাইছে, বাঁচানোর জন্য চিৎকার করছে, আর তাদের আর্তনাদ যেনো আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলছে। "বাঁচাও! প্লিজ, আমাদের বাঁচাও!" কথাগুলো যেনো জুনায়েদের কানে অবিরাম বাজতে লাগলো। তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এলো, শরীর কাঁপতে শুরু করলো। কি করবে বুঝতে পারছিলো না সে। কিভাবে বাঁচাবে তাদের? ডেস্কে বন্দী মানুষগুলোর অসহায় মুখগুলো যেনো তাকে পাগল করে তুলছিলো। সময় যেনো তার কাছে থমকে দাঁড়িয়েছে। আর্তনাদ বাড়ছে, আর সেই সাথে বাড়ছে জুনায়েদের অস্থিরতা। কপাল বেয়ে ঘাম ঝরতে শুরু করলো, হৃদস্পন্দন বেড়ে চললো কয়েকগুণ। মনে হচ্ছিলো, এই বুঝি তার কান ফেটে রক্ত বের হয়ে আসবে। ঠিক তখনই কেউ একজন তার কাঁধে হাত রাখলো। ভয়ে জমে গিয়েছিলো জুনায়েদ। আতঙ্কের চরম মুহূর্তে, তার শরীর যেনো পাথর হয়ে গিয়েছিলো। ধীরে ধীরে, কম্পিত হাতে সে পিছনে তাকালো। আর! তাকানোর পরেই তার মুখ দিয়ে একটা আর্তচিৎকার বেরিয়ে এলো……এবং তার চোখ খুলে গেলো।
ক্লাসের নিজের সিটে বসা অবস্থায় হাঁপাতে লাগলো জুনায়েদ। সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে। বুকের ধুকপুকুনি তখনও স্বাভাবিক হয়নি। পুরো ক্লাসটা তার কাছে কেমন যেনো অচেনা লাগছিলো। স্বপ্নের সেই বিভীষিকা এখনও তার মনে গেঁথে আছে। সে কি তবে কোনো ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্ন দেখছিলো? নাকি…
সকালের মৃদু আলো তখন সবে চিরচেনা ভাব দেখা দিতে শুরু করেছে, বাইরে মিষ্টি সুরে ডেকে ওঠা পাখির কূজন জানান দিচ্ছিলো ঘুমের বিভীষণা কাটিয়ে ওঠা জুনায়েদ। কিছু মুহূর্ত আগের ঘটনার রেশ তখনও কাটেনি। সবে ঘুম থেকে উঠা শরীরটা হালকা ঘোরেও চিন্তার জাল বুনেছিলো। তখনও দুঃস্বপ্ন থেকে আসা আবেশ কাটাতে পারেনি। আচমকা কানে আসে এক বিকট শব্দ। মৃদু গোলের শব্দ শুনেই জুনায়েদ বুঝতে পারে কিছু একটা ঘটেছে। শব্দটা আসছে দোতলা থেকে। দোতলার ক্লাসরুম থেকে। ঘুমের ঘোর তখনও পুরোপুরি কাটেনি, এমন অবস্থায় জুনায়েদ উঠে দাঁড়ালো। চোখের ঘুম ঘুম ভাব নিয়েই সে দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে শুরু করে। নিচে গিয়ে দেখে অনেকেই ব্যস্ত ভঙ্গিতে ছোটাছুটি করছে। তাদের মধ্যে কেউ একজনের কাছে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো। "কি হয়েছে? কি হয়েছে?" আতঙ্কিত কণ্ঠে ছেলেটি জবাব দিলো, "সুইং মেশিনের ক্লাসে, একজন প্রশিক্ষণার্থী ইনজুরড হয়েছে। মেশিনের সমস্যা সারানোর সময় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর তার হাতের আঙ্গুলগুলো থেঁতলে গেছে।" কথাগুলো তখনও শেষ না হতেই জুনায়েদ দৌড়ে সুইং মেশিনের ক্লাসে যায়। ছুটে গিয়ে দেখে, ক্লাসরুমের ভেতরের দৃশ্যটা ভয়াবহ। সেখানে সবাই ভীড় করে আছে, আর আহত অবস্থায় পড়ে আছে একজন। তার হাতের আঙ্গুলগুলো দিয়ে রক্ত ঝরছে। চারিদিকে একটা ভীতিকর নীরবতা বিরাজ করছে। আহত অবস্থায় থাকা ছেলেটিকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। চারিদিকে আতঙ্কের রোল। সেই ভয়াবহ দৃশ্যটা দেখে জুনায়েদের শরীর এখনো শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা স্রোত অনুভব করছে।
সকালের মিষ্টি আলো তখনও পুরো ক্লাসরুম জুড়ে ভালো করে ছড়াতে পারেনি, এর মধ্যেই শেষ হওয়া ক্লাস থেকে বের হয়ে আসে জুনায়েদ। ঘড়িতে তখন বেলা প্রায় বারোটা। আকাশের কড়া রোদ উপেক্ষা করে, সে যখন গেটের দিকে যাচ্ছিলো, তখন তার চোখ আটকে গেলো একটা ব্যানারের উপর। "অ্যাসেট প্রজেক্ট"। প্রথমে বিষয়টা তার কাছে পরিষ্কার ছিলো না, কিন্তু ভালোভাবে দেখার পর জানতে পারলো, এই প্রজেক্টে প্রশিক্ষণ নিলে, পরীক্ষার পর সরকার কিছু টাকা দেবে। জুনায়েদের বুকের ভেতরটা কেমন যেনো কৌতূহলে ভরে উঠলো। আজই ছিলো ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। জুনায়েদ দেরি না করে, দ্রুততার সাথে একটা ফরম সংগ্রহ করলো। ফরম পূরণ করে, সে দ্রুত তা জমা দিয়ে আসে। জুনায়েদের চোখেমুখে তখন রাজ্যের বিস্ময়। ফর্ম জমা দেওয়ার পর, জুনায়েদের মনে হলো, এবার হয়তো জীবনটা একটু অন্যরকম হবে। সে এখন নিয়মিত কম্পিউটার কোর্সের ছাত্র। সকাল নয়টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলে তার ক্লাস। কিন্তু এবার সে ইলেকট্রিক্যাল কোর্সেও নাম লিখিয়েছে। আগামী মাসের দুই তারিখ থেকে এই কোর্স শুরু হবে। দুপুর বারোটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলবে ক্লাস। দুই তারিখ থেকে সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তার ক্লাস চলবে। একদিকে যেমন কাজ শেখা হবে, তেমন অন্যদিকে কিছু টাকাও পাওয়া যাবে।
ক্লাস শেষ করে ক্লান্ত জুনায়েদ প্রতিদিনের মতোই বাড়ির পথ ধরে। বাইরের কোলাহল আর গরম আবহাওয়া থেকে মুক্তি পেতে তার মনটা ব্যাকুল হয়ে উঠে। দরজার ওপাশে একটু শান্তির আশায় সে দ্রুত পায়ে ঘরে ঢোকে। ভেতরে ঢুকতেই দেখে, তার ফুপি জাহানারা এসেছেন। জাহানার গম্ভীর মুখ, চিন্তিত দৃষ্টি আর উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। তার উপস্থিতি যেনো একটা সতর্কবার্তার মতো। "সুইং মেশিনের ক্লাসে একজন ইনজুরি হয়েছে?" উদ্বেগের সঙ্গে জাহানারা প্রশ্ন করেন। জুনায়েদের কণ্ঠস্বর কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত, "হ্যাঁ"। জাহানারা উদ্বেগের স্বরে বাধা দিয়ে বলেন, "এখনও সময় আছে, ওই টিটিসি ছেড়ে দে। সামনে যে তোর কোনো বিপদ হবে না, তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? তুই আমার ভাইয়ের একমাত্র ছেলে, তোর কিছু হলে আমার ভাইটা আর বাঁচবে না। আমি আর কিছু বলতে চাই না। তোর তো এখন যথেষ্ট বয়স হয়েছে, ভালো-মন্দ বোঝার মতো।" তার প্রতিটি কথায় গভীর আবেগ, ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা আর জুনায়েদের ভবিষ্যতের চিন্তা ফুটে উঠে। জাহানারা আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে চলে যায়। জাহানারা চলে যাওয়ার পর, জুনায়েদের মা জোহরা সেখানে আসেন। জোহরার চোখেমুখে উদ্বেগের ছাপ, তবে কণ্ঠ শান্ত। তিনি প্রশ্ন করলেন, "কি বলছিলো তোর ফুপি?" জুনায়েদ মায়ের উদ্বেগকে হালকা করার জন্য কণ্ঠে দৃঢ়তা নিয়ে বললো, "তেমন কিছু না। শোনো, আগামী মাস থেকে আমি দুপুর বারোটা থেকে আরও একটা কোর্স করবো।" এই কথা বলার পর, সে আর কোনো কথা বাড়ায় না। নিজের ঘরে চলে যায়, যেনো তার ভেতরের দ্বিধা আর উদ্বেগকে কিছুটা আড়াল করতে চায়।
___________________
রাত তখন এগারোটা ছুঁই ছুঁই। জুনায়েদের অস্থির মনটা কিছুতেই শান্ত হতে চাচ্ছিলো না। তার মনে হচ্ছিলো, ঘরবন্দী জীবন তাকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিলো। অথচ সে সবসময় নিজের স্বাধীনতা নিয়েই চলাফেরা করে বড় হয়েছে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না, তাই একটু মুক্ত বাতাসের খোঁজে সে ঘর থেকে বের হলো। উদ্দেশ্য, রাতের নিস্তব্ধতা উপভোগ করা আর প্রকৃতির কাছাকাছি আসা। মাঠ-ঘাট ঘুরে, রাতের স্নিগ্ধতা অনুভব করে জুনায়েদের মনটা কিছুটা শান্ত হলো, কিন্তু পুরোপুরি শান্তি যেনো পাচ্ছিলো না।
ফিরে আসার পথে, যখন ঘড়ির কাঁটা সাড়ে বারোটা ছুঁই ছুঁই, এলাকাটা জনমানবশূন্য হয়ে আসছিলো। রাস্তার পাশে পুরনো বিশাল গাছগুলো রাতের অন্ধকারে গাঢ় ছায়া ফেলছিলো, আর জঙ্গলের ঝোপঝাড়গুলো যেনো এক রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করছিলো। হঠাৎ, জুনায়েদের কানে এলো একটা কান্নার আওয়াজ। শব্দটা আসছিলো রাস্তার পাশের সেই গাছগুলোর দিক থেকে। একজন মহিলার কণ্ঠস্বর, তীব্র আর্তনাদ যেনো রাতের নীরবতাকে খান খান করে দিচ্ছিলো। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, এত রাতে সেখানে কোনো মানুষের চিহ্ন নেই। আশেপাশে জনবসতিও তেমন একটা নেই যে কেউ জেগে থাকবে। জুনায়েদের শিরদাঁড়া দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো। ভয়ে বুকটা ধড়ফড় করতে শুরু করলো। কান্নার আওয়াজটা একটানা বাজছে, একটুও কমছে না। জুনায়েদ সেখান থেকে দ্রুত পালাতে চাইলো, কিন্তু তার পা যেনো মাটির সাথে গেঁথে গেছে। শরীর অবশ হয়ে আসছিলো, যেনো অদৃশ্য কোনো শক্তি তাকে সেখানে আটকে রেখেছে। যেনো অন্য কোনো জগতে প্রবেশ করেছে সে। সময় যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে। টেনশনে তার অবস্থা কাহিল হয়ে উঠলো। কান্নার আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেই সাথে অদৃশ্য কোনো হাত যেনো তার পা-গুলো আরও শক্ত করে চেপে ধরছে। জুনায়েদ প্রাণপণে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে লাগলো, কিন্তু কিছুতেই পারছিলো না। অনেকক্ষণ পর, এক অলৌকিক শক্তির টানেই হয়তো, সে সেই ঘোর থেকে মুক্তি পেলো। কোনোমতে দৌড়ে সে বাসায় ফিরে এলো। শরীরে তখন রাজ্যের ক্লান্তি, যেনো বিশাল এক বোঝা কাঁধ থেকে নামিয়ে রেখেছে। কারো সাথে কোনো কথা বলার শক্তিটুকুও যেনো তার ছিলো না। সোজা নিজের ঘরে ঢুকে, বিছানায় এলিয়ে পড়লো জুনায়েদ।
ক্লান্ত শরীরে জুনায়েদ বিছানায় আশ্রয় নিলো। ক্লান্ত শরীরেও ঘুমের লেশমাত্র নেই তার চোখে। বিছানার একপাশে সে শুয়ে ছিলো, মাঝখানে কোলবালিশ আর অন্য পাশটা ফাঁকা। গভীর রাতেও তার ঘুম আসছে না। অবশেষে, অনেক চেষ্টার পর যখন একটু ঘুম ঘুম ভাব এলো, রাত তখন দেড়টা বাজে। ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ জুনায়েদ শুনতে পেলো, তার কোলবালিশের ওপরের পাশে, যেনো কোনো মেয়ে, নাকি-সুরে কাঁদছে। ভয়ে জুনায়েদের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এলো। এত'টাই ভয় পেয়েছিলো যে, সে কোলবালিশের ওই দিকে তাকানোর সাহসটুকুও পাচ্ছিলো না। সময় যত যাচ্ছিলো, কান্নার শব্দটা যেনো আরো তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছিলো। শরীর যেনো বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছিলো, আর বুকের ভেতরটা ধুকপুক করতে শুরু করলো। মনে হচ্ছিলো, এই বুঝি হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে। ভয়ে দিশেহারা হয়ে জুনায়েদ চিৎকার করতে যাবে, ঠিক তখনই অনুভব করলো কেউ যেনো তার মুখ চেপে ধরেছে। কোনো শব্দ বের হচ্ছে না, নিস্তব্ধতা যেনো আরও গভীর হলো। জুনায়েদ অনুভব করলো, তার শরীর ক্রমশ অবশ হয়ে আসছে। মনে হচ্ছিলো, এই বুঝি তার হৃৎস্পন্দন থেমে যাবে। হঠাৎ, কান্নার শব্দটা ক্ষীণ হয়ে এলো, যেনো দূরে সরে যাচ্ছে। জুনায়েদ তখনও নড়াচড়া করতে পারছিলো না। কিছুক্ষণ পর, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এলো, যেনো কিছুই ঘটেনি। জুনায়েদ কোনোমতে ফোনটা হাতে নিয়ে ফ্ল্যাশ অন করলো, পুরো ঘরটা ভালো করে দেখলো। সবকিছু স্বাভাবিক। এরপর, নিজেকে শান্ত করে এক গ্লাস পানি খেলো এবং আবার বিছানায় ফিরে এলো। রাতের নীরবতা তখনও ভাঙেনি, তবে জুনায়েদের মনে অজানা এক আতঙ্ক বাসা বেঁধেছিলো।