চলে যাওয়া বসন্ত
লেখক: তোয়া নিধী দোয়েল · বিভাগ: অণুগল্প
গ্রীষ্মের দুপুরে সূর্যের প্রচণ্ড কিরণে; সমগ্র প্রকৃতি যেন রুক্ষমূর্তি ধারণ করে। গ্রীষ্মের এই খররৌদ্রে প্রকৃতির সতেজ রূপ নির্জীব হয়ে যায়। চারদিক পুড়ে খাঁ খাঁ করতে থাকে। ও-দূর ফাটা মাঠের বুক থেকে বেরিয়ে আসছে তপ্ত সুবাস।
গ্রীষ্মের দুপুরে সূর্যের প্রচণ্ড কিরণে; সমগ্র প্রকৃতি যেন রুক্ষমূর্তি ধারণ করে। গ্রীষ্মের এই খররৌদ্রে প্রকৃতির সতেজ রূপ নির্জীব হয়ে যায়। চারদিক পুড়ে খাঁ খাঁ করতে থাকে। ও-দূর ফাটা মাঠের বুক থেকে বেরিয়ে আসছে তপ্ত সুবাস।
বারান্দায় বেঞ্চ এর উপরে শুয়ে আছে, এক প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ। ক্ষনে ক্ষনে ডান পা বাম পায়ের উপর দিয়ে নাড়াচ্ছে। কপালে এক হাত রেখে, বাড়িতে থাকা গাছ গুলোকে পর্যবেক্ষণ করছে। যারা নতমুখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে, সূর্যের আদেশ আছে তাদের উপর। তার এই তীব্র দহন তাদের সহ্য করতে হবে।
বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটা ছোট নদী। সেথায় ক্লান্ত এক পাখি পানি পান করছে। বাড়ির সামনে একটি প্রশস্ত রাস্তা। যা সোজা গুঞ্জের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। রাস্তায় তেমন জন মানব নেই। এক ফেরিওয়ালার হাঁক-ডাক শোনা যাচ্ছে। সে তার মৌখিক ফিরিস্তির মাধ্যমে ক্রেতার আগ্রহ চেষ্টা সৃষ্টি করছে। মাথার উপর টিনের চালে; থেকে থেকে ভেসে আসছে কবুতরের গুম গুম আওয়াজ।
তারপর দীর্ঘক্ষণ কোনো শব্দ নেই। উতপ্ত এই দুপরের পরিবেশ ধীরে ধীরে নৈঃশব্দে নিমজ্জিত হয়। প্রকৃতির এই নির্জনতা; পুরুষটির মনের নির্জনতা আরও কয়েক গুন বাড়িয়ে দেয়। বাড়িতে থাকা জলপাই গাছ থেকে মাঝে মাঝে পাতা খসে পড়ছে। পাতা খসার দৃশ্য দেখে, স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠে কিছু নিদারুণ বিষাক্ত স্মৃতি! নিদারুণ বিষাক্ত স্মৃতি!?
হ্যাঁ! স্মৃতি গুলা ভীষণ সুন্দর ছিলো এক সময়। কিন্তু, এখন তারা বিষে পরিণত হয়েছে। আসো, তোমাদের সেই নিদারুণ বিষাক্ত স্মৃতির গল্প শোনাই।
কিছুদিন আগে মায়ের গলা জড়িয়ে আহ্লাদী কণ্ঠে বলে ছিলাম,
-মা, আমি একজন কে ভীষণ ভালোবাসি। ও -ও আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। যদি এই বার চাকরিটা হয়ে যায় তবে, ওকে বিয়ে করবো।
মা স্মিত হেসে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে ছিলো,
-ওমা! তাই নাকি। তা মেয়েটা কে শুনি?
আমি মাকে ছেড়ে, মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে বর্ণনা করছিলাম; সেই অপ্সরীর কথা! সে অদ্ভুত রকমের সুন্দর! পানপাতার মতো মুখশ্রীতে, ছোট ছোট তিল। তাই তো তার নাম দিয়েছি তিলবতী! মাথার কেশগুচ্ছ যেনো মেঘের মতো মসৃণ আর মহনীয়। সে যেনো আলো আর শান্তির মিশ্রণ। তার সামীপ্যে আমার অন্ধকারে কেটে যায়। অশান্ত মন শান্ত হয়ে যায়!