কথানদী — পর্ব ০২

লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০২ · ২ পর্বের মধ্যে ২

[ ] ঘটনা:-০৩ ও ঘটনা:-০৪ সম্পৃক্ত

জমিদারে ছোট মেয়ে কাঁকনের বিয়ের দিন সকাল বেলা যখন দোলা নিজের ঘরে ঘুমচ্ছিল তখন রুক্মিণী তাকে জাগিয়ে তোলার জন্য লাথি ও ঝাঁটার বারি দিচ্ছে।

লাথি আর ঝাঁটার বারির আঘাতে দোলার ঘুম ভাঙ্গে।

রুক্মিণী দোলাকে তার মায়ের শাড়িটা দিয়ে বলে, এই নেহ ধর এটা আমার মায়ের শাড়ি এটা পড়েই তুই আজকে কাঁকনে বিয়েতে যাবি।

আর শোন আবারও বলছি এটা কিন্তু আমার মায়ের শাড়ি এটা যেনো নষ্ট নাহ হয়।

দোলা শাড়িটা নিয়ে জমিদার বাড়ি চলে যায়।

তখনই বুঝা যায় রুক্মিণীকে ও তার ওই প্রেমিক বলেছে যদি সে তার সতিনের মেয়েকে সায়েস্তা করতে পারে তাহলে তাকে সে অনেক ধনসম্পদ দিবে।

রুক্মিণী সেই সম্পদের লোভে একটা ফন্দি আটে এবং দোলাকে যে শাড়িটা দিয়েছে ওই শাড়ির মধ্যে একটা ইদুর রেখে দিয়েছে যাতে ইদুরটা শাড়িটা নষ্ট করতে পারে এবং সে দোলাকে সায়েস্তা করতে পারে।

দোলা শাড়িটা নিয়ে জমিদার বাড়ি আসে।

জমিদারের মেয়ে কাঁকনের সাথে কথা বলছে কাঁকনের স্বামী দেখতে কেমন.? কি করে.?

তারপর কাঁকন দোলাকে বলে আমার স্বামী একজন দেবদূত অজগর সাপ।

এর আগেও একজন দেবদূত আমার দিদিকে বিয়ে করে তাকে সোনায় ভড়িয়ে দিছে এবার আমাকেও সোনায় ভড়িয়ে দিবে।

আমি জানি সে আমাকে অনেক ভালোবাসবে।

এইরে অনেক দেড়ি হয়ে গেলো আমি সাজতে গেলাম যা তুইও সেজে আয়।

এই বলে কাঁকন সাজতে চলে যায় এবং দোলাও সাজার জন্য একটা ঘরে যায়।

ঘরে গিয়ে শাড়িটা বের করতেই একটা ইদুর লাফ দিয়ে বের হয়, সে তাড়াতাড়ি শাড়িটা বের করে দেখে ইদুরটা শাড়িটাকে একদম নষ্ট করে দিয়েছে।

দোলা অনেক ভয়ে কাউকে কিছু নাহ বলে শাড়িটা নিয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে যায় এবং সে তার মাকে সবটা জানায়...

ওই মুহুর্তে রুক্মিণী দোলাকে কিছু বলে নাহ, সে শাড়িটা নিয়ে নিশ্চুপ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে নিজের ঘরে চলে যায়।

দোলাও ভয়ে ভয়ে নিজের ঘরে চলে যায়।

[ ] ঘটনটা:-০১

দেখতে দেখতে কুন্ডলা একটা ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম দিলো।

এবারও কানাই আর কুন্ডলা তাদের সন্তানকে নিয়ে কাকুর বাড়ি যাবে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ বাণী করতে।

কিন্তু কুন্ডলা এবার ঠিক করে নিয়েছে কাকু যদি এবারও তাদের সন্তানকে কবর দিতে বলে তাহলে কাকুকে সে খুন করবে।

কুন্ডলা তার হাতে লুকিয়ে একটা ছুড়ি নিয়ে গেলো।

[ ] ঘটনা:-০৩ ও ঘটনা:-০৪ সম্পৃক্ত

কাঁকন ও অজগরের বিয়ের জন্য একজন পুরোহিত আনা হয় কিন্তু সেই পুরোহিত কিছুতেই সাপ ও মানুষের বিয়ে দিতে রাজি হয় নাহ।

তখন জমিদারের ছোট স্ত্রী হৈমন্তী পুরোহিতকে বলে, তুমি বিয়ে নাহ করালে নেই আমি অন্য পুরোহিত আনবো তাও আমার মেয়ের বিয়ে ওই অজগর সাপের সাথেই দিবো।

তারপর অন্য একজন পুরোহিত এনে কাঁকন ও অজগরের বিয়ে দেওয়া হয়।

রাতে কাঁকন ও হৈমবতী একই ঘরে থাকে।

কাঁকন ও অজগর সাপ বিছানায় আর হৈমবতী নিচে শুয়ে ছিলো।

অজগর সাপটি যখন কাঁকনকে একটু পর পর পেঁচিয়ে ধরছিলো তখন সে বার বার হৈমন্তীকে ডাকে আর হৈমবতী বলে, মা তুই ভয় পাসনে জামাই তোকে আদর করছে, একটু পর দেখবি সে তোকেও অনেক সোনাদানা দিবে।

আস্তে আস্তে সাপটি কাঁকনকে পেঁচিয়ে ধরে গিলতে শুরু করে।

একটু একটু করে সাপটি কাঁকনকে পুরো গিলে ফেলে।

অন্যদিকে মাঝ রাতে রুক্মিণী দোলাকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে বলে তাড়াতাড়ি ঢেকুরের সামনে আয় চাল গুঁড়ো করতে হবে...

দোলাও তার মায়ের কথা মতো ঢেকুরের কাছে যায়, রুক্মিণী চাল গুঁড়ো করতে করতে দোলার ডান হাতে ঢেকুর চালাতে শুরু করে।

দোলা প্রচন্ড ব্যথায় যখন কাতরাতে থাকে তখন রুক্মিণী দোলার বাম হাত তারপর এক এক করে ডান পা ও বাম পা'ও ঢেকুরে চেপে ভেঙ্গে ফেলে।

সবশেষে ঢেকুরের নিচে দোলার মাথাটা রেখে মাথাটাও গুঁড়ো গুঁড়ো করে ছোট্ট দোলাকে মেরে ফেলে।

[ ] ঘটনা:-০১

অন্য দিকে কানাই ও তার স্ত্রী কুন্ডলা তাদের কাকুর কাছে যায় ভবিষ্যৎ বাণী করতে।

কাকু ঘর থেকে বেড়িয়ে এসে কানাই এর সন্তানের কপালে হাত রেখে ভবিষ্যৎ বলতে যাবে তখন কুন্ডলা আচলে লুকিয়ে রাখা ছুড়িটা বের করে ঠিক ওই মুহুর্তে কানাই এর কাকু বলে উঠে, এটাই হবে তোদের সৌভাগ্যের প্রতীক এই মেয়েই দূর করবে তোদের সকল কষ্ট।

কানাই এর কাকু অন্ধ ছিলো তাই কিছু দেখতে পারতো নাহ কিন্তু সে আন্দাজ করতে পারতো।

তারা তাদের সন্তানকে নিয়ে ফিরে আসবে তখন কাকু বলে আমাকে মারার জন্য ছুড়ি এনেছিলি মা কুন্ডলা।

আমি কি তোদের ক্ষতি চাই বল.?

তোদের ভালো চাই বলেই তোহ তোদের তিনটা সন্তানকে জ্যান্ত কবর দিতে বলেছি।

আমার কথা বিশ্বাস নাহ হলে তোরা তোদের সেই তিন সন্তানের কবরের গিয়ে দেখিস ওরা তোদের সাথে কথা বলবে...

[ ] ঘটনা:-০২

অন্যদিকে একদিন রাতে পদ্মাবতীর হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায়, ঘুম ভাঙ্গতেই দেখে একটা ছোট্ট ২ বছরের শিশু তাদের রান্না করা খাবার খাচ্ছে।

শিশুটি দেখতে একদম ধবধবে ফর্সা, চুলগুলো সোনালী।

পদ্মাবতী ছুটে সেই চালতা ফলটার কাছে যায় গিয়ে দেখে ফলটা দুই টুকরো হয়ে পরে আছে।

পদ্মাবতী টুকরো করা চালতাটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলে।

এবং ওই শিশু আর চালতা ফলে প্রবেশ করতে পারে নাহ তাই জন্য সে এবং পদ্মাবতী ও বলরামের সাথেই থাকে।

ওই দিনের পর পদ্মাবতী ও বলরাম তাদের সন্তান নিয়ে সুখে শান্তিতে দিন কাটায়।

[ ] ঘটনা:-০১

অন্ধ কাকুর কথা মতো কানাই ও তার স্ত্রী কুন্ডলা তাদের সন্তানদের কবরের কাছে যায়, কবরের সামনে যেতেই তারা দেখে কবরের ভিতর থেকে ছোট্ট ছোট্ট তিনটা শিশু সন্তান বের হয়ে বলে...

আমরা যদি এতদিন বেঁচে থাকতাম তোদের অনেক ক্ষতি করতাম, তোদের অনেক কষ্ট দিতাম।

তোরা যা করেছিস ভালোই করেছিস।

এরপরই তারা ওইখান থেকে চলে আসে এবং তাদের নতুন সন্তান নিয়ে সুখে জীবন কাটাতে থাকে।

[ ] ঘটনা:-০৩ ও ঘটনা:-০৪ সম্পৃক্ত

রুক্মিণী দোলাকে ঢেকুরে পিসে মারার পর দোলার মৃত লাশটাকে জঙ্গলে নিয়ে পুতে ফেলে, লাশটা মাটিতে পুতার সময় সেই দানব আকৃতির লোকটা রুক্মিণীর পাশেই দাড়িয়ে থাকে কিন্তু রুক্মিণীকে সাহায্য করে নাহ।

তখন রুক্মিণী বুঝতে পারে এটা তাহলে কোনো মানুষ বা অন্য জগতের কেউ নাহ এটা তার মনের ভুল ছিলো।

সে যত খারাপ চিন্তা করতো সব চিন্তার ফলে এই দানব আকৃতির লোকটাকেও সে চিন্তা করতো এবং তার সাথেই সে মনে মনে সংসার করতো।

রুক্মিণী দোলাকে মাটিতে কবর দিয়ে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন সকালে জমিদার বাড়িতে শুনতে পাওয়া যায় অজগর সাপটি কাঁকনকে গিলে খেয়ে ফেলেছে।

সাপটির পেট কেটে কাঁকনের লাশ বের করা হয়।

অন্য দিকে ঘুম ভাঙ্গতেই রুক্মিণী দেখে হঠাৎ করে দোলার কবর থেকে একটা ফুলগাছ বের হয়।

The End....