কথানদী — পর্ব ০১
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: ছোট গল্প · পর্ব ০১ · ২ পর্বের মধ্যে ১
ঘটনা:০১
রাতের অন্ধকারে কানাই নামে এক লোক এক হাতে মশাল এবং আরেক হাতে একটা পুঁটলি নিয়ে গ্রামের জঙ্গলের দিকে যাচ্ছে...
জঙ্গলের ভিতরে গিয়ে সে মাটি খুঁড়তে লাগলো...
তার পুঁটলিতে কি ছিলো এবং সে কেনো মাটি খুঁড়ছে এটা আমরা মূল গল্পে জানতে পারবো।
☞ঘটনা:০২
অন্য এক গ্রামের এক মহিলা নাম তার পদ্মাবতী। সে যখনই রাস্তা দিয়ে হাটে তার পিছু পিছু একটা চালতা ফল গড়াতে গড়াতে যায়।
তার পিছনে পিছনে চালতা ফলটা কেনো যায় সেটাও আমরা মূল গল্পে জানতে পারবো।
ঘটনা:০৩
অন্য এক গ্রামের ১৫ বছরের মেয়ে দোলা ছুটে নদীর ধারে যাচ্ছে কারণ নদীর ধারে তার সৎমা রুক্মিণী আর তার বাবা কৃষ্ণা দাঁড়িয়ে আছে।
দোলা সেখানে যেতেই তার বাবা তাকে ও রুক্মিণীকে বিদায় জানিয়ে বাণিজ্যের উদ্দেশ্য রওনা হলো...
দোলার বাবা বাণিজ্য করতে কোথায় যাচ্ছে সেটাও আমরা মূল গল্পে জানতে পারবো।
ঘটনা:-০৪
দোলাদের গ্রামের জমিদার রামকৃষ্ণ ও তার বাড়ির কাজের লোকেরা রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে কিছু একটা ধরে পুঁটলিতে ভরে গরুর গাড়িতে করে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছে।
তারা পুঁটলিতে করে কি নিয়ে যাচ্ছে সেটাও মূল গল্পে জানা যাবে।
মূল গল্প- ঘটনা:-২ ও ঘটনা:-৩ সম্পৃক্ত...
[ ] রুক্মিণী আর দোলাকে বিদায় জানিয়ে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো কৃষ্ণা।
কৃষ্ণা প্রথমে পণ্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য পদ্মাবতীর বাড়ি যায় কারণ কৃষ্ণার বাণিজ্যের জন্য পণ্য সামগ্রী তৈরির দায়িত্ব এবার পদ্মাবতীই পায়।
কৃষ্ণা যখন পদ্মাবতীর বাড়ি যায় তখন দেখে পদ্মাবতী নিজের ঘর থেকে পণ্য নিয়ে বের হওয়ার সময় তার পিছু পিছু সেই চালতা ফলটা আসছে এটা দেখে কৃষ্ণা পদ্মাবতীকে জিজ্ঞেস করে চালতা ফলটা নিচে থেকে কিভাবে নড়ছে কিন্তু পদ্মাবতী তার কথার জবাব নাহ দিয়ে তাকে পণ্যগুলো দিয়ে এবং তার কাছ থেকে পণ্যের টাকা নিয়ে ঘরে চলে যায়।
এবারও একই ভাবে পদ্মাবতীর পিছু পিছু সেই চালতা ফলটাও ঘরে চলে গেলো।
পণ্য নিয়ে ফেরার পথে কৃষ্ণা তার পাশের লোকটিকে পদ্মাবতী ও সেই চালতা ফলটির কথা জিজ্ঞেস করলে সেই লোকটি জানায় ওই চালতা ফলটি নাকী পদ্মাবতী গর্ভের সন্তান পদ্মাবতী এমন সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে গ্রামের সবাই তাকে ডায়নী বলতে শুরু করে এবং তাদের একঘেয়ে করে দেয়।
কিন্তু ওদের এমন দুর্দশা দেখে আমার অনেক খারাপ লাগে এজন্য তোমাকে বললাম পদ্মাবতীর কাছ থেকে শাড়ি কিনতে যাতে ওদের কিছুটা উপকার হয়।
এটা শুনে কৃষ্ণা আগ্রহের সাথে সবটা জানতে চাইলে লোকটি তাকে বলে যে....
পদ্মাবতী যখন ৬ মাসের গর্ভবতী ছিলো তখন তাদের সংসারের অবস্থাও খুব খারাপ ছিলো, তারা দিন আনতো দিন খেতো।
হঠাৎ একদিন একটা ভিক্ষুক পদ্মাবতীর দুয়ারে এসে খাবার চায় কিন্তু পদ্মাবতী তখনও রান্না বসায়নি তাই সে ভিক্ষুককে বলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন আমি রান্না শেষ করেই আপনাকে খেতে দিচ্ছি...
সংসারে অভাব অনটন থাকলে কি হবে পদ্মাবতী ছিলো করুণাময় ও মমতাময়ী কেউ ওর কাছে হাত পাতলে নাহ করতো নাহ।
কিন্তু সেদিন রান্না করতে করতে পদ্মাবতীর অনেক বেলা বয়ে যায় এবং সেই ভিক্ষুকটি পদ্মাবতীকে অভিশাপ দেয় "তুই যেমন আমাকে খাবারের জন্য অপেক্ষা করালি তেমনই তুই তোর সুখের জন্য অপেক্ষা করতে থাক এত সহজে তোর কপালে সুখ জুটবে নাহ" এই বলে ভিক্ষুকটি চলে যায়।
পদ্মাবতী তাকে অনেক ডাকে কিন্তু সে আর ফিরে আসে নাহ।
[ ] এবার আসি ঘটনা:-০১ এর কাছে..
দেড় বছর পর পর টানা সাড়ে চার বছর কানাই রাতের অন্ধকারে জঙ্গলে মাটি খুঁড়ে তার সদ্য জন্ম নেওয়া ফুটফুটে শিশুদের জ্যান্ত কবর দিতো।
☞ কানাই এর বিয়ে পরেই তাদের পরিবারের সবাই ডায়রিয়া নামে এক মহামারিতে প্রাণ হারায় এরপর তাদের আপন বলতে একটা বৃদ্ধ কাকু বেঁচে আছেন।
তিনি কানাইকে বলে দিয়েছেন তোদের সন্তান জন্ম নেওয়ার পর আমার কাছে নিয়ে আসবি আমি তাদের ভবিষ্যৎ বাণী করবো।
যেহেতু কানাই এর কাকু একজন কবিরাজ ছিলো সেহেতু সে কানাই ও তার স্ত্রী কুন্ডলার সুখের কথা ভেবে তাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ বাণী করতে চাইতো যাতে আগামী দিনে কানাই ও তার স্ত্রীর কষ্ট নাহ হয়।
আর কানাই এতদিন যে সন্তানগুলোকে জ্যান্ত কবর দিয়েছে তারা নাকী কানাই ও তার স্ত্রীর জন্য বিপদ ছিলো তারা বেঁচে থাকলে তাদের ক্ষতি ছাড়া কখনোই ভালো হতো নাহ।
[ ] এবার আসি শেষ ঘটনার কাছে...
☞ জমিদার রামকৃষ্ণ তার ছোট মেয়ে কাঁকনের বিয়ে দেওয়ার জন্য জঙ্গল থেকে একটা বিশাল অজগর সাপ ধরে আনে।
বছর দুই এক আগে জমিদারের বড় মেয়ে রাশি স্বপ্নে দেখছিলো তাকে একটা অজগর সাপ বিয়ে করবে এবং সেই সাপটিকে তাদের গ্রামের জঙ্গলে পাওয়া যাবে।
তার স্বপ্নের কথা শুনে রামকৃষ্ণ জঙ্গলে গিয়ে সেই সাপটিকে ধরে আনে এবং অনেক ধুমধাম করে রাশি ও সেই অজগর সাপটির বিয়ে দেয়।
পরদিন সকালে সেই সাপটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায় নাহ কিন্তু রাশির সারা শরীর সোনার অলঙ্কার দিয়ে ভরিয়ে দিয়ে গেছে।
এই কাহিনি দেখে জমিদারের ছোট বউ হৈমন্তীও নিজের মেয়ের বিয়ে একটা অজগর সাপের সাথে দিতে চায় যাতে তার মেয়েও রাশির মতো সোনার অলঙ্কারে ভরে যায়।
[ ] ঘটনা:-০১
কৃষ্ণা বাণিজ্যে যাওয়ার পর, রুক্মিণী দোলার খাবারে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দিয়ে দোলাকে ঘুম৷ পাড়িয়ে দিয়ে সে বেড়িয়ে নদীর ধারে চলে আসে...
নদীর ধারে গিয়ে সে একটি নৌকায় গিয়ে উঠলো, সে নৌকায় উঠতেই একটা দানব আকৃতির লোক৷ এসে রুক্মিণীকে জড়িয়ে ধরে বলে...
"আজ অনেক দিন পর তুই আমার কাছে এসেছিস" তারপর তারা দুইজন নিজেদের প্রেম লীলায় লিপ্ত হয়ে পরে।
[ ] ঘটনা:-০২
একদিন রাতে পদ্মাবতীর স্বামী বলরাম একটা চারকোনা পাত্রে কিছু আটা রেখে তার মধ্যে চালতা ফলটা রেখে দিয়ে পদ্মাবতীকে বলে, যদি সত্যি সত্যি এই ফলের ভেতর কোনো শিশু সন্তান থাকে তাহলে আজকেই তা প্রমাণ হবে...
শিশুটি বের হলে যদি সে প্রতিদিনের মতো আজকেও রান্না করা খাবার খেতে বের হয় তাহলে সারা ঘরে আটার চিহ্ন পড়ে যাবে আর আমরাও আমাদের সন্তানকে দেখতে পারবো।
কিন্তু পরদিন সকালে পদ্মাবতী ঘুম থেকে দেখে পুরো বাড়ি জুড়ে কোত্থাও সেই চালতা ফলটা নেই, এই কান্ড দেখে সে তার স্বামীকে বলে...
চালতা ফলটা মনে হয় আমাদের কথা বুঝে গেছে এজন্য সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।
পদ্মাবতী ও বলরাম পুরো এলাকা খুঁজেও ফলটা পাচ্ছিল নাহ, অন্য পাশের গ্রামের এক মহিলা চালতা বাগানে গিয়ে চালতা কুড়বার সময় সেই চালতাটিকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু কিছুতেই ধরতে পারে নাহ।
যখনই মহিলাটি চালতাটা ধরবে তখনই বলরাম এসে চালতাটা ধরে তার সাথে করে নিয়ে যায়।
[ ] ঘটনা:-০১
কুন্ডলা আবারও গর্ভবতী হয়। এবার সে ৮ মাসের গর্ভবতী কিছুদিন পরই তার প্রসব হবে। এবার সে কানাইকে সরাসরি বলে দেয়...
এবার কানাই এর কাকু যেমনই ভবিষ্যৎ বাণী করুক নাহ কেনো এবার আর সে তাদের সন্তানকে জ্যান্ত কবর দিতে দিবে নাহ।
পর পর তিনটি সন্তানকে জ্যান্ত কবর দিয়েছে। তারা এখন অব্দি তাদের সন্তানদের আদর করতে পারেনি, সন্তানের মুখে বাবা মা ডাক শুনেনি।
এবার আর কিছুতেই সে তাদের সন্তান কবর দিতে দিবে নাহ।
[ ] ঘটনা:-
জমিদার রামকৃষ্ণের প্রথম স্ত্রী রানীমালা বার বার করে জমিদারের ছোট স্ত্রী হৈমন্তীকে বারণ করছিলো যাতে সে কাঁকনের বিয়ে অজগরের সাথে নাহ দেয়, কারণ রাশির যে সাপটির সাথে বিয়ে হয়েছিলো সেটি ছিলো একটা দেবদূত আর তাদের যে বিয়ে হবে এটা আগে থেকেই রাশিকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলো।
এখন তারা যে সাপটি ধরে এনেছে এটা কোনো দেবদূত নয় এটা একটা জংলী সাপ।
কিন্তু জমিদারের ছোট স্ত্রী হৈমন্তী কিছুতেই রানীমালার কথা শুনতে চায় নাহ, সে মনে করে রানীমালা হয়তো চাচ্ছে নাহ তার মেয়ের মতো হৈমন্তীর মেয়েও সোনার অলঙ্কার পাক।
সে রানীমালাকে অনেক কিছু বলে অপমান করে তারপরও সে তার মেয়ের বিয়ে অজগরের সাথেই দিবে।