এক নরকের অগ্নিকুণ্ড
লেখক: তোয়া নিধী দোয়েল · বিভাগ: অণুগল্প
স্রষ্টার কাছে, একদিন নরক দেখতে চাইলাম।
তিনি আমারে নরক দেখাইলো। সেই নরকে আগুন ছিল না,ছিল আমার ঘর। যে ঘরে এক সময়, সর্গের সুবাস বইতো। আজ সে ঘর কেবল, নরকের অগ্নিকুণ্ড!
স্রষ্টার কাছে, একদিন নরক দেখতে চাইলাম।
তিনি আমারে নরক দেখাইলো। সেই নরকে আগুন ছিল না,ছিল আমার ঘর। যে ঘরে এক সময়, সর্গের সুবাস বইতো। আজ সে ঘর কেবল, নরকের অগ্নিকুণ্ড!
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে, যখন ঘরে এসে আয়নায় নিজেকে দেখি, খুব মায়া হয় নিজের উপর। সাথে খানিকটা আফসোসও হয়। লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস, বোঝার মত কেউ নেই। দু চোখে উপচে পড়া কান্না, দেখার মত কেউ নাই। বুকের ভেতরটা রক্তাক্ত, জড়িয়ে ধরার মত কেউ নাই।
এক সময়, এই আয়নায় নিজের পাশে দৃশ্যমান হতো, সৌষ্ঠব লাবণ্যময়ী! যার ডাগর ডাগর আঁখিতে লেপটে থাকতো, ঘন কালো মেঘর মত কাজলের ছোঁয়া! যার দুই খিলান ভ্রুর মাঝে থাকতো ছোট টিপ। লম্বা কেশগুচ্ছে, কখনো কখনো গাঁথা থাকতো বেলি, কখনো কনকচাঁপা। যার কলকল হাসির শব্দে, এই ঘরের প্রতিটি কোণে ফিরত নতুন প্রাণ! যার নূপুরের ঝুমঝুম শব্দে, নৃত্য করে উঠতো সারা বাড়ি। আজ সে বাড়ি শুধুই মরুভূমির বালুচর!
সে পাড়ি জমালো না ফেরার দেশে। সাথে নিয়ে গেলো আমার আত্মা হৃদয় আর ভালো থাকার শেষ ভরসা। শেষবার তার শান্ত নির্জীব হাত দুখানা, জড়িয়ে ধরে বলে ছিলাম,
‘চলে যাওয়া কি ভীষণ অবশ্য? থেকে গেলে হয়না? আমি আগের থেকে অনেক ভালোবাসা দেবো। অনেক যত্ন নেবো। হারিয়ে যেও না আমার থেকে। আমি যে বড্ড নিঃস্ব তুমি বিহীন। তুমি হীনা প্রতিটা মূহুর্ত মূল্যহীন।’
সে ম্লান হেসে বলেছিলো,
‘দুঃখ পেয়েও না। ক্ষণিকের ভালোবাসা পাওয়ায় যে সুখ আছে, হয়তো চিরদিন সেই ভালোবাসায় সুখ নাও থাকতে পারে। তোমাকে ছোঁয়ার সাধ্য আর হবে না। তবে মনে রেখো, দূরত্ব যতই হোক আমি তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি!
‘তবে, নিয়ে যাও আমাকে।’
‘নিয়ে গেলে যদি আর আমাকে ভালো না বাসো। ক্ষনে ক্ষনে মনে না করো। তখন? তখন ঐ ভালবাসা না পাওয়ার আক্ষেপ আমি কোথায় রাখবো? তাই ভালোবাসলে দূরত্ব সৃষ্টি করতে হয়। যাতে ভালোবাসা কখনো না কমে!