হৃদয়ের সঙ্গোপনে

লেখক: তোয়া নিধী দোয়েল · বিভাগ: রোমান্টিক · মোট ৪৬ পর্ব

রাত বারোটা বেজে তেরো মিনিট। রুমে জ্বলছে নীল আলোর ডিম লাইট। সাদা ফ্লোরে ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে আছে টুকরো টুকরো লাল গোলাপের পাপড়ি। বিছানার উপর বসে রয়েছে লাল বেনারসি পরিহিত এক নব-বধূ। মাথায় লাল ওড়না দিয়ে বড় করে ঘোমটা টানা। দুই হাঁটু বাহুডোরে আবদ্ধ করে শান্ত হয়ে বসে আছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাঁর স্বামীর জন্য!

রাত বারোটা বেজে তেরো মিনিট। রুমে জ্বলছে নীল আলোর ডিম লাইট। সাদা ফ্লোরে ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে আছে টুকরো টুকরো লাল গোলাপের পাপড়ি। বিছানার উপর বসে রয়েছে লাল বেনারসি পরিহিত এক নব-বধূ। মাথায় লাল ওড়না দিয়ে বড় করে ঘোমটা টানা। দুই হাঁটু বাহুডোরে আবদ্ধ করে শান্ত হয়ে বসে আছে। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাঁর স্বামীর জন্য!

নাহ্, এই ভাবে বসলে ও বোধহয় সুন্দর লাগছে না। তুর্কি নিজ মনে বিড়বিড় করে দুই-পা ভাঁজ করে বসে। সে এই রুমে এসে বসেছে প্রায় বিশ মিনিট। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ- ছয় বার বসার পজিশন, স্টাইল চেঞ্জ করেছে! কোন পজিশনে, কোন স্টাইলে বসলে তাকে সুন্দর লাগবে তাই ভেবে চলেছে। দুই হাত দিয়ে ঘোমটা ধরে; মনে মনে আবার বিড়বিড় করে—

ইয়া মাবুদ, তোমাকে লক্ষ-কোটি শুকরিয়া! ফাইনালি পড়ালেখা থেকে আমাকে মুক্তি দিলে। ফাইনালি বিয়েটা করলাম। উফফ কী আনন্দ যে হচ্ছে আমার! এই শুক্রবার মসজিদে আমি পাচঁশ টাকা দেবো! না না পাচঁশ টাকা কই পাবো। আমি তো ফকির! পাচঁশ টাকা না একশ টাকা দেবো৷ এক মিনিট আমার জামাই শুনছি বিশাল কোম্পানির মালিক। এত বড় মালিকের বউ হয়ে আমি কিনা ফকির। এইটা কোনো কথা! মানুষ শুনলে কী বলবে। না না আমি পাচঁশ টাকাই দেবো। তুমি শুধু পড়ালেখা থেকে আমাকে দূরে রেখো। ওকে ডিল!

এক মনে বিড়বিড় করে আরও বিশ মিনিট পার করে তুর্কি। কিন্তু, তাঁর বর মশাই এখনো আসছে না। তুর্কি ঘোমটার আড়ালে দরজার দিকে তাকায়। নটকাটা আসছে না কেনো? রাত তো কম হলো না? কখন আসবে? রাত তো শেষ-ই হয়ে গেলো। ধ্যাত্!

বিরক্তি নিয়ে তুর্কি ঘোমটা উঠিয়ে ফেলে। দুই পা মেলে বসে। ডান পা বাম পায়ের উপর রেখে দোলাতে থাকে। আবার ও বিড়বিড় করে,

“আচ্ছা, আমি আগে উনার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করবো? নাকি উনি আগে আমার ঘোমটা তুলবে?” ইসসস! ওই আপুটার কাছে শুনলে ভালো হতো। ধ্যাত্! মনে মনে খুব বিরক্ত হয় সে। আচ্ছা, আমি উনি উনি করছি কেনো উনি তো আমার স্বামী। এক মাত্র স্বামী। কত লাথি গুঁতা খাওয়ার পর আম্মু বিয়েটা দিলো। আম্মু তো আব্বুকে বলে,

'ওগো তুর্কির আব্বু শুনছো? আবার ঝগড়া লাগলে বলে 'আমি দেখে তোর সংসার করে গেলাম। অন্য কেউ হলে মুখে ঝামা ঘষে দিয়ে চলে যেতো'। সোফিয়া ওর বয়ফ্রেন্ডর সাথে তুমি করে কথা বলে। তাহলে আমি কেন আপনি করে বলবো। আমি ও মধুর স্বরে ডাকবো “ওগো শুনছো এই দিকে একটু শোনো না” তাহলে তো এত যুদ্ধ করে বিয়ে করাটা সার্থক হবে। তুর্কি ঠোঁটের হাসি দীর্ঘ করে।

মুহূর্তে হাসি মিলিয়ে বলে আল্লাহ, “তওবা তওবা। নতুন বউ কী বেলাজার মত কথা বলছে! ছি ছি ছি তুর্কি! মানলাম তুই জামাই ভক্ত মেয়ে। সবার সাথে ভাণ্ডামি করলে ও জামাইয়ের জন্য এক দম পিউর খাটি লয়াল। মাথার মধ্যে সব সময় এই শব্দ ঘুর ঘুর করে। তাই বলে প্রথমে-ই ওগো শুনছো বলে ডাকবি? আরে বেলাজা মেয়ে বিয়ের প্রথম প্রথম একটু লজ্জা পেতে হয়। স্বামীর সাথে আপনি করে সুন্দর ব্যবহার দেখিয়ে কথা বলতে হয়। তারপর প্রেম টা একটু জমলে তখন ঝাড়ু-ঝাটা, ঢাল -তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করবি।

তাই, এখন তোকে নিজেকে কন্ট্রোল করতে হবে। সুন্দর ভাবে মিষ্টি ভাবে কথা বলতে হবে। ভুলে ও ঝাগড়া করা যাবে না। মারা-মারি করা যাবে না। যতই হোক আম্মুর সাথে যুদ্ধ করে বিয়েটা করেছিস। আম্মু কে বোঝা-তেই হবে পড়ালেখার চেয়ে সংসার করা উত্তম। হাজার গুন উত্তম। প্রথমেই যদি জামাইয়ের সাথে ঝগড়া করি ঝামেলা করি আর যদি সে রেগে আমাকে আবার বাসায় দিয়ে আসে তখন! তখন আম্মু আর আমাকে আস্ত রাখবে না। ঘাড় ধরে আবার পড়ালেখা করাবে।”

তুর্কি দরজার দিকে তাকিয়ে ডানে বামে মাথা নাড়িয়ে বলে