মনপবন
লেখক: তোয়া নিধী দোয়েল · বিভাগ: অণুগল্প
সওদাগর বাড়ির, গেটের সামনে এসে থামে একটি রিকশা। সময়টা সন্ধ্যা নামার কিছু আগ মূহুর্ত। পশ্চিম আকাশে সোনার রবি অস্ত গিয়েছে। পরিবেশে ধীরে ধীরে আগমন ঘটছে অন্ধকারের!
সওদাগর বাড়ির, গেটের সামনে এসে থামে একটি রিকশা। সময়টা সন্ধ্যা নামার কিছু আগ মূহুর্ত। পশ্চিম আকাশে সোনার রবি অস্ত গিয়েছে। পরিবেশে ধীরে ধীরে আগমন ঘটছে অন্ধকারের!
রিকশা থেকে নামে, আকাশী রঙের থ্রি-পিছ পরা এক নারী। সাদা ওড়নার আঁচল মাথায় টানা। তবে, নামার সময় কিঞ্চিৎ বিপত্তি ঘটে! তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে, অসাবধানতাবশতঃ রিকশার হুডের সাথে মাথায় আঘাত পায়। এমনিতে-ই মনে রাগ, ক্ষোভ আর বিরক্ততে ছেয়ে আছে! তার ওপর হুট করে মাথায় চোট পাওয়াতে, বিরক্তির মাত্রা আকাশ ছোঁয়! মুখ দিয়ে বিরক্তি সূচক শব্দ করে।
রিকশাওয়ালা দ্রত মেয়েটির কাছে এসে জিজ্ঞাসা করে,
-আফামনি, দুক্কু পাইলেন?
মেয়েটা মাথায় এক পাশে হাত দিয়ে; চোখ মুখ খিঁচে দাঁড়ায়। রিকশাওয়ালার কথা শুনে ডানে-বামে মাথা নাড়ায়। যার অর্থ সে আঘাত পায়নি!
তারপর মাথা থেকে হাত নামিয়ে, পার্স থেকে টাকা বের করে ভাড়া পরিশোধ করে। রিকশাওয়ালা চলে যায় অজানা গন্তব্যে।
মেয়েটা হাতের পার্স এক হাতে নিয়ে; অন্য হাতে মাথার ওড়না টেনে নেয়। ঘুরে দাঁড়ায় সওদাগর বাড়ির উদ্দেশ্যে।
কয়েক পা হেঁটে গেটে টোকা দেয়। গেটের সামনে বসে থাকা দারোয়ান রফিক; গেটে থাকা ছিদ্র দিয়ে দেখে কে এসেছে। বাড়ির বড় বউয়ের মুখশ্রী দৃষ্টিগোচর হতেই; দ্রততরে গেট খুলে দেয়।
মেয়েটি ভেতরে ঢুকলে, রফিক মোল্লা চমৎকার করে হেসে সালাম দেয়। মেয়েটা ও মৃদু হেসে সালামের উত্তর নিয়ে, মূল বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।
ডুপ্লেক্স বাড়িটির মূল দরজায় প্রবেশ করার আগে, রাস্তার বাম পাশে একটা ওয়াটার ফাইউন্টেন। যেথায় থেকে পানি নির্গত হচ্ছে। আর ডান পাশে কুচকুচে কালো রঙের একটা গাড়ি।