নৃত্যশিল্পী — পর্ব ০১
লেখক: রিয়াদ ইসলাম আযান · বিভাগ: অণুগল্প · পর্ব ০১
ঘটনাটি ঘটে আমার এক দুঃসম্পর্কের আন্টির সাথে। তার নাম শিউলি, যখন তিনি ২০ বছর বয়সী ছিলো তখনকার ঘটনা। তার পিতা [ মোবারক আলী ] একজন সরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন। কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ট্রান্সফার হতে হয় শিউলি আন্টির পিতাকে।
প্রতিবারের মতো এবারও শিউলি আন্টির পিতাকে কাজের জন্য ট্রান্সফার করা হয়, ভালুকা শহর। সেই শহরের কোনো এক গ্রামে তারা খুব কম খরচের মধ্যে একটা বসতবাড়ি পেয়ে যায়।
এখানে এসে শিউলি আন্টিকে ইউনিভার্সিটি ফার্স্ট ইয়ারে এবং তার ভাই মাসুমকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে ভর্তি করে দেয় তাদের পিতা মোবারক আলী। বাড়িতে উঠেছে আজ তাদের ৭ দিন। দুপুরে সবাই বাসায় যে যার মতো কাজ করছে হঠাৎ সবাই খেয়াল করে শিউলি আন্টি ইউনিভার্সিটি থেকে দৌড়ে এসে তার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে।
কেউ তেমন পাত্তা দিলো নাহ, কিন্তু তারা আবারও খেয়াল করলো ৩০ মিনিট হয়ে গেলো শিউলি আন্টি দরজা খুলছে নাহ তারা সবাই দজরা ধাক্কাচ্ছে কিন্তু শিউলি আন্টি দরজা খুলছে নাহ । এর কিছুক্ষণ পর তার ছোট ভাই মাসুম জানালা দিয়ে লুকিয়ে লুকিয়ে তাকিয়ে দেখে শিউলি আন্টি ঘরের দরজা বন্ধ করে সাজুগুজু করছে। হঠাৎ শিউলি আন্টি দরজা খুলে বাইরে এসে সবাইকে বলে...
শিউলি আন্টিঃ- কি হয়েছে..?
শিউলি আন্টির মাঃ- তুই দরজা বন্ধ করে কি করছিলি.?
শিউলি আন্টিঃ- কিছু নাহ [ একটু রাগী কণ্ঠে ]
বিকেলে যখন সবাই শিউলি আন্টিকে জিজ্ঞেস করে সে দরজা বন্ধ করে ভিতরে সাজুগুজু করছিলো তখন শিউলি আন্টির কিছুই মনে ছিলো নাহ।
পরের দিন সন্ধ্যা বেলা একি ভাবে শিউলি আন্টি দৌড়ে এসে ঘরের দরজা বন্ধ করে ভিতরে চলে যায়।
তখন বাসার সবাই ভেতর থেকে একটা সুন্দর ঘ্রাণ পায় ঠিক যেনো বেলি ফুলের।
তারপর ভেতর থেকে শুনতে পায় গুনগুন করে কেউ গান গাচ্ছে আর পায়ে ঘুঙ্গুর পড়ে নাচ করছে।
হঠাৎ করে নাচের শব্দ বন্ধ যায় এটা শুনে সবাই দরজা ধাক্কায় কিন্তু শিউলি আন্টি দরজা খুলছে নাহ।
শিউলি আন্টি দরজা খুলছে নাহ দেখে তারা দরজা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে দেখে...
খাটের এক কোণে শিউলি আন্টি বসে আছে তার চোখগুলো বড় বড় হয়ে লাল বর্ণ ধারণ করেছে। এটা দেখে সবাই অনেক ভয় পায়। তার আম্মু দৌড়ে গিয়ে শিউলি আন্টিকে ধরতেই সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
তারপর তার চোখে-মুখে পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরানো হয়। তাকে যখন নাচের কথা জিজ্ঞেস করা হয় তখন তার কিছুই মনে ছিলো নাহ।
ওইদিন আর কোনো সমস্যা হয়নি, পরেরদিন রাত ঠিক ১২ টা তখন শিউলি আন্টি ছাঁদের উপর চলে যায় আর ওখানে তিনি ঘুঙ্গুর পড়ে নাচ শুরু করে আর ঘুঙ্গুরের শব্দ শুনে যখন সবার ঘুম ভেঙ্গে যায় তখন তারা ছাঁদে গিয়ে দেখে শিউলি আন্টি ছাঁদের একদম কার্ণিশে দাড়িয়ে আছে।
এটা দেখে সবাই চিৎকার করা শুরু করে তাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের কিছু প্রতিবেশী চলে আসে, এত লোকজন দেখে শিউলি আন্টি ছাঁদ থেকে ঝাপ দিয়ে যেনো উড়ে উড়ে নিচে পড়ছে। নিচে পড়েই সে বাড়ির বাইরে যাওয়ার জন্য যখনই দৌড় দেয় ঠিক তখনই ওই পাড়ার এক লোক তাকে ধরে ফেলে আর সে অজ্ঞান হয়ে যায়।
পরের দিন তার পিতা আর সময় নষ্ট নাহ করে তাকে একটা হুজুরের কাছে নিয়ে যায় তারপর হুজুর বলে...
হুজুরঃ- কোনো এক খারাপ জ্বিন বা খারাপ ছায়ার নজর পড়েছে।
মোবারক আলীঃ- এখন কি করা যায়.?
হুজুরঃ- আমি একটা তাবিজ দিচ্ছি আশা করি আর সমস্যা হবে নাহ.।
তারপর হুজুরের থেকে তাবিজ আনার পর আর কোনো সমস্যা হয় নাহ।
কিন্তু কিছুদিন পর শিউলি আন্টির আম্মু স্বপ্নে একজন মহিলাকে দেখে বয়স আনুমানিক ২০-২২ বছর হবে সে নৃত্যশিল্পীদের মতো সেজে আছে আর তার ঘাড় বাকিয়ে আছে মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে চোখগুলা বড় বড় হয়ে লাল হয়ে আছে এবং তাকে বলছে...
মহিলাঃ- আমার সাথে ও কাজটা ঠিক করেনি। আমি কি দোষ করেছিলাম। ও আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলো। ছাড়বো নাহ আমি ওকে ছাড়বো নাহ।
এই বলে মহিলাটি হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
এরপর তারা ঠিক করে ওই বাসা ছেড়ে দেবে এবং তারা ওই বাসা ছেড়েও দেয়।
ছেড়ে চলে আসার আগে ওই এলাকার কিছু লোকের কাছে তারা শুনতে পায়....
এই বাড়িতে একটা পরিবার ছিলো, ওই পরিবারে একটা মেয়ে খুব ভালো নাচ করতো, মেয়েটার নাম ছিলো মেঘা। কিন্তু একদিন বাড়িতে মেঘার ফাঁসি দেওয়া লাশ পাওয়া যায় এবং তার ১ সপ্তাহ পর জানা যায়, মেঘার নৃত্য শিক্ষক আসিফ তাকে প্রতিদিন শারীরিকভাবে অত্যাচার করতো যার ফলে সে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।
এসব শোনার পর মেঘার পরিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেয় এবং তারা এই বাড়ি বিক্রি করে চলে যায়।
তারা চলে যাওয়ার পর শিউলি আন্টিরাই ছিলো ওই বাড়ির প্রথম ভাড়াটিয়া।
পরে আর জানা যায়নি মেঘার জীবন নষ্ট করে দেওয়া ওই নৃত্য শিক্ষক আসিফের কি হয়েছে।
আদোও কি মেঘা আর প্রতিশোধ নিতে সক্ষম হয়েছে নাকী সে আজও ওই বাড়িতে প্রতিশোধের আগুনে আরো ভয়ংকর প্রেতাত্মাতে রূপান্তরিত হয়েছে।