একপাক্ষিক অনুরাগ
লেখক: তোয়া নিধী দোয়েল · বিভাগ: অণুগল্প
সে কখনো বলেওনি ভালোবাসি। তবুও আমি ভেবেছিলাম সে আমাকে ভালোবাসে। তাঁর নীরবতাকেই প্রতিদিন ছুঁয়ে ভেবেছিলাম— ভালোবাসা বোধহয় এমনি, যেখানে শব্দ লাগে না। শুধু একাকী নিভৃতে অনুভব করতে হয়!
সে কখনো বলেওনি ভালোবাসি। তবুও আমি ভেবেছিলাম সে আমাকে ভালোবাসে। তাঁর নীরবতাকেই প্রতিদিন ছুঁয়ে ভেবেছিলাম— ভালোবাসা বোধহয় এমনি, যেখানে শব্দ লাগে না। শুধু একাকী নিভৃতে অনুভব করতে হয়!
আমি প্রতিদিন চোখের নিচে ক্লান্তি এঁকে তাঁর নামটা মুখে নিতাম। দিন শেষে নেত্রপল্লব বুজিলে ভেসে ওঠতো তাঁর মায়াবী মুখশ্রী। যা আমাকে সপ্নে তাড়া করে বেড়াতো। চেষ্টা করতাম তাকে মনে না করার, তবুও প্রতিবার সূর্যাস্তে মনে হতো— সে যেনো আমার শরীরের থেকে ছেঁকে নেওয়া শেষ আলোটুকু!
ভালোবাসা আসলে একটা নিঃশব্দ আগুন!
যেটা বাইরের কেউ দেখে না,
কিন্তু ভেতরটা ছাই করে দেয়।
সে একদিন চলে গেলো। সরাসরি কিছু বললো না। হয়তো সে অনেক আগেই চলে গিয়েছিলো, আমিই শুধু নিজের মাঝে ধরে রেখেছিলাম। একটা মৃত সম্পর্কের শবদেহ। তাঁর চলে যাওয়া দেখেছিলাম ভেজা দৃষ্টিতে। বুকের ভেতর খুব ঠান্ডা লেগেছিলো। যেন ভিতরে ভেতরে বরফ জমে আছে।
আমি তাকে দোষ দেই না। আসলে সে থাকতি চায়নি। আমার হাত ধরতে চায়নি। হয়তো কখনো ইচ্ছেই ছিলো না। শুধু আমি ধরতে চেয়েছি। ভেবেছিলাম— ভালোবাসা মানে ধরে রাখা।
চেষ্টা করেছিলাম একটা গল্প বুনতে। যেখানে সে আর আমি থাকবো। থাকবে কিছু ছোট ছোট সপ্ন। আর থাকবে কিছু সহজ কথা।
কিন্তু হায়! কথা শেষ হলো না। কেউ শুনলো না। সে গুলো দীর্ঘদিন আমার বুকের ভেতর থেকে পচে গেলো।
আমার প্রেমটা ছিলো এমনই। সে আমার হয়নি। আর আমি অন্য কাউকে তাঁর মতো হতে দিইনি। প্রতিটা মুখের আড়ালে আমি শুধু তাঁর চোখ খুঁজে গেছি। আর প্রতিবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসেছি আয়নার কাছে। নিজের মুখ টা দেখে অবাক হয়েছি। এই কী সেই আমি!